আপণা মাসেঁ হরিণা বৈরী

 

সরু তিনখান ছিপনৌকা পাতা আছে খালের ওপর। মূল ভূখণ্ড থেকে সেখানে প্রবেশ করতে হলে নৌকাই পথ। পা দিলেই কৃষ্ণকালো জলের ওপর ভাসমান পরপর পাতা নৌকারা একই সঙ্গে দুলে ওঠে। সেক্ষেত্রে দেহের ভারসাম্য রাখতে দক্ষতার প্রয়োজন। গত একমাসে সে দক্ষতা আয়ত্ব করে ফেলেছে উমাতুল।

নৌকার ওপারে মনুষ্যবর্জিত যে ভূমি, জঙ্গলাকীর্ণ সেই অরণ্যে এক টিলার ওপর, একটি কুটির নির্মাণ করে বাস করে সেই উমাতুল। অন্যভাবে বলা যায়, সেটা আসলে নির্মাণ নয়, কুটির ছিল; দীর্ঘদিন না ব্যবহার করলে যা অবস্থা হয়, তেমনি করে ছিল। সেটিকে সারিয়ে সুরিয়ে বাস করছে তারা।

সে আদতে সনাতনের বন্ধু শেখ কালুর স্ত্রী। সনাতন তাকে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছে। রেখেছে এই স্থানে। থাকবে ততদিন, যতদিন না সে বসবাসের কোনো উপযুক্ত বাসা খুঁজে পাচ্ছে; ঠিক মতো কোনো এক কাজ খুঁজে পাচ্ছে। সেই খোঁজে সারাদিন চক্কর কাটে বনমালী। জনহীন জঙ্গলের ভেতর টিলার বাড়িতে একা থাকে উমাতুল। ভয়ে ভয়ে।

উমাতুলকে নিয়ে যখন পালায় বনমালী, তাকে নিয়ে কোথায় বাস করবে সেটা একটা ভাবনার বিষয় ছিল। কারণ উমাতুল যেরকম সুন্দরী, গায়ের রং ফেটে পড়ছে তার, দুটি মেয়ে বিয়ানোর পরও, তাতেই চমৎকৃত হয়ে গিয়েছিল সনাতন। ঘরে তারও বউ-বাচ্চা আছে। কালুর বাড়িতে একদিন তাসে আড্ডা জমাতে গিয়ে সেই যে চোখাচোখি হল দু-জনের, সেই মুগ্ধতা আজও কাটল না।

তাই হরিণ।

এই মায়াহরিণী অন্যরকম। এমনটাই যে, একচটকায় তাকে দেখে মনেই হয় না হরিণ বলে। সে অতি বুদ্ধিমান, এক চতুর মায়াহরিণ। একসময় তো উমাতুল ভেবেছিল, সারাদিন বোধহয় বনের পশুপাখির সঙ্গে গল্প করে সময় কাটিয়ে যেতে হবে। পশুপাখিদেরও আহারনিদ্রা আছেসে সব বাদ দিয়েই তারা আসবে উমাতুলের কাছে। এ সময় এই হরিণের খোঁজ মিলল।

দিয়ে গেল তিনজন নৌকারোহী। সে এক অবাক করা হরিণ। ততোধিক অবাক করা সেই তিন নৌকারোহী।

এমন এক অবাক করা হরিণী নিয়ে যে তার দিন কেটে যাচ্ছে, এমন কথা শুনলে কি বাইরের দুনিয়ার কেউ সে কথা বিশ্বাস করবে? করবে না। বনমালীও করেনি। সে বলেছে এসব গল্প কথা। এই বনে হরিণ কোথা থেকে আসবে? তিনজন নৌকারোহীর এখানে কোনো ভূমিকা নেই। তার কারণ আর কিছু নয়, এই তিনটি নৌকা খুলে চালালে, নদী ভর্তি জল হলে বনমালী জানতে পারবে না, ঘুমের ভেতর তার মাথার মধ্যে নৌকার চলাচল সে প্রত্যক্ষ করবে না, তা হয় না। এখানে এক-দুটি শজারু বা বন-খরগোশ মিলতে পারে, নানান বন্য পাখি; তার বেশি কিছু নয়। আর বন মানে কি,গভীর অরণ্য তো নয়। মানুষ থাকে না, অতিরিক্ত গাছপালা ঝোপঝাড় আছে, টিলা, অরণ্য, এক নদী, তার ধারে গাছপালাএটুকুই। আর কী?

