নতুন আলো

 

পর্ব ১৪

কুষ্ঠিয়ার স্টেশনমাস্টার একজন আইরিশ সাহেবনাম মি. ডি ভদ্রলোকের একটা পা কাঠের মুখভর্তি খোঁচাখোঁচা দাড়ি ভারি আমুদে মানুষ জমিদার রবীন্দ্রনাথের বেজায় ভক্ত এক গ্রীষ্মের সকালে চট্টগ্রাম মেল থেকে সস্ত্রীক জগদীশচন্দ্র যখন কুষ্ঠিয়া স্টেশনে নামলেন তখন জনমানুষ বেশি নেই রোদ চড়েনি ঠান্ডা, মিঠে বাতাস বইছে ছোট্ট স্টেশনের বেষ্টনীর বাইরে থেকে উদার প্রকৃতি উঁকিঝুঁকি মারছে জগদীশ মুগ্ধ দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে বললেন, বলা, কলকাতার সাথে কত তফাত দেখেছ ? এখানে এলে মনটা অন্যরকম হয়ে যায়

অবলা সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়লেন সত্যিই শিলাইদহের বিস্তৃত আকাশ, উন্মুক্ত নদী, সাদা বালুর চরএর আকর্ষণই আলাদা

. বোস আই প্রিজিউম?কাঠের পা ঠকঠক করতে করতে মি. ডি এগিয়ে আসছেন জগদীশকে চেনেন তিনি মুখে একগাল হাসি অবলাকে দেখে টুপি খুলে অভিবাদন করলেন

হা, ওয়েলকাম টু আওয়ার পার্টস

নাইস ওয়েদার

য়েস ড. বোস বাট ইট ওন্ট বি সো নাইস ওয়ান্স দা সান রাইজেস এ বিট মোর দেন ইট ক্যান বিকাম কোয়াইট হট অ্যান্ড স্টাফি গোয়িং টু দা পোয়েটস প্লেস?

য়েস

গ্রেট ম্যান! গ্রেট ম্যান! অ্যান্ড হাউ হ্যান্ডসাম! লুকস লাইক অ্যান ইয়াং ক্রাইস্ট!

ট্রেন থেকে মালপত্র কুলিরা নামিয়েছে দুটো ট্রাঙ্ক, একটা হোল্ডঅল দিন তিনচারেক থাকবেন জগদীশরা অবলা আবার কম লাগেজে চলতে পারেন না সংক্ষিপ্ত ভ্রমণেও বিস্তর বোঝার সৃষ্টি হয় এ নিয়ে জগদীশচন্দ্র নিত্য অনুযোগ করেন

মি. ডি-র সঙ্গে কথা বলতে বলতে জগদীশ ও অবলা উভয়েরই মুখ প্রসন্ন হয়ে উঠল। প্রসন্নের দর্শন পাওয়া গেছে। শিলাইদহ কুঠিবাড়ির ভৃত্য প্রসন্ন। মিশকালো গায়ের রঙ। পুরু গোঁফ । সদাহাস্যময় মুখ। রবীন্দ্রনাথের পাঠানো জুড়িগাড়ি থেকে নেমে প্রসন্ন ঢিপ ঢিপ করে প্রণাম ঠুকল। বলল, লেন, চলেন, কর্তামশাই আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছেন

ডি-কে বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে, কুলির মাথায় মালপত্র চাপিয়ে, প্রসন্নর অনুবর্তী হয়ে সস্ত্রীক জগদীশচন্দ্র জুড়িগাড়িতে চাপলেন। টগবগে ঘোড়াদুটো গ্রাম্য পথ দিয়ে ধুলো উড়িয়ে ছুটতে লাগল। গ্রীষ্মে ক্ষীণসলিলা গোরাই নদীর পাশ দিয়ে পথ। একদৃষ্টে সে দিকে চেয়ে রইলেন জগদীশ ।

প্রসন্ন বলল, আর কী দেখছেন, হুজুর ? আসবেন বর্ষাকালে। এই নদীই ফুলে ফেঁপে তখন কী হয়ে যায়! কর্তামশাই তো সে সময় গোরাইয়ে বজরা চেপে ঘুরে বেড়ান

র্ষায় রবি এই নদীতে ঘুরে বেড়ায়?

নার খেয়াল! কত বারণ করি! শুধু গোরাই কেন, কর্তামশাই তো বর্ষার পদ্মায় বোটে চড়ে পর্যন্ত ঘোরেন! ওনার ভয়ডর নেই

শিলাইদহে ঢুকে প্রসন্ন দ্রষ্টব্য জায়গাগুলো চেনাতে লাগল

ই দেখেন, হুজুর, হাটখোলাশিলাইদহের হাট বসে এখানে এরপর যেটা দেখছেন সেটা হল লালনচন্দ্র নন্দীর গোলা তার পরেপরেই এই মন্দিরটাকে দেখুন, হুজুর গোপীনাথদেবের মন্দির রাজা সীতারাম রায়ের আমলে তৈরি

জগদীশ বললেন, শ্চর্য!

