শুভদীপ দত্ত চৌধুরীর কবিতা

 

দাম্পত্য

তোমার ঘুমের পাশে জেগে আছে আমার শরীর। আমি তাকিয়ে রয়েছি তোমার শয়ন-ভঙ্গিমার দিকে। চারিদিকে গুমোট আঁধার ধারণ করেছে তোমার কস্তুরী। দ্যাখো, কী সহজে খিদে আর ঘুম পাশাপাশি থাকতে পারে, আগামী রাতের প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

 

হাত

শিশিরের শব্দে ব্যথিত কিছু জোনাকির দল

      খড়ের চালায় খোঁজে গভীর প্রপাত-

তারা হীন, তবু উজ্জ্বল

      হাতের উপরে হাত, ততোধিক হাত

জমে জমে গড়ে তোলে আলোক-শিবির।

 

অনটনে ভরে ওঠা বাড়ির উঠোন,

গৃহকোণে বসে থাকা সোমত্ত বোন,

শয্যাশায়ী মা, অভাবী-প্রাচীর,

চেয়ে থাকে রাহুলাগা ছেলেটির দিকে-

 

সেই ছেলে ছুটে যায় জোনাকির কাছে

আলো চায়। তখন দিনের আলো ফিকে।

হঠাৎ ছেলেটি দেখে,

মাটির হাড়ের নীচে জোনাকিরা

      শত শত হাত পেতে উন্মুখ হয়ে আছে

 

তিনদিনের জার্নাল

এই যে মেট্রোর ভেতরে মেয়েটি

কাছে ডেকে নিচ্ছে ছেলেটিকে

 

ছেলেটি এগিয়ে যাচ্ছে

 

মেয়েটি এবার মৃদু হাসল,

আর ছেলেটিও

তার শ্রান্ত মাথা নামিয়ে রাখছে

মেয়েটির কোলে।

 

ঘন কুয়াশার মতো

ঘুম নামছে তাদের ভেতরে,

বেজে উঠছে সোহাগী সেতার

 

তোমরা এর কী নাম দেবে, দাও।

 

ওই ছেলেটি মেয়েটিকে খুউব আদর করে

বলল: জানিস, তুই আমার অক্সিজেন!

তখন মেয়েটি: ভ্যা, তুই তাহলে হাইড্রোজেন!

 

কী আশ্চর্য তুমি, আহা, রসায়ন

অবেলায় নেমে এলে প্রেমভ্রষ্ট মিছিলশহরে

 

ছেলেটি স্বয়ং পোড়ে,

মেয়েটি তাকে পুড়তে সাহায্য করে।

 

ছেলেটি আর মেয়েটি, মুখোমুখি-

মাঝে ঝোলে রহস্যের সেতু।

 

একদিকে রোদ্দুরের স্মৃতি

অন্যদিকে কুয়াশার মিঠে খুনসুটি

 

তারা বেশ সুখে আছে।

যেহেতু স্বভাববশে এই দুই অন্ধকারখোর

রোজ রাতে এসএমএসে

বুঝে নেয় যৌথ লেনদেন

 

সম্পর্কটির রং: সুচিত্রা সেন।

 
 
top