অন্তঃপুরের মসীকথা

 

রামী

নির্জন রাত। শান্ত প্রকৃতি। বাশুলী দেবী মন্দিরের পূজারি চণ্ডীদাস একমনে কৃষ্ণের ভজন গেয়ে চলেছেন। গ্রামের কিছু মানুষ তন্ময় হয়ে সেই গান শুনছেন। উদাস প্রকৃতির মানুষ এই চণ্ডীদাস। সংসারী হওয়ার কোনো মনোবাসনাই নেই। ছেলেবেলা থেকেই দেবতার প্রতি অসীম ভক্তি আর ঐশ্বর্য বলতে পদ রচনা আর তাতে সুর দিয়ে কণ্ঠের মায়াজাল সৃষ্টি করা।  তাঁর গান একবার যে-ই শোনে, সে-ই মুগ্ধ হয়ে যায়। রাত ক্রমশ বাড়তে থাকে। চণ্ডীদাস গানের মধ্যে একাত্ম হয়ে পড়েন। হঠাৎ নারীকণ্ঠের চাপা কান্নার শব্দে চণ্ডীদাস সুরচ্যুত হলেন।

একজন বৃদ্ধ গ্রামবাসী বলে উঠলেন, থামলে কেন?

চণ্ডীদাস ইশারায় ব্যাপারটা বোঝালেন।

তো রাসমণি কাঁদছে। আজকে বোধহয় কোথাও খাবার জোটেনি

চণ্ডীদাসের মনটা ব্যথায় ভরে উঠল। সকলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, মরা গ্রামের এতগুলো মানুষ থাকতে একটা মানুষ এরকম উপোশ করে থাকবে! আমরা কি ওর কোনো ব্যবস্থাই করতে পারি না?

তো ধোপানি, নীচু জাত

চ্ছা, ওকে যদি মন্দির পরিষ্কার করার কাজে রাখা যায়, কেমন হয়?

সবাই একসঙ্গে বলে ওঠে, বে খুব ভালো হয়

চণ্ডীদাসও খুব খুশি হলেন। মনে মনে বললেন, ভালোই হল। সারাদিন মায়ের সেবা করবে আর মায়ের ভোগান্নে ওর ক্ষুন্নিবৃত্তিও হবে।

পরদিন প্রত্যূষে, সূর্যোদয় হওয়া মাত্র রাসমণি তথা রামী মন্দিরে এসে উপস্থিত হল। চণ্ডীদাস তখন সবেমাত্র মন্দিরের দরজা খুলেছেন। রামীকে দেখে তাঁর মুখে হাসি ফুটে উঠল।

তুমিই রামী?

যুবক চণ্ডীদাসকে দেখে  চতুর্দশী রাসমণির মুখ লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠল।

জ থেকে তুমি মন্দিরের সব কাজকর্ম করবে। মন্দির চত্বর এমনভাবে পরিষ্কার রাখবে যেন সেখানে বিন্দুমাত্র ধুলো না থাকে। তারপর মায়ের ভোগান্ন গ্রহণ করবে। এখানে তোমার আহারের কোনো অভাব হবে না। মায়ের কাছে সব সন্তানই সমান। মা তাঁর কোনো সন্তানেরই কষ্ট দেখতে পারেন না। মা আমার বরাভয়দাত্রী

চণ্ডীদাসের এমন কোমল ব্যবহারে রামীর অন্তর খুশিতে ভরে উঠল। রামী সাগ্রহে মন্দির পরিচর্যার কাজে নেমে পড়ল।

ধীরে ধীরে এভাবে সময় অতিক্রান্ত হতে থাকল।

রামী এখন অষ্টাদশী। বাশুলী দেবীর কৃপায় তার এখন অন্ন-বস্ত্রের অভাব ঘুচেছে। তার কাজে গ্রামের সকলেই সন্তুষ্ট। তার কর্মদক্ষতা তাকে সকলের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। চণ্ডীদাস মায়ের সেবা করেন আর অবসর সময়ে পদ রচনা করেন। চণ্ডীদাস সান্নিধ্যে রামীও ততদিনে পদ রচনা করতে শিখে গিয়েছে:

তুমি যে আমার আমি যে তোমার

সুহৃৎ কে আছে আর।

খেদে রামী কয় প্রাণনাথ বিনা

জগৎ দেখি আঁধার।

কিন্তু ততদিনে পারস্পরিক সুর আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে রামীর সঙ্গে চণ্ডীদাসের কামগন্ধহীন প্রেমের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। সমাজ তাঁদের এই প্রেমকে সুনজরে দেখল না। তাঁদের প্রেম কলঙ্কময়, এই আখ্যা দিয়ে উভয়কেই সমাজচ্যুত করল। কলঙ্কিতা রামী দেবী মন্দির থেকে বিতাড়িত হয়ে চণ্ডীদাসকে জানালেন:

কী কহিব বঁধু হে বলিতে যে ফুরায়।

কাঁদিয়া কহিতে পোড়ামুখে হাসি পায়।।

অনামুখু মিন্সে গুলোর কিবা বুকের পাটা।

দেবী পূজা বন্ধ করে কুলে দেয় কাঁটা।।

দুঃখের কথা কৈতে গেলে প্রাণ কাঁদি উঠে।

মুখ ফুটে না বলতে পারি মরি বুক ফেটে।।

ঢাক পিটিয়ে অপবাদ গ্রামে গ্রামে দেয় হে।

চক্ষে না দেখিয়ে মিছে অপবাদ কলঙ্ক রটায় হে।।

ঢাক ঢোলে যে জন সুজন নিন্দা করে।

ঝঞ্ঝনা পড়ুক তার মাথার উপরে।।

অবিচার পুরি দেশে আর না রহিব।

যে দেশে পাষণ্ড নাই সেই দেশে যাব।।

বাশুলী দেবীর যদি কৃপাদৃষ্টি হয়।

মিছে কথা সেঁচা জল কতক্ষণ রয়।।

আপনার নাক কাটি পড়ে বলে বোঁচা।

সে ভয় করে না রামী নিজে আছে সাঁচা।।

এরপরে চণ্ডীদাস গ্রাম ছেড়ে, রামীকে সঙ্গে নিয়ে, গৌড়ের পথে রওনা দেন। গৌড়ের নবাব চণ্ডীদাসকে রাজসভায় গান গাইবার অনুরোধ করেন। চিকের আড়ালে বসে চণ্ডীদাসের গান শুনে বেগম চণ্ডীদাসের গুণমুগ্ধ হয়ে, তাঁর অনুরাগিণী হয়ে পড়েন। নবাবের কাছে সে কথা স্বীকার করতে তাঁর কোনোরকম কুণ্ঠাবোধও হয় না। নবাব সে কথা শুনে প্রচণ্ড রেগে ওঠেন, আদেশ দেন হতির পিঠে চণ্ডীদাসকে বেঁধে কষাঘাত করার। এই নিদারুণ কষাঘাতেই চণ্ডীদাসের মৃত্যু হয়। রামীর রচিত একটি গীতিকা থেকে এই  তথ্য পাওয়া যায়।

রামীর রচিত অন্য দুটি পদ:

কোথা যাও ওহে, প্রাণ-বঁধু মোর, দাসীরে উপেক্ষা করি।

না দেখিয়া মুখ, ফাটে মোর বুক, ধৈরজ ধরিতে নারি।।

বাল্যকাল হতে, এদেহ সঁপিনু, মনে আন নাহি মানি।

কি দোষ পাইয়া, মথুরা যাইবে, বল হে সে কথা শুনি।।

তোমার এ সারথি, ক্রূর অতিশয়, বোধ বিচার নাই।

বোধ থাকিলে, দুঃখ সিন্ধু নীরে, অবলা ভাসাতে নাই।।

পিরীতি জ্বলিয়া, যদি বা যাইবা, কবা বা আসিবা নাথ।

রামীর বচন, করহ পালন, দাসীরে করহ সাথ।।

এবং:

তুমি দিবাভাসে, লীলা অনুরাগে, ভ্রম সদা বনে বনে।

তাহে তব সুখ, না দেখিয়া দুঃখ, পাই বহু ক্ষণে ক্ষণে।।

ত্রুটি সমকাল, মানি সুজঞ্জাল, যুগ তুল্য হয় জ্ঞান।

তোমার বিরহে, মন স্থির নহে, ব্যাকুলিত হয় প্রাণ।।

কুটিল কুন্তল, কত সুনির্মল শ্রী মুখ-মণ্ডল-শোভা।

হেরি হয় মনে, এ দুই নয়নে, নিষেধ দিয়েছে কেবা।।

রামীর পদাবলি রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা কাব্যসাহিত্যে প্রথম মহিলা কবির আবির্ভাব ঘটে।

 

