ন্যাগ্রোধ অরণ্যে

 

খন আমি দেখি তিনজন দেবতা এই বনের মাথার উপর দিয়ে আকাশ পানে উড়ে যাচ্ছেন, তখন বুঝি আবার এক বেশ্যার মৃত্যু ঘটেছে। জানি মৃতদেহটি ভাসতে ভাসতে এদিকেই আসবে। আর সেই দেহটিকে তুলে ফেলতে হবে আমায়। তাই আমি দেরি করি না। সোজা চলে আসি নদীর পাড়ে

 কিন্তু সেটা যে বেশ্যার দেহ সে কথা আপনাকে কে বললে?

লার তো কিছু নেই। গঙ্গার ওপারেই যে বেশ্যালয় আছে, সে কথা কে না জানে। আর এদিকে বেশ্যা ছাড়া আর কারও দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় না

শুনে চুপ করে গেল সেলিম। কথাটা যে একশ ভাগ সত্যি এটা সে ছাড়া আর কে জানে? কারণ বেশ্যারা তাকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে মৃত বেশ্যাদের দেহ জলে ভাসিয়ে দেবার। সেই কাজটা সাফল্যের সঙ্গেই এতদিন করে এসেছে সে। কিন্তু গোলমাল বাঁধল নাজমার দেহ ঘিরেই। সে সিমির বিশেষ বন্ধু। পাশাপাশি ঘরে। সেলিমের সঙ্গে সিমির আলাপ নৌকা চাপতে গিয়ে। নাজমা-সিমি নৌকা চাপবে, নদীপথে ঘুরবে, তখন পারের কাছাকাছিই নৌকা নিয়ে ছিল সেলিম। তারা একঘন্টা নৌকাবিহার করল। নামার সময় সিমি বলল, সো না আমাদের পাড়া

সেলিম বলে, মি প্রায় দিন এদিক দিয়েই ত নৌকায় যাই

কেবলি ভেসে গেলে হবে, ঘরে ঢুকে থিতু হতে হবে

বলে নাজমা খিলখিল করে হেসে উঠল। কথাটার মধ্যে কি ছিল কে জানে, একদিন নৌকা পারে রেখে পাড়াটায় ঢুকল সেলিম। গঙ্গার একদম ধারেই সেটা। দুইশতর মত মেয়ে থাকে। সবাই মুসলিম মেয়ে। কিন্তু তাদের জন্য কবরস্থানের মাটি বরাদ্দ নেই। সিমির সঙ্গে যখন সম্পর্ক গাঢ হল, সে বলেছিলমার জন্য একটু মাটির ব্যবস্থা করতে পারশুনে সে রেগে গেছিল। বলেছিল, তই বা বয়স তোমার? এখনই এ সব চিন্তার কথা মাথায় আনছ কেন?

না গো, ভয় করে। যদি হঠাৎ করে মারা যাই? তখন কি হবে? গঙ্গার জলের তলায় শুয়ে থাকতে হবে আমায়?

কিছু হবে না তোমার

সে নাই হোক, কিন্তু তুমি দেখে রেখ

তেমন হলে আমার বাড়ির নাচে তোমায় কবর দেব

সেলিমের বাড়ি এখান থেকে এক ক্রোশ উজানে। খেয়া পারাপারই তার জীবিকা। আগে সে কি না পার করেছে। মানুষ তো বটেই, গরু ছাগল ভেড়া, ফসল। কিন্তু যেদিন থেকে সে নৌকায় বেশ্যাদেহ তোলা শুরু করল, অন্য সব কাজ চলে গেল তার। বেশ্যাপল্লি থেকে সে সরে যেত সেই দেহ নিয়ে, খানিক গিয়ে সে দেহটি ফেলে দিত মাঝ গঙ্গায়। দেহ ডুবে যেত। তারপর ভেসে ভেসে চলে যেত যে কোথায় তা কে জানে!

সে এখন বুঝল, সেই সব মৃত বেশ্যারা আর কোথায় যায় না। ভেসে এসে তারা এদিকের পারে ঠেকে, এই বয়স্ক মানুষটি তাকে তুলে নেয় কিসের আসায়?

