ইসলামিক স্টেট ও রোহ্যাবা

 

কুর্দিস ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠা: কুর্দ আন্দোলনের নতুন গতিপথ

এই ইতিহাসের মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠা, পঁচিশ বছরের যুবা আবদুল্লা ওয্যালান ১৯৭৩ সালে মাত্র ছয় জন সাথী নিয়ে এক সংগঠন গড়ে কুর্দ প্রশ্ন বিভিন্ন ফোরামে প্রচার করতে থাকেন। সেই সময়ে কুর্দদের আন্দোলনের চেহারাটা ছিল কতকটা আমাদের দেশের ১৯২০-৩০ দশকের ব্রিটিশ বিরোধিতার আন্দোলনের মত। একদিকে কুর্দ অভিজাত সম্প্রদায়ের কংগ্রেসি মার্কা আন্দোলন আর অন্যদিকে কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর সশস্ত্র আন্দোলন এবং গ্রামের দিকে ট্রাইবাল গোষ্ঠীপতিদের বিছিন্ন সরকার বিরোধী প্রতিরোধ। আবদুল্লা ওয্যালান এবং তার রাডিক্যাল সংগঠন প্রথমেই এদের বিরোধিতার মুখে পরেন, কিন্তু ধীরে ধীরে ছাত্র যুবাদের সমর্থন, গ্রামে বসবাস করে কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে লেগে থাকার ফলে সেই সংগঠনের সমর্থন বৃদ্ধি পায় দ্রুত। সে গনসংগঠনের ভিত্তিতে ১৯৭৮ সালে তার তেইশ জন সাথীকে নিয়ে গড়ে তোলেন কুর্দিস ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) ওয্যালানের সামনে তখন রয়েছে চারটি রাষ্ট্র জুড়ে কুর্দদের ওপর দমন পীড়নের ধারাবাহিকতা। ট্রিটি অব লোজানের মাধ্যমে কুর্দদের সাথে বঞ্চনার ইতিহাস। বিশ্বজুড়ে রাশিয়া লবি এবং আমেরিকা, ন্যাটোর ঠাণ্ডা যুদ্ধের পর্যায়, চিনের, ভিয়েতনামের প্রতিরোধের ইতিহাস এবং সারা পৃথিবী জুড়ে মাওবাদী গেরিলাযুদ্ধের কৌশলে বিভিন্ন সংগঠনের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা একই সাথে প্রথাগত ট্রাইব ভিত্তিক অকার্যকরী বিচ্ছিন্ন কুর্দ সংগ্রামের চিত্র। এই শিক্ষার ভিত্তিতে আবদুল্লা ওয্যালান পিকেকে-কে স্বাধীন কুর্দিস্তানের দাবীতে এক সশস্ত্র গেরিলা সংগঠন হিসাবে গড়ে তোলেন। ওয্যালানের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, অসাধারণ বাগ্মিতা, কম্যুনিস্ট সংগঠন গড়ে তোলার দক্ষতা এবং কুর্দদের দীর্ঘকালীন স্বাধীন কুর্দিস্তানের স্বপ্ন সফলের বিশ্বাস্য বিকল্প হিসাবে পিকেকে- গ্রহণযোগ্যতা ওয্যালানকে এক জনপ্রিয় সর্বজনগ্রাহ্য নেতা হিসাবে পরিবর্তিত করতে থাকে। কুর্দ জনতা ওয্যালানের নতুন নামাকরন করেন অ্যাপো, কুর্দ ভাষায় কাকা। পার্টি গঠনের সাথে সাথেই কিছু হাই প্রোফাইল গেরিলা আক্রমণ, দক্ষিণ তুরস্ক জুড়ে সফল গেরিলা বোমাবর্ষণের ধারাবাহিকতা এবং সেই সময়ের তুরস্ক জুড়ে সরকার বিরোধী ছাত্রশ্রমিক আন্দোলন, কুর্দিস্তানের লড়াইয়ে প্রথম মহিলা গেরিলা বাহিনি সৃষ্টি পিকেকে স্বাধীন কুর্দিস্তানের সংগ্রামকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায় যে তৎকালীন তুরস্কের সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রার্থী হতে বাধ্য হয়। কুর্দ জনজাতির এক আঞ্চলিক আন্দোলন আবদুল্লা ওয্যালান এবং পিকেকে-র নেতৃত্বে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষনে সক্ষম হয়।

