ধর্মে আছি জিরাফে নেই

 

৩য় পর্ব

 

গঙ্গা নামে সত্য তাঁর তরঙ্গ এমনি

জীবনস্বরূপা সে স্বামীর শিরোমণি।

অসীম অভিভূত হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন মা গঙ্গার দিকে। এইমাত্র মোটর ভেহিক্যাল পরিদর্শক অসীম চট্টরাজ ধুতি, শার্ট পরিধান করে প্রণাম সেরেছেন আদি শংকরাচার্যকে। মন্ত্রী, দুঁদে আমলারাও তাঁর দর্শনলাভের জন্য উন্মুখ আর অসীম চট্টরাজ বহু জন্মের পুণ্যফলে এমন দুর্লভ দর্শন করতে পেরেছেন। অসীম নিরামিষ আহার করেন। বাড়িতে ওঁর মা রয়েছেন। স্ব-পাক আহার। মায়ের রান্নাও বাড়িতে থাকলে অসীম করেন। বিয়ে করেননি, ইচ্ছেও নেই। এই গঙ্গাসাগর ডিউটি অসীমের কাছে মোক্ষলাভের জন্য কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। সাগরে স্নানও অসীম প্রতিবারই করেন। তিথি,নক্ষত্র মেনেই করেন। তাঁর প্রিয় গ্রন্থ ‘পঞ্জিকা’। গুপ্ত প্রেস, বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত মতের বৃহদাকার পঞ্জিকা — সব ক-টাই অসীমের সঙ্গে থাকে। এখানে এসে অসীম মাটির হাঁড়ি জোগাড় করে নিয়েছেন, পাটকাঠির জ্বালানি দিয়ে হবিষ্যান্ন রান্না করছেন। সঙ্গে সামান্য ঘি, সৈন্ধব লবণও রেখেছেন। হোগলা ঘরে আছেন বলে রান্নাটা বাইরের মাঠে করেন। এছাড়াও অসীম চট্টরাজ প্রকৃতি-প্রেমিক। মাকে নিয়ে সমগ্র ভারতবর্ষ ঘুরেছেন। কোনো তীর্থক্ষেত্র ওঁর বাকি নেই।

তবে পুণ্যভূমি হলেও এই লট অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য অন্যরকম। নদীর কিনারা থেকে শুরু হয় এখানকার বাদাবন। কালচে মাটিতে জেগে থাকে সবুজ শীর্ষরেখা।

 

 

আদি শংকরাচার্যের লঞ্চে উঠে আর নামতে পারেননি অসীম চট্টরাজ। সবটাই ঈশ্বরের দয়া। ব্ল্যাক ক্যাটদের মধ্যে একজন বাঙালি যুবকও রয়েছে। সে থাকাতে অসুবিধে হল না। লঞ্চে উঠেও দেখা যাচ্ছে ওপারের বাদাবন।

চটুল গান ধরেছে বিশ্বজিৎ বাউল—

আহা, রঙ্গ দেখে পিপুল মানে না

যায় না পরান রাখা

কাজল চক্ষের পাশে ক্যামন

নাকের মোয়া আঁকা

কুসুম খুঁজে পাইনি তার তাঁবু। বিশ্বজিৎ ছাড়া তার ফেরার উপায় নেই। গোবিন্দ দাস ফিরে গেলে কুসুমকে একচোট পেটাবে। তার চেয়েও ভয় অসুস্থ লোকটা একা একা কী করছে। বিশ্বজিতের গা ঘেঁষে দাঁড়াল কুসুম, কারণ একটা লোক তার পিছু নিয়েছে। কুসুমকে একা পেয়ে নানা কু-প্রস্তাব দিচ্ছে।

 

‘ভগবান সম্বৎসর ঘুমোন আর এই মকর-সংক্রান্তিতে জেগে ওঠেন,’একজন বয়স্ক পুরুষ সঙ্গী ভদ্রমহিলাকে বললেন।

তবে তুমি আইলা ক্যান ? পুণ্য করনের লোভ বুঝি তোমার নাই!’

বয়স্ক মানুষটি বললেন,ডিসগাস্টিং! মানুষের বিশ্বাসের বিস্ময় ফল! মল-মূত্রের গন্ধে টেকা দায়!’

আমি তোমারে আইতে কই নাই।’

একা মায়াছিলারে ছাড়ি ক্যামনে ?

কথাটা শুনে কুসুম হেসে ফেলেছিল। গোবিন্দ দাশ বুড়ো হলেও এরকমটাই বলবে। বয়স্ক মানুষটা তখন বললেন, ‘মা-জননী, তুমি হাসো ক্যান ?

কুসুম আসলে এই পরিবারের মধ্যে থাকতে চাইছিল। তখন সে বিশ্বজিৎকেও খুঁজে পাচ্ছিল না। লোকটা তখনও পিছু ছাড়েনি। কুসুমকে তার চাই। সকলেই যেন কুসুমকে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছিল। যাদের স্নান হয়ে গেছে তাদের ফিরে যাওয়ার তাড়া। কোনোদিকে দৃকপাত করার সময় নেই। এত লক্ষ মানুষের ভিড়ে স্নান করাও কঠিন কাজ। এছাড়াও কুসুমের স্বামী অসুস্থ। লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে যদি কোনো অঘটন ঘটে যায়, ফলে সে একদিন থেকে গেল। কাল ভোর-রাতে আবার পুণ্যস্নানে যাবে। বিশ্বজিৎকে ছাড়া সে পারবেও না।

বছর তিরিশের একজন যুবতী বউ বিশ্বজিতের গান শুনে একটু থমকে দাঁড়াল। তার সঙ্গের লোকটি বোধহয় স্বামী, বয়সে অনেকটাই পার্থক্য। বছর পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হবে। সবচেয়ে দর্শনীয় ভদ্রলোকের মধ্যপ্রদেশ। ওজন আড়াই মনের কম নয়। মাঝারি হাইট। বউটা হনহন করে হাঁটছিল। চলতে চলতে সে হঠাৎ বিশ্বজিতের গান শুনে থমকে দাঁড়িয়েছে। কুসুমের ভালো লাগল না। দেখে মনে হচ্ছে কেমন গায়ে-পড়া মেয়েমানুষ। তবে যুবতী বউটা বিশ্বজিতের সঙ্গে কথা বলার আগেই তার স্বামী-দেবতা চলে এলেন।

উইহ দ্যাহ, তুমারে ঠিক ধইরা ফেলাইছি!’

হাপরের মতন নিশ্বাস পড়ছিল ভদ্রলোকের।

আমি কি মুক্তিযোদ্ধা অহর্নিশি চৌখে চৌখে রাখবা ?

মোটাসোটা ভদ্রলোক অবশ্য বেশ হাসিখুশি মানুষ। তেমন রাগ করলেন না। বরং বিশ্বজিতের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘গুপন কথাটা প্যাটের ভিতর আছিল, অহন খুইল্যা কই? ’

বিশ্বজিৎ তার দো-তারা থামিয়ে বলল, ‘কী, কন কত্তা ?

মেলা এখনও ভাঙা হাটের চেহারা নেয়নি। বরং কেউ কেউ নতুন করে পশরা নিয়ে বসছে।

এমন মেলা দেখি নাই আমি। কিন্তু ভাইগনা তুমার মিঠা গলার গাইন আঁর খোদ মিটাই দিলা।’

শীতকাল হলেও মাঘ মাসের সেই ঠান্ডার কামড় যেন নেই।

আপনি গান ভালবাসেন ?

বিশ্বজিৎ  দো-তারায় সুরের ঝংকার তোলে। হঠাৎ লোকটি সমস্ত পরিবেশকে সচকিত করে ইংরেজি ভাষায় একটি বাক্য বলে,   ”’The author has not invented and combined it,he has seen it, it has all happened before his inward eye.”ম্যাথু আর্নল্ড কাউন্ট লিও টলস্টয়ের আনা কারেনিনা  সম্পর্কে বলেছিলেন। বুঝলা কিছু ?’

বিশ্বজিৎ দো-তারা কপালে তুলে মোটা মানুষটাকে গড় করে।

তারপর সে আর কথা না বাড়িয়ে গান ধরে—

পৃথিবী গোলাকার শুনি

অহর্নিশি ঘোরে আপনি

তাইতে হয় দিনরজনী

জ্ঞানীগুণি তাই মানে

তার একদিকেতে নিশি হলে

অন্য দিকে দিবা বলে।

আকাশ তো দেখে সকলে

খোদা দেখে কয়জনে!

বিশ্বজিতের গানে বিভোর হয়ে যায় মোটা মানুষ। গোটা একটা দিনে তার কোনো কাজ নেই। এরকম অলস মনে গানের বিস্তার ঘটে। শব্দ আর সুরে এক অদেখা জগতে যেন প্রবেশ করে মন।

খোদা দেখে কয়জনে..’

এই গঙ্গাসাগর মেলা হিন্দুদের মেলা। ‘খোদা’ শব্দ এখানে অনেকটাই নিষিদ্ধ। মাইকে কৃষ্ণ আর রামের ভজন শোনা যাচ্ছে। কয়েকজন মারোয়ারি ব্যবসায়ী কটমট করে দেখছে বিশ্বজিৎকে। মনের মতো শ্রোতা পেয়ে গেছে বিশ্বজিৎ, সে যেন এবাদতে আত্মস্থ হয়ে রয়েছে। বাইরের শোরগোল, দুনিয়াদারির রকমারি তার গান-গাওয়াতে কোনো প্রভাব ফেলছে না।

গান শেষ হলেও তার সুরের প্রভাব অনেকক্ষণ থাকে। অনেকসময় কথাগুলি মনে না থাকলেও এমন কিছু রেখে যায় গান, রসিক মানুষের কাছে তার রেশ থেকে যায়। মোটা লোকটি এবার বলল,‘ভাই, আমার বিবিজান কোথায় গেল, দেখলে ?’

কুসুম লক্ষ রেখেছিল। ওঁর বিবিজান আবার মেলার দিকে ফিরে গেছেন। সে বললও তাই। তখন মানুষটি আবার নিশ্চিন্ত হয়ে গেলেন। তারপরেও কুসুম প্রশ্ন না করে পারল না, কারণ বিশ্বজিৎ কী জাত—তার জেনে কাজ নেই। আউল-বাউলদের কোনো জাত-ধর্মের বালাই থাকে না। গানই তাদের ধর্ম। কিন্তু এই মোটা লোকটি কি মোছলমান ? তবে তো সে হিন্দু দেবতার মেলায় এসে যবনদের পাল্লায় পড়েছে। যদিও তার ভয় করছে না তবুও সে জিগ্যেস করল,‘আপনি কি মোছলমান ?

লোকটি মিটিমিটি হাসতে থাকল, কথার উত্তর দিল না।

বিশ্বজিৎ আবার গান ধরল—

না জেনে ঘরের খবর তাকাও কেন আসমানে

চাঁদ রয়েছে চাঁদে ঘেরা ঘরের ঈশান কোণে।

 

 

যন্ত্রের থেকে কখনো কখনো দূরে থাকা খুব আরামদায়ক। অবশ্য, অনুজ কখনো যন্ত্রের দাস নন। মোবাইল ব্যবহার করতেই হয়। সম্প্রতি অনুজ টাচ-স্ক্রিন নিয়েছেন। মেলায় হারিয়ে গেছিল স্মৃতিলেখা। অনুজ ওকে খোঁজার চেষ্টা করেননি। পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষের যুবতী স্ত্রীকে খুইয়ে ফেলার ভয় থাকে— অনুজের তেমন নেই। মেলার এই প্রান্তের এই অংশ মোবাইল শ্যাডো জোন। পথে বিশ্বজিতের গান শুনে অনুজ এসেছেন মৌনীবাবার তাঁবুতে। ভক্তদের মধ্যে একজন বললেন, ‘বাবা, বিকেল চারটের আগে কারুর সঙ্গে দেখা করবেন না।’ মেলায় পরিব্রাজকের মতো ঘুরছিলেন অনুজ, তাঁর চেহারা, উচ্চতা,পরিধেয় বস্ত্র—সবটাই খুব সাধারণ। কেউ চিনতেও পারেনি ওঁকে। বিশ্বজিতের গান শুনেছেন, ওপার বাংলার মেয়ে কুসুমকে দেখেছেন। স্মৃতিলেখাও গ্রাম্য-বধূর মতো মেলায় এসে হারিয়ে গেছে। ছোটো ছোটো কণ্ঠস্বর হাওয়ায় ভেসে আসছে — ‘রুবি এই রুবি!’ ‘দেবমাল্য, দেবমাল্য!’ মৌনীবাবাকে দেখার অসীম কৌতূহলের কারণে নিজের পরিচয় দিতেই হল অনুজকে।

ভক্তের দ্বারে বাঁধা আছেন সাঁই

হিন্দু কি যবন বলে জাতের বিচার নাই।

তাঁবুর ভিতর ঢুকে অনুজ দেখলেন ক্যাপ্টেন আবদুল্লা রয়েছেন আর রয়েছে ওঁর স্ত্রী স্মৃতিলেখা। মৌনীবাবা মুখে কিছু বলেন না। প্রশ্নের উত্তর শ্লেটে লিখে দিচ্ছেন। ক্যাপ্টেন আবদুল্লাকে লিখে দিয়েছেন, ভক্তের দ্বারে বাঁধা আছেন সাঁই/হিন্দু কি যবন বলে জাতের বিচার নাই।’

অভিভূত ক্যাপ্টেন আবদুল্লা অনুজকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন।

 

 

বিশ্বজিৎ ঝোলা থেকে আর একবার দো-তারা বার করতে যাচ্ছিল তখন কুসুম বলল, ‘তুমি খাবা না? তোমার খিদা-তেষ্টা নাই?

সত্যি, কুসুমদি, খিদে পেয়েছে।’

ত্রিবেণির বিশ্বজিৎ বাউল টের পেল পেটটা বোধহয় খিদের চোটেই কেমন চিনচিন করছে।

আমার কাছে মুড়কি আছে, খাবা ?কুসুম বলল।

দু-খানা ডিমসিদ্ধ কিনি আমি? মুড়কির সঙ্গে ভালো লাগবে।’

ডিম খামু না। উনার নামে পুজা দিছি বাবা কপিলের থানে।’

ডিম তো পাখির ফল। নিরামিষ কহন যায়।’

তুমি আমাগো ভাষা জানো!

বিশ্বজিৎ হেসে বলল, ‘বাউল তো পাখি, কুসুমদি। তার কি দেশ-বিদেশ থাকে?

তোমার ঘর বাঁধার শখ নাই ?’

তুমি তো ঘর বাঁধছিলে, কুসুমদি। তার কী খবর ?

বিশ্বজিৎ ইচ্ছে করেই অন্য প্রসঙ্গে চলে যায়।

গোবিন্দ দাশ গোঁয়ার মানুষ ‘আন’ বলতে ‘বান’ বুঝবে।

‘দরমা বেড়া আনছি, দশখান পিলারও আনছি।’

‘ফিরে গিয়ে মিস্ত্রিকে খবর দাও তবে!’

‘মেস্তিরি রোজ জানো কত টেঁয়া!’

বিশ্বজিৎ দেখল দুটো দোয়েল পাখি গাছের ডালে বসে শিস দিচ্ছে। দোয়েলের গলায় একরকমের সুর রয়েছে—সে অনুভব করার চেষ্টা করে। তবু সে কুসুমের সঙ্গে কথা চালিয়ে নেওয়ার কারণে বলল, ‘কত ? পাঁচশো ?

তুমি তো জানো তবে, বাউল!’

পাখির যেমন বাসা থাকে, বাউলেরও তো একটা ঘর আছে।’

‘তোমার ঘর কুথা ?

‘হুগলি জেলার ত্রিবেণি।’

কুসুম আন্দাজ করার চেষ্টা করল, কিন্তু কোথায় ত্রিবেণি কূল-কিনারা খুঁজে পেল না। এই দ্বীপাঞ্চল ছাড়া সে ঢাকা শহর জানে, নোয়াখালি জানে আর জানে চাটগাঁ । চাটগাঁ ডাকাইতের শহর। তার ভালো লাগেনি।

সে হঠাৎ বিশ্বজিৎকে বলল, ‘তুমার দাদার কাছে যামু।’

একটু অবাক হয়ে গেল বিশ্বজিৎ। তবুও সে বলল,‘হ্যাঁ, চলো কুসুমদি।’

 

 

বাবা, আমি খ্রিস্টান হব।’

চমকে তাকালেন অনুজ ছেলে অর্কদীপ্তের দিকে।

কেন, হঠাৎ !’

বিলেত যাব, বাবা।’

তার সঙ্গে খ্রিস্টান হওয়ার কী সম্পর্ক ? তুমি তো মাইকেল মধুসূদন দত্তের মতো ইংরেজিতে কবিতা লিখবে না।’

কিন্তু বাবা, তুমি তো সেরকম গোঁড়া মানুষ নও। যথেষ্ট মুক্ত পুরুষ। আমি তো তাই ভাবতাম।’

অনুজের সত্যিই খারাপ লাগার কিছু নেই, কিন্তু খারাপ লাগছে। তিনি কি তবে এতদিন জিরাফের মানুষ ছিলেন। ওঁর পদবি, কৌলীন্য, ধর্মীয় বিশ্বাস—এসব অজান্তে ডালপালা বিস্তার করছিল?

স্মৃতিলেখা বলল, ‘বাবার মত থাকলেও আমার নেই।আমরা সাহেব নই, হিন্দু।’

ভোরবেলা থেকে জয়েন্ট সাহেবের ছেলে ডাকতে থাকে— ‘বাবা, খেলবে চলো।’

ভাসমান হাওয়ায় ‘বাবা’ শব্দটার স্মৃতি কত পীড়াদায়ক, টের পাচ্ছেন অনুজ।ধুলোবালিমাখা, অযত্নে বেড়ে ওঠা ছোটো ছোটো মেয়েরা গাইছে, 

মম চিত্তে নিতি নৃত্যে সদা বাজে

তাতা থই থই তাতা থই থই    

নাচে জন্ম নাচে মৃত্যু পাছে পাছে 

সোনাই, সোনাই! দূরে যাস না! ঘেমে যাবি! রোদ্দুর লাগবে মাথায়!’

জয়েন্ট সাহেব সমীরণ ভট্টাচার্য তাঁর ছেলে দেবমাল্যকে বলছেন।

অনুজ শুনছেন স্মৃতিলেখা বলছে, ‘সোনাই দূরে যাস না। বিলেত তো বহু দূর— সাত সমুদ্র তের নদী পার। ছিঃ! সকলে ম্লেচ্ছ বলবে তোকে।’

 

ক্যাপ্টেন আবদুল্লা বললেন, ‘স্যার, কিছু ভাবছিলেন ?’

স্মৃতিলেখা প্রণাম করল মৌনীবাবাকে। অনুজের ইচ্ছে করছে না উঠতে। তিনি বসে আছেন। স্মৃতিলেখার হাতে একমুখী রুদ্রাক্ষ। ও কি কিছু জিগ্যেস করছে? কোনো উত্তর পেল?

 

 

মি. গোমেজ বলেছেন, ”তুমি শাইনিং, ডেডিকেটেড। কিন্তু খ্রিস্টান নও। আমি খ্রিস্টান ছাড়া কাউকে বিলেতে পাঠাব না।’”

অনুজ বললেন, ‘আমি টাকা দেব। বিলেত এমন কী ব্যাপার ?’

শুধু শুধু টাকা নষ্ট করবে। সামান্য ধর্ম পরিবর্তন করলেই মি. গোমেজ পাঠাবেন। আর খ্রিস্টান ধর্ম খারাপ তো কিছু নয়।’

স্মৃতিলেখা চিৎকার করে উঠল, ধর্ম পরিবর্তন—সামান্য ব্যাপার!’

সামান্য নয় ? কী আছে ধর্মে! Irrational কিছু রিচুয়ালস ।

আমরা মারা গেলে তুমি তবে কবর দেবে!’

যদি না চাও হিন্দুমতে সৎকার করব।’

তখন তোমার সে অধিকার থাকবে না। তুমি আমাদের ছুঁতে পারবে না।’

আমি তবে কনভেন্ট পড়লাম কেন! ছেলেবেলা থেকে বাইবেল পড়েছি। আমার ভালো লাগত বাইবেল।’

বাইবেল পড়া আর ধর্ম পরিবর্তন করা এক নয়। আমাদের সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক থাকবে না!’

(ক্রমশ…)

 
 
top