কলকাতা বন্দর ও ফরাক্কা ব্যারেজ

 

 

২য় পর্ব

সপ্তদশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত দেশে ও বিদেশের মাটিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ, সরকারি রিপোর্ট এবং মানচিত্রগুলি দেখলে দেখা যায় যে, ভাগীরথীর উৎসমুখটি মূলত গঙ্গা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্যই প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সরে যায়। ভাগীরথীর উৎসমুখের পরিবর্তনের এক প্রামাণ্য বিবরণ মিলেছে পরিব্রাজক ট্যাবারনিয়ারের ১৬৬৬ সালের ৬ জানুয়ারির লেখা চিঠি থেকে:

Bernier was going over land from Rajmahal to Cossimbazar as the river route was impracticable…when the river is low it is impassable because of large sand bank which lies before the town called Suti.

এই বিবরণ প্রকাশের ১১২ বছর পর ভাগীরথীর উৎসমুখের সন্ধান দিচ্ছেন ওয়াল্টার হ্যামিলটন তাঁরGeographical, Statistical and Historical Description of Hindostan, and the Adjacent Countrie in Two Volumes, Vol I, (1820) গ্রন্থে :

The two westernmost branches, named the Cossimbazar and the Jellinghy rivers, unite and form what is afterwards named the Hoogly and Bhagirathi river, which forms the port of Calcutta, and the only branch of the Ganges that is commonly navigated by ships…. The Cossimbazar river is almost dry form October to May; the Jellinghy river…is in some years unnavigable during two or three of the driest months…

এ কথা স্বীকার্য যে জলপ্রবাহের স্বল্পতার ফলে নৌবানিজ্য তখন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। তার প্রমাণ মেলে পেভিংটন সাহেবের বিবরণী থেকেও।

ভাগীরথীর উৎসমুখের ইতিহাসকে বোঝার ক্ষেত্রে কোলব্রুক সাহেবের বিবরণটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮০১ সালের এশিয়াটিক সোস্যাইটির পত্রিকায়। তাঁর বিবরণ থেকে জানা যাচ্ছে ১৭৯৫ সালে ভাগীরথী দুটি স্থানে গঙ্গার সাথে যুক্ত ছিল। এক, ফরাক্কার কাছে মোহন গঞ্জে আর দুই, সুতিতে।

১৮২৪ সাল। ভাগীরথীর উৎসমুখটি সুতি থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ফরাক্কার কাছে সরে আসে। আবার ঠিক তার পরের বছরেই, ১৮২৫ সালে, গঙ্গা তার গতি পরিবর্তন করে প্রায় ১১ কিলোমিটার সরে এসে চোখার কাছে নতুন উৎসমুখ সৃষ্টি করে নেয়। ভাগীরথীতে জলের অভাব মেটানোর জন্য সুতির কাছে নতুন উৎসমুখ কেটে জল ঢোকাবার প্রচেষ্টা করা হয়। কিন্তু কাটা কৃত্তিম উৎসমুখে পলি জমে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর ১৯৫২ সালের এক বন্যায় সুতিতে আবার নতুন উৎসমুখ তৈরি হয়।

এরপর গঙ্গার ওপরের অববাহিকার কালিগঞ্জ থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত ভারতীয় রেল দপ্তর কিছু নির্মাণ কার্য্য সম্পন্ন করে। এর প্রভাব পড়ে ভাগীরথীর ওপর। কিন্তু কী সেই প্রভাব? ১৮৮২ সালে জয়রামপুকুরের কাছে ভাগীরথীতে জলের অভাব মেটানোর জন্য আর একটি মুখ কেটে গঙ্গার জল ভাগীরথীতে আনারা চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এর প্রভাব পড়ে নৌবানিজ্যে। কার্যতই নৌবানিজ্যের পথ হিসেবে জলঙ্গী নদীর গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই প্রভাব কী কোনোভাবে ভাগীরথীর নৌবানিজ্যের ওপর পড়ে? জলঙ্গী নদীতে কি কোন দিন জলের সমস্যা হয়েছে? জলঙ্গীর উৎসমুখের কি ভাগীরথীর মতো পরিবর্তন হয়েছে? যদি হয়েও থাকে, তার প্রভাব কী আদৌ পড়েছে ভাগীরথীর ওপর? প্রশ্নগুলো সামনে এসে ভীড় করে। বস্তুতই এবার বিষয়টিকে বোঝবার স্বার্থেই প্রশ্নের উত্তরগুলো খোঁজা প্রয়োজন।

(ক্রমশ)

 

 

 
 
top