সেই সময়ের তুরস্কে দক্ষিণপন্থি এবং বামপন্থিদের আভ্যন্তরীণ লড়াই। ছাত্র, যুব, শ্রমিকদের স্ট্রাইক এবং সরকার বিরোধী আন্দোলন সাথে পিকেকে-র আন্দোলনের ডামাডোলে বিধ্বস্ত অশান্ত তুরস্কে শান্তি প্রতিষ্ঠার বাহানায় ১৯৮০ সালের শেষের দিকে সামরিক অভ্যূথানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে এমজিকে (ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল)। সমস্ত রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন ব্যান করে দেওয়া হয়, ভেঙ্গে দেওয়া হয় পার্লামেন্ট এবং সমস্ত সরকারী সংস্থা। মার্শাল ল এবং কারফিউ জারী করে চলতে থাকে এনকাউন্টার এবং ধরপাকর। পিকেকে- কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু নেতা ধরা পড়েন, মিলিটারি বেশ কিছু আভিযান প্রতিহত করেপিকেকে-র তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বের মুক্তাঞ্চল মিলিটারি আক্রমণের মুখে পড়ে, তুরস্কের ভেতরে থেকে লড়াই করার বাস্তবিক অসুবিধার কারনে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা লেবানন, সিরিয়া, পশ্চিম ইউরোপ এবং ইরাকের কুর্দ এলাকায় আত্মগোপন করেন পিকেকে তার গেরিলা বাহিনীর শক্তিক্ষয় এড়াতে ট্রেনিং বেস সিরিয়ার উত্তরে তুরস্ক সীমানায় দুর্গম কুর্দ এলাকায় প্রতিষ্ঠাপিত করে। এই সময়ে গ্রেপ্তার এড়াতে আবদুল্লা ওয্যালান লেবাননে তার হেড কোয়ার্টারস্থাপন করে কুর্দিস্তানের সপক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং জনমত তৈরির কাজ করতে থাকেন। মাত্র বছর দুয়েক পূর্বে গড়ে ওঠা পিকেকে প্যালেস্টাইন লিবারেসান অরগানাইজেশান, কমুইনিস্ট লিগ অ ইরান এবং মার্কসিস্ট আর্মেনিয়ান গেরিলা গ্রুপের সমর্থন পেতে থাকে। একই সময়ে কুর্দদের প্রশ্নর আন্তর্জাতিক পরিচিতির উদ্দেশ্যে পিকেকে ইউরোপ জুড়ে তুরস্কের এমব্যাসি দখল এবং বোমাবর্ষণ চালাতে থাকে। এই অবস্থা চলতে থাকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। অবশেষে ১৯৮৪ সাল নাগাদ তুরস্কে পুনরায় নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসে, মিলিটারি শাসনের অবসান ঘটে। নতুন নির্বাচিত সরকার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃউদ্ধারের স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির চাপে রাজনৈতিক বন্দিমুক্তি এবং হৃত গনতান্ত্রিক অধিকারগুলি ফিরিয়ে দেওয়ার এক প্রক্রিয়া শুরু করে। এই অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে পিকেকে পুনরায় তাদের সিরিয়া-তুরস্কের সীমানায় আশ্রয় গ্রহণকারী গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের তুরস্কের ভেতরে নিযুক্ত করতে থাকে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে পিকেকে মিলিটারি শাসনের সময় হারানো জমি পুনঃউদ্ধারে সক্ষম হয়, ১৯৮৪ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হয় ফুলস্কেল গেরিলা যুদ্ধ। মূলত দক্ষিণ তুরস্কে এই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকলেও ইস্তাম্বুলও চলে আসে এই যুদ্ধের আওতায়। একই সাথে পিকেকে তার কোর এরিয়া কুর্দ প্রভাবিত এলাকায় গেরিলাযুদ্ধের ফাঁকে সামাজিক সুরক্ষা, মহিলাদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গ্রামের দিকে কুরদিস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজের মাধ্যমে জনসমর্থনের ভিত্তি বাড়াতে থাকে। ১৯৭৮ সাল থেকে চলে আসা পিকেকে-র নেতৃত্বে এই গেরিলাযুদ্ধ বর্তমানে কারাগার বন্দী আবদুল্লা ওয্যালান এবং তুরস্ক সরকারের মধ্যে এক সমঝোতার অবশেষে ২০১৩ সালে এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আপাত এক শান্তির অবস্থানে বর্তমান।

