ধনঞ্জয়ের ফাঁসি সংক্রান্ত কিতাব: এক পাঠকের প্রতিক্রিয়া

 

হঠাৎ করেই খেয়াল করছি চারপাশে ক্রাইম থ্রিলারের মারাত্মক আধিপত্য। গোয়েন্দা কাহিনি নিয়ে সিনেমা, টিভি সিরিয়ালের হিড়িক পড়ে গেছে। রিয়েল লাইফের অপরাধ যে বেড়েছে তা ন্যাশানাল ক্রাইম ব্যুরোর রেকর্ডের উর্দ্ধমুখী গ্রাফ দেখলেই মালুম হয়। অবিশ্যি সেটা নথিভুক্ত অপরাধের। অ-নথিভুক্ত অপরাধের রেজিস্টার নেই এ দেশে। এফআইআর বা জিডি করার ঝকমারি অনেক।

রিয়েল লাইফের অপরাধ সমৃদ্ধি কি রিলের কল্পনায় পেখম মেলল? না কি উপভোক্তাদের পছন্দের বিষয় অপরাধ? কিংবা, প্রশ্ন করাই চলে, কেন এত অপরাধ? বা, অপরাধের পেছনে সত্য অন্বেষণ-(ধন্যবাদ ব্যোমকেশ!) বা কেন? কেবল কি সুবিচারের প্রত্যাশায়? উপভোক্তাদের রিয়েল জীবনে যখন বিচারের বানী নীরবে, নিভৃতে কাঁদে, তখন এসব রিল জীবন বা অপরাধ্মূলক কিতাব পড়ে কি এক ধরনের ক্যাথারসিস বা পারগেশন হয়? কেনই বা এত্ত এত্ত অপরাধের বা হিংস্রতার উদ্ভাস?

এতশত প্রশ্ন মাথায় এল দেবাশিস সেনগুপ্ত, প্রবাল চৌধুরী ও পরমেশ গোস্বামীর লেখা আদালত-মিডিয়া-সমাজ ও ধনঞ্জয়ের ফাঁসি (প্রচ্ছদে, আশ্চর্য ব্যাপার, এই দুটি হাইফেন নেই, সেখানে লেখা আছে ‘আদালত মিডিয়া সমাজ ও ধনঞ্জয়ের ফাঁসি’) কিতাবটা পড়তে বসে। তবে এটা ব্যোমকেশ-ফেলুদার মতো কল্পকাহিনি নয়, রিয়েল লাইফের ঘটনা: একটি ফাঁসির পুনঃতদন্ত, পুনঃবিচারের প্রত্যাশা, সত্য অন্বেষণ নিয়ে অত্যন্ত পরিশ্রমে লেখা কিতাব আগের অনুচ্ছেদে যে সব সমস্যাপ্রশ্ন পেড়েছিলুম, বইটা পড়তে পড়তে তা আরও বিস্তারিত হল। আরও প্রশ্ন চাগিয়ে উঠল, বিশেষত বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হল। ধনঞ্জয় চাটুজ্জে বলে এক গরিব মানুষের ফাঁসি হয়েছে, সে উকিল ভাড়া করেও ঠিকঠাক পরিষেবা পায়নি। তবে কি দণ্ডদাতার কাছে গরিব-বড়লোকের ভাগাভাগি আছে? ন্যাশানাল ল্য য়ুনিভার্সিটির রিপোর্টে দেখি এই ধরনের ডিস্ক্রিমেন্টারি প্র্যাকটিসের এক আশ্চর্য সংখ্যাতত্ত্ব। দেখা যাচ্ছে প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে গরিব, প্রান্তিক, দলিত মানুষেরা সুবিচার পান না। তাঁদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হয়। আর নানান ভাবে পার পেয়ে যান বড়লোক সেলিব্রিটি, অভিনেতা, রাষ্ট্রনেতারা। এমনকী ১৯৮৪-র শিখনিধনযজ্ঞে উস্কানি দেওয়ার জন্য এক ভারতীয় অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে হয় অস্ট্রেলিয়ায়, ভারতে নয়।

