পিয়াস মজিদের পাঁচটি কবিতা

 

সুর

সাপের তনুময় বিষের মাদল

চন্দ্রলুণ্ঠনেও রাত্রিস্নাত

জ্যোৎস্নাহত ঝর্ণা রুদ্ধ

সন্ধ্যার ফাঁসে।

সুদূরের ওই শ্রেণিবাঁধা পাহাড়

টিলার রক্তে শোভিত আমি;

ঠাঁই দাও তোমার নাটের মণ্ডলে।

নিদ্রাসুরে জাগরণ বোবা গায়িকার

অন্ধ বনানীছায়া সমুদ্রবধিরে 

মৃত জলের মালিকায় অগ্নিগিরি

গোলাপজোয়াল কাঁধে

দাউ দাউ নীলিমা;

পরি লপ্ত সেই মন্দ্র ভূততায়

 

তাল

প্রতি খ্রিস্টে মুখর রাত

মরণের অধরা ফাঁস

বৈজয়ন্তী উড়ে;

শত রসাতলের।

তোমার সুরভি গুপ্ত

কঙ্কালের উপশিরায়।

লুপ্ত রাজার উপপত্নীরা

গোলাপজুড়ে পায়চারি করে

উদ্বাস্তু তারানায় ভেসে যায়

সব সুনিকেত মল্লার।

রক্ততরুর লতাপাতায়

ঘনিয়ে আসি আমি

উত্তর-দক্ষিণ যত

বসন্তক্ষয়ের অনন্তকল্যাণ

ধীরে সবুজে সন্ধ্যা ফুটে;

তোমার অপ্রেমময়

 

লয়

অস্ত্রের সুর

রাহুর তান

দিগন্তভাসা হ্রদ

হারানো বোনের ঢেউ;

কিন্নরীরক্তে বেজে ওঠে নহবত।

বেণিখোলা জল

সমুদ্র পড়ে থাকে

তারাগামী সব তরঙ্গমুকুট।

তোমার পায়ের পানে

নশ্বরতা, কাকাতুয়া, সুদূর

বয়ে যায় বিকেলবাহী অগ্নি

আধোমুখী ওই নিরালা চাঁদ

ডাইনিধারায় পরিরা নামে

নুপূরের অপমরণ;

শীতল-গোলাপতম দিন। 

 

মীরার ভজনভষ্ম

সোনার পাহাড় থেকে দেখা যায় জটাময় চাঁদ।

ব্রজবৃক্ষের গলায় তখন নৃমুণ্ডের মালা।

রক্তভাসানে সাত ভুবনের লতাপাতা,

সমুদ্রচুল আর রুপালি যত রূপকের ভার।

টিকলিপাড়া মেয়ে ঊর্মিজন্ম পেয়ে 

ছুটে যায় মায়ামোহনায়।

তার নাচের করাতে গলে গুপ্তপারদ।

রাত্রিপ্রহারে বেঁকে যাওয়া ভোরের কণ্ঠে

মরচে পড়া জ্যোৎস্নার ইতিকথা যত।

আর এমন হেমন্ত,

বিকেলের এমন মন্দাক্রান্তা ঢেউ

তবু দেখো, মীরা,

অগ্নিরত্নে পুড়ছে কেমন তোমার ভজন

 

কবির সময়

শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে

হেমন্তের অরণ্যে

পোস্টম্যান সেজে

বসে আছে শক্তি;

তবু ভাত নয়

কালের চিঠিতে

শুধু পাথরের অক্ষরে

উত্তর আসে।

 
 
top