স্তালিনবাদি গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার শুঁয়োপোকা থেকে ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসমের প্রজাপতিতে বিবর্তন

আবদুল্লা ওয্যালান এবং পিকেকে-র প্রতিষ্ঠাতা অধিকাংশ নেতাগনের কেউই ঠিক ডাই-হার্ড কম্যুনিস্ট ছিলেন একথা বলা যাচ্ছে না। তাদের স্বপ্ন ছিল স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠা, পথ ছিল সশস্ত্র আন্দোলন। সময়ের দাবীতে এবং তৎকালীন সারা পৃথিবী জুড়ে চলে আসা বিভিন্ন মাওবাদী গেরিলা সংগঠনের অনুসরণে আবদুল্লা ওয্যালানের ব্যক্তিত্বশীল নেতৃত্বে অন্যান্য সব কম্যুনিস্ট পার্টির মতোই গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার স্তালিন বাদী পলিটব্যুরো, কেন্দ্রীয় কমিটি ইত্যাদি ছকে বাঁধা পথেই পিকেকে গড়ে ওঠে তৎকালীন তুরস্কে আরও ছোট ছোট লেনিনপন্থি, ট্রটস্কিপন্থি, অ্যানারকিস্ট এমনকি টিটোপন্থী দলগুলির উপস্থিতি থাকলেও আবদুল্লা ওয্যালানের নেতৃত্বদানের সক্ষমতা, সবল সংগঠন, গেরিলা যোদ্ধা সংগ্রহের এবং কুর্দিস্তানের দুর্গম পাহাড়ে তাদের মিলিটারি ট্রেনিং দেওয়ার নেটওয়ার্ক, বিপুল পরিমাণে মহিলা সদস্যের উপস্থিতি সারা তুরস্ক জুড়েই পিকেকে-কে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বিরোধী প্রধান মুখ হিসাবে অতি দ্রুততার সাথে প্রতিষ্ঠা করতে থাকে। ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৯৭ সালের অন্ত্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুড়ে তুরস্ক, লেবানন, সিরিয়াতে বসবাস করে গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার কঠিন পার্টি ডিসিপ্লিনের স্তালিনবাদী পন্থা অনুসরণে ওয্যালান কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র আন্দোলন পরিচালনা করেছেন। সেই ডিসিপ্লিন এতটাই কঠিন ছিল যে পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং একই সাথে ওয্যালানের স্ত্রী কেশিরে ইয়িলডিরিমকে তুরস্কের গোয়েন্দা বাহিনীকে তলে তলে পার্টির খবর পাচার করার অভিযোগে পার্টি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ওয্যালানের সমর্থনেই গৃহীত হয়।

সেই সময়ে বিশ্বজুড়ে একই সাথে দু তিনটি ঘটনা ঘটতে থাকে। তুরস্কের অভ্যন্তরে পিকেকে-র মাওবাদী ধারায় সংগ্রামের পদ্ধতি, অতিরিক্ত বল প্রয়োগ,কখনো সাধারণ নাগরিকের উপর গেরিলা হানা এবং তৎপরবর্তী সরকারী দমনের ধারাবাহিকতা অপেক্ষাকৃত লিবারেল সমর্থকদের পার্টির প্রতি কিছুটা বিরূপ করে তোলে পিকেকে- আন্দোলনের ফলে কুর্দদের প্রশ্ন সারা বিশ্বে আলোচিত এবং তুরস্ক সরকারের মানবধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি দেশের ভেতরে এবং বাইরে আলোচ্য বিষয় হিসাবে উঠে এলেও অনাবশ্যক হিংসা বিদেশী সমর্থকদের মধ্যেও বিরূপ মতামতেরও সৃষ্টি করতে থাকে।

