চলচ্চিত্র : প্রাতিষ্ঠানিকতা ও রাজনীতি

 

২য় পর্ব

 

আজকের দিনে চলচ্চিত্রের ভাষা, নির্মাণকৌশল এবং বণ্টনের যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ আমরা দেখতে পাই, বলা বাহুল্য, মাধ্যমটির জন্মলগ্নে এমনটা ছিল না। স্থির আলোকচিত্র থেকে চলচ্চিত্র পর্যন্ত বিকাশের পথে উদ্দেশ্য কখনো ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুবিধা করে দেওয়া; কখনো ছিল কেবল ‘গতি’-র বিশ্লেষণ করা। ল্যুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় যখন ১৮৯৫-১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ‘সিনেমাটোগ্রাফ’ আবিষ্কার করছেন, তখন তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চারপাশের বাস্তবকে ক্যামেরার মাধ্যমে রেকর্ড করা। যেমন করে একজন জ্যোতির্বিদ টেলিস্কোপের মধ্যে দিয়ে মহাজাগতিক বস্তু নিরীক্ষণ করেন অথবা যেমনভাবে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নীচে রেখে ক্ষুদ্র বস্তুকে দেখেন জীববিজ্ঞানী – অনেকটা সেভাবে চলচ্চিত্র-ক্যামেরায় চোখ দিয়ে ল্যুমিয়েররা বস্তুজগৎকে দেখতে চেয়েছিলেন। চারপাশের গতিশীল ঘটনাবলিকে রেকর্ড করাতেই ছিল তাঁদের আনন্দ। কোনো বিশেষ নন্দনতত্ত্বের ধারণার তাঁরা জন্ম দিতে চাননি। যদিও ল্যুমিয়েরদের ছোটো ছোটো দু-চার মিনিটের ছবিগুলি ছিল যথেষ্ট দর্শনীয় এবং সুন্দর।

এসব কথা ল্যুমিয়ের ভাইরা নিজেরাই বলে গেছেন একাধিক সাক্ষাৎকারে। আধুনিক জীবনের টুকরো ছবি, তার গতিময়তা সেলুলয়েডে ধরে রাখতে হবে আর ঘুরে ঘুরে মেলায়, পথে-প্রান্তরে, দশ-বিশজন মানুষের জমায়েতে তা দেখিয়ে আনন্দ দিতে হবে – এই ছিল লক্ষ্য। ছবিগুলো বিক্রি করা নয়, যে যন্ত্র তাঁরা তৈরি করেছেন, যে প্রযুক্তির তাঁরা উদ্‌ভব ঘটিয়েছেন, তা বিক্রি করা বরং তাঁদের কাছে ছিল প্রধান লক্ষ্য। একটা উত্তেজক প্রযুক্তিগত সাফল্য, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মজা ছিল প্রধান, তথাকথিত শিল্প-মাধ্যম হয়ে উঠবে সিনেমা – এসব ল্যুমিয়েররা তেমন ভাবেননি। চলচ্চিত্রকে তাঁরা নাটক বা উপন্যাসের বিকল্প ভেবে সিনেমাটোগ্রাফ যন্ত্রটি নির্মাণ করেননি।

কিন্তু যা তাঁরা ভাবেননি ভবিষ্যৎ সেদিকেই মোড় নিল। আটলান্টিকের ওপাড়ে মুভি ক্যামেরা তৈরির তোড়জোড় চলছিল। এডিসন, কাইনেটোস্কোপ নামের একটা যন্ত্র তৈরিও করে ফেললেন ইতিমধ্যে। যন্ত্রটার প্রয়োগ ল্যুমিয়েরদের সিনেমাটোগ্রাফের মতোই। তবে ততটা সূক্ষ্মতার প্রযুক্তি নয় – আকারে বিরাট এবং যথেষ্ট ভারী। আর একটা বড়ো তফাত ল্যুমিয়েরদের সঙ্গে থেকে গিয়েছিল। এডিসন এই যন্ত্রটিকে থিয়েটারের বিকল্প হিসাবে ভেবেছিলেন শুরু থেকেই। কীভাবে কাহিনিকে দেখানো যায়, গল্প বলা যায়, তাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ল্যুমিয়েরদের মতো বাস্তবের দর্শন হয়ে ওঠার চেষ্টায় মার্কিন মুলুকের ক্যামেরাওয়ালারা কখনোই তাঁদের যন্ত্রটিকে কাজে লাগাননি। তাঁদের মাথায় ছিল অন্য প্রকল্প।