বলিষ্ঠ চেহেরার লোকটা সেই দেহটিকে কাঁধে তুলে নিল। এক বুক লম্বা সাদা দাড়ি, এক মাথা সাদা চুল। খালি গা, পরনে মেরুন রঙের ধুতি। মৃত দেহ কাঁধে চাপিয়ে যে কেউ হাঁটতে পারে, সেটা তার জানা ছিল না। হাঁটতে থাকল গভীর বনের প্রতি। সেলিম তাকে অনুসরণ করল। এতে লোকটার ক্রিয়াকলাপ যেমন সে দেখতে পারবে, তেমনি বনের ভেতর সিমির জন্য মাটি দেখারও ব্যবস্থা করা যাবে। যেখানে সে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকতে পারবে। সিমিকে নৌকায় চাপিয়ে দেখিয়েও নিয়ে যাবে একদিন।

নাজমার আচমকা মৃত্যুর পর সিমি যেন পাগলের মত হয়ে উঠেছে। তার ক্রমে ধারণ হচ্ছে যে সেও আচমকা মারা যাবে এবং তার আর বেশি দেরি নেই! যত সম্ভব সেলিম তার জন্য জমি খুঁজে রাখুক। তাই সে একদিন ঠিক করে যা হয় হবে, একবার সে ওপারে যাবে। ওদিকে অনেক ফাঁকা জায়গা আছে। বন-জঙ্গল আছে। সেখানেই একটা জায়গা দেখে রাখতে হবে। সে আজই ফিরে গিয়ে সে জানাবে সে কি সুন্দর এক জায়গা দেখে এসেছে তার জন্য। মাথায় উপর গাছ থাকবে।সেই গাছে লাল পাতা, নীল ফুল। সেখানে সবসময় মৃদুমন্দ বাতাস খেলা করে। ফুলের গন্ধ নিয়ে বাতাস বয়। আলো ছায়া খেলবে।  

 কাশ বাতাস আগুন আর মাটি দিয়ে তৈরি এই কাঁচা দেহ। শস্যের মতই জন্মায় আর মরে। শরীর কখনও স্থির থাকে না। সময় তার বিরাট কড়াইতে সূর্য নামক আগুনের তাপে ধাতুরূপ হাতা দিয়ে এই ভৌতিক শরীরকে পাক করে চলেছেন। তুমি এটাই চাও, এটাই তোমার আত্মশক্তি। এটাই তোমার প্রাপ্তি। আজকের তুমি কালকের তুমি একই রকম

কিছু বুঝতে পারল না সেলিম। বলল, খন এই দেহ নিয়ে তুমি কী করবে?

গাছে টাঙ্গিয়ে রাখব

তারপর?

মোট এগারটা দেহ চাই আমার

কিন্তু এদের নিয়ে কী করবে তুমি সে কথা তো বললে না!

মি করব না, করবেন আমায় পূর্বপুরুষ

তাঁরা কোথায়?

 যে খাদটা দেখছ, ওঁরা ওই খাদে অপেক্ষা করছেন এগারোজন বেশ্যার মৃতদেহ সংগৃহিত হবার জন্য

তারপর?

ওঁনারা সেই দেহের সঙ্গে সম্ভোগ করবেন

দীর ওপারেই তো সেই বেশ্যাপল্লী। ওঁনাদের আমি সেখানে পৌঁছে দিচ্ছি। ফেরতও দিয়ে যাব। সেখানে কত বেশ্যা, কত রকম তাদের গায়ের রঙ। তাদের হাসি, ছলাকলা। তাদের ফেটে পরতে থাকা যৌবন। কিন্তু সে সব ছেড়ে এই মৃতদেহের সঙ্গে, ছি ছি! ওঁনারা কি মানুষ!

ঠিকই বলেছ। ওঁনারা কেউ মানুষ নন। আমি আগেই তোমাকে বলেছিলাম ওঁনারা আমার পূর্বপুরুষ

কিন্তু ওঁনারা এমন করবেন কেন?

কোন ঘটনাই আপনা থেকে ঘটে না, তার পিছনে একটা কারণ থাকে। ওঁনারা স্বর্গ যেতে চান। বহু পথ ঘুরে, বহু কষ্ট করে ওঁনারা একসময় যখন সেখানে পৌঁছন, তখন রক্ষী তাঁদের ঢুকতে দিতে চান না। কারণ তাঁরা কখনও বেশ্যাসঙ্গ করেননি। তাই ওঁরা পুনরায় মর্তে ফিরে এসেছেন। কিন্তু নিজেরা ওই পথে কেমন করে যাবেন, তাই ওঁনারা খুঁজতে খুঁজতে আমার কাছে এসে উপস্থিত হলেন। আমি অঙ্গীকারবদ্ধ হলাম ওঁদের সাহায্য করার জন্য

ওঁনারা কি জীবিত?