ন্যাটোর বৃহৎ সহযোগী তুরস্কের এবং আমেরিকার চাপে পিকেকে সন্ত্রাসবাদী সংস্থা হিসাবে ঘোষিত হয়। ব্যাঙ্ক একাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। ওয্যালান তখন সিরিয়াকে কেন্দ্র করে তার সংগ্রামটি পরিচালনা করছেন, তুরস্ক সরকার সিরিয়াকে এই বলে হুমকি দেয় যে ওয্যালানকে বহিষ্কার না করলে ফল ভালো হবে না। সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্ভাবিত যুদ্ধ এড়াতে আবদুল্লা ওয্যালান রাশিয়াতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন আবদুল্লা ওয্যালানের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন রুশ পার্লামেন্ট ২৯৮-০ ভোটে পাস করলেও তুরস্কের এবং আমেরিকার চাপে রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়েলেৎসিন প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো প্রয়োগে আবদুল্লা ওয্যালানের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন। ওয্যালান রাশিয়া পরিত্যাগ করে ইউরোপে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। রাশিয়ার এবং সমাজতান্ত্রিক ব্লকের প্রায় অবলুপ্তি, চিনের পুঁজিবাদী পথ অবলম্বন, মার্ক্সবাদী তত্ত্বের অবলম্বনে প্রলেতারিয়ে ডিক্টেটারশিপ রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা, স্তালিনপন্থী কঠিন কমিউনিস্ট স্ট্রাকচারের কর্তৃত্বশালী আচার তাকে ধীরে ধীরে মার্ক্সবাদী পথের মাধ্যমে কুর্দ প্রশ্ন সমাধানের সফলতা অর্জন আদৌ সম্ভাব্য কিনা এ বিষয়ে ভাবাতে থাকে। একই সাথে প্রায় কুড়ি বছর ধরে চলে আসা গেরিলাযুদ্ধের ফলে প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের প্রানের বিনিময়ে অর্জিত সফলতার হিসাব এবং যে কুর্দ স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যেশে ১৯৭৮ সালে তিনি তাঁর পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা আদৌ মাওবাদী গেরিলাযুদ্ধের পথে অর্জন করা সম্ভব কিনা এবং সর্বোপরি কুর্দিশ সমস্যার অন্য কোন উপায়ে সমাধান সম্ভব কিনা এই সব প্রশ্ন ওচালানকে ভাবাতে থাকে। ওয্যালান নিষিদ্ধ পিকেকে-র গঠনতন্ত্রের এক আমূল বিকেন্দ্রীকরনের সাথে সাথে গন আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যেশে এবং লিবারেল সমর্থকদের একজোট করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন। পিকেকে স্তালিনবাদি খোলস মুক্ত হতে থাকে।

সেই সময় তুরস্ক বা সিরিয়ার সীমান্ত থেকে হাজারো মাইল দূরে মেক্সিকোতে ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি ন্যাফটা (নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) সাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুসার মেক্সিকোর বাজার, চাষিদের জমি উৎপাদিত দেশীয় শস্য সমস্ত কিছু আমেরিকা এবং বাকি স্বাক্ষরকারী দেশের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার দিনেই এক অজানা সংগঠন জ্যাপাটিসটা ন্যাশানাল আর্মির (ইজেডএলএনহাজারো সশস্ত্র মায়া আদিবাসী গেরিলা মেক্সিকোর প্রধান শহর, জেলা শহর আঞ্চলিক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে। জ্যাপাটিসটা এক নতুন ধরনের মুক্তির লড়াই, মায়া আদিবাসী সমাজের স্বয়ংশাসন প্রতিষ্ঠা করার এই যুদ্ধ বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার মিশ্রণে এক নতুন ধরনের বামপন্থী চিন্তার ফসল। জ্যাপাটিসটা দ্রুত দক্ষিণ মেক্সিকোর জঙ্গলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেদের স্বয়ংশাসন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। দে ডোন্ট ওয়ান্ট টু সিজ পাওয়ার। দিস ইজ সামথিং ন্যিউ। দে ওয়ান্ট টু ক্রিয়েট অ্যা ডিমোক্রেটিক প্রসেস দ্যাট অল মেক্সিক্যান্স টেক পার্ট ইন। দে ওয়ান্ট রিকগনিশন অব ইন্ডাইজিনাস কালচার, হিস্ট্রি অ্যান্ড অটোনমি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিহীন, পার্টির কন্ট্রোল বিহীন, পাল্টা রাষ্ট্র শক্তি তৈরি না করে বিপুল জনতার সায়ত্বশাসন অর্জনের এই সফল বামপন্থী পরীক্ষা ওয্যালান গভীর ভাবে অনুধাবন করেন। পার্টির দুইদিন ব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ে জ্যাপাটিসটা আন্দোলনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং কুর্দ আন্দোলন সেই পথে পরিচালিত করা যায় কিনা, এ নিয়ে বিতর্ক, আলোচনা এবং দলিল প্রস্তুত হয় ওয্যালান তাঁর ইউরোপে বসবাসকালীন মার্ক্স পরবর্তী বামপন্থী লেখা পত্র এবং কুর্দদের প্রশ্নের সমাধানে পড়তে থাকেন বাকুনিন, এম্মা গোল্ডম্যান, ফুকো ইত্যাদি। চলতে থাকে সোভিয়েত পতনের পর বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আত্মবিশ্লেষন। অবশেষে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণকারি তুরস্কের সবথেকে বিপদজনক ব্যক্তিত্ব গ্রিসের সহযোগিতায় উপস্থিত হন কিনিয়াতে। ১৯৯৯ সালে সিআইএ- সহযোগিতায় তুরস্কের গোয়েন্দা পুলিস নাইরোবি এয়ারপোর্ট থেকে ওয্যালানকে অপহরণ করে নিয়ে আসেন তুরস্কে। ওয্যালানের এই নাটকীয় গ্রেপ্তারকে সরকারী প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে তুরস্কের সরকার পিকেকে এবং কুর্দ জনতার আন্দোলনের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে থাকে অন্যদিকে চলতে থাকে তুরস্কের ইতিহাসে বিগত বাইশ বছর ধরে রাষ্ট্রের প্রধান শত্রু আবদুল্লা ওয্যালানের এক হাই প্রোফাইল বিচার।

