ভারতে বাংলাদেশি নারী

 

আমাদের দেশে নারীর অবস্থান ঠিক কোথায়? – এর উত্তরে বলতে হয় কোনো একক পরিসীমায় তা আবদ্ধ নয়। নারী বহুমুখী দিশায় অবস্থান করে।

নারীর ভূমিকা সমাজ ও সংসারে যে অনস্বীকার্য, এ কথা আমরা সকলেই মানি নিশ্চয় - কখনো সে গর্ভধারণ করে জীবনধারার প্রবাহকে বজায় রেখে চলে, কখনো সে ভ্রষ্ট সংসারের সূত্রগুলো কে প্রাণপণে একজায়গায় বেঁধে রক্ষিকার ভূমিকা পালন করে, কখনো-বা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সকলের অন্ন-বস্ত্রের ব্যাবস্থায় নিজেকে নিয়োজিত করে। এককথায় নারী সমাজ ও সংসারের এক অপরিহার্য সদস্য। যদিও নারী ও পুরুষ উভয়ে মিলেই সমাজের পরিকাঠামোটি তৈরি করে, কিন্তু আমাদের সমাজে পুরুষের তুলনায় নারীর মর্যাদা অনেক কম এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নারীকে নারী-পুরুষের অবস্থানের তারতম্যজনিত পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করে  চলতে হয়। তবু বলতেই হয় যে, আজকের সমাজে নারীর অবস্থিতি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুরুষ ও নারীর সমমর্যাদার সম্যক ধারণা মানুষের মনে আরো পরিস্ফুট হয়েছে। এ যুগের নারী ঘরে ও বাইরে কর্মযজ্ঞে সমান দক্ষ।

তবু এখনও বহু মহিলা আছেন, বিশেষ করে যারা অন্য দেশ থেকে শরণার্থী বা অভিবাসী হয়ে আসেন, তাঁদের অনেকেই এখনো সমৃদ্ধ জীবনযাপন এবং প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত। এঁদের উপযুক্ত সন্নিবেশ বহু বাধাবিপত্তির পথ পেরিয়ে আজও অনিশ্চিত।

ভারতের সেন্সাস বা জনগণনা থেকে দেখা গেছে, ১৯৭১ পর্যন্ত এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক উদ্বাস্তুদের আগমন ঘটেছে ভারতে, প্রায় ৯৮.৭ শতাংশ। পরবর্তীকালে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২.৯ শতাংশ। এঁরা এসেছেন মূলত বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান থেকে। বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীর সংখ্যা এর মধ্যে সবচেয়ে ঊর্দ্ধে। বছরের পর বছর ধরে গড়ে এই সংখ্যা ক্রমে দাঁড়িয়েছে ৫২.৮ শতাংশ।

ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে দেশ বিভাজনের সময় এবং তার পরেও হাজার হাজার মানুষ ভারতে প্রবেশ করেছেসেই আসার স্রোত থেমে থাকেনি। এখনও ক্রমাগত চলছে। এর মধ্যে একটা বড়ো অংশ জুড়ে আছেন মহিলারা।

কিন্তু কী কারণে অগণিত বাংলাদেশি মহিলা তাঁদের মাতৃভূমি ছেড়ে দেশান্তরে পাড়ি দেন? নতুন দেশে কীভাবে তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন? তাঁদের জীবন কোন্ খাতে বয়ে চলে? ভবিষ্যৎ কোন্ রূপ ধরে এঁদের সামনে নিজেকে উন্মোচন করে?

বাংলাদেশ থেকে মহিলা অভিবাসী ও শরণার্থীদের দেশান্তর গমনের কারণ একাধিক। এর মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় অরাজকতা। আর অর্থনৈতিক কারণ তো আছেই।

মহিলাদের মধ্যে পারিবারিক হেতুতে দেশান্তরে গমন একটি অন্যতম মুখ্য কারণ। বাংলাদেশে দেশবিভাগের সময় থেকেই হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মসঙ্ক্রান্ত বিভেদ দেখা দেয় এবং বাংলাদেশ মুসলিম দেশ বলে ঘোষিত হওয়ার পর এই বিভেদ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ফলস্বরূপ বহু হিন্দু মেয়ে পরিবারসহ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