চন্দ্রাবতী

সময়টা ষোড়শ শতক। ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার পাটওয়ারি গ্রাম। এই গ্রামেই পণ্ডিত বংশীদাস ভট্টাচার্য বাস করতেন। তিনি দ্বিজ বংশীদাস নামেই খ্যাত ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা মনসার ভাসান। বংশীদাস ভট্টাচার্যের স্ত্রীর নাম সুলোচনা দেবী। বংশীদাস ভট্টাচার্য ও সুলোচনা দেবীর কোল আলো করে জন্ম নিলেন চন্দ্রাবতী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের মধ্যমণি। এমন প্রতিভাময়ী কবির জীবনটি কিন্তু বড়োই যন্ত্রণার। পাটওয়ারি গ্রামের অদূরেই সন্ধ্যা গ্রাম। চন্দ্রাবতীর বাল্যসখা সেখানেই থাকেন। ছেলেবেলা থেকেই তাঁদের একত্রে বড়ো হয়ে ওঠা, পড়াশুনোও একইসঙ্গে হয়। এমনিভাবেই দুটি কিশলয় বড়ো হয়ে ওঠে। যৌবনের সন্ধিক্ষণে মনেরও ভাববিনিময় ঘটে। কন্যা বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠেছে দেখে বংশীঠাকুর জয়ানন্দের সঙ্গে চন্দ্রাবতীর বিয়ে ঠিক করলেন। উভয়ের অন্তরের ভালোবাসা বংশীঠাকুরের কাছে গোপন ছিল না। জয়ানন্দ সুপুরুষ ছিলেন, চন্দ্রাবতীও অপরূপ সুন্দরী। ঋতুশ্রেষ্ঠ বসন্তকালেই দুজনের শুভদৃষ্টি বিনিময়ের আয়োজন হল। এমন সময়ে জয়ানন্দের জীবনে এক আকস্মিক পরিবর্তন ঘটল। এক মুসলমান তরুনীকে দেখে জয়ানন্দ আকৃষ্ট হলেন। চন্দ্রাবতীকে গ্রামের সবাই ভালোবাসে। তাঁর বিয়ে উপলক্ষে বাড়িতে তখন আনন্দের বন্যা। এমন সময়ে এক ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ এল। জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন এবং গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এই ঘটনায় চন্দ্রাবতীর মাথায় যেন বাজ পড়ল। তাঁর সকল স্বপ্ন, আশা নিমেষে ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল। চন্দ্রাবতী পাথরের মতো কঠিন হয়ে গেলেন। তাঁর চোখের জল শুকিয়ে গেল। চারিদিকে যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা নেমে এল। চন্দ্রাবতীর এরকম অবস্থা দেখে স্নেহময় পিতা বড়ো ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। ওদিকে নানা দেশ থেকে বিয়ের সম্বন্ধ আসতে লাগল। কিন্তু চন্দ্রাবতী অনড়। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে, তিনি আর বিয়ে করবেন না। শিবের আরাধনা করেই বাকি জীবনটা কাটাবেন। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী ফুলেশ্বরী নদীর ধারে শিব মন্দির তৈরি হল। তিনি পূজা-অর্চনায় মন দিলেন। আর তার সঙ্গে চলল কাব্য চর্চা। এই সময়েই তিনি রামায়ণ রচনা করলেন। এখানে চন্দ্রাবতীর রামায়ণ-এর কিছু অংশ লিপিবদ্ধ করা হল:

শয়ন মন্দিরে একা গো সীতা ঠাকুরানী

সোনার পালঙ্ক পরে গো ফুলের বিছানী।

চারিদিকে শোভে তার গো সুগন্ধী কমল

সুবর্ণ ভৃঙ্গার ভরা গো সরযূর জল।

নানা জাতি ফল আছে সুগন্ধে বসিয়া,

যাহা চায় তাহা দেয় গো সখীরা আনিয়া।

ঘন ঘন হাই ওঠে গো নয়ন চঞ্চল,

অল্প অবশ অঙ্গ গো মুখে উঠে জল।

উপকথা সীতারে শুনায় আলাপিনী,

হেনকালে আসলে তথায় গো ককুয়া-ননদিনী।

ককুয়া বলিছে বধূ গো মন বাক্য ধর,

কিরূপে বঞ্চিলা তুমি গো রাবণের ঘর?

দেখি নাই রাক্ষসে গো শুনিতে কাঁপে হিয়া,

দশমুণ্ড রাবণ রাজা গো দেখাও আঁকিয়া।

মূর্ছিতা হইলা গো সীতা রাবণ নাম শুনি,

কেহ বা বাতাস দেয় গো কেহ মুখে পানি।

চন্দ্রাবতীর রামায়ণ-এর মৌলিকত্ব তাঁকে কবি প্রতিভার অমরত্বের আসনে পৌঁছে দিয়েছে। আজও ময়মনসিংহ জেলার ঘরে ঘরে চন্দ্রাবতীর রামায়ণ গীত হয়। কৃত্তিবাসের পর যাঁরা রামায়ণ লিখে বিখ্যাত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে চন্দ্রাবতী অন্যতম। কিন্তু দুঃখের বিষয় চন্দ্রাবতী এই রামায়ণ শেষ করে যেতে পারেননি। সীতার বনবাস পর্যন্ত লিখেই তাঁকে থেমে যেতে হয়েছিল।