অসম্ভব প্রাণশক্তির অধিকারী অদম্য ওয্যালান এই অবসরে জেলখানার পনের বাই পনের কুঠুরির অন্ধকারে আত্মস্থ কোরতে থাকেন বাকুনিন, প্রুধোর রাষ্ট্র বিহীন গনতন্ত্রের আইডিয়া। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরাক, ইরান সিরিয়া, তুরস্কে বিভক্ত কুর্দ জনজাতির বাস্তব পরিস্থিতি এবং তার দীর্ঘ আন্দোলনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পারস্পেক্টিভে বিচার করতে থাকেন সেই আইডিয়ার বাস্তবসম্মত প্রয়োগের সম্ভাবনা। অবশেষে ২০০০ সালে কারাগারের অন্তরালে ওয্যালানের পরিচয় ঘটে আমেরিকান অ্যানারকিস্ট চিন্তাবিদ মারে বুকচেনের আরবানাইজেশন উইদায়ুট সিটিজ নামক পুস্তকটির সাথে। বুকচেনের পুস্তকটির দ্বারা ওয্যালান এতটাই প্রভাবিত হন যে তার উকিলের মাধ্যমে জেলের ভেতর থেকে সমস্ত সাথিদের এই বইটি পড়তে অনুপ্রানিত করে এক নোট পাঠান। ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় আবদুল্লা ওয্যালানের প্রথম প্রিসন রাইটিং, দ্য রুটস অব সিভিলাইজেশনবুকচেনের মিউনিসিপ্যালিসিম-এর দ্বারা প্রভাবিত, মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষত কুর্দদের প্রশ্নের সমাধানে ওয্যালানের ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম তত্ত্বের প্রথম ডিফেন্স। এই ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম তত্ত্বের তাত্বিক ভিত্তিটি তৈরি হচ্ছে কারাগারের অন্তরালে ছয় হাজার বছরের মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস মার্ক্সবাদী দৃষ্টিতে ব্যাখ্যার মাধ্যমে।