ল্যুমিয়ের ভাইরা ছিলেন যথার্থ অর্থেই প্রযুক্তিবিদ ও কারিগর। তাঁদের আবিষ্কৃত প্রযুক্তিটি বিক্রি করায় ছিল তাঁদের প্রধান আগ্রহ। কিন্তু কাইনেটোস্কোপওয়ালারা তা নয়। তাঁরা ছিলেন বনিক। প্রযুক্তি নয়, প্রযুক্তির সাহায্যে উৎপাদিত পণ্যটির বিপণনে ছিল তাঁদের সবিশেষ আগ্রহ। স্বাভাবিক কারণেই এডিসন দ্রুত খুলে ফেললেন তাঁর ফিল্ম কোম্পানি – এডিসন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ও টমাস এ এডিসন ইন্‌ক। নিউ জার্সিতে প্রতিষ্ঠা করলেন ব্ল্যাক মারিয়া স্টুডিয়ো। কয়েক বছরের মধ্যেই এডিসনের ‘ব্যাবসা’ ফুলে ফেঁপে উঠল মূলত ‘গল্প বলা চলমান ছবি’-র কল্যাণে।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দু-দশকের মধ্যেই চলচ্চিত্র মাধ্যমটিকে ঘিরে একটি বাণিজ্যিক আদল গড়ে উঠল। পণ্য উৎপাদন ও বাজারিকরণের প্রথাগত ছকে চলচ্চিত্র উৎপাদন ও বণ্টন যাতে ঘটতে পারে, সেদিকে নজর দেওয়া হল। ব্যবস্থাটা বেশ পাকাপাকিভাবে গেড়ে বসল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কবলে পড়ে ইউরোপ যেন পিছিয়ে পড়েছে। হলিউড সেই সুযোগে বিশের দশকে চলচ্চিত্র উৎপাদন ও বাজারিকরণে প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।

ক্রমে যন্ত্রনির্ভর পণ্য উৎপাদনের যে রীতি – অর্থাৎ অ্যাসেম্বলি লাইন প্রোডাকশন দেখা দিল চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও। তার বিকাশ হল, বলা বাহুল্য, হলিউডে। কেউ সেখানে স্ক্রিপ্ট লেখেন, কেউ ছবির জন্য গল্প, কেউ কেউ পরিচালকের কাজটুকু করেন। তারপর সম্পাদনার দায়িত্ব আবার নেন অন্য কেউ। নিখুঁত কর্ম-বিভাজন। পুরো কাজটির সঙ্গে যুক্ত নন কেউই। তাঁরা কেবল তাঁদের অংশটুকু করে মাইনে নেওয়ার অধিকারী — যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে পণ্য উৎপাদন হয়, সেই একই পদ্ধতি এখানেও প্রয়োগ করা হল।

অন্যান্য পণ্য বা কমোডিটির মতোই – উৎপাদন, বণ্টন ও প্রদর্শন (বিক্রি) — চলচ্চিত্রও এই একই ব্যবস্থায় জন্ম ও পরিণতি লাভ করতে থাকল। চলচ্চিত্রের মতো আর কোনো মাধ্যমই জন্মের পরই এত দ্রুত দুই অর্থেই ‘শিল্প’ — ‘আর্ট’ ও ‘ইন্ডাস্ট্রি’ — হয়ে উঠতে পারেনি। অবশ্য এর পিছনে ঐতিহাসিক কারণটিই প্রধান। অন্যান্য সব শিল্পমাধ্যমেরই জন্ম প্রাক্‌-আধুনিক যুগে আর তার বিকাশের পর্বটি হল রেনেসাঁস থেকে শিল্পবিপ্লবের মধ্যবর্তী সময়ে। একমাত্র চলচ্চিত্রই ঘোরতর ব্যতিক্রম। চলচ্চিত্র এল শিল্পবিপ্লবের উত্তুঙ্গ মুহূর্তে। আর তার বিকাশ ঘটল ‘মাস কালচার’-এর মধ্যে। ফলে উৎপাদন আর বাণিজ্যের যুক্তিটির বাইরে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে বিকাশ লাভ করা সহজ হবে না, এটাই স্বাভাবিক। থিয়োডর আডর্নোর ডায়ালেকটিক্স অব এনলাইটেনমেন্টদ্য কালচার ইন্ডাস্ট্রি-চর্চা করলে দেখা যায় চিত্রকলা বা সংগীতের ক্ষেত্রে অনেকটা সময় লেগেছে বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করতে। কিন্তু চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে তা একেবারেই নয়। এই মাধ্যমটির বিকাশ ঘটেছে শুরু থেকেই কঠিন নিগড়ে বাঁধা বাণিজ্যিক ব্যবহারের মধ্যে। তাই এই মাধ্যমে সচেতন রাজনীতির আত্মপ্রকাশ মোটেই সহজ ছিল না। ‘রাজনৈতিক চলচ্চিত্র’ সে অর্থে নিজেই একটি জটিল প্রকল্প।