আঃ হরিণ!

নদী ঘেরা এক জনপদ। এখানে যেমন মানুষের পিছুপিছু কুকুর ঘুরে বেড়ায়; তেমনি ওখানে মায়া হরিণ-হরিণী লোকেদের ঘর-বার-দোরে শুয়ে বসে থাকে। সন্ধেতে গ্রামের মানুষ যখন গান গায়, তারা গানে গানে তাল মেলায়। চাঁদের আলোয় নাচে। কুয়াশায় দৌড়ে যায়।

গাঁয়ের মেয়ে উমাতুল। সাপকে সে ভয় পায় না। কিন্তু এখানের পরিস্থিতি অন্য। গাছের পাতা অনেকক্ষণ নড়লে তার মনে হয়, কী বুঝি লুকিয়ে আছে। এই বুঝি কেউ পেছন থেকে এসে মুখ চেপে ধরল। ক্রমে ক্রমে তার মনে হয় বিপদগ্রস্ত প্রতিটি নারীর পাশে একটি হরিণ থাকা দরকার। যেমন হরিণ ছিল সীতার, শকুন্তলার। কারণ নারীর শরীর তার শত্রু। তার স্বামী মারধর করত; মদের গন্ধ। সে এসব পছন্দ করে না। কিন্তু কোনো উপায় ছিল না তার, যতক্ষণ না কর্মসূত্রে বনমালীর সঙ্গে চোখে চোখ মেলে।

মনি করে কি দিন চলে? তাই অন্য উপায় আমি বেছে নিই। পালাই

তুমি তবু তো পালাতে পেরেছ। আমি তাও পারিনি

কে পালানো বলে না। আরও জড়িয়ে পড়লাম আমি। কী দরকার এমন জায়গায় আমাকে রাখার? তবু তুমি আসো, দু-একটি কথা কই। তোমার যেমন যাবার কোনো জায়গা নেই, আমারও নেই। তাই হয়তো আমরা দুটিতে এক হয়েছি

উমাতুলের সঙ্গে এসব কথা বলে একজন নারী। সে দূর গ্রামের বাসিন্দা। নাম মাধবী। সেও এক অসহায় মেয়ে। তার যাবতীয় প্রাণের কথা উমাতুলের সঙ্গে। কখনও কোনো গাছের নীচে, কোনোদিন ঘরের ভেতর তারা নিজেদের ভেতর কথা বলে চলে।

মাধবী বলে, মি জানতামই না এখানে মানুষ বাস করে। তোমাকে যখন আমি প্রথম দেখি, আমি ভেবেছিলাম তুমি সেই পরি। নইলে যে বনে কোনো মানুষ থাকে না, যে তল্লাট কেউ মাড়ায় না, সেখানে লোকে বাস করতে যাবে কোন্ দুঃখে? তাই, সত্যি বলতে কি আমার প্রথম ক-দিন গাটা ছমছম করছিল

কে?

কারণ আমাদের গ্রামে এ কথা প্রচার আছে, এখানে এক ভয়ানক তান্ত্রিক বাস করে। সে উপাস্য দেবতার কাছে মানুষ বলি দেয়। তাই ভয়ে লোকজন এ পথ মাড়ায় না

তুমি ভয় পাও না?

গে পেতাম। ছোটোবেলায়। এখন কৌতূহল হয়। আমি এখানে আসি এক হরিণের খোঁজে

মার এখানে এক হরিণ আসে। কিন্তু তাকে চোখে দেখা যায় না। ধরাও যায় না কিন্তু সে আসে

রিণটাকে এখানে কে দিয়ে গেল?

রে তাদের আমি চিনি নাকি? সেই কি আমাকে চেনে? তা তো নয়! আসলে এই যে তিনখানা নৌকা – এগুলো সব সময় এমন পরপর থাকে না, জানো! এরা চলতে থাকে। একা একা চলা নয়, এরা হল তিন মাঝি চালিত। সেই মাঝিরা গান গায়। সে গানের সব কথার মানে আমি বুঝি না

চ্ছা, তারপর?