দ্য রুটস অব সিভিলাইজেশননামক এই দুই খণ্ডের আকর গ্রন্থ পর্যায়ের পুস্তকে আবদুল্লা ওয্যালান মার্ক্সবাদী বিশ্লেষনে সুমেরীয় সভ্যতার সময়ে থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস, নগর রাষ্ট্রের উৎপত্তি, রাষ্ট্রের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা, পুরুষ প্রধান সমাজের প্রতিষ্ঠা, মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি, ইসলাম খ্রিস্ট ধর্মের উৎপত্তি এবং পতন থেকে শুরু করে কাপিট্যালের বিস্তার মার্ক্সবাদী বিশ্লেষনের পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করেছেন এই অসাধারণ পুস্তকটিকে ছয় হাজার বছরের ইতিহাসের ব্যাপ্তিতে ওয্যালানের ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম তত্ত্বের মুল রেফারেন্স হিসাবে আমরা গণ্য করতে পারি পুরো কুর্দিস্তান আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তন,সাথে স্তালিনবাদী গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা নির্ভর এক সক্রিয় গেরিলাযুদ্ধ পদ্ধতিতে আন্দোলনরত পিকেকে-র চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি ছিল তার প্রথম ডিফেন্স স্বাধীন কুর্দিস্তান আরেকটা নতুন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার সশস্ত্র লড়াইয়ের গতিমুখ পরিবর্তিত হয় ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম বা কুর্দিস্তানে রাষ্ট্রহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। ওয্যালান তাঁর ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম পুস্তিকার ভূমিকাতে লেখেনদ্য রাইট অব সেলফ-ডিটারমিনেশন অব দ্য পিপলস ইনক্লুডস দ্য রাইট টু অ্যা স্টেট অব দেয়ার ওন। হাউয়েভার, দ্য ফাউন্ডেশন অব অ্যা স্টেট ডাজ নট ইনক্রিজ দ্য ফ্রিডম অব অ্যা পিপল। দ্য সিস্টেম অব দ্য ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ইজ বেসড অন দ্য নেশন-স্টেটস হ্যাজ রিমেইন্ড ইনেফিসিয়েন্ট। মিনহোয়াইল, নেশন-স্টেটস হ্যাভ বিকাম সিরিয়াস অবস্টাকেলস ফর এনি সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট। ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম ইজ দ্য কনট্রাস্টিং প্যারাডাইম অব দ্য অপ্রেসড পিপল।

অসংখ্য স্বাধীনতাকামী কুর্দ জনতা, ওয্যালানের গ্রেপ্তারের পর তাঁর মুক্তির দাবীতে পুরানো গেরিলাযুদ্ধের টেকনিকে পরিচালিত পিকেকে-র নেতা এবং কর্মীগণ, পশ্চিমের মিডিয়া সাথে তুরস্কের সরকার আবদুল্লা ওয্যালানের মত দীর্ঘ দুই দশকের ওল্ড স্কুল গেরিলা যুদ্ধের নেতার এই নতুন তত্ত্বের প্রকাশে বিভ্রান্ত হয়ে পরে। সরকার এবং মিডিয়ার মনে হতে থাকে এ হল নিজেকে ফাঁসীর কড়িকাঠ এবং পিকেকে-কে অবলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ওয্যালানের এক নতুন বুদ্ধিদীপ্ত চাল।

আবদুল্লা ওয্যালানের তত্ত্বের সমর্থনে রচিত দ্বিতীয় ডিফেন্সটি প্রকাশ পায় ২০০৪ সালে, দ্য পিকেকে অ্যান্ড দ্য কুর্দিশ কোশ্চেন ইন দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি। প্রথম পুস্তকটি যদি হয় ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম তত্ত্বের মুল রেফারেন্স, তবে দ্বিতীয় পুস্তকটি কুর্দিস্তানের লড়াইয়ে পিকেকে-র ভূমিকা, সফলতা, ব্যর্থতা, আত্মবিশ্লেষন এবং পিকেকে-র ভবিষ্যতের লড়াইয়ের দিক নির্দেশ মাইন্ডলেস ভায়োলেন্সের পরিবর্তে কুর্দ জনতার গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা অর্জন, রাষ্ট্রের সীমানায় থেকেই রাষ্ট্র প্রচলিত ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রর পরিবর্তে ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসমের ভিত্তিতে জনতার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং গেরিলা মিলিশিয়ার মাধ্যমে তা রক্ষা করার এই দিক নির্দেশ ওয্যালান বলেন: ডিমোক্র্যাটিক কনফেড্যারালিজম ইজ বেসড অন গ্রাসরুট পার্টিসিপেশন। ইটস ডিসিশন মেকিং প্রসেসেস লাই উইথ দ্য কমিউনিটিজ। হায়ার লেভেলস অনলি সার্ভ দ্য কোয়ার্ডিনেশন্স অ্যান্ড ইমপ্লিমেনটেশন অব দ্য উইল অব দ্য কমিউনিটিজ দ্যাট সেন্ড দেয়ার ডেলিগেটস টু দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলিজস। ফর লিমিটেড স্পেস অব টাইম দে আর বোথ মাউথপিস অ্যান্ড এক্সিক্যিউটিভ অব ইন্সটিট্যিউশন্স। হাউয়েভার, দ্য বেসিক পাওয়ার অব দ্য ডিসিশন রেস্টস উইথ দ্য লোক্যাল গ্রাসরুট ইন্সটিট্যিউশন্স।