শ্চর্য কেন, হুজুর?

বলা তোমার রবির দুই বিঘা জমি কবিতাটা মুখস্ত আছে?

কে?

নে করে দ্যাখো, বেচারা উপেন বাড়ি ফিরছে, রবি বর্ণনা দিচ্ছে,

রাখি হাটখোলা, নন্দীর গোলা, মন্দির করি পাছে

তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে আমার বাড়ির কাছে

তো শিলাইদহেরই ডেসক্রিপশন দিচ্ছে মনে হচ্ছে আচ্ছা, প্রসন্ন, এখানে উপেন বলে কোন লোক থাকত?

তা তো জানি না, হুজুর তবে যদু দত্ত বলে একটা গরিব লোক ছিল বটে গুরুচরণ অধিকারী বলে এখানকার এক দুষ্টু জোতদার তাকে নাজেহাল করে ভিটেমাটিছাড়া করেছিল শুনেছি কর্তামশাই তো সে ঘটনা নিয়ে কবিতাও লিখেছেন

জগদীশ বললেন, বুঝেছি জুড়িগাড়ির জানালা দিয়ে স্বপ্নাচ্ছন্ন চোখে বাইরে তাকিয়ে আছেন তিনি বিড়বিড় করে আবৃত্তি করছেন:

নমো নমো নমঃ সুন্দরী মম জননী জন্মভূমি !

গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ সমীর, জীবন জুড়ালে তুমি

অবারিত মাঠ, গগন ললাট, চুমে তব পদধূলি,

ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলি

জগদীশচন্দ্রের চটকা অবশ্য অচিরেই ভেঙে গেল গাড়ি শিলাইদহের কুঠিবাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে চারপাশে বিস্তৃত গোলাপবাগান মধ্যে বৃক্ষবাটিকার মতো কুঠিবাড়িটা দেখা যাচ্ছে চড়চড়ে রোদ উঠেছে আর কুঠিবাড়ির দুয়ারে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তাকে চিনতেও ভুল হওয়ার কথা নয় অনিন্দ্যকান্তি, শালপ্রাংশু পুরুষ গোঁফদাড়ির ফাঁক দিয়ে মুচকিমুচকি হাসছেন

জগদীশ ও অবলা নামতে তিনি এগিয়ে এলেন অবলাকে ছোট্ট নমস্কার করে জগদীশকে বুকে টেনে নিলেন প্রগাঢ় আলিঙ্গনে বাঁধা পড়লেন দুই বন্ধু কবি বললেন, স্বাগতম! সুস্বাগতম! এতদিনে তবে আসবার সময় হল?

বেশ কিছুদিন পর দুই বন্ধুর আবার মিলন হয়েছে একজন কবি, অন্যজন বিজ্ঞানী। শিলাইদহের কুঠিবাড়ির দোতলায় আরামকেদারায় বসেছেন দুজনে।

রবীন্দ্রনাথ ও জগদীশচন্দ্র বছর কয়েক আগেও পরস্পরকে চিনতেন না। এখন তাঁরা হয়ে উঠেছেন আত্মার আত্মীয়। রবীন্দ্রনাথের কাব্যপ্রতিভা জগদীশকে মুগ্ধ করে। জগদীশের বৈজ্ঞানিক প্রতিভায় অনুপ্রাণিত হন রবীন্দ্রনাথ। অবশ্য সবসময়ই যে উচ্চ ভাব বিনিময় হয় তাঁদের মধ্যে, তা নয়। নির্দোষ পরচর্চাও করেন দুজনে।

রবীন্দ্রনাথ জিজ্ঞেস করলেন, নিবেদিতার খবর কী? উনি তো শুনছি আমেরিকায় আছেন?

ধূমায়িত দার্জিলিং চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে জগদীশ বললেন, র বলবেন না। আমার কাছে আমেরিকা থেকে বিপিন পালের চিঠি এসেছে

বিপিন পাল?

হ্যাঁ। উনি তো এখন আমেরিকায়। মিসেস সারা বুলের বাড়িতে অতিথি। নিবেদিতাও একই বাড়িতে আছেন

তাই নাকি? অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে না?