সচরাচর গোয়েন্দাগল্পে একটা প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়: কেন অপরাধ? অর্থাৎ অপরাধ ও অপরাধীর এটিওলজি খোঁজ করা হয় না। এটা যেন অপরাধের স্বাভাবিকীকরণ: অপরাধ তো ঘটেই, ঘটেই থাকে (এমন ঘটনা তো কতই ঘটেআপ্তবচনটি মনে পড়ছে।)—এবার অপরাধীকে খুঁজে বের কর, অপরাধের কারণকে নয়। এমন কাজ করতে হলে বিজ্ঞানের দর্শন এবং সমাজ-অর্থনীতি নিয়ে কথা পাড়তে হয়। এই বইয়ের ভূমিকায় সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাধ বিজ্ঞানের দর্শন অনুসন্ধান করতে গিয়ে, সেটাই খনিকটা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষ ক্ষমতার যাথার্থ্য নিয়ে। বিশেষজ্ঞকে যে মর্যাদা দেওয়া হয় সামাজিক পরিসরে, তাকে মিথবলতে দ্বিধা করেননি সৈকত। সচরাচর, এমন সাহস কেউ দেখান না। সৈকত যে ধরতাইটা দিয়ে দিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধের আর্থ-সমাজ নিয়ে (অর্থাৎ অপরাধের কারণ-করণ নিয়ে) তাঁর কাছ থেকে আরও কিছু শোনার প্রত্যাশায় রইলাম।

এই বইয়ের লেখকত্রয় ধনঞ্জয়ের অপরাধ প্রমাণ/অ-প্রমাণের ক্ষেত্রে অনুপুঙ্খ তথ্য দিয়ে পুরো অনুসন্ধানের আরোহী (ইন্ডাকটিভ) বিবরণ পেশ করেছেন (খেয়াল রাখবেন স্টাডি ইন স্কারলেট-এ ডয়েল বলেছেন সাইন্স অব ডিডাকশন-এর কথা, আদতে এটা ইন্ডাকশন) পদ্ধতিগত ভাবে তাঁরা যেটা করেছেন , সেটা একটা বিশেষ সংযোজন বলা যেতে পারে, তা হল গিয়ে সম্ভাব্যতার তত্ত্বের প্রয়োগ (দ্র. অধ্যায় ৮ এবং ১৫)। একাধিক বিকল্প সম্ভবনার মধ্যে কোন একটি বেছে নেওয়ার যে প্রয়াস তা প্রমাণতত্ত্বের ক্ষেত্রে ব্যবহার ও প্রয়োগ পাশ্চাত্যের জ্ঞানতত্ত্বে খুব বেশি দিনের ব্যাপার নয়। য়ুরোপে সপ্তদশ শতকের আগে অব্দি এ বিষয়ে কোন ভাবনাচিন্তা করাই হয়নি। জন লকের অনুপ্রেরণার জেফ্রি গিলবার্ট আর বেনথাম এই সম্ভাব্যতার তত্ত্বকে অভিজ্ঞতাবাদী বিজ্ঞানের নির্মাণে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগান। আপেক্ষিক গুরুত্ব দিয়ে কোন একটি বিকল্প চয়নের ক্ষেত্রে যে ওজনদেওয়ার রীতি চালু হল তা মূলত খ্রিস্টিয় ঐতিহ্য থেকেই (সংখ্যাতত্ত্বের মধ্যেও তাহলে ধর্মীয় অনুষঙ্গ!)

ভাওয়ালের জাল রাজা (?) প্রতাপচাঁদের মামলা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে উপযুক্ত প্রসঙ্গগুলো পেড়েছেন গৌতম ভদ্র। তাছাড়া আরও একটি ব্যাপার তিনি করেছেন: পদ্ধতিগত আলোচনায় তিনি ভারতীয় দর্শনিক প্রস্থানের ভূমিকার কথা কয়েছেন। এসেছে স্মৃতিএবং বিশেষত প্রাত্যভিজ্ঞা নামক প্রমাণটির কথা। গৌতম ভদ্রের এই কাজটির নির্মাণকালে সামান্য একটু জড়িত থাকার সুবাদে এই প্রাত্যভিজ্ঞাপ্রমাণ নিয়ে একাধিক আলোচনায় জড়িয়ে পড়েছিলাম। ধনঞ্জয়ের মামলার ক্ষেত্রে এই প্রমাণটি পদ্ধতিগত ভাবে অত্যন্ত জরুরি।