ওঁনারা সৎ সমাধিতে আছেন। সৎ বাক্য, সৎ কর্ম, সৎ জীবিকা সৎ স্মৃতি ও সমাধির পরও স্বর্গ তাঁদের কাছে অধরাই থেকে গেছিল। আমার পূর্বপুরুষগণ যে সব ভাবনা ভেবেছিলেন, তার মধ্যে দশ প্রকার অশুভ ভাবনা ছিল। উৎপন্ন পাপ চিন্তা এবং যে পাপচিন্তা উৎপন্ন হয়নি, উভয়ই সাধককে প্রতি পদে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি করে। সে জন্য স্বর্গদ্বার তাঁদের জন্য মুক্ত হয়নি। এখন বেশ্যাসংসর্গ করে তাঁরা নিজেদের শুদ্ধ করতে চান। আমি তাঁদের সেই অধরা কাজ সফল করতে খানিক চেষ্টা করছি মাত্র     

দ্ধারের পর ওঁনারা স্বর্গে চলে যাবেন। তখন আপনি কোথায় যাবেন?

লে যাব আমার ডেরায়

পনার ডেরা কোথায়?

ই বন পার করে এক জনপদ তারপর আবার বন। তারপর আকাশ, পাহাড়। তার ওপারেই আমার ঠেক। আর এই যে বৃক্ষ দেখছ, এখানেই আমি আপাতত থাকি

লোকটা সেই দেহ কাঁধ থেকে নামাল। সেলিম দেখল সামনে এক বটবৃক্ষ। তার শাখা প্রশাখা থেকে ঝুলছে নয়জন বেশ্যার দেহ। সকলকে চিনতে পারল সে। সকলের দেহ সেই গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছিল। তাদের পাশে ঝুলে পরল নাজমার দেহ।

বার বল তুমি এখানে কেন এসেছ?

ক টুকরো মাটির জন্য। কবরের মাটি

কাকে কবর দিতে চাইছ তুমি?

ক বেশ্যাকে

তাকে এখানে করব দিতে চাচ্ছ কেন?

র কোন উপায় নেই। কোন জায়গা পাচ্ছি না। তার দেহ গঙ্গায় ভেসে যাক, সে চায় না। তাই আমি দায়িত্ব নিয়েছি এক টুকরো মাটির

কি নাম তার?

সিমি খাতুন

! কিন্তু তার জন্য মাটি খুঁজে কী করবে? তাকে এখানে আসতেই হবে। ওই গাছে সে ঝুলবে। তার জন্যই আমি এখানে এখনো অপেক্ষা করছি। সেই হবে আমার শেষ সংগৃহত বেশ্যা

আকাশের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে সেই বৃদ্ধ ঋষি বললেন, ই দেখ, উপর দিকে তাকাও। দেখ তিনজন দেবতা অতি ধীর গতিতে বন ছেড়ে আকাশের দিকে উড়ে যাচ্ছেন। ওঁনারা এত কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছেন যে তুমি ওঁদের চোখ মুখ পরিস্কার দেখতে পাবে। দেখ ওঁদের দেহের ভাষা মুখের ভাষা

সেলিম বলল, তাই যদি বলেন, দশটি দেহ তো আপনি সংগ্রহ করেছেন। আবার নিয়ে কী করবেন? সিমিকে ফিরিয়ে দিন। আমি ফিরে গিয়ে যেন তাকে জীবিত দেখতে পারি

কিন্তু ওকে ছাড়া যে আমার সংকল্প পূর্ণ হবে না

কথা কেন বলছেন?

সিমি এক অপ্সরি। ওকে দরকার আমার জন্য

পনার জন্য? কেন! আপনি তো জীবিত। আপনি মৃতদেহ নিয়ে কী করবেন?

মি কিন্তু একবারও বলিনি যে আমি জীবিত

মানে?

মিও বহুদিন আগে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছি। আমি স্বর্গবাস করি। আমিই লোক মারফত আমার পুর্বপুরুষদের ক্লেষের খবর পাই। তাই আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি

বে আপনি কেন মৃতদেহ সম্ভোগ করবেন? আপনার তো সেই প্রয়োজন নেই

ছে

সেটা কিসের জন্য?

মনটি করলে আমি প্রেত্যভাব প্রাপ্ত হব। প্র্যেতভাব মানে হল নষ্ট হয়ে যাওয়া বা আত্মার পুনরৎপত্তি নয়, এক অবিনাশী আত্মা দেহনাশ হলে আবার দেহ ধারণ করেন। আমি আবার ফিরে আসতে চাই। প্র্যেতভাব বা মরণের পর পুনর্জন্ম আত্মার নিত্যত্বে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না

কিন্তু কেন?    

তুমি অবুঝ হয়ো না যুবক

মি কিছু বুঝি না ঋষি মহারাজ। আমি সিমিকে বুঝি। এত তাড়াতাড়ি সে আমাকে ছেড়ে দেতে পারে না। জানি না আপনি তার সঙ্গে কী ছলাকলা করেছেন, যাতে এখনই তাকে মৃত্যুকে বেছে নিতে হবে। সে আমার একান্ত ভাবে আমার! তাকে ছাড়া আমি কিছু বুঝি না, কিছু ভাবি না। আপনি ওর বদলে অন্য বেশ্যাকে তুলে নিন, আমি কিছু বলব না

তা হয় না যুবক

য় হয়, সব হয়। আর নিতান্তই যদি না হয়, তাকে হওয়াতে হবে

তুমি ফিরে যাও

না!