এ ছাড়া, বহু মেয়েকে তাঁদের সম্মান রক্ষার্থে এপার বাংলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ করে। হয় তাঁদের বিয়ে বাংলাদেশেই দিয়ে দেওয়া হয় এবং তারপর কোনোরকমে দেশ পরিত্যাগ করে তাঁরা ভারতে আসেন, অথবা তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারতে অবিবাহিত অবস্থায়, এবং ভারতে বসবাসকারী পুরুষদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর মধ্যে বাধ্যতামূলক বৈবাহিক সম্পর্কই বেশি।

যাঁরা পরিবারসহ ভারতে এসেছেন ঘরবাড়ি জমি-জমা ছেড়ে, তাঁরা এসেছেন তাঁদের পরিবারের জন্য সুস্থ ও অনুকূল পরিবেশের খোঁজে, উন্নতমানের জীবনযাপনের জন্য, চিকিৎসার সুব্যাবস্থা প্রাপ্তির জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষাপ্রদানের জন্য।

পারুল রায় এমনই একজন। বয়স সাতচল্লিশ বছর। মাত্র দশ বছর বয়সে মা-বাবার হাত ধরে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসেন। কারণ সেই আদি এবং অকৃত্রিম হিন্দু-মুসলিম বিবাদ। বাইশ বছর বয়সে তাঁর বিবাহ হয় বাংলাদেশি এক অভিবাসীর সঙ্গে। বর্তমানে তিনি পাঁচ সন্তানের মা। মাধ্যমিক পর্যায় অবধি শিক্ষাপ্রাপ্তির সুযোগ পান  ভারতে এসে, কিন্তু তারপর আর পড়ার সুযোগ হয়নি। বর্তমানে পারুল কৃষিজমিতে শ্রমিকের কাজ করেন এবং তাঁর উপার্জনের পুরো অংশই সংসারের জন্য ব্যয় করেন। তাঁদের কোনো নিজস্ব জমি নেই । বসবাস মাটির বাড়িতে। ঘরে মূল্যবান জিনিস বলতে একটি বাইসাইকেল আর একটি রেডিয়ো। পারুল আক্ষেপের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, তাঁর পুরুষ সহকর্মীরা তাঁর সঙ্গে একই কাজ করলেও  তাঁর থেকে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান, মহিলা বলে তিনি কম মজুরি পান। মাত্র দশ বছর বয়সে যে বালিকা দু-চোখে স্বপ্ন নিয়ে ভারতের মাটিতে পা রেখেছিল, আজ দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাস করে তার চোখে কিন্তু কিছু অংশে হলেও স্বপ্নভঙ্গের নিরাশা।

বাংলাদেশের জন্মের পরেও সাম্প্রদায়িক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চলেছে অবিরত এবং বহু হিন্দু কেবল নিজেদের অভিপ্রায়েই নয়, পরিস্থিতির চাপেও আন্তর্জাতিক সীমানা পেরোতে বাধ্য হচ্ছেন।কিন্তু যেটা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়, সেটা হল , উদ্বাস্তুরা অনেকেই রাতারাতি বৈধ পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেন। কেউ কেউ যেখানে ঘর বাঁধার জমি পেয়েছেন সেখানেই বসতি তৈরি করে নিয়েছেন। আবার কেউ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং আত্মীয়পরিজনের সঙ্গে সহাবস্থানকে প্রাধান্য দিয়েছেন বসবাসের জন্য। এঁদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন থাকার সূত্রে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টায় রত হন।

ভারতের কোথায় কোথায় এই শরণার্থী বা উদ্বাস্তুরা বসতি স্থাপন করেছেন? ভারত ভূখণ্ডের পূর্বাংশ জুড়ে এঁদের অবস্থান। সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গে, তারপর ওড়িশায়, আসাম ও ত্রিপুরাতেও এঁরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। কিন্তু এই রাজ্যগুলিতে এঁদের বণ্টন প্রতিটি জেলায় সমভাবে হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের সীমানার নিকটবর্তী জেলাগুলিতে যেমন নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদে এঁদের সংখ্যা অধিকতর। ওড়িশার উপকূলবর্তী অঞ্চলে, জগৎসিংপুর, জাজপুর ও কেন্দ্রপাড়াতেও এঁদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। সেন্সাসে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে পুরুষ অপেক্ষা মহিলা শরণার্থী এবং অভিবাসীর সংখ্যা বেশি।

পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে যেখানে শরণার্থীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি,  সে জায়গাগুলি হল কল্যাণী, ডোমকল, তেহট্ট ও লালবাগ। কল্যাণী, তেহট্ট ও ডোমকলে মহিলা শরণার্থী ও অভিবাসীরা এসেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। কিন্তু লালবাগে বাংলাদেশি নারীরা এসেছেন প্রধানত ফরিদপুর, যশোর ও রাজশাহী থেকে।