রা আমাকে একটা হরিণ দিয়ে যায়। বলে যায় একাকি নারীর কাছে একটা হরিণ থাকা দরকার। সে বিপদ থেকে রক্ষা করে

ই কথাই বলে তারা?

তারা বলে আমার নাম সহজসুন্দরী

ল কী!

তাই তো বলল তারা

তাদের নাম কী?

তারা তিনজন আসে। লুই, ভুসুক আর কাহ্ন। তারা যখন এই তিনখান নৌকা বায়, নদী হয়ে ওঠে এইসে কী বলব আর!

ই তিন নৌকা তবে তাদের?

হ্যাঁ।

নৌকা তারা রেখে যায় নদীর ওপর?

তাই তো

নৌকা নিয়ে তারা যায় কোথায়?

জানি না। নৌকায় চাপলেই নদী ফুলে ওঠে আর তারা তিনজন নৌকা নিয়ে ঘুরে যায় নদীরপর বনবন করে

তারপর?

নৌকা নিয়ে তারা উধাও হয়ে যায়

ক হরিণের কথা আমি জানি। সে হল বৃষ্টিহরিণ। এই নৌকা আগে থাকত না, বুঝলে। থাকলে জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করে সেই হরিণের খোঁজ করতে পারতুম। তখন হয়তো দেখা পেতুম সেই বৃষ্টিহরিণের

বৃষ্টিহরিণ! সে আবার কি?

সে আছে এক রকমের হরিণ, যা কেবল বৃষ্টিতে দেখা যায়

বাব্বা! শুনিনি তো কোনোদিন

বে শোনো সেই হরিণের কাহিনি। খুব যখন বৃষ্টি পড়ে, খুব খুব খুব — কেবল তখনই তখনই সেই বৃষ্টিহরিণ দেখা যায়। সেই বৃষ্টিহরিণ কোথা থেকে আসে, যায় কোথায়, মিলিয়েই বা যায় কীভাবে, তার কিছুই আমি জানি না। তখন মনে হত, হরিণ কিনা, তাই সে জঙ্গলেই থাকে। সে আছে তা জানা যায় কেবল বৃষ্টি পড়লেসেই প্রবল বৃষ্টির ভেতর সে নেচে যায়, দৌড়ে যায়

মারও তাই মনে হয়, জান। সেই যে লাল মায়াহরিণ লাফ দিল, পরক্ষণেই মাটিতে; আবার কখন যে সে নৌকায় স্থান নেয় তা বোঝার সাধ্যি কার! আমার যখন খুব ভয় পায়, সেই স্বপ্নের ভেতর বা আলোছায়ায়, আমি দেখি হরিণ লাফ দেয় শূন্যে; আকাশে, মহাকাশে। সে যখন নেমে আসে, মাটিতে আছড়ে পড়ে আর হাজার হাজার লাল ঘাস ফুল হয়ে যায়

র সে সময় এক পরি আসে। সে এক লাঠি দিয়ে সেই ফুলের কুঁড়িদের ছুঁইয়ে দিলেই তারা ফুল হয়ে ফুটে ওঠে

বা!

মি জানি সে পরি কে

কে?

তুমি

মি পরি!

মন যার রূপ, সে পরি ছাড়া আর কী? এমন এক ঢল চুল কার আছে? এমন ক্ষীণ দেহ তোমার, সরু কোমর, তিলফুলের মতো নাক; পায়ে তোমার জুঁইফুলের নূপুর

যাঃ!

মার কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু তুমি নিজে বলো দিকি তুমি কী?

লজ্জা পেয়ে উমাতুল বলে, কলে বলে হুরি পরির মতো রূপ আমার

উমাতুল বলে, খন কত বয়স তোমার?

মাধবী উত্তর করে, বারো

কী হল তারপর?

