নতুন আলো

 

বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর লেখার টেবিলে অত্যন্ত বিরসবদনে বসে ছিলেন। শ্যামবর্ণ দোহারা চেহারা, শখ করে কালো গোঁফও রেখেছেন। সকালের ডাকে একটা চিঠি এসেছে। লেফাফাদুরস্ত। ওপরে সরকারি শীলমোহর। শিক্ষাবিভাগের ডিরেক্টরের চিঠি।

কিন্তু কেন? এক অভাজন বিজ্ঞানীর ওপর হঠাৎ শিক্ষাবিভাগের ডিরেক্টরের এই কৃপাকটাক্ষ কেন?

স্ত্রী অবলা দার্জিলিং-এর চা প্রস্তুত করছেন। পেয়ালা থেকে ভুরভুরে সুগন্ধ আসছে। চুমুক দিতে দিতে চিঠিটা খুলেছিলেন জগদীশচন্দ্র । ধীরে ধীরে পড়ে হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করছিলেন তিনি:

I am informed you had an interview with the Lt. Governor and had asked to be deputed to the Paris Exhibition to attend a meeting of European Scientists. May I ask you to inform me of the reasons for making this request to His Honour ?

 

মে আই আস্ক ইউ টু ইনফর্ম মি অফ দ্য রিজন্স ফর মেকিং দিস রিকোয়েস্ট টু হিজ অনার? মহামহিম লাটসাহেবের কাছে এই অনুরোধ আপনি কেন করেছেনকারণ জানতে পারি কি?

শিক্ষাবিভাগের ডিরেক্টরকে চেনেন জগদীশচন্দ্র । একজন প্রকৃত জন বৃষ। অা রিয়্যাল জন বুল। প্রকাণ্ড চেহারা, পরিপূর্ণ উদর। লাল মুখ। কথা যখন বলেন তখন মুখ থেকে বন্দুকের গুলির মতো বিদেশি বুলি নিক্ষিপ্ত হয়। বন্ধু রবি থাকলে বলত, মটর কড়াই মিশায়ে কাঁকরে চিবাইল যেন দাঁতে! রবির কথা মনে পড়তে দুঃখের মধ্যেও জগদীশের মুখে খানিক সুখের হাসি ফুটে উঠল। রবি এই চিঠিটা দেখলে কী বলত?

তিনি জগদীশচন্দ্র, একজন বিজ্ঞানী। নিজে জানেন তাঁর সমান বিজ্ঞানী ভূভারতে তো নেইই, এশিয়াতেও নেই, খোদ বিলেতেও আছে কিনা সন্দেহ। একের পর এক আবিষ্কার তিনি সামান্য উপকরণে, অর্থকৃচ্ছতার মধ্যে করে চলেছেন। সেই আবিষ্কার প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক জার্নালে। সেই সুবাদেই এসেছে প্যারিসের বিজ্ঞান কংগ্রেসে প্রবন্ধ পাঠ করার আমন্ত্রণ—পরাধীন দেশের বাঙালি বিজ্ঞানীর কাছে এক দুর্লভ সুযোগ ও সম্মান।

সব ইংরেজ রাজপুরুষ সমান নন। বর্ণবিদ্বেষী এবং সাম্রাজ্যবাদী শাসককুলের মধ্যেও দু-একজন সরলস্বভাব, সরলমনা মানুষ আছেন। ছোটোলাট স্যার জন উডবার্ন এরকমই একজন। বাঙালিদের মধ্যেও উনি বিশেষ সমাদর পান আরেকটা কারণে। দু-তিন বছর আগে যখন সারা ভারতে প্লেগ মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন প্লেগ দমনের নামে পুলিশ সর্বত্র নির্বিচারে অত্যাচার শুরু করে। মহারাষ্ট্রে এ নিয়ে খুনোখুনি পর্যন্ত শুরু হয়। চাপেকার ভাইরা দুজন ইংরেজ রাজপুরুষ, র‍্যান্ড ও এয়ারস্টকে হত্যা করে। জন উডবার্নের অপেক্ষাকৃত উদারনীতির জন্যই প্লেগ দমনের নামে কলকাতা তথা বাংলায় সেভাবে বাড়াবাড়ি হয়নি। সেই উডবার্ন জগদীশের গুণগ্রাহী এবং গত মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতেই জগদীশচন্দ্র বেলডেভিয়ারে গিয়েছিলেন।