 

চন্দ্রাবতী কেনারাম, মহুয়া, প্রভৃতি কয়েকটি ক্ষুদ্র কাব্যও লিখে গিয়েছেন। বংশীদাসের বিখ্যাত মনসার ভাসান-এ চন্দ্রাবতীর অনেক রচনাই স্থান পেয়েছে।

 

দ্বিজ চণ্ডীদাস কিশোরগঞ্জ মহকুমার অধীন পাটওয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকৃত মনসামঙ্গল ১৪৯৭ শকে, অর্থাৎ ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়। মনসামঙ্গলে চন্দ্রাবতি ও তাঁহার প্রণয়ী জয়চন্দ্র বা জয়ানন্দের অনেক কবিতা আছে। বংশী স্বীয় কন্যার সাহায্যে এই পুস্তক রচনা করিয়াছিলেন।

 

বুকভরা ব্যথা নিয়েই চন্দ্রাবতীর জীবনের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সময়টা তখন বৈশাখ। গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রকৃতি তখন জর্জরিত। চন্দ্রাবতীও রামায়ণ রচনায় আত্মমগ্ন হয়ে আছেন। এমন সময় চন্দ্রাবতী একদিন চিঠি পেলেন। জয়ানন্দ তাঁর কৃত কর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে একটি চিঠি লিখেছেন। সে আজ ক্ষমাপ্রার্থী। চিঠিটা পড়ে চন্দ্রাবতীর দু-চোখ জলে ভরে উঠল, অতীতের স্মৃতিগুলো আবার মানসপটে ভেসে উঠল। চন্দ্রাবতী বংশীদাসকে সবকথা জানালেন। বংশীদাস মেয়েকে দেবতার কাছে চিত্ত সমর্পণ করতে বললেন। চন্দ্রাবতীও জয়ানন্দকে সান্ত্বনা দিয়ে এই মর্মে চিঠি লিখলেন যে, জয়ানন্দ যেন নিজেকে দেবতার পায়ে সঁপে দেন, তাহলে সে তাঁর সকল যন্ত্রণা ভুলবে। জয়ানন্দ চিঠি পেয়ে মন্দির-অভিমুখে ছুটলেন। মন্দিরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। চন্দ্রাবতী শিবপুজোয় বিভোর হয়ে আছেন। জয়ানন্দ পাগলের মতো চন্দ্রাবতীকে ডেকে চললেন, দরজা কিন্তু খুলল না। জয়ানন্দ তখন সন্ধ্যামালতীর রস নিংড়ে, দরজার কপাটে কবিতা লিখলেন। তারপর সেখান থেকে তিনি নদীর দিকে চলে গেলেন। পূজা শেষ করে চন্দ্রাবতী দরজা খুলে বাইরে এলেন। যখন তিনি দরজা বন্ধ করবেন, তখন সেই কবিতা তাঁর চোখে পড়ল। কবিতা পড়ে তিনি বুঝলেন জয়ানন্দ মন্দিরে এসেছিলেন এবং তাঁর আসায় মন্দির অপবিত্র হয়েছে। চন্দ্রাবতী তখন জল আনতে নদীর ঘাটে গেলেন এবং সেখানে গিয়ে দেখলেন জয়ানন্দের নিথর দেহটা পড়ে রয়েছে। এরপরে চন্দ্রাবতী একেবারে ভেঙে পড়লেন। এক গভীর বিষাদের ছাপ তাঁর মন জুড়ে নেমে এল। এভাবেই একদিন দুঃখজর্জরিত মন নিয়ে শিবপূজা করতে করতে চন্দ্রাবতী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। পড়ে থাকল তাঁর লেখা রামায়ণ-এর অসম্পূর্ণ পাতা। কিন্তু চন্দ্রাবতী এখনও হারিয়ে যাননি। মানুষের মনে আজও তিনি বেঁচে আছেন। এখনও কান পাতলে পূর্ব ময়মনসিংহের সর্বত্র তাঁর গান শোনা যায়। তাঁর জীবনী-লেখক চন্দ্রকুমার দে বলেছেন, শ্রাবণের মেঘভরা আকশতলে ভরা নদীতে যখন বাইকগণ সাঁজের নৌকা সারি দিয়া বাহিয়া যায়, তখন শুনি সেই চন্দ্রাবতীর গান, বিবাহে কুলকামিনীগণ নববরবধূকে স্নান করাইতে জলভরণে যাইতেছেসেই চন্দ্রাবতীর গান, তারপর স্নানের সঙ্গীত, ক্ষৌরকার বরকে কামাইবে তাহার সঙ্গীত, বরবধূর পাশাখেলা তার সঙ্গীত, সে কতরকম।

(ক্রমশ…)

 

 

 

 

 
 
top