বর্তমানে মহিলা অভিবাসী বা শরণার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন দাঁড়িয়েছেবাহান্ন বছর বয়সি লালবাগের শ্রীমতী মণ্ডল এঁদের মধ্যে আর একজন যাঁর  বিয়ে হয় মাত্র আঠারো বছর বয়সে। খুলনার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিয়ের দশ বছর পরে চলে আসেন তিনি এপার বাংলায়। কারণ সেই একই, ধর্মসংক্রান্ত গোলযোগ। এঁদের কথানুযায়ী, মুসলিমদের দেশে নাকি বসবাস একেবারেই অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এ দেশে এক একরেরও কম একটি জমির মালিক শ্রীমতীর পরিবার। পারিবারিক আয় অত্যন্ত কম, মাসিক মাত্র একত্রিশশো টাকা। এঁরা কাঁচা বাড়িতে বাস করেন। জীবনধারণের মৌলিক সুযোগসুবিধা  থেকে এঁরা বঞ্চিত, যেমন জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। ভারতে এসে এঁদের দারিদ্র্য বেড়েছে বই কমেনি। প্রশ্ন জাগে মনে - শ্রীমতী মণ্ডলের এই জীবন সংগ্রাম কি আমরণ চলতে থাকবে?

অভিবাসী বা শরণার্থীদের সকলেই চরম দারিদ্র্যে দিন কাটাচ্ছেন, এমন কিন্তু নয়। অনেক মহিলা আছেন যাঁরা বিত্তবান পরিবার থেকে এসেছেন, এঁরা বৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে এসেছেন এবং সঙ্গে টাকা বা গয়না নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

কথা বলেছিলাম চব্বিশ বছর বয়সি চম্পারানি বালার সঙ্গে। তিনি তপসিলী উপজাতির অন্তর্গত। চম্পারানির প্রথম জীবন কেটেছে বাংলাদেশের হাঁড়িভাঙ্গা, কুষ্টিয়ায়, বর্তমান ঠিকানা নদিয়ার কল্যাণীবাংলাদেশে ক্রমাগত মুসলমানের উৎপীড়ন সহ্য করতে না পেরে তিনি স্বামীর সঙ্গে এদেশে চলে আসেন। এঁরা বাংলাদেশ থেকে বৈধ পাসপোর্ট নিয়েই ভারতে প্রবেশ করেছেন। পাকা বাড়িতে থাকেন, জল, বিদ্যুৎ ইত্যাদি মৌলিক সুযোগসুবিধা ভোগ করেন। বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য যা যা দরকার সেইরকম অনেক মূল্যবান জিনিস এঁদের আছে, যেমন সাইকেল, টেলিফোন, টেলিভিশন, মোটরবাইক প্রভৃতি। স্বামী একমাত্র সংসারে উপার্জনকারী, চম্পা ঘরকন্নার কাজ ও সন্তানপালন করেন। চম্পারানির মতে, ভারতে আসায় তাঁর জীবন অনেক নিরাপদ ও সুরক্ষিত হয়েছে। এখানে বাঁচার মতো সুস্থ পরিবেশ পেয়েছেন তিনি। 

তবু নিজের দেশের মাটি থেকে উৎপাটিত চম্পারানির কি মাতৃভুমির জন্য মন টানে না? হয়তো টানে। কিন্তু এটুকুই স্বান্তনা যে, এখানে নিরাপত্তার অভাব তাঁদের তাড়া করে বেড়ায় না

ডোমকলের চুয়াল্লিশ বছর বয়সি রেবতী স্বর্ণকার আর তেহট্টের সাতচল্লিশ বছর বয়সি অলকা দাস, দুজনেই দু-দশক আগে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতের মাটি স্পর্শ করেন। রেবতী জানান, মাত্র ষোলো বছর বয়সে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের একবছর পরেই পাবনা থেকে স্বামীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। কারণ আবার সেই ধর্মীয় প্রতিকূলতা।

