পার্থ চৌধুরীর কবিতা

 

.

ভাবসমুদ্রে শূন্যলম্ব

অধীর হয়ে খুঁজি তো

কোন স্বরূপে শব্দব্রহ্ম

পারেন হতে পূজিত

 

কক্ষনো কি দিতেন ধরা

আমার প্রিয় আকারে

নইলে নিয়ে লেখাপড়া

বৃথাই ব্যস্ত থাকা রে

হয়তো তিনি সত্যনারাণ

নইলে মুশকিল-গুশা

দু-ই আসলে মুশকিলাসান

ভিন্ন হলেই-বা ভূষা

 

কারো আবার কথার ফাঁকে

নামটি মনে আসে না

গড বলতে থিঙ্গি ডাকে

কেমন অনায়াসে না

 

অন্তরঙ্গ জ্বলছে দেখি

আটপৌরে প্রদীপ তো

পিদুম নামে হঠাৎ একি

হৃদয়পুরে প্রদীপ্ত

 

শক্ত কথার দায়িত্ব বা

ভাগ্যে কারও ফলেছে

ব্যাঘ্র বোঝাতে হয়তো-বা  

শার্দূল সে বলেছে

 

এক অর্থে শব্দ আওয়াজ

নয়তো বর্ণ-সমষ্টি

একটাতে যদি কুচকাওয়াজ

অন্যটাতে খরোষ্ঠি

 

ভাবজলধি সন্তরণে

পায়ের নীচে পৃথিবী

যেমন পাওয়া সঙ্গোপনে

হয়েছি শব্দ-জীবী  

 

.

গুঁড়োনো চুল কপালে আধখানা

আনন ঢাকা সকালে আধখানা

সুখে থাকার অর্থ খুঁজে খুঁজে

জীবন শেষ অকালে আধখানা

 

যন্ত্র-বাহী সভ্যতা-ই সেরা এ কথা

বলে ঠকালে আধখানা

হয়তো নিমরাজি ছিলাম প্রেমে

ওপরে তার জপালে আধখানা

 

থাকি ব্যতীত-সংলাপ ভালোই

অযথা সেই বকালে আধখানা

কৃষ্টি ধীরে বদল হতে থাকে

একালে গোটা ওকালে আধখানা

 

৩.

হৃদয়েশ ডাকি নয় প্রাণাধিক

ভালোবাসা নাকি তাতে ন্যূনাধিক

 অন্তরতর জমকালো হয়

মনের মানুষ হলে ভাল হয়

পরাণের ধনও এক গল্প

প্রিয়তম আরেক বিকল্প

নাম-এ করে বড় দৌরাত্ম্য

সকলেরই বেজায় মাহাত্ম্য

একটি ভিন্ন প্রিয়মুখ নেই

তবু বলি ভালবেসে সুখ নেই

স্বস্তি খুঁজলে জোটে শঙ্কা

অনিশ্চিতের-ই জয়ডঙ্কা

সম্পর্কের ওঠাপড়া-তে

জীবনযাপন বাঁধাধরা-তে

ঢাকা যদি পড়েই মানুষটা

ডাক দিলে ফিরবে কি হুঁশ-টা

 

৪.

তৃপ্তি-ও হল তা-ও ক্ষিদে

বাঁচার অনেক অসুবিধে

অহং-এতে আমি স্থির আছি

তারা-ও অটল থাকে জিদে

গোলকের ধাঁধা লাগে সোজা

সম্পর্ক মোটে নয় সিধে

পুঙ্খ-শলাকা যা-ই ভাঙি

ফলা হয়ে প্রেম থাকে বিঁধে

সুখের ভেতরে সুখ জানি

দরশ যখন পাই নিদ-

লোভের প্রকোপ কমে গেলে

পরম চরণ পড়ে হৃদে

 

 
 
top