অত্যন্ত সুলিখিত এই কিতাবে তাই দুটো জিনিসের অভাব বোধ করছি। এক, পদ্ধতিবিষয়ক একটি অধ্যায় এবং, দুই, আগে হয়ে যাওয়া এই ধরণের কাজের লিস্টি (লিটেরেচ্যার সার্ভে)। এক নম্বর প্রত্যাশার ক্ষেত্রে আরও কয়েকটা কথা কওয়া জরুরি। প্রাচ্যে সম্ভাব্যতা তত্ত্বের প্রয়োগ বেশ পুরোনো। বৌদ্ধ অনেকাংশিকতাবাদ আর জৈন স্যাৎবাদে (স্যাৎ-এর অনুবাদ প্রশান্তচন্দ্র মহালনবিশ করেছেন মে বিআর অনেকে করেছেন সামহাঊ) এই তত্ত্বের ভিন্নধর্মী বিস্তার মিলবে, বিকল্প চয়নের স্বাধীনতাও বিস্তর। এ কারনেই মহালনবিশ এবং জে বি এস হলয়েন, দুজনেই, সম্ভাব্যতাকে এই তত্ত্ব দিয়ে পড়ে নিতে চেয়েছিলেন। দুই নম্বর প্রত্যাশার ক্ষেত্রে লেখকদের অন্তত দেখে নেওয়ার দরকার ছিল গৌতম ভদ্র ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভাওয়াল মামলা বিষয়ক কাজ এবং নির্মলাংশু মুখোপাধ্যায়ের আফজল গুরুর মামলা নিয়ে অসাধারণ কাজগুলো

হয়তো বা আমি প্রচলিত অ্যাকাডেমিক ধাঁচায় সমস্যাপ্রশ্ন পেড়ে, লিটেরেচ্যার সার্ভে করেপদ্ধতিবিষয়ক জটিলতার প্রশ্ন এনে একটা কিতাবের প্রত্যাশা করছি। কিন্তু, এমন কাজের উদ্দেশ্য তো অন্য: সুবিচারের দাবি। একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে অবিচার যদি হয়ে থাকে, তাকে ফের সুবিচারেরে আওতায় নিয়ে আসা। এবং সেই সঙ্গে অসংখ্য অবিচার যে হয়ে চলেছে এ পোড়া সমাজে, তার দিকে নজর ফিরিয়ে আনা। এক্ষেত্রে এত তাত্ত্বিক কচকচির সময় কোথায়?

ধনঞ্জয়ের ক্ষেত্রে অবিচার যে হয়েছে, জাস্টিস শুধু ডিলেড হয়নি, ডিনায়েডও হয়েছে, এ বিষয়ে এই কিতাব পড়ার পর আর সন্দেহ থাকে না। এই কিতাব পুনঃবিচারের যে প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে, তার কাছে আমার আগের দুটো প্রত্যাশা তুশ্চু। এমন পুনঃবিচারের দৃষ্টান্ত কিন্তু আমরা পেয়েছি। সক্রেটিস যে নির্দোষ তা তাঁর হত্যার ২৪১৫ বছর পর মামলা করে প্রমাণ করতে হয়েছে। অ্যাথেন্সের ওনাসিস ফাউন্ডেশন ২০১৬-র জুলাই মাসে এই পুনঃবিচারের আয়োজন করে।৬ গ্যালিলেও ইনক্যুইজিশনের সাড়ে তিনশো বছর পর রোমান ক্যাথলিক চার্চের হর্তাকর্তা পোপ জন পল ভুলস্বীকার করে নেন।

সব ক্ষেত্রেই যে এমন ভাবে ভুল স্বীকার করে নেওয়া হবে, তা তো নয়—যে গেল, সে তো গেলই। আফজল গুরু বা ধনঞ্জয়ের কয়েকজনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ না হয় আমাদের নজরে এনেছে। এমনকী মরিচঝাঁপি ইত্যাদি গণহত্যার দিকগুলোও ইদানিং লোকজনের নজরে আসছে বেসরকারি বা ব্যক্তি-উদ্যোগের দৌলতে। কিন্তু বিচার কই?

মামলা মোকদ্দমার বাইরেও এমন কিছু ঘটনার বিবরণ আমরা ক্রমান্বয়ে পেয়েই যাচ্ছি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাকাতে গেলে তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে। ‘বিজ্ঞান মন্দিরের অনর্থ বা একটি পদত্যাগের কাহিনি’ লিখেছেন দীপেশ চক্রবর্তী। বসু বিজ্ঞান মন্দির থেকে কীভাবে এক রেজিস্ট্রারকে হেনস্থা করা হয়, নানানভাবে অপমান করা হয় তাঁর বিবরণ আছে এই লেখাটিতে। শেষ অব্দি এই রেজিস্ট্রার ভদ্রলোক, দ্বিজেশ চক্রবর্তী, প্রতিবাদী পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং কোন দিন আর বসু বিজ্ঞান মন্দিরের ধারকাছ ঘেঁষেননি। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মামলার আওতায় না আসা এমন ঘটনার তাত্ত্বিক বিবরণ লেখেন দীপেশ এবং পেড়েও ফেলেন পদ্ধতিগত জটিলতার কথা

