দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

তুমি ছিলে স্কুলে পড়া কিশোরী
লাস্ট বেঞ্চ, আমি হবু লিরিসিস্ট
একটা কিছু তো হতে পারত
ছিলাম লাজুক বড়ো, প্লেটোনিক

বুঝিনি সুযোগ আসে একবার
একবারই আসে, এসে চলে যায়
শেষবার ফেস্টেই দেখেছি
তোমাকে আলোয় স্টেজে, অপরূপ

তখনও শিখিনি আমি স্পর্ধা
শিখিনি নাচাতে কালনাগিনী
একাকী দূরের ছায়াময়তায়
আমি কি গোপনে রাত জাগিনি?

এখন বেড়েছে বাড় বড্ডো
আমিও নিজের দেশে সম্রাট
আমি যে শিকারে বেশ রপ্ত
কোনোদিন দেখাতে কি পারব?

তুমি থাক গড়ফায় এখনও
শহর ছেড়েছি আমি বহুদিন
তোমাকে নীরবে দেখি ডিপি-তে
তোমার সেপিয়া ছবি বৃষ্টির

তুমি ছিলে স্কুলে পড়া কিশোরী
এখন বয়স কত? চব্বিশ?
আগের মতোই আছ সুন্দর
আগের মতোই কথা হয় না

শুধু রাতে এসে দেখি অনলাইন
এসে দেখি তোমার ওই আপডেট
গ্লাস হাতে বসে দেখি একলা
তোমার বিয়ের বহু সেলফি

পাত্রটি টিপিকাল, ভদ্র
দেখেই বুঝতে পারি জুতসই
নিভৃতে লাইক মেরে অফলাইন
হতাম, যদি না পিং করতে

‘…কেমন আছিস, তুই বিগশট
সবকটা লেখা তোর ফার্স্টক্লাস
বলেছি আমার ওই বরকে
এ শালা আমার ছিল ক্লাসমেট

লেখ্ না আমায় নিয়ে একটা
কলকাতা ফের, তোকে খাওয়াব

কী আর লিখতে পারি, আপসোস
লেখার ভেতরে লেখা আপসোস
চাঁদের শরীরে চাঁদ, আপসোস
আমার অনাদিকাল আপসোস

সত্যি যা ভাবি যদি লিখতাম
আমার কবিতা হতে পারবে?

নিধুবনে রমণী

তোমার শরীরে বিদ্যাপতির রক্ত
প্রতিটি কামড়ে মৈথিলী ছিঁড়ে খাই
আহা নিতম্ব সন্ধ্যার মতো ভারী
ভয় করে ছুঁতে, ফের যদি পুড়ে যাই?

#

সংযত স্তন স্বপ্নের মোহে শক্ত
আলুথালু চুলে নবগুঞ্জার মালা
জ্যোৎস্নায় কাঁপে-এমনই পূর্ণিমায়
প্রতিটি কুঞ্জ অচিরেই মধুশালা

#

তোমার অধরে ব্রজবুলি হয়ে যাব
সাঁঝে বা বিহানে যখন ইচ্ছে গেয়ো
বোঝোনি কি তুমি কথা বাড়ানোর চেয়ে
ও গর্ভগৃহে আমার জিহ্বা শ্রেয় ?

#

তুলসী ও তিলে এ দেহ সমর্পিলু
তোমার পূর্বপুরুষের অনুরাগে

তোমার শরীরে বিদ্যাপতির রক্ত
আমার আশ্লেষে পদাবলি হয়ে জাগে।।

 

রেমন্ড উইলিয়ামস সাহেব হেজিমনি বলতে যা বোঝাতে চান

বাঙালি মধ্যবিত্তের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন, এরা 
মূলত কাস্টিস্ট, তদুপরি পেট্রিয়ারকাল
এরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাণী দেবে, পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে 
এক লাইনও বলবে না, বরং কলেজে পড়া ছেলেকে রোজ সকালে বলবে
কী দরকার তোর মিটিঙে মিছিলে যাওয়ার, মন দিয়ে পড়াশোনা কর্!
আর মেয়েকে প্রত্যহ সাবধান করে যাবে, ‘সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে
বাড়ি ঢোক্। দিনকাল বিশেষ ভালো নয়
বাঙালি মধ্যবিত্তের থেকে দূরত্ব মেনে চলুন
রবীন্দ্রনাথ এদের একান্ত পিউরিফায়ার। ডাল-ঝোল-অম্বল-মার্টিনি
সমস্ত কিছুর মধ্যে দু-ফোঁটা রবীন্দ্রনাথ ফেললে সব কিছু শুদ্ধ হয়ে যায়
এরা মানবতন্ত্রের ভাঁওতায় লুকিয়ে রাখবে নিজেদের হিন্দুত্ববাদী মুখ
বিরিয়ানি গিলতে গিলতে মোল্লাদের নেড়ে বলবে
পৈতে চুলকোতে চুলকোতে গায়ত্রীমন্ত্র জপের ফাঁকে
বলে থাকবে সব মানুষ সমান তবু
রিক্সাওয়ালাদের তুই-তোকারি করবে, সবজিওয়ালার সঙ্গে পাঁচটাকার দর
অন্য কেউ খিস্তি করলে তাকে বলবে বস্তির ভাষা
গাঁজা খাওয়া ছেলেমেয়েরা হয় বখাটে নয়তো আঁতেল 
এরা পরের পয়সায় স্কচ খাবে, সংযমের বড়াই করবে, লোক দেখাতে মেপে দু-পেগ
নিজেদের দারিদ্র বেচবে, সংগ্রামের বিমূর্ত ইতিহাস 
মেয়েরা সিগারেট ধরালে মাথা ঘুরিয়ে দু-বার দেখবে
তারপর বলবে দেশটাই উচ্ছন্নে গেল শালা
বাঙালি মধ্যবিত্ত আসলে যৌনতাকে ভীষণ ভয় পায় 
বাঙালি মধ্যবিত্ত সিপিএম নয়, তৃণমূল নয়, বিজেপি নয়, নকশালও নয়
এরা দেওয়ালের ইট, বাড়ির চুন সুরকির মতো 
ইউনিভারসাল, অবশ্যম্ভাবী - এরাই মিডিয়া, এরাই ইশকুল
এরাই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়,
এরাই প্রতিষ্ঠানবিরোধী প্রতিষ্ঠানের দল
এরা আপনার বাবা, আপনার মা, আপনার কাকা জ্যাঠা মাসি
এরাই আসলে ধর্ষক 
একটা ধর্ষণ আটকানো তো দূরের কথা
একটা ধর্ষণের বিরোধিতাও এরা কোনোদিন করে উঠতে পারবে না!

 

 
 
top