এই ষোল বছরের দীর্ঘ কারাবাসে আবদুল্লা ওয্যালান লিখেছেন পাঁচটি পুস্তক, দশটির অধিক পুস্তিকা, অসংখ্য প্রবন্ধ, চিঠি। ২০০৬ সাল থেকে তুরস্কের সরকার দীর্ঘ পাঁচ বছর তার সাথে প্রকাশ্যে এবং গোপনে কারাগারে কুর্দ প্রশ্নে নেগোশিয়েসন চালিয়েছেন, অবশেষে ওয্যালানের অধিকাংশ দাবী মেনে ২০১৩ সালে এখনো নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়া স্বত্বেও পিকেকে-র সাথে তুরস্ক সরকারের এক শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে আবদুল্লা ওয্যালান গত চল্লিশ বছর ধরে কারাগারের বাইরে এবং ভেতরে কুর্দ দের প্রশ্নের সমাধান খুঁজছেন নিরলস আর তার হাতে গড়া পিকেকে সেই তত্ত্ব বর্তমানে প্রয়োগ করছে তুরস্ক এবং সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।

২০০৭ সালের শুরুর দিক থেকে পিকেকে তুরস্কের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসমের তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ করতে শুরু করে, বর্তমানে তুরস্কের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সমস্ত প্রদেশে (হাক্কারি, শিরনাক, সিত, মারদিন, দিয়ারবকির, এলে, বোয়ান) ‘ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম-এর ভিত্তিতে জনতার ডিসিশন মেকিং অ্যাসেম্বলি বর্তমান, এই সমস্ত প্রদেশে তুরস্ক সরকারের জনতার ওপর বস্তুত কোন প্রভাবই নেই, সরকারী এবং জনতার শাসনের এক সমান্তরাল ব্যবস্থা ক্রমশ তাঁর বিস্তার বাড়াচ্ছে অতি দ্রুত এমনকি নন কুর্দ প্রদেশেও। আমাদের কাছে এই আধাবোধ্য, বিমূর্ত রাষ্ট্রহীন গণতন্ত্রের আইডিয়া, রাষ্ট্রের সীমানায় থেকেই রাষ্ট্রবিহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সশস্ত্র মিলিটারি বজায় রাখা এবং তার ইউনিকনেস রোহ্যাবা বিপ্লবের মাধ্যমে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রয়োগের উদাহরণে পরিষ্কার হচ্ছে ধীরে ধীরে, পৃথিবী আশ্চর্য হচ্ছে এই যুদ্ধবিদ্ধস্ত অঞ্চলে এক অদ্ভুত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদাহরণে।

রোহ্যাবা বিপ্লব:শুরুর কথা

২০১১ সালে সিরিয়াতে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ পিকেকে- কাছে আবদুল্লা ওয্যালানের ডিমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম তত্ত্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃহৎ স্কেলে প্রয়োগের এক অভূতপূর্ব সুযোগের সম্ভাবনা উপস্থিত করে। তিউনেশিয়া, ইজিপ্ট- সরকারবিরোধী গন আন্দোলন (পশ্চিমের মিডিয়া যাকে অ্যারাব স্প্রিং নামে আখ্যা প্রদান করে থাকে) এবং তার প্রভাবে সিরিয়াতে শুরু হয় আসাদ বিরোধী শান্তিপূর্ণ গন আন্দোলন। জনতা ১৯৭০ সাল থেকে চলে আসা আসাদ পরিবারের বস্তুত এক পার্টির শাসনের ডিক্টেটরশিপ এর পরিবর্তে তুলনামূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। কিন্তু আসাদ তিউনেশিয়া, ইজিপ্ট, লিবিয়ার গন আন্দোলনের ফল দেখে শঙ্কিত বোধ করতে থাকেন, ১৫ মার্চ ২০১১ সালে দামস্কাসের শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রকামী জনতার মিছিলে আসাদের বাহিনী গুলিবর্ষণ করে। শান্তিপ্রিয় গনতন্ত্রকামি জনতার আন্দোলন আসাদ সরকারের উচ্ছেদ আন্দোলনে পরিবর্তিত হয়। সেই বছরেরই ২৫ এপ্রিল আসাদের বাহিনী আন্দোলন দমন করতে ট্যাঙ্ক কামান সজ্জিত বাহিনী আন্দোলন দমনে ব্যবহার করে, শুরু হয় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। ২০১২ সালের মধ্যে সিরিয়ার অর্ধেক ভূখণ্ড চলে যায় আসাদ বিরোধী এবং মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে।

বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াইরত আসাদবাহিনি যখন দুর্বল তখন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কোবানে শহরের এক মসজিদে পিঅয়াইডি (পিকেকে এখনো নিষিদ্ধ সংগঠন, তাই তুরস্কের ভেতরে এবং সিরিয়াতে পিকেকে গড়ে তুলেছে বেশ কিছু গন সংগঠন পিঅয়াইডি যার অন্যতম ) এবং তাদের মিলিশিয়া বাহিনী সন্মিলিত মিটিং- সিধান্ত নেয় বিপ্লব শুরু করার এই মোক্ষম সময়। সশস্ত্র গেরিলা বাহিনী কোবানে শহরে প্রবেশ এবং কোবানে থেকে বেরোবার সমস্ত রাস্তার দখল নেয়। পার্টির নেতৃত্বে এক সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মহিলা এবং সাধারণ নাগরিকগন সরকারী দপ্তর এবং সামরিক ঘাঁটি ঘেরাবন্দি করে। পিঅয়াইডি প্রতিনিধিগন আসাদের মিলিটারি অধিকর্তাদের সাথে আলোচনা চালাতে থাকেন। তাদের দুটি শর্ত দেওয়া হয়. ব্যারাক এবং শহর পরিত্যাগ করে নিজ নিজ যায়গায় ফেরত যেতে পারেন ২. সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমাদের সাথেও থাকতে পারেন। কোবানের আসাদ বাহিনী যখন উপলব্ধি করে তাদের পক্ষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য পাওয়া দূর অস্ত তখন অন্যনপায় আসাদ বাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাক ত্যাগ করে। একটাও বুলেট খরচ না করে কোবানে অঞ্চল আসাদ বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় শুরু হয় রোহ্যাবা বিপ্লব। জিজরেকোবানে এবং আফরিন রোহ্যাবার এই তিনটি ক্যান্টনে ১৮৪০০ স্কোয়ার কিলোমিটার জুড়ে গত বছর ধরে প্রত্যহ পরিক্ষিত হচ্ছে আবদুল্লা ওয্যালানের রাষ্ট্রবিহীন গণতন্ত্রের এক অভূতপূর্ব সামাজিক বিপ্লব। অসংখ্য কুর্দ এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রিয় মানুষের গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন পথ আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত জগতের বাইরে। জর্জ অরওয়েল স্পেনের বিপ্লবের অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তীতে লিখেছিলেন: বাট দ্য পয়েন্ট টু নোটিস ইজ দ্যাট দ্য পিপল হু আর ইন প্রিজন নাউ আর নট ফাসিস্তস বাত রেভেল্যিউশনারিজ; দে আর দেয়ার নট বিকজ দেয়ার অপিনিয়ন্স আর টু মাচ টু দ্য রাইট, বাট বিকজ দে আর টু মাচ টু দ্য লেফট। অ্যান্ডদ্য পিপল রেসপন্সিবল ফর পুটিং দেম দেয়ার আর দোজ ড্রেডফুল রেভেল্যিউশনারিজ অ্যাট হুজ ভেরি নেম কোয়েক্স ইন হিজ গ্যালোশেস—দ্য কম্যুনিস্টস। (স্পিলিং দ্য স্প্যানিস বিন্স, জর্জ অরওয়েল, ১৯৩৭বামপন্থী বুদ্ধিজীবীগনের রোহ্যাবা বিপ্লব নিয়ে পাথরের মত নীরবতা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না

 
 
top