অরুণিমার কবিতা

 

কী হতে চায় সে জীবনে

বয়স যখন হল বত্রিশ,
তখন ভাবতে বসলো মেয়েটা—
কি হতে চায় সে জীবনে।
ততদিনে সে হয়ে গেছে—
স্ত্রী, এমনকি মা।
সাধারণ চলতি নিয়ম মতে,
তার তখন ভাবার সময়—
তার সন্তান কে সে কী বানাতে চায়;
আর সেখানে, সে কিনা ভাবতে বসলো—
নিজে কী হতে চায় !
কী করতে চায়, কি ভাবতে চায়,
তার ভাবনা কাকে বোঝাতে চায়।

এই বত্রিশ বছর ধরে, জীবন কেটে গেছে—
কেমন একটা ধরা বাঁধা ছকে।
ইচ্ছে ছিল অনেক কিছু,
তবু যেন সেই ছকটা ভাঙা হয়নি।

তবে আজ তো সে আরই ছকে বাঁধা,
ভাবছে কী করে তবে নিজের মনের কথা!

ইচ্ছে যা ছিল আগে, আগুন হয়নি এতদিন,
এখন সে জ্বলে আগুনে তাই বসে ভাবতে—
কী হতে চায়, কী করতে চায়।
ফাঁকি নেই তার নিয়মে
বাঁধা ছকের কাজে,
শুধু মনে মনে রাখে আগুন জ্বালিয়ে
পোড়ায় নিজেকে,
ফাঁকি দেয় রাতের ঘুমকে;
ভাবে, কী হতে চায় সে জীবনে।

 

সবুজ ছুঁয়ে মন

কান্না তো আর আসে না চোখে,
গাল ভেজে না জলে;
শুধু মাঝে মাঝে কষ্টদানা
কথা কিছু বলে ওঠে।

মন ভালো করে ভিতরে সবুজ—
বাইরে সাদা কাপ,
কোন মেলা থেকে যেন কিনেছিলাম
মনে পড়ে না তো আজ।

এক কাপ চা শেষ হতেই—
কাপের গল্প শেষ,
সবুজ রঙটা মন ছুঁয়েছে,
লাগছে এখন বেশ।
খুঁজে বেড়াই একতারাটার
ছেঁড়া টুকড়ো তার,
যদি পারি লাগাতে জোড়া;
থাক না কাটা দাগ।

 

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

বৃষ্টি আমায় বলেছিল,
আসবে আমার বাড়ি;
যতই অবেলা হোক না কেন—
রাখবে কথা, নইলে আড়ি।
সঙ্গে কিছু ঝুরো ফুল,
যেমন ভালোবাসি;
ঝোড়ো হাওয়া—বৃষ্টি ভেজা
গন্ধে মাতাল ভাসি।

ছাদের কোণা ভিজিয়ে দিয়ে
বলবে চলো বসি।
চোখের পাতা ভিজিয়ে বলবে—
এবার ঠোঁটে আসি?

ঝুরো ফুলের গন্ধে যদি
মাতাল হয়ে থাকি,
বলবো—বৃষ্টি আয় ঝেঁপে আয়
রাখিস না কিছু বাকি।

 
 
top