সে দৌড়ে যাচ্ছে সেই প্রবল বৃষ্টির মধ্যে, আমি তার পিছুপিছু যাচ্ছিলাম। সে দেখি গোল হয়ে এক জায়গায় ঘুরছে। গোল হয়ে সে এমনি ঘুরছে যে, আমি যখন তার পিছু পিছু দৌড়ে যাই, মনে হতে থাকে আমি আসলে দৌড়োচ্ছি না, তাকে ধরার কোনো চেষ্টাও করছি না, আসলে আমি নেচে যাচ্ছি! ঘুরে ঘুরে, দৌড়ে দৌড়ে আমি একা নেচে চলেছি। বাড়ির লোক আমাকে ডেকে ডেকে আলা হয়ে যায়, আমি তা বুঝতেও পারি না। আর সত্যি কথা বলতে কী, বাড়ির কথা আমার মনেও পড়ে না তখন। আসলে সে সময় মানুষের কোনো ঘরবাড়ি থাকে না। গোটা পৃথিবী জুড়েই তার ঘর!

তারপর?

বার তাকে দেখলাম, যেদিন আমার বাচ্চা নষ্ট হল

তুমি বিবাহিতা?

না।

বে?

কজনকে ভালোবাসতাম। তখন আমার প্রেমিকের বয়স ছিল পনেরো। আর আমার তেরো। তেরো হলেও তেরোর মতো দেহ ছিল না কিন্তু, বাড় ছিল আমার। বেশ বাড়। চেনাজানা লোক মাকে বলত, মেয়ে ডাগর হয়েছে এবার বিয়ে দিয়ে দাও

ষ্ট করলে কী করে? ওষুদ-পালা খেয়ে?

না। গ্রামেরই এক বুড়ি আমাকে মাঠের ধারের এই জঙ্গলে নিয়ে এল। সঙ্গে মা। কাটারি করে নারকেল গাছের শিকড় কাটল একহাত। ওপরের খোলাটা চেঁচে ফেলে দিল। আমি চিত হয়ে আছি। সরু সাদা অংশটা ঢুকিয়ে দিল আমার শরীরের ভেতর।

!

ডালকাঁটা যেমনি করে আমরা ফুটন্ত ডালের মধ্যে ঘোরাই, তেমনি করে সেই বুড়ি সেটাকে ঘোরাতে লাগল। ওঃ, সে কী রক্ত, সে কী যন্ত্রণা! ঘাসের ওপর শুয়ে আমি কাতরাচ্ছি, চোখের জলে আর রক্তে মাটি ভিজে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, কী যেন হারিয়ে যাচ্ছে ভিতর থেকে, কী যেন চলে যাচ্ছে! সে সব ভালো করে বোঝার বয়স তখন ছিল না। তখনই দেখলাম একটা হরিণ! দূর থেকে করুণ দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে আমার দিকে

তারপর কী হল?

মি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। সাতদিন আর উঠতে পারিনি বিছানা ছেড়ে। শরীরকে পাপ বলে মনে হত। মনে হত, মেয়েমানুষের দেহের এমনি বাড় ভালো নয়। তাকে রয়েসয়ে বাড়তে হয়। নইলে শরীর তার শত্রু। রাতে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখি। একটা পরি এক বড়ো দোলনায় চেপে দুলছে, তাকে ঘিরে এক হরিণ পাক খেয়ে যাচ্ছে। দূরে একটা বাঘ ওঁত পেতে আছে। স্বপ্নটা তখন আমি রোজ দেখতাম

উমাতুল বলল, তুমি বিয়ে কর না কেন?

কেউ করবে না। আমার খবর সাতগ্রামে চাউড় হয়ে গেছে। সেই ছেলেটা কিন্তু বিয়ে করে নিয়েছে, তার বেলা কোনো অসুবিধা হয়নি

খন তাহলে তুমি কী কর? দিন কাটে কী করে?

কী আর, চুপড়ি-চাঙারি তৈরি করি। বাবা জঙ্গলে গিয়ে বাঁশ কেটে আনে। ছুলে দেয়

র তোমার সেই প্রেমিক?

সে ডোমের ছেলে। আসলে মায়ের সঙ্গে আমি ছোটোবেলা থেকেই পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চুপড়ি-চাঙারি বিক্রি করি। আমাদের এটাই জীবিকা। আমাদের বাড়ির সকলে, বা গ্রামের সকলেই এই কাজ করে। আর পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করি। এমনি করেই  ডোমের ছেলের সঙ্গে ভাব হয় আমার। তারপর ঘটনা তো তোমায় বলেছি

নৌকা চাপবে একদিন?