বেলডেভিয়ারের সুরম্য প্রাসাদ এবং বিস্তৃত প্রমোদোদ্যানে আগে কখনও আসেননি জগদীশ। মুগ্ধ চোখে দেখতে দেখতে সেই মর্মরনির্মিত প্রাসাদের সিঁড়ি বেয়ে উঠেছিলেন তিনি। পরে বিবিধ আর্দালি এবং ভৃত্যবাহিত হয়ে পৌঁছেছিলেন অভ্যন্তরের সেই একান্ত কক্ষে, যেখানে ছোটোলাট প্রতীক্ষারত। উডবার্ন ছোটখাটো মানুষ। ফরসা, লাল মুখে বুদ্ধির দীপ্তি। জগদীশকে দেখে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, ওয়েলকাম, ডক্টর বোস! কাম! কাম! আই অ্যাম ইগারলি ওয়েইটিং ফর ইউ!

বাপ রে! স্বয়ং ছোটোলাটকে বসিয়ে রাখা!

উডবার্নের প্রসারিত দক্ষিণ হস্তের করমর্দন উপভোগ করতে করতে সোফায় গা এলিয়ে দিয়েছিলেন জগদীশ।

লাইক টু হ্যাভ টি? কফি?

থ্যাংকস। টি প্লিজ।

উডবার্নের করতালিতে আবির্ভূত হয়েছিল উর্দিপরা ভৃত্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই রুপোর টি-পটে সুগন্ধি, ধূমায়িত দার্জিলিং চা উপস্থিত। চুমুক দিতে দিতে বিশ্রামকক্ষে অলস বিশ্রম্ভালাপ শুরু হয়েছিল। বসন্ত আসন্ন, খোলা জানালা দিয়ে চ্যুত আমের মুকুলের গন্ধ আসছে। সে দিকে তাকিয়ে ছোটোলাট বললেন, ওয়েল, ডক্টর বোস, হোয়াট ইজ দ্য নিউয়েস্ট টপিক অফ ইয়োর রিসার্চ?

জগদীশ গলা খাঁকরে বলেছিলেন, আই অ্যাম প্রেজেন্টলি রিসার্চিং দ্য বর্ডারল্যান্ড বিট্যুইন দ্য লিভিং অ্যান্ড দ্য নন-লিভিং।

সো ইউ হ্যাভ অ্যাবানডন্ড ইয়োর রিসার্চ অন রেডিও ওয়েভস?

নট কোয়াইট। বাট হোয়াইল রিসার্চিং দ্য প্রপারটিজ অফ মাই কোহেরার, আই স্টাম্বল্ড অ্যাক্রস সাম অ্যাস্টাউন্ডিং ফাইন্ডিংস।

ফর এগজাম্পল?

উডবার্নের কথা শেষ হতে না-হতেই ঘেউ ঘেউ করতে করতে ঘরে ঢুকেছিল ছোটোলাটের বুল টেরিয়ার। সন্দেহভাজন অতিথি জগদীশকে শুঁকতে আরম্ভ করেছিল সে।

পপি! পপি! ডোন্ট বদার ডক্টর বোস। হি ইজ অা নাইস ম্যান।

উডবার্নের আশ্বাসবাণীতে তাঁর সামনে লেজ নাড়ছিল তাঁর পোষ্যটি। চাটছিল তাঁর হাত। ছোটোলাট সস্নেহে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন।

জগদীশ বলেছিলেন, অনারেবেল লেফটেন্যান্ট গভর্নর, দেয়ার ইজ নো ডাউট দ্যাট ইয়োর পেট পপি ইজ লিভিং অ্যান্ড দ্যাট দ্য পোকার ইন দ্য ফায়ারপ্লেস ইজ ইনার্ট অ্যান্ড নন-লিভিং, ইজন্ট ইট?