বিজ্ঞানমন্দিরের ভিতরেই এরকম আর ঘটনার কথা মনে পড়বে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের পরিপ্রেক্ষিতে। ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায় চূড়ান্ত অপমানিত-লাঞ্ছিত হয়ে আত্মহত্যা করেন। এই মামলায় না আসা ঘটনার অনুপুঙ্খ বিবরণ লিখেছেন সাংবাদিক স্বাতী ভট্টাচার্য। সামাজিক অত্যাচার, রাজনৈতিক পার্টির জুলুম ও প্রভাব খাটানো, পেশাগত অসূয়া, দারিদ্র্, বঞ্চনা ইত্যাদি যখন একজনকে অপরাধী সাব্যস্ত করে, তখন দোষারোপের অভিমুখ অজান্তেই ঘুরে যায় অন্য দিকে। অন্যকে যখন টেররিস্টবলে গাল দিচ্ছে রাষ্ট্র, তখন স্বয়ং রাষ্ট্রই টেররিস্ট হয়ে উঠছে না তো (দ্র. চতুর্থ পর্বের ৫টি অধ্যায়)?

ধনঞ্জয় মামলায় পুনঃঅবলোকন এমনই একাধিক সমস্যার দিকে এগিয়ে দেয় আমাদের। ধরিয়ে দেয় বিচার ব্যবস্থার নানান ফাঁক ফোঁকরকে। যেমন নিচের আদালতে নথিভুক্ত বিষয়গুলোকে উচ্চ আদালতে আর বদলানো বা নতুন তথ্য সংযোজন করা যায় না। কালের নিয়মে যে তথ্যের হেরফের হতে পারে এমন ব্যাপার আদালতে গ্রাহ্য নয় (পৃ. ১৮৬)। স্বীকারোক্তিরও অভিযোগ দায়ের করার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রভাব খাটানো হয়, স্রেফ বানিয়ে কথা লেখা হয় এবং বানিয়ে লিখতে গিয়ে সময়ের হিসাবে ফ্রয়েদিয়ান শিল্প হয়ে যায় (দ্র. হেতাল পারেখের বাবার জাবানিতে কালগত গরমিল) তা লেখকত্রয় অসম্ভব দক্ষতার সঙ্গে দেখিয়েছেন। কলোনি আমলের তৈরি এভিডেন্স অ্যাক্টের ২৭ নম্বর ধারার সমস্যাকে, তার বিরোধাবাসকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন লেখকত্রয় (পৃ. ১৬২)। একটাই শুধু সংশোধনের প্রস্তাব রাখি: এভিডেন্স অ্যাক্ট ১৮৭১-এ লাগু হয়নি, হয়েছে ১৮৭২-(পৃ. ১৬৩)

সুবিচারের প্রত্যাশায় লেখা এই কিতাব, আশা করি, আরও অনেক অন্যায় অবিচারের এমত অদন্তের দিকে আমাদের এগিয়ে দেবে। আর অবিচারের অভাব তো নেই! ইতিহাসের পাতা ঘাটলে এমন সুপ্রচুর ঘটনা আমাদের নজরে আসবে। ক্ষমতাশালীরা যে নিজ অর্থে আইনকে ব্যবহার করেন, ধামাচাপা দেন, তা তো জানা কথা। এই খ্যামতা ব্যাপারটা অদ্ভুত। খ্যামতার এক নিরবিচ্ছিন্ন (কন্টিনিউড) প্রবাহ দেখি ইতিহাস জুড়ে, যদিচ জ্ঞানের ক্ষেত্রে দেখি নানান ছেদ বিন্দু। মিশেল ফুকোর এমত মতের পরিপ্রেক্ষিতেই জ্ঞান ও খ্যামতার মধ্যে বসে যায় তির্যক চিহ্ন (/)। এই খ্যামতাকে তাই নেতিকৃত নয়, বরং খ্যামতা ব্যাপারটাকেই শব্দভাণ্ডার আর বাস্তবথেকে বাদ দিয়ে দেওয়া যায় কীভাবে, সেটা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করার বা রাজনৈতিক তরিকা বাৎলানোর সময় এসেছে। এভাবে ভাবলে হয়ত সমকালের নানান অন্যায়-অবিচার-প্রতারণার হাত থেকে আমরা রেহাই পাবো।