লো না, আমরাও ঘুরে আসি একবার

যাবে কোথায়?

যেখানে নদীর শেষ

কিংবা শুরুও বলা যায়

বাইতে জানো তুমি?

তাতে কোনো অসুবিধা নেই। বাইতে বাইতেই শিখে নেব

কিন্তু আমরা দুজন মেয়ে একা যাব, ভয় নেই তাতে?

না। কেন বল তো?

কে?

কারণ সেখানে হরিণেরা থাকবে

সেই হরিণ!

সলে হরিণ কিন্তু একটাই। সেই আদি-অনাদি অনন্তকাল থেকে একটাই হরিণ মানুষকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। সেই যে সুদূর পশ্চিমের দেশ থেকে এক সুফি ফকির এলেন এ দেশে, তাঁকে পথ দেখিয়ে ভারতে নিয়ে এল একটা হরিণ। সীতার হরিণ ছিল। আমাদেরও আছে। কেবল দ্রৌপদীর কোনো হরিণ ছিল না। আমার কী মনে হয় জান, হরিণ থাকলে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণটা হত না

খন তবে কী করবে তুমি?

কটা পরি দরকার

সে জিনিস মিলবে কেমনে? এখানে তো আর ঝিল নেই, পরিরা স্নানে আসবে আর তুমি ধরে নেবে

রি আছে। সে তুমি। তুমি এ গাছ ও গাছে দড়ি বেঁধে দোলনা টাঙাও, তাতে দুলবে। আমি তোমায় ঘিরে পাক খাব

তুমি পাক খাবে কেন!

পাক খেতে খেতেই হরিণ হয়ে যাব, তখনই একটা বাঘ আসবে

এবার উমাতুল বলে, তারপর?

সেই বাঘের হাত থেকে তুমি আমাকে উদ্ধার করবে

তুমি তো হরিণ তখন

ঠিক। এক পরিকে ঘিরে হরিণ পাক খায়। পাক দিতে দিতে আমি যখন হরিণ হই, তখনও কিন্তু আমি একজন নারীই থাকি। তুমি পরি, এক নারী, অন্য নারীকে উদ্ধার করবে। আমার কি মনে হয় জান, সেই নিরন্তর স্বপ্নে তুমি এসেছিলে রোজ, আমি তখন তোমার মুখ মনে রাখিনি। আসলে অমন অদ্ভূত স্বপ্নের পর ঠিক ঠিক কিছুই মনে রাখা যায় না, সে বয়সও ছিল না। আমার আরও কী মনে হয় জান, এই পৃথিবী একদিন একটা হরিণ ছিল

কটা গান গাও না মাধবী আবদার করে।

দূ, আমি কী ওসব জানি নাকি? হাত উলটে বলে উমাতুল।

সেই যে তিন মাঝির সেই গান? তুমি তো রোজই শোনো

সে ভাষা অচেনা

ললে যে বাংলা!

হ্যাঁ। কিন্তু কেমন যেন। এক অচেনা বাংলা

কিন্তু আমার এখন খুব গান শুনতে ইচ্ছে করছে। হলে বেশ দারুণ হত

দারুণ তো বটেই।

গান সে গাইতে পারবে না। আমাদেরই তা গাইতে হবে

গাইতে হলে পান খেতে হবে

পান এনেছ নাকি?

হ্যাঁ। তুমি খাও?

ধ্যে মধ্যে খেতাম

র্দা খাও নাকি?

না। পান, চুন, সুপারি। আর কিছু নয়

চুনের বদলে কর্পূর দিলে ভালো স্বাদ খোলে

সেও কি ওই আঁচলে বাঁধা আছে?

ছেই তো। এই গিঁট খুলছি

বা। খুলতেই কী সুন্দর গন্ধ! মনে আমেজ এসে গেল

লো, খাই পান-তাম্বুল

বে এসো, আমরা হরিণ হই

সো, হরিণ হয়ে আমরা গান গাই

হ্যাঁ, সে গান হবে অচেনা বাংলা ভাষায়

ই গান গাইলে নারীর কোনো দুঃখ থাকে না

এই বলে দুই হরিণী পরস্পর পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে খুঁ খুঁ করে কাঁদতে লাগল।

 
 
top