ক্যান দেয়ার বি এনি কনফিউশন অন দ্যাট স্কোর, প্রোফেসর?

হোয়াট মেকস পপি লিভিং?

হোয়াই, হি ক্রাইজ ইন পেইন, ডিম্যান্ডস ফুড, বিকামস ফ্যাটিগড আফটার এক্সারসাইজ অর এক্সজারশন অ্যান্ড জেনারেটস পাপিজ।

এগজ্যাক্টলি। উড ইউ বিলিভ দ্যাট দ্য আয়রন পোকার গ্রেসিং ইয়োর ফায়ারপ্লেস ক্যান বিকাম ফ্যাটিগড টু?

হোয়াট বুলশিট! বলতে বলতে সামলে নিয়েছিলেন স্যার জন উডবার্ন, হু হ্যাজ হার্ড সাচ অ্যান আউটল্যান্ডিশ থিং?

জগদীশ রহস্যময় হেসেছিলেন, দিস ইজ হোয়াট আই হ্যাভ ফাউন্ড রিসেন্টলি, স্যার উডবার্ন, ইন মাই রিসার্চ। মেটালস টু এক্সিবিট ফ্যাটিগ।

দ্যাটস এক্সট্রাঅর্ডিনারি! প্লিজ এক্সপ্লেইন।

জগদীশচন্দ্র তখন সংক্ষেপে তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণার বিষয়বস্তু খুলে বলেছিলেন। ধাতুচূর্ণ সচরাচর বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিবাহী নয়। কিন্তু ধাতুচূর্ণের ওপর তড়িৎ তরঙ্গের ধাক্কা পড়লে তা বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে ওঠে। এই বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করেই কোহেরার যন্ত্রের উদ্ভাবন ঘটেছে। জগদীশচন্দ্র দেখলেন যে, এভাবে হয়তো কিছু ধাতুর পরিবাহী ক্ষমতা বাড়ে, কিন্তু অনেক ধাতুর পরিবাহী ক্ষমতা আবার কমে যায়। শুধু তাই নয়, তড়িৎ তরঙ্গের ধাক্কার প্রবলতা অনুসারে একই ধাতুর পরিবাহী ক্ষমতা বাড়ে বা কমে। ধাক্কার তারতম্য অনুসারে কখনও বেড়ে যায়, কখনও বা কমে যায়।

এই আবিষ্কারই যুগান্তকারী, কেন না এ ভাবে এ কথা কেউ আগে বলেননি। জগদীশ কিন্তু এতে থামলেন না।

তিনি দেখলেন যে, ধাতুর এই পরিবাহী শক্তি বাড়াবারও একটা সীমা আছে। পরপর বারবার ধাক্কা দিলেও যে শক্তি বাড়ানো সম্ভব হয় না, যদি বারবার আঘাতের পর আঘাত করে চলা যায়, মধ্যে যদি কোনো বিরাম না থাকে, তাহলে পরিবাহী শক্তিও একটানে তার নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বেড়ে যাবে—অনেকটা সজীব পদার্থের ধনুষ্টঙ্কার হওয়ার মতন।

এবং পরিবাহীশক্তি চরম সীমায় পৌঁছানোর পর আঘাত দিলেও জড় পদার্থের কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না। এটাই যেন তার ক্লান্তির দশা। তখন নাড়া দিলে বা গরম করলে আবার ধাতুর পরিবাহী শক্তি ফিরে আসবে।

উডবার্ন মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলেন। চোখ বিস্ময়ে ছানাবড়া। মুখ খুলে রয়েছে।

জগদীশচন্দ্র মুচকি হেসে বলেছিলেন, সাপোজ সামওয়ান পয়জন্স ইয়োর পপি!

