সার্ধশত জন্মবর্ষে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়

 

যে কোন সাহিত্যিককে বিচার করার অন্যতম মাপকাঠি হল তাঁর রচিত সাহিত্য, সাহিত্যে প্রকাশিত তাঁর জীবনদৃষ্টি ও পাঠকসমাজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। কিন্তু সেই সাহিত্যিক যদি আবার সম্পাদকও হন তাহলে তাঁর সৃষ্টি কর্মের বিচারের কিছু পরিবর্তন করা উচিৎ বলে মনে হয়। তাঁর পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন লেখক-লেখিকাদের রচনার গুণাগুণ বিচারের মধ্যে দিয়ে না কি পত্রিকাটিতে প্রকাশিত তাঁর বিভিন্ন রচনার মধ্যে ফুটে ওঠা তাঁর জীবনদৃষ্টির মধ্যে দিয়ে তাঁকে বিচার করা? এখানে মূলত সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গীরই প্রাধান্য দেখতে পাওয়া যায়। তাহলে সম্পাদকের ভূমিকা কি? সম্পাদক বিভিন্ন লেখকদের দিয়ে ভালো লেখা লিখিয়ে নেবেন। এটা তাঁর কৃতিত্ব। কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিচার কি এই কৃতিত্বের সাহায্যে সম্ভব? আমাদের মনে হয় ভালো সম্পাদকের ভূমিকা অনেকটা ভালো চিত্রপরিচালকের মতো। ভালো চিত্রপরিচালক তবেই ভালো যখন তিনি তথাকথিত সাধারণ মানের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দিয়ে উচ্চমানের অভিনয় করিয়ে নিতে পারেন। অথবা এটাও হতে পারে তবেই তিনি বিশিষ্ট পরিচালক যদি তিনি সমকালীন বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়কে তাঁর সিনেমার বাহন করতে পারেন ও সাফল্যের সঙ্গে তাকে চিত্রায়িত করতে পারেন। পত্রিকা সম্পাদকের ভূমিকাটাও তাই, একদিকে তিনি যেমন প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের দিয়ে ভালো লেখা লিখিয়ে নিতে পারেন তেমনি সমসাময়িক বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে পত্রিকার মাধ্যমে জনমত গঠন করতে পারেন।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০তম জন্ম বছরে তাঁকে বিচার করার ক্ষেত্রেও আমাদের এই দুটি দিকের কথা মাথায় রাখতে হবে। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব বা বর্তমান যুগেও তাঁর প্রাসঙ্গিকতা বিচার করতে গেলে একদিকে যেমন তাঁর সাহিত্যকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন তেমনি বিভিন্ন লেখকদের সাথে তাঁর সম্পর্ক বা তাঁর পত্রিকায় সমসাময়িক বিষয় কিভাবে উঠে এসেছে সেটাও বিচার করা প্রয়োজন। কারণ এই সব কিছু নিয়েই গড়ে ওঠে পত্রিকার মান। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাসিক পত্রিকার, বাংলা ও ইংরাজী উভয়ই, সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘকাল শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, যোগাযোগ ছিল ব্রাহ্মসমাজের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে বা ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গেও একসময়ে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সব কিছুর মধ্যে পত্রিকার সম্পাদনা তাঁর কাছে শুধু পেশা ছিল না, ছিল নেশা। সেই জন্য খুব সহজেই এলাহাবাদের কায়স্থ পাঠশালার অধ্যক্ষের পদ থেকে সামান্য কারণে ইস্তফা দিয়ে পরিবার নিয়ে এক অজানা ভবিষ্যতের পথে তিনি হাঁটতে পারলেন। প্রবাসী পত্রিকার সম্পাদক রূপে বা তার আগে দাসীপ্রদীপ পত্রিকার সম্পাদক রূপে তাঁর সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন প্রখ্যাত ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়েছিল। কখনও কখনও এই ঘনিষ্ঠতা পারিবারিক আত্মীয়তায় পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল। যার সুফল আমরা দেখতে পাই প্রবাসীর ছত্রে ছত্রে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা এই পর্যায়ে ছিল যে তিনি বহুকাল সস্ত্রীক সপুত্র শান্তিনিকেতনে অবস্থান করেন, ছোট ছেলে মুলুকে সেখানে শিক্ষালাভের জন্যে ভর্ত্তি করেন এবং রবীন্দ্রনাথের অনুরোধে ১৯২৫ সালে বিশ্বভারতীর অবৈতনিক অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন। আর বিপরীতে রবীন্দ্রনাথও আজীবন এই উদার কর্মযোগী মানুষটির সাহচর্য ও সান্নিধ্য উপভোগ করে গেছেন। সবুজ পত্র পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, সুদীর্ঘকাল আমার ব্রত যাপনে আমি কেবল যে অর্থহীন ছিলেম তা নয়, সঙ্গহীন ছিলেম; ভিতরে বাহিরে বিরুদ্ধতা ও অভাবের সঙ্গে সম্পূর্ণ একা সংগ্রাম করে এসেছি। এমন অবস্থায় যাঁরা আমার এই দুর্গম পথে ক্ষণে ক্ষণে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরা আমার রক্তসম্পর্কগত আত্মীয়ের চেয়ে কম আত্মীয় নন, বরঞ্চ বেশি। বস্তুত আমার জীবনের লক্ষ্যকে সাহায্য করার সঙ্গে সঙ্গেই আমার দৈহিক জীবনকেও সেই পরিমাণে আশ্রয় দান করেছেন। সেই আমার স্বল্প সংