ধর্মে আছি জিরাফে নেই

 

তেলচিটে বালিশ, ময়লা তোষক, মাদুর, ভাঙা কড়াই, হাতা-খুন্তি – সবটাই পরিত্যক্ত এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। হাওয়ায় শালপাতার থালার সঙ্গে এরাও উড়তে শুরু করেছে। চমৎকার, ফুরফুরে হাওয়া সাগর-দ্বীপে থাকে। কুসুম চুল বেঁধেছে, হাতে প্রচুর চুড়িও পরেছে। সবগুলো চুড়িই কাচের। বাউল বিশ্বজিৎ কিনে দিয়েছে। তোরঙ্গ, বাক্স-প্যাঁটরা সবই গোছানো হয়ে গেছে। এই যাওয়ার বেলা গোবিন্দ তাল ধরেছে আরও কয়েকদিন থাকবে। গঙ্গাসাগরে তার তো আসা হবে না, তাই সে আরও কিছুদিন থাকতে চাইছে। বিশ্বজিৎ কয়েকবার এসে তাগাদা দিয়ে গেছে, যাবা না, কুসুমদি?

মেলা ভাঙার দৃশ্য দেখতে বড্ড খারাপ লাগে। দোকানদারেরা কম দামে পসরা ছেড়ে দিচ্ছে। সবকিছুর দর পড়তির দিকে। এখন যা পড়ে আছে, বিক্রি হওয়ার নয়। মেয়েটার জন্য প্যান্ট-শার্ট, গোবিন্দের জন্য লুঙ্গি কিনতে গিয়ে একচোট হাসি পেয়ে গিয়েছিল কুসুমের। কাছাখোলা লোক গোবিন্দ, হাওয়া দিলে লুঙ্গি নিয়ে বেসামাল অবস্থায় পড়ে। বাবুর জন্য অর্থাৎ ছেলের জন্য কেনা জামা-প্যান্ট দুটো হাতে নিয়ে চুমু দিল কুসুম। কতদিন দেখেনি ওদের।

বাংলাদেশে থাকতে মাদারিহাটের এক বাড়িতে কাজ করত কুসুম। মা দিয়েছিল পেটের দায়ে, মুসলমানের ঘর। মিঞা র নাম ছিল সইদুল হোসেন। আকাশ দিয়ে এক ঝাঁক বুনো হাঁস উড়ে গেল। ওদের মতনই তো কুসুমের জীবন। সইদুল হোসেন কুর্তা, পাজামা পরতেন। মুখে ছিল দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল। মিঞাকে দেখে প্রথম প্রথম বেশ ভয় করত কুসুমের।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে কুসুমের জন্ম। রাজাকারদের বর্ণনা তার মায়ের মুখ থেকেই শোনা এবং মিঞাকে দেখে তাই মনে হয়েছিল। ভুল ভাঙল কয়েকদিনের মধ্যে। রমজানের পরে সইদুল মিঞা তাকে একটা শাড়ি এনে দিয়েছিলেন। আকাশি নীল শাড়ি। জলে ধুতে ধুতে এখন রং অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে। শাড়িটা হাতে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, বহিন, তুমার পছন্দ হইছে?

এমন ছিল সেই ডাকের আন্তরিকতা যে, কখনও এরপর থেকে কোনো সন্দেহের উদয় হয়নি। ওঁর মা কুসুমকে স্নেহ করতেন। আগে কুমিল্লা জেলায় যে হিন্দুবাড়িতে ছিল কুসুম, তারা দু-বেলা খেতে দিত না। কথায় কথায় মারত। লম্বা চুলে তেল বেশি লাগে বলে কেটে দিয়েছিল।

খিদের জ্বালায় তখন কুসুম বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়িয়েছে। সামান্য খেতে দিলে পশুর মতন খেটে কাজ করে দিত।

সেই মিঞার কথা ভাবতে ভাবতে স্বামী গোবিন্দের দিকে একবার তাকাল কুসুম। মিঞা কখনও তার বিবিকে বকাবকি করতেন না। ব্যাবসার কাজ সেরে তাঁর ফিরতে দেরি হত। ঘরের টেবিলে ঢাকা থাকত ওঁর খাবার, বিবি মেয়ে—কেউ ওর জন্য জেগে থাকত না। কুসুম বসে থাকত। তিনিও সেটা জানতেন। হয়তো খুব তৃপ্তি পেতেন এই ভেবে যে, সংসারে কেউ ওঁর জন্য জেগে রয়েছে। গোবিন্দের বদ মাতলামির অত্যাচার বিয়ের পর থেকেই সহ্য করে আসছে কুসুম। স্ত্রীকে সে অকথ্য ভাষায় গাল দেয়। গোবিন্দের তুলনায় সইদুল মিঞা ছিল ফরিস্তা। যদিও সে মোছলমান।

মাদারিহাটের জেলার নাম ছিল ফরিদপুর। সেখানকার মানুষেরা গুড় খেত খুব। পিঠে-পুলি, সেমুই পেট ভরে খেয়েছে কুসুম। গোবিন্দের ঘুম ভেঙেছে। সে আড় ভেঙে উঠে বসেছে। কিন্তু না, সে একবার কুসুমকে দেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল। নেশাখোর লোকেরা ঘুম দিলে সহজে ওঠে না। গোবিন্দকে আর ওষুধ-পত্তর দেয় না কুসুম। বাবা কপিলের দয়ায় সে যদি একবার জীবন ফিরে পায়। বাড়ি বাড়ি ভিক্ষে করে, কাজ করে অনেক ওষুধ খাইয়েছে সে, দুটো কিডনি খারাপ গোবিন্দের। শরীর ফুলে উঠেছে।

কুসুমরা যে পাড়ায় থাকে, সবাই মাঝি-মাল্লা। তাদের পাড়াটাকে মালো পাড়া বলা যায়। অনেক সময় জাল ফেলে মাছ পাওয়া গেলে সকাল সকাল ফিরে আসত গোবিন্দ। গোবিন্দের গলায় সুর ছিল। দোলের দিন মালোপাড়ায় রঙের উৎসব হত। মূল গায়েন থাকত গোবিন্দ। সে বোল দিলে অন্যরা দোহার ধরত। কুসুমের ঘরও আবিরের রঙে রাঙা হয়ে যেত। সেদিন কুসুমও নেশা করত, ভাং খেত। ভাং খাওয়া এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। হাসি এলে তো আর থামতে চাইবে না। ভাং-এর নেশায় গোবিন্দকে একবার চড়ও কষিয়েছিল কুসুম। গায়ক গোবিন্দের তখন মন উদার। সে কুসুমকে ক্ষমা করে দিয়েছিল।

এই সময় একটা কণ্ঠস্বর শুনতে পেল কুসুম। পুরোনো সময়ের সুখ-দুঃখের কথা ভাবতে ভাবতে সে এত বিভোর ছিল যে, বিশ্বজিৎ বাউলের ডাক শুনতে পায়নি।

কুসুমদি কখন থেকে তোমাকে ডাকছি! কী ভাবছিলা?

তুমি আওয়ামি লিগের কথা শুনছ?

বাংলাদেশের?

হ্যাঁ। শেখ হাসিনা জিতছিলা বইল্যা সইদুল মিঞা একবার মিঠাই খাওয়াইছিল

তুমি কি লেখাপড়া জান, কুসুমদি?

মাইয়ারে বেইচ্যা দেওয়া বুঝ, বাউলভাই!

বিশ্বজিৎ বাউল চুপ করে রইল।

মরা ছিলাম বৈষ্ণব। বাবার মরণের পরে আমাগো এক বৈষ্ণব কুটুম ঢাকা শহরে লইয়্যা গ্যালো। আমি সারাদিন পাতা কুড়াতাম আর হেরা সোয়ামি-ইস্তিরি মাধুকরি কইরত। তাগোর একজন দামড়া ছেমড়া ছিল। সে যত খাবার আছে খাইয়া ফেলত

পাতা কেন কুড়াতে?

বিশ্বজিৎ হয়তো বোকার মতন প্রশ্ন করে বসল। বুকের কাপড় সামান্য ঠিক করে নিয়ে কুসুমের চোখে বিদ্যুতের ঝিলিক খেলে গেল।

তুমি দেহতত্ত্বের গান গাও, বাউল, আর পাতা কেন কুড়ায়, বুঝ না!

জ্বালানির জন্য

কুসুম শরীরটা খানিকটা অনাবৃত করে বাইরের পৃথিবীর দিকে তাকাল। মাঠের মধ্যে যে তাঁবু, তা ছাড়িয়ে গৃহস্থের ঘরও রয়েছে। বাতা দিয়ে মজবুত করে বাঁধা একটা ঘর। একটা বালব জ্বলছিল এতক্ষণ। দাওয়াটা নিশ্চয় সুন্দর। কুসুমের এরকম একটা ঘর করার খুব ইচ্ছে। কয়েকটা মুরগি পুষবে। তবে ডিমের অভাব হবে না। পান্তাভাতে ডিম ভাজা চমৎকার সোয়াদ হয়।

বাউলভাই, তুমার জ্বালানি কবে আনবা?

খনও ঠিক করিনি

বিশ্বজিৎ বাউল মুখ নীচু করে থাকে।

য়সের কাম বয়সে কইরা ফ্যালাও

কুসুমদি, আমার রোজগারের তো কোনো ঠিক নাই। আবার একখান পেট

 

বাঙাল ভাষা তুমি বেশ জানো, বাউল। আমি যদি জ্বালানি হই নিবা আমারে?

চমকে উঠল বিশ্বজিৎ বাউল।

কুসুমদি, বাউল পেয়ে মজা করছ?

লাইতে পারবা আমার হঙ্গে?

তোমার ছেলেমেয়ে, কুসুমদি… তাদের কী হবে?

 

ইতিমধ্যে গোবিন্দের ঘুম ভেঙেছে। সে সব কথা আড়ি পেতে শুনছিল। তার হাতে দা। পেটে খিদের আগুন আর বউয়ের পরপুরুষের সঙ্গে গপ্পো — সবকিছুতেই তেতে উঠেছে গোবিন্দ।

গর্জে উঠল গোবিন্দ, মাগি, দুপুররাতে পরপুরুষের হঙ্গে পলাইবি! 

রাগে কাঁপছে সে। কুসুম ছুটে গেল তার দিকে। কিছু বলতে চাইছিল, তার আগেই গোবিন্দের দা তার ডান পায়ের পাতায় এসে পড়ল।

ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এল। উফ একটা শব্দ করে কুসুম মাটিতে বসে পড়ল। এরপরেও চরম আক্রোশে কুসুমের পিঠে লাথি মারল গোবিন্দ। ছিটকে আরও একটু দূরে সরে গেল কুসুম। গোবিন্দ এবার কুসুমের বুকে, পেটে লাথি মারতে লাগল।

হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্বজিৎ বাউল। রক্তে, যন্ত্রণায় কুসুমদির পরিত্রাহি অবস্থা। বিশ্বজিৎ গোবিন্দকে দু-হাত দিয়ে জাপটে ধরল এবার। আসুরিক শক্তিতে বিশ্বজিৎ বাউলকে ছাড়িয়ে নিয়ে আবার দা হাতে তুলে নিল গোবিন্দ।

সে এবার ছুটে গেল বিশ্বজিৎ বাউলের দিকে। ডান হাত দিয়ে গোবিন্দ বাউলের গলার নলি চেপে ধরল। আর বাম হাতে খড়গের মতন বিশ্বজিতের কাঁধ লক্ষ করে উদ্যত করে রাখল তার দা।

বিশ্বজিৎ বাউলের যাবতীয় প্রতিরোধ শক্তি হারিয়ে গেছে।সে বোধ হয় মৃত্যুর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে চোখ বুজে ফেলেছিল।

চোখ বোজা অবস্থাতেই বিশ্বজিৎ বাউল আঃ একজন পুরুষকণ্ঠের তীব্র আর্তনাদ শুনতে পেল। চোখ খুলে সে দেখল গোবিন্দের মুণ্ডু দেহ থেকে আলাদা হয়ে ভুঁইয়ে পড়ে রয়েছে। রক্তে মাখামাখি হয়ে ডান হাতে দা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কুসুমদি।

কুসুম উন্মাদিনীর মতন কণ্ঠস্বরে বলল, বিশ্বজিৎবাউল, তুমি পলাও!

তোমার কী হবে, দিদি!

ফাঁসি। হেই জীবনের তুন মৃত্যু অনেক ভালা

ম্লান হাসল কুসুম।

তোমার ছেলেমেয়ে দুটোর কী হবে!

এবার চোখ ছলছল করে উঠল কুসুমের।

কেন তুমি দেখবে, বাউল!দেখবা না?

ভিতরে গভীর এক অন্ধকার। রক্তমাখা বস্ত্রে বসে রয়েছে কুসুম আর বার বার বললেও কুসুমকে ফেলে পালিয়ে যায়নি বিশ্বজিৎ বাউল। মাঝখানে পড়ে রয়েছে খুন হয়ে যাওয়া গোবিন্দ দাশের লাশ। শকুন রক্তের গন্ধ টের পায়। বেশ কয়েকটা শকুন অদূরের অশ্বত্থ গাছটায় উড়ে এসে বসেছে। একটু দূরে মাঠে বাজি পোড়ানো শুরু হয়েছে। সাগরমেলার ক্যাম্পফায়ার। হিন্দিতে বাজি পোড়ানোর কথা হচ্ছে। এক-একটা বাজি ফেটে আলোর মালা তৈরি হচ্ছে আর দর্শকদের করতালির শব্দ শোনা যাচ্ছে। কুসুমের ঘুম পেয়েছে খুব, খিদেও পেয়েছে। সে বিশ্বজিৎ বাউলকে বলল, ভাত খাবা?ডিমভাজাও আছে!