বাই জোভ! নো ওয়ান ক্যান হ্যাভ দ্যাট অডাসিটি!

বাট ইউ ওন্ট বি দ্যাট অ্যাংরি ইফ সামওয়ান পয়জন্স ইয়োর আয়রন পোকার?

পয়জন মাই আয়রন পোকার?! হোয়াট ডু ইউ মিন, প্রোফেসর?

আই হ্যাভ সিন ড্রাগস অ্যান্ড পয়জন্স অ্যাক্টিং অন মেটালস। সাম ড্রাগস ইনক্রিজ দেয়ার কনডাক্টিভিটি হোয়াইল আদার রিডিউস অ্যান্ড ডিপ্রেস ইট! ড্রাগস অ্যান্ড পয়জন্স ক্যান স্টিমুলেট অ্যান্ড ডিপ্রেস রেসপন্সেস ইন মেটালস।

জগদীশচন্দ্র বেলডেভিয়ারে এসেছিলেন দুপুরে, মধ্যাহ্নভোজের পর। সন্ধে ঘনিয়ে এসেছে। বাইরে সূর্য অস্ত গেছে। বাগান থেকে বাসন্তী বাতাস এসে তাঁর ঘন কালো চুল এলোমেলো করে দিচ্ছে। বাইরে একটা কোকিল একনাগাড়ে ডেকেই চলেছে। ভেতরে বিগত তিন ঘণ্টা ধরে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর বক্তব্য শুনছেন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার জন উডবার্ন।

অ্যাস্টনিশিং! ব্রিলিয়ান্ট! অ্যামেজিং! মাইন্ড বগলিং! প্রভৃতি বিস্ময়বাক্য তাঁর কণ্ঠ থেকে মাঝেমধ্যেই উৎসারিত হয়েছে।

বিদায় দেওয়ার আগে উষ্ণ করমর্দন করে তিনি বলেছিলেন, হোয়াট ইউ টেল মি বেগারস বিলিফ, ডক্টর বোস। আই ক্যান্ট ইমাজিন অ্যান ইন্ডিয়ান ওয়ার্কিং ইন দ্য ব্যাকওয়াটার্স অফ ক্যালকাটা ক্যান মেক সাচ প্রফাউন্ড ডিস্কভারিজ।

উত্তরে জগদীশ বলেছিলেন, আই হ্যাভ অা বুন টু আস্ক ফ্রম ইউ, মি লর্ড।

প্লিজ আস্ক।

জগদীশ তখন প্যারিস থেকে আগত আমন্ত্রণের চিঠিটা দেখিয়ে বলেছিলেন, আই নিড টু বি সেন্ট অন অা ডেপুটেশন টু প্যারিস, মিলর্ড। ওনলি দেন, ক্যান আই ব্রডকাস্ট মাই ডিস্কভারিজ টু দ্য ওয়ার্ল্ড।

ছোটোলাট বলেছিলেন, আই উইল ট্রাই মাই বেস্ট, প্রোফেসর বোস। বাট আলটিমেটেলি দ্য সেক্রেটারি অফ দ্য স্টেট হ্যাজ দ্য ফাইনাল সে অন দিস ইস্যু। বাট আই ওয়ান্ট টু পার্সোনালি ভিজিট ইয়োর ল্যাবরেটারি টু সি ইয়োর অ্যাস্টাউনডিং এক্সপেরিমেন্ট।

প্লিজ ডু। ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম!