অলকারও বিবাহ হয় তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে ষোলো বছর বয়সে বাংলাদেশে জন্মানো কিন্তু ভারতে বসবাসকারী এক পুরুষের সঙ্গে। অর্থাৎ অলকার ক্ষেত্রে দেশান্তরগমনের হেতু প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বিবাহবিয়ের এক বছর পর থেকে অলকা স্বামীর সঙ্গে তেহট্টে বাস করছেন। রেবতী ও অলকা দুজনের কেউ বৈধতা মেনে এদেশে আসেননি, কিন্তু ভাগ্যবশত রেবতী সঙ্গে কিছু গয়না নিয়ে আসতে পেরেছিলেনরেবতী প্রাথমিক আর অলকা মাধ্যমিক পর্যায় অবধি শিক্ষাগ্রহণ করেন, কিন্তু তার পর আর সুযোগ না পাওয়ার কারণে পড়া হয়ে ওঠেনি

রেবতী একটি বিড়ি তৈরির কারখানায় কাজ করেন এবং দৈনিক তিরিশ টাকা রোজগার করেন। রেবতীর পরিবার নিম্নমধ্যবিত্ত, অর্থাৎ কোনোমতে দুবেলা পেট ভরে তাঁদের খাওয়া জোটে। রক্তাল্পতার রোগী রেবতী চিকিৎসার জন্য হাতুড়ে ডাক্তারের ওপরেই নির্ভর করেন।

অলকা পাঁচ সন্তানের মা। তিনি একটি পশুপালন কেন্দ্রে কাজ করেন। মাসে উপার্জন করেন মাত্র তিনশো টাকা। উল্লেখযোগ্য এটাই যে, এই টাকা কিন্তু তিনি স্বামীর হাতে তুলে দেন না। অলকার সন্তানরাও কেউ কেউ অল্পবয়স থেকেই কাজে লেগে গেছে। তাই কোনোরকমে দিন গুজরান হয়।

ভারতে তাঁদের ক্রমাগত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে আজও তাঁদের জীবনযাপনের মান উন্নত হয়নি।

শুধু হিন্দুই নয় বেশ কিছু মুসলিম পরিবারও ভারতে এসেছেন বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে। লক্ষ্যণীয় এটাই যে, এঁদের আসার কারন প্রধানত মাতৃভূমির  অর্থনৈতিক প্রতিকূল অবস্থা।

জাহানারা বেগম এইরকম একজন যিনি স্বামীর সঙ্গে এ দেশে আসেন বাংলাদেশের কুষ্টিয়া থেকে। সে দেশের চরম দুর্দশাগ্রস্ত অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁদের বাধ্য করেছে ভারতে চলে আসতে। তাঁরা এসেছেন বৈধ পাসপোর্ট ছাড়াই। এ দেশে জাহানারার পরিবার এক একরের মতো জমির মালিক। আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ নয়। কেবল জাহানারার ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ তো গেল মাত্র কয়েকজনের জীবনকাহিনি। আরও বহু মহিলা শরণার্থী এবং অভিবাসী আছেন, যাঁরা বহু বিপর্যয় ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আজও হয়ে চলেছেন। এর মধ্যে শারীরিক আর যৌন অত্যাচার তো আছেই, এ ছাড়াও শিশুশ্রম, অপ্রাপ্ত বয়সে বিবাহ, পণপ্রথা – এই ধরনের নির্যাতনও মহিলারা সহ্য করে চলেছেন।

তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ক্রমবর্ধমান শরণার্থী ও অভিবাসী মহিলাদের অন্তহপ্রবাহের বিরতি নেই। মাতৃভূমির অশান্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা এঁদের জীবন এমনই দুর্বিষহ করে তুলেছিল যে, এঁরা বাধ্য হয়েছিলেন দেশান্তরে পাড়ি দিতে। হয়তো অনেকে মহিলাই ‘ইন্ডিয়া’তে এক সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কেউ কেউ হয়তো-বা শান্তিময় জীবনের খোঁজ পেয়েছেন, কিন্তু বেশিরভাগই সেই স্বপ্নসুখ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বহু মহিলা আর কখনও বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারেননি, যেখানে তাঁদের প্রিয়জনেরা আজও বাস করেন। একদিন নিজেদের রক্ষার জন্য যেখান থেকে তাঁদের অন্য দেশে পাড়ি দিতে হয়েছিল, তাঁদের অস্তিত্বের বীজ  এখনো সে দেশের মাটিতেই প্রোথিত হয়ে আছেসেখান থেকে উন্মূলিত হয়ে আসায় প্রায় প্রত্যেকেরই জীবনের কথা তাই শেষ পর্য্যন্ত প্রিয়জন বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় ও বেদনায় ভারাক্রান্ত

 
 
top