বিশ্বজিৎ বাউল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, গোবিন্দদাদাউখান পাইল কোথায়?

মি জানি না কুসুম বলল। তারপর আবার বলল, যারা এই হোগলা ঘর বানাইছে, তাদের হইতে পারে। তুমি যাও, বাউল। চাট্টি ভাত খাইয়া বিদায় হও

তোমার কী হবে, কুসুমদি!

মারে পুলিশ কোমরে দড়ি বাঁইধ্যা লইয়া যাবে। লোকে কইবে পতিঘাতিনী মায়ামানুষ, কেউ কইবে বেবুশ্যা

কুসুমদি একখান কথা রাখবা? বিশ্বজিৎ-বাউল বেশ গাঢ়-স্বরে বলে।

কী?

গোবিন্দদার লাশখান অন্য কোথাও ফেলায় আসি

না। খুব কঠিন শোনায় কুসুমের গলা। আবার কোমল স্বরে বলে, নার লাশ শকুনে, পাখিতে, ইতর প্রাণি খুবলাক—আমি তা চাই না, বাউল। পাপ তো করছি, আর বাড়ামু না

বিশ্বজিৎবাউল ভেবে পায় না কী উত্তর দেবে। শুধু সে বলে, মারে বাঁচাইতে গিয়া তুমি এরমডা করলে?

কুসুম উত্তর দেয় না, নির্বিকার বসে থাকে। অন্ধকারে ওকে দেখতে পায় না বিশ্বজিৎ কিন্তু অনুভব করে, খুব কষ্ট হয় বিশ্বজিৎবাউলের। ধাতব মধুর ধ্বনি বাতাসে ভেসে এল। কপিল মুনির মন্দিরে ঘণ্টা বাজানো হচ্ছে। আবার সমবেত দর্শকদের করতালি। মাইকে মেলা সমাপ্তির ঘোষণা করা হল। অন্ধকার মাঠের ঘাসের মাথায়, দূরের ও কাছের গাছগুলিতে থোকা থোকা জোনাকি বসেছে। দপ করে ওরা ফুটে উঠেছে আবার নিভে যাচ্ছে।

বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধতার পর কুসুম বলল, মার জীবন আর মায়ামানষের জীবনও থাকব না। তুমি বাউল আমার হঙ্গে তো পিরিতিও কর নাই। পালাও, বাউল, পালাও!

দীর্ঘশ্বাস পড়ল বিশ্বজিৎবাউলের। কুসুম আবার বলল, কিল-মুহুরির পিছন ঘুরবা না, এই জীবনে আমার আর বাঁচনের সাইধ নাই

কুসুম এবার কুপি জ্বালাল। ইলেকট্রিক বালব জ্বালাতে তারও কেমন জানি না সাহস করল না। এই রাতটুকু অন্তত তার নিজের মতন করে থাক। সে ভাত বেড়ে দিল বিশ্বজিৎ-বাউলকে। সঙ্গে ডিমও দিল। আর নিজের জন্য ভাতের সঙ্গে তেল আর কাঁচালংকা মেখে নিল।

বিশ্বজিৎ বাউল খেতে পারছিল না। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। কুসুম আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দিয়ে ভাতের গেরাস বিশ্বজিতের মুখে তুলে দিল। বিশ্বজিৎবাউল এবার নিজে নিজে খাচ্ছিল কিন্তু অবশ্যই খাওয়ায় তার কোনো মন ছিল না। গানই তার জীবন। নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে গান মিশে আছে বিশ্বজিৎ বাউলের। এই প্রথম সে গান ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে। পথে-ঘাটে সে বহুদিন বহু সমাদর পেয়েছে, আজ তার আর কোনো সমাদরের প্রয়োজন নেই। সে যদি ধিক্কৃতও হয়, মানুষ যদি তাকে লাঞ্ছনা করে, তবুও কুসুমদিকে তার বাঁচাতেই হবে, অন্তত পাশে থাকতে হবে।

ভোর হচ্ছে। জলকাচা সাবানের গন্ধ, ভিজে চুলের গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। কুসুম আর বিশ্বজিৎবাউল দুজনেই ঘুমিয়ে রয়েছে। মেলার ক্যাম্প ফায়ারিং-এর সঙ্গে সঙ্গে হোগলা, বাঁশ, ইট—যাবতীয় কিছুর অকশনও শেষ হয়েছে। লোকজন খুলতে এসে দেখল একটি হোগলা ঘরে মুণ্ডু-কাটা একজন মানুষের মৃতদেহ আর পাশেই এক বাউল এবং আরও একজন যুবতী বউ অকাতরে ঘুমুচ্ছে।

(ক্রমশ…)

 
 
top