সেই বাড়িতে এক মিটিংয়ে নিবেদিতা জাতিভেদের মাহাত্ম্য নিয়ে বক্তৃতা করছিলেন। আমাদের পালমশাই চুপচাপ বসে শুনছিলেন। হঠাৎ নিবেদিতা নাকি তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেন, আমি জানি এই মিটিংয়ে এমন একজন আছেন, যিনি জাতিভেদ মানেন না। সনাতন ধর্মের ওপর যার আস্থা নেই

বিপিনবাবুর উদ্দেশ্যেই বলছিলেন?

বশ্যই। নিবেদিতা তো বরাবরই মনে করেন যে, ব্রাহ্মরা জাতিভেদ মানে না। স্বামী বিবেকানন্দকে যথেষ্ট ভক্তিশ্রদ্ধাও করে না। আর ওই মিটিংয়ে ব্রাহ্ম বলতে তো ছিলেন শুধু বিপিনবাবু!

তারপর?

বুঝতেই পারছেন, নিবেদিতা ওরকম রণং দেহি বলে চ্যালেঞ্জ করছেন, তা বেচারা বিপিনবাবু কী আর করবেন–মিন মিন করে বললেন যে, জাতিভেদের অনেক সদ্গুণ থাকলেও অসুবিধাও আছে কিছু

সুবিধার কথা বললেন?

হ্যাঁ। উনি বললেন যে, ইট কিপস ডাউন মেন অফ জিনিয়াস। উদাহরণস্বরূপ বললেন যে, স্বামী বিবেকানন্দ নিজে কায়স্থজাতিভেদ থাকলে, ব্রাহ্মণদের আধিপত্য থাকলে ওনার এত খ্যাতি বা প্রচার হত না!

রবীন্দ্রনাথ অট্টহাস্য করে উঠলেন, টে ! নিবেদিতাকে এই কথা?

জগদীশচন্দ্রও দুলে দুলে হাসতে লাগলেন, ভাবতে পারেন! স্বামীজিকে নিয়ে এত বড়ো কথা? নিবেদিতা তো রেগে আগুন, তেলে বেগুন! পটকার মতো ফুটতে শুরু করলেন! সে এক সিন, মশাই!

তারপর কী হল?

নিবেদিতাকে তো জানেন। ভোলাটাইল মহিলা, মশাই। বিপিনবাবুর তো খুবই দুরবস্থা। চুপ করে বসে নিবেদিতার বাক্যবাণ হজম করছেন। শেষে নিবেদিতা গভীর ঘৃণার সঙ্গে বললেন, আপনারা ব্রাহ্মরা না ঘরকা, না ঘাটকা! না হিন্দু, না খ্রিস্টান! নাইদার ফিশ, নর ফ্লেশ! এইভাবে পুরো ঝগড়াটা মিটল

বিপিনবাবু এ সব আপনাকে লিখে জানিয়েছেন?

হ্যাঁ। খুব দুঃখ করেছেন। তবে আমি ওনাকে লিখলাম যে, নিবেদিতাকে ভুল বুঝবেন না। একটু রগচটা, ভোলাটাইল হলেও নিবেদিতার মনটা খুব ভালো

হ্যাঁ, মনটা দরাজ। নরেনের ওপর ভক্তিটাও অকৃত্রিম। অসাধারণ মহিলা

জগদীশ বললেন, হ্যাঁ, সে তো বটেই। অসাধারণ মহিলা নিঃসন্দেহে। আর আমার কত উপকার যে উনি করেছেন, সে তো মুখে বলা যায় না

নি তো বোধহয় আপনার গবেষণাপত্র লেখার ব্যাপারেও সাহায্য করেন?

ঠি, রবিবাবু! আমার ব্যাপার কী জানেন? আমি এক্সপেরিমেন্ট করে আনন্দ পাই। তখন মনে হয় অন্য কোনো জগতে চলে গেছিকিন্তু শুধু এক্সপেরিমেন্ট করে বসে থাকলে তো চলবে না। সেটা তো লিখতে হবে, পাবলিশ করতে হবে? এ ব্যাপারে নিবেদিতা একজন অ্যাসেট। ওনার ভাষার ওপর দখল অসাধারণ এবং সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করেন

কটা ব্যাপার অদ্ভুত মনে হয়, জগদীশবাবু। এত শিক্ষিত, এত অ্যাকমপ্লিশড মহিলা, উনি এত কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন কেন? জাতিভেদের মাহাত্ম্য প্রচার করছেন? মা কালীর জয় গাইছেন?