 ৩

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইউরোপের ফ্রান্স, ইংলন্ড, জার্মানি ও ইতালিতে যখন চলচ্চিত্র একটি স্টুডিও-পুঁজি নির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, নবগঠিত সোভিয়েত ইউনিয়নে চিত্রটা তখন অন্য। ১৯১৭ খিস্টাব্দের বলশেভিক বিপ্লবের পর নতুন রাষ্ট্র তখনও থিতু হয়নি। বিপ্লবের ফলে ক্ষমতার হাতবদল ঘটে গেছে ঠিকই, কিন্তু মস্কো বা লেনিনগ্রাদ থেকে অনেক দূরের গ্রাম-গঞ্জে তখনও মানুষ জানে না কারা এই বলশেভিক বিপ্লবী, কী নতুন ধারণা এরা নিয়ে আসতে চায় রুশ জনগণের কাছে। কেবল বিপ্লব সম্পর্কে অজ্ঞতাই নয়, নতুন সোভিয়েতের বিভিন্ন দূর অঞ্চলে তখনও চলছে গৃহযুদ্ধ। রেড আর্মি লড়াই করছে জারের বাহিনীর অবশিষ্টের বিরুদ্ধে।

বিপ্লবী পরিবর্তনের কথা প্রচারের উদ্দেশ্যে একটা চমৎকার পরিকল্পনা হাতে নিল সদ্য জন্ম নেওয়া ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাজিটেশন অ্যান্ড প্রোপ্যাগান্ডা। তারা অ্যাজিটপ্রপ নামে একটা প্রকল্প তৈরি করল। প্রচারের মাধ্যম হবে থিয়েটার, প্যাম্ফলেট, বক্তৃতার রেকর্ড, পোস্টার, কার্টুন এবং চলচ্চিত্র। নতুন ধরণের থিয়েটারের পরিকল্পনা নিয়ে এলেন মেয়ারহোল্ড, প্যাম্ফলেট লিখলেন মায়াকোভস্কি। বিভিন্ন ধরণের নতুন ফর্ম নিয়ে যোগ দিলেন বেশ কয়েকজন তরুণ শিল্পী। মস্কো সিনেমা কমিটিও যোগ দিল এই কর্মকাণ্ডে। তারা কিনো-উইক নামে একগুচ্ছ নিউজরিল তৈরি করল অ্যাজিটপ্রপ অভিযানের জন্য। তরুণ চলচ্চিত্র-সম্পাদক জিগা ভের্তভ, এলিজাভেটা স্ভিলোভা, সিনেমাটোগ্রাফার মিখাইল কাউফম্যান এবং এডুয়ার্ড তিসে কিনো-উইক  নির্মাণের কাজ শুরু করলেন চলচ্চিত্রকার লেভ কুলেশভের নেতৃত্বে।

Agitprop poster

 

অ্যাজিটপ্রপ মিশনের জন্য কয়েকখানা ক্যারাভান, ট্রেন আর স্টিমারকে সাজিয়ে নেওয়া হল। এই যানগুলিতে চেপে ওইসব প্যাম্ফলেট, পোস্টার আর নাট্যদলের লোকেরা পৌঁছে যেতে থাকল দূর-দূরান্তরের গ্রাম-গঞ্জ, শহরে। চলচ্চিত্রও বাদ গেল না। কিনো-উইক-এর জন্য ওইসব ট্রেন ও স্টিমারে বরাদ্দ হল একখানা করে বিশেষ কামরা। সেখানে ছিল ফিল্‌ম দেখানোর যন্ত্র, ফিল্‌ম সম্পাদনার মৌলিক ব্যবস্থা, ক্যামেরা আর সেলুলয়েড ক্যান।

 

চলচ্চিত্রের একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল অ্যাজিটপ্রপ প্রকল্পে। সোভিয়েত ইউনিয়ন বহু ভাষাভাষী মানুষের দেশ। দূরের গ্রাম-গঞ্জে তার ওপর আবার একটা বড়ো অংশের মানুষ নিরক্ষর। নির্বাক চলচ্চিত্র তাদের কাছে বোধগম্য মাধ্যম, কারণ সে কথা বলে ছবিতে। ভাষা বুঝতে বা পড়তে না জানলেও চলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যাজিটপ্রপের সূত্র ধরে চলচ্চিত্র সোভিয়েত দেশে হয়ে উঠল রাজনৈতিক বার্তা বহন করার সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম। যদিও বৃহৎ কোনো মতাদর্শগত প্রচারের মাধ্যম তখনও হয়ে ওঠেনি কিনো-উইক । সেগুলি মূলত ছিল গৃহযুদ্ধ পীড়িত এলাকার সৈন্য ও জনগণের কাছে মস্কোর বিপ্লবী সরকারের উত্থান ও স্থায়িত্বের বার্তাবাহক।