সাম্প্রতিকালের মধ্যেই সাঁইবাড়ি, মরিচঝাঁপি, আনন্দমার্গী হত্যা বা রিজানুর, তাপসী মালিক ইত্যাদি ঘটনা যেমন দেখে ফেলেছি, তেমনি নারদা, সারদা, উড়ালপুল বিপর্যয়ও খেয়াল করেছি। অন্যদিকে হাড়োয়া, পানিগোবরা (দুটোই উত্তর ২৪ পরগনায়) গ্রাম দুটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও বাজারে কোনও খবর নেই এখন অব্দি। সেখানকার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। খ্যামতার এই নিরবিচ্ছিন্ন অত্যাচারী প্রবাহকে অনুভব করতে করতেই এই কিতাবটা পড়তে থাকি। এই তো আমার পাঠকের প্রতিক্রিয়া, ভুলেও যেন একে বইয়ের সামালোচনা বা রিভিয়্যু ভাববেন না। লেখাটা শুরু করেছিলুম সমকালে থ্রিলারের প্রাদুর্ভাব নিয়ে। যাঁরা থ্রিলার পড়তে ভালবাসেন, তাঁরা রিয়েল ও রিলের তফাৎ মুলতুবি রেখে এ কিতাব কেমন পড়তে পারেন, তেমনি আবার দিন বদলের আকাঙ্ক্ষায়, সুবিচারের প্রত্যাশায় এ বই পড়তে পারেন। অথবা, শুধুমাত্র অ্যাকাডেমিক আগ্রহ থাকলেও, এই কিতাব আপনাদের কাজে লাগবে।

সৈকত ভূমিকায় কাফকার দ্য ট্রায়াল বইটার কথা পেড়েছেন। সেখানে সত্য-মিথ্যের যে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন জায়গাগুলোর খবর পাই, তাতে সত্য-অন্বেষণ স্বয়ং এক সমস্যাজনক জায়গা হয়ে উঠবে না তো? অভিজ্ঞতাবাদী (এম্পিরিক্যাল) নিজেই নিজের কাছে  সন্দেহজনক হয়ে উঠবে না কি?

সূত্রনির্দেশ

Here’s proof that poor get gallows, rich mostly escape: http://timesofindia.indiatimes.com/india/Heres-proof-that-poor-get-gallows-rich-mostly-escape/articleshow/48151696.cms

 . ভদ্র, গৌতম, ২০০২, জাল রাজার কথা, বর্ধমানের প্রতাপচাঁদ, কোলকাতা, আনন্দ, পৃ. ১৫৩-১৬১

 . তদেব, ১৯৫ পাতায় ২২ নং পদটীকা দেখুন

 . Halden, J B S, 1957, ‘The Syadava Systems of Predictions’, Samkhya, Vol 18, Reprinted in Chattopadhyay, Debiprasad, 1991, History of Science and Technology in Ancient India, Vol 2, Kolkata, Firma K L M, Pp 433-440

 Mahalanobis, P C 1954, The Foundations of Statistics (A Study in Jain Logic)Dialectica 8, Reprinted in Chattopadhyay, Debiprasad, 1991, History of Science and Technology in Ancient India, Vol 2, Kolkata, Firma K L M, Pp 417-432

 . দ্র. টীকা ২। এ ছাড়া দেখুনChatterjee, P, 2002, A Pricely Imposter? Thje Strange and Universal History of the Kumar of Bhawal, Princeton, Princeton University Press; Mukherjee, N, 2005, Terror over Democracy, Delhi: Promila/BSA

 . https://www.rt.com/news/socrates-mock-trial-greece-295/

http://www.nytimes.com/1992/10/31/world/after-350-years-vatican- says-galileo-was-right-it-moves.html

 . চক্রবর্তী, দীপেশ, ২০০৯, ‘বিজ্ঞান মন্দিরের অনর্থ বা একটি পদত্যাগের কাহিনীবারোমাস, ৩১:, পৃ. ৭০-৭৬, কোলকাতা

  . ভট্টাচার্য, স্বাতী, ১৪১২ বঙ্গাব্দচক্রব্যুহে বৈজ্ঞানিক, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রা লি, কোলকাতা

 (সব কটি সুত্রর ক্ষেত্রেই দেশজ নমুনার দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। বিদেশি তথ্যের দিকে নজর না দেওয়া বর্তমান পাঠকের স্বেচ্ছাকৃত।)

 
 
top