জগদীশচন্দ্র উত্তেজিত হয়ে পড়লেন, ঠি! ঠিক! রবিবাবুরামমোহন আমাদের মধ্যে যুক্তিবাদ বা র‍্যাশনালিজমের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিদ্যাসাগরও তাইবঙ্কিমও অ্যাট লিস্ট প্রথম দিকে তাই। কিন্তু কেশব সেন যবে থেকে নাচগান শুরু করলেন, তবে থেকেই যুক্তিকে হটিয়ে ভক্তি আমাদের জীবনে আসন পাতছে

ব্যাপারে রামকৃষ্ণ আর তার চ্যালাদের অবদান তো কিছ কম নয়। মহেন্দ্রলাল সরকার মশাইয়ের একটা কথা মনে আসছে

কী কথা?

নিবেদিতা যখন অ্যালবার্ট হলে কালীর মাহাত্ম্য প্রচার করেন, মহেন্দ্রবাবু সে সভায় ছিলেন। আমি যাইনি। মহেন্দ্রবাবু পরে আমায় বলেছিলেন, রবিবাবু, এতদিন কালী কালো ছিল তাই রক্ষে! এবার এই সাদা কালীকে ঠেকাবেন কী করে?

মুশকিল হল, রবিবাবু, নব্যহিন্দুরা নরেনের মধ্যে এমন এক বক্তাকে পেয়েছে, যে বাগ্মিতার তোড়ে সবকিছু ভাসিয়ে দিতে পারে। ওদের তত্ত্বের জোরটাও কম নয়। আমাদের ব্রাহ্মদের মধ্যে সেরকম নেতা কোথায়? বক্তা কোথায়?

রবীন্দ্রনাথ চুপ করে রইলেন নব্যহিন্দুদের প্রবল অভিঘাতে ব্রাহ্মরা পিছু হটছেন। আদি ব্রাহ্মসমাজ তো দূরের কথা, নববিধান বা সাধারণ ব্রাহ্মসমাজেও এখন তরুণদের ভিড় নেই। শিক্ষিত, বাঙালি যুবকদের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিষ্ঠাই এখন অভ্রভেদী। ব্রাহ্ম আন্দোলনে স্পষ্টই এখন ভাঁটার টান।

ম্লান হাসলেন রবীন্দ্রনাথ, হিন্দুধর্মটা এক আশ্চর্য বস্তু, জগদীশবাবুএ ধর্ম জ্ঞানীকেও মানে, আবার মূঢ়কেও মানে! বৈদান্তিকরা হিন্দু আবার মূর্তিপূজকরাও হিন্দু! এমনকী চার্বাকপন্থী নাস্তিকদেরও হিন্দু হতে বাধা নেই

টা কি আদৌ কোনো ধর্ম, রবিবাবু?

ঠি! একে আপনি কনভেনশনাল ধর্ম বলবেন কী করে? সিন্ধুনদের ওপারের বাসিন্দাদের পারসিকরা হিন্দু বলত -কে ঠিক করে উচ্চারণ করতে পারত না তারা এ তো আদতে কোনো ধর্মের নাম নয়, জাতির নাম ভারতীয় উপমহাদেশে যে জাতি বাস করে তারাই হিন্দু, জগদীশবাবু

পনার এই উদার ব্যাখ্যানুসারে তাহলে ব্রাহ্মরাও হিন্দু?

বশ্যই। ব্রাহ্মরা হিন্দুধর্মের একটা শাখা ছাড়া কিছু নয়, জগদীশবাবু। বিশাল হিন্দু মহাসাগরে ব্রাহ্মরা একটা শাখানদীর মতো এসে পড়েছে

জগদীশচন্দ্র অট্টহাস্য করে উঠলেন, পনার এই বক্তব্য সাধারণ ব্রাহ্মসমাজে গিয়ে বলে আসুন, রবিবাবু! দেখুন না তারা কী বলে!

রবীন্দ্রনাথও হাসলেন, না, এখন ব্রাহ্মসমাজে এসব কথা বললে ঢিল-পাটকেল খেতে হবে। তবে আমার কী মনে হয় জানেন, জগদীশবাবু?

কী?

জ থেকে সত্তর, আশি বছর পর যখন আমি, আপনি কেউ থাকব না, তখন ব্রাহ্মধর্ম হিন্দুধর্মের সাথে মিশে গিয়ে তার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব হারাবে। ঠিক যেমন বৌদ্ধ ধর্মকে হিন্দুধর্ম একসময় গ্রাস করে নিয়েছিল। নরেনের উত্থানে তারই সঙ্কেত দেখছি আমি

আরামকেদারায় দীর্ঘ দেহ মেলে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ স্বপ্নাচ্ছন্ন চোখে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইলেন। চুপ করে রইলেন জগদীশচন্দ্র। তাঁদের যুগল নীরবতা ভঙ্গ হল প্রসন্নর আহবানে, চলেন, চলেন, গিন্নিমা জলখাবার সাজিয়ে বসে রয়েছেন।

(ক্রমশ…)

 
 
top