হার্দিক হৃদ্যতা ও করমর্দনের মধ্যে দুজনের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার সমাপ্ত হয়েছিল। কক্ষের বাইরের আর্দালিরা ততক্ষণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ছোটোলাট সাহেব তো সচরাচর একজন সাক্ষাৎপ্রার্থীর জন্য এতটা সময় ব্যয় করেন না।

উডবার্নের করা অনুরোধের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই শিক্ষাবিভাগের ডিরেক্টরের এই উদ্ধত চিঠি।

জগদীশ চুপ করে চেয়ে রইলেন। দার্জিলিং-এর চা মুখে বিস্বাদ ঠেকছে। একজন পরাধীন দেশের সামান্য বেতনভুক কর্মচারী হিসেবে তিনি কী গৌরব আশা করতে পারেন? যে যে বিষয়ের সূত্র ধরেছিলেন, সেগুলোর তো সব পাক লেগে গেছে। কোনোদিন কি সেগুলো উদ্ধার হবে?

কী করবেন? রবিকে লিখবেন? প্রিয়বন্ধু কবিবর রবীন্দ্রনাথ, যার সঙ্গে এখন সবচেয়ে মানসিক সাযুজ্য অনুভব করেন তিনি। জগদীশ তো অলস নন, হৃদয়হীন নন। তিনি এগোতে চান, কিন্তু পথ দেখতে পান না। এক প্রবল শক্তির সঙ্গে একলা যুঝে যুঝে তিনি ক্লান্ত। অা মাইটিয়ার পাওয়ার দ্যান হিম ইজ ডিফিটিং হিজ ইনটেন্ট।

লেখার টেবিল থেকে পায়ে পায়ে জগদীশ উঠে এলেন তাঁর বইয়ের র‍্যাকের সামনে। সারি সারি বই শোভমান। বন্ধু রবীন্দ্রনাথের বইই সংখ্যায় অগ্রগণ্য। এক মিতায়তন কাব্যগ্রন্থ খুঁজেপেতে বের করলেন তিনি। পাতা উল্টোতে কষ্ট হল না, বার বার পাঠ করার ফলে অভীষ্ট পাতাটি ভাঁজ হয়ে রয়েছে।

বইটা খুলতেই সেই পরিচিত পংক্তিগুলো জগদীশের সামনে ফুটে উঠল:

 

এই শান্ত স্তব্ধ ক্ষণে

অনন্ত আকাশ হতে পশিতেছে মনে

চরম-বিশ্বাস ক্ষীণ ব্যর্থতায় লীন

জয়হীন চেষ্টার সংগীত,আশাহীন

কর্মের উদ্যমহেরিতেছি শান্তিময়

শূন্য পরিণাম

 

চমৎকার লিখেছে রবি। কিন্তু তাঁর, জগদীশের জীবনের, কথাই কি সে লিখেছে এখানে? সে জীবনেও তো একই নৈরাশ্যের সুর, সেই জয়হীন চেষ্টার সংগীত, সেই আশাহীন কর্মের উদ্যম এবং অন্তিমে সেই শান্তিময় শূন্য পরিণাম।

জগদীশের মনে পড়ল যে, কর্ণকুন্তী সংবাদ লিখতে রবীন্দ্রনাথকে প্রেরণা দিয়েছিলেন তিনিই। বলেছিলেন, রবিবাবু, কর্ণের জীবন নিয়ে কিছু লিখুন। সেই দোষগুণ মিশ্রিত অপরিপূর্ণ, অচরিতার্থ জীবন; যার জীবনে ক্ষুদ্রতা এবং মহৎ ভাবের সংগ্রাম সর্বদা প্রজ্জ্বলিত ছিল; যার পরাজয় জয়ের থেকেও মহত্তর; বেদব্যাস অপূর্ব সৃষ্টি করেছিলেন এই কর্ণ চরিত্রটা। আমার বড়ো মায়া হয়, রবিবাবু। কর্ণের ওপর আমার বড়ো মায়া হয়।

(ক্রমশ…) 

 
 
top