বে তুমি এখন কী করবে?

দেখুন আমি কী করি বলে সেলিম ক্ষিপ্ত হয়ে হাতের কাছে পরে থাকা একটা কুঠার নিয়ে সেই বটবৃক্ষকে ছেদন করতে লাগল। বারবার বলতে লাগল, ই গাছ আমি রাখব না, সমূলে উৎপাটিত করে দেব

প্রাচীন সেই বৃক্ষ বেশিক্ষণ সে আঘাত সহ্য করতে পারল না। অচিরেই সে মৃত্যু মুখে পতিত হল। একটি তৃপ্তির শ্বাস ফেলল সে। পিছন ঘুরে কিন্তু সেই ঋষি লোকটিকে দেখতে পেল না। সে যখন ক্রোদ্ধান্বিত হয়ে হাতে কুঠার তুলে নেয়, বৃদ্ধ কিন্তু বাধা দেয়নি। এখন সে গেল কোথায়? আর ঝুলতে থাকা মৃতদেহগুলিই বা কোথায় লুকালো? যে গাছকে সে নিধন করেছে, তার শাখা প্রশাখার সঙ্গেই তো তাদের লুটিয়ে থাকার কথা। তাহলে? তারা কোথায় অন্তর্হিত হল?

সামনে ঘুরে সেলিম কিন্তু কোন কর্তিত বৃক্ষ দেখতে পেল না। ব্যাপারটা কী রকম হল? বয়সের ভারে ন্যুজ সেই বৃক্ষ মাত্র কয়েকটি আঘাতেই তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়বে তা কেই বা জানত! ভেতর ফোঁপরা হয়ে যাওয়া গাছটি যখন সজোরে মাটিতে আছড়ে পরে, তখন ডালপালা ছিল, বেশ্যারা ছিল। কিন্তু সেখানে এখন কিছু নেই। সব বেবাক ফাঁকা!

না! একেবারে ফাঁকা নয় সে স্থান। পাশে গজিয়ে উঠেছে একটি বট বৃক্ষ। এবং ক্রমে ক্রমে আরও আরও। সেলিম অবাক হয়ে দেখতে থাকল, পর পর সব গাছ গজিয়ে উঠছে, এবং সবই সেই একই মাপের বটবৃক্ষ! সে যখন অরণ্যে প্রবেশ করে তখন যে সব গাছ ছিল, তা কোথায় অন্তর্হিত হয়েছে। বদলে পরপর গজিয়ে উঠেছে সারি সারি বট!

এ সময় সেই তিন দেবতা আকাশ থেকে নেমে এলেন। প্রত্যেকে এক একটি গাছ আশ্রয় করলেন। মিহি গলায় তাঁরা সেলিমকে বললেন, ন্যবাদ সেলিম, তুমি আমাদের স্বর্গবাসের ব্যবস্থা করে দিলে। এই অরণ্যে বসবাস করতে পারি এমন ন্যাগ্রোধ বৃক্ষ ছিল না। এখন শতশত সেই বৃক্ষ উপস্থিত। আঃ, আমরা যে কী শান্তি পেলাম তা তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না!

পনারা নয়জন মৃত বেশ্যাকে দেখেছেন?

না তো সেলিম। তবে অপ্সরিরা ন্যাগ্রোধ অরণ্যে বাস করতে ভালোবাসে

কোন ঋষিকে দেখেছেন? তাঁর সঙ্গে তাঁর নয়জন পূর্বপুরুষকে?

না সেলিম। তবে আমরা জানি গন্ধর্বরা এই ধরণের অরণ্য পছন্দ করে

মি এই বনে এসেছিলাম সাড়ে তিন হাত জমির জন্য। জায়গাটা আমি চিহ্নিত করে যেতে চাই

তে বাধা কোথায় সেলিম। তুমি আগে দিক ঠিক কর। দশ দিকের কোনটি তুমি পছন্দ কর, সেই দিক যদি তুমি খুঁজে পেয়ে যাও, তাহলে তোমার কাজ সহজ হয়ে যাবে

এই বলে গাছের পাতার আড়ালে তিনজন দেবতা ঘুমাতে চলে গেলেন।

হাতে একটি কুঠার নিয়ে সেই ন্যাগ্রোধ অরণ্যের ভেতর হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল সেলিম!

 

 
 
top