 ৪

১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে কিনো-উইক-এর প্রথম নিউজরিলটির জন্ম হয়। তারপর আর তিন বছর চলে নিউজরিল তৈরির কাজ। এই উদ্যোগ কেবলমাত্র চলচ্চিত্রকে রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে দেখেছিল তাই নয়; চলচ্চিত্র নির্মাণ-বণ্টন-প্রদর্শনের যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা পশ্চিমে গড়ে উঠেছিল, তার থেকেও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবস্থান নিতে পেরেছিল। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দাবি হল ক্রেতা। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে টিকিট কেটে ছবি দেখবে, এই হল দস্তুর। অর্থাৎ, দর্শক বা ক্রেতাকে পৌঁছুতে হবে চলচ্চিত্র বা পণ্যের বাজারে। কিনো-উইক-এর ধারণাটা একেবারে ভিন্ন। এখানে চলচ্চিত্র পৌঁছুবে জনগণের কাছে। যেভাবে জল, রেশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছোয় মানুষের কাছে, সেভাবেই চলচ্চিত্রও পৌঁছে যাবে। এই ধারণাটা প্রাথমিকভাবেই প্রতিষ্ঠান-বিরোধী এবং রাজনৈতিক, যা প্রথাগত চলচ্চিত্র-ব্যবস্থাটিকেই পাল্টে দিতে চায়।

Kino Week No.1

চলচ্চিত্রের নন্দনতত্ত্বের দিক থেকে কিনো-উইক-এর ছবিগুলো অকিঞ্চিৎকর হলেও কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়। মার্চপাস্ট ও বক্তৃতার চিত্র ছাড়াও এইসব ছবিগুলিতে দেখা যেত বিপুল সংখ্যক জনগণের চিত্র। এত বিরাট সংখ্যায় সাধারণ মানুষকে, জনগণকে এর আগে চলচ্চিত্রের পর্দায় দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে ‘জনগণ’ যে পুদভকিন, জিগা ভের্তভ এবং আইজেনস্টাইনের ছবির সূত্রে সোভিয়েত চলচ্চিত্রের প্রধান নায়ক হয়ে উঠবে তার শুরুটা কিন্তু হয়েছিল অ্যাজিটপ্রপের মধ্যে দিয়ে।

কিনো-উইক-নিয়ে অ্যাজিটপ্রপ দলের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুড়ে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জিগা ভের্তভ ১৯২২-১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কিনো প্রাভ্‌দা শিরোনামে একটি নিউজরিল প্রোজেক্ট তৈরি করেন। আসলে মস্কো থেকে কিনো-উইক নিয়ে যারা অ্যাজিট-ট্রেন ও অ্যাজিট-স্টিমারে পাড়ি দিয়েছিল গ্রামে-গঞ্জে, তারা তো কেবল বায়োস্কোপের দল ছিল না; যেখানেই তারা গেছে সেখানকার মানুষ, সমাজ, রাজনীতি, কৃষিকাজ, জীবনযাত্রা আর সংস্কৃতির চলচ্চিত্রও তারা তুলেছিল ছবি দেখানোর সঙ্গে সঙ্গেই। সেইসব ছবিগুলিকে সম্পাদনা করে তৈরি করে ফেলা হচ্ছিল নতুন নতুন আরও নিউজরিল। ফলে কেবল ছবি দেখানোই নয়, একটা আদান-প্রদানও চলছিল একই সঙ্গে। আর এইসব ছবিগুলোকে একত্রিত করলে ফুটে উঠতে পারে বৈচিত্র্যপূর্ণ সোভিয়েত জনগণের আদল, কিনো প্রাভ্‌দা এই কাজটিকে আরও সুসংহত আকারে সম্পাদিত করল।

Kino Pravda

পরবর্তী কয়েক বছরে আমরা দেখব ভের্তভ এবং আইজেনস্টাইনের মধ্যে বিপুল তর্ক। ভের্তভ বললেন যে, প্রকৃত বিপ্লবী রাজনীতির ছবি হতে হবে তথ্যচিত্র। আইজেনস্টাইন বিরোধিতা করলেন। তিনি প্রস্তাব করলেন – গল্প বলা ছবিতেও বিপ্লবী রাজনীতি প্রচার করা যায়, তবে তাকে হতে হবে ‘প্লটলেস’ মন্তাজ সিনেমা। প্রথাগত চলচ্চিত্রের সম্মোহনী বাস্তববাদ ও নায়ক-নায়িকার ব্যাক্তিজীবনকেন্দ্রিক গঠনকেও সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এই তুমুল বিতর্কের মাঝেও কিনো প্রাভ্‌দা ও অ্যাজিটপ্রপের প্রতি দু-জনেই পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। কারণ ওগুলি ছিল রাজনৈতিক  চলচ্চিত্রের ইতিহাসের প্রথম ধাপ।  

(ক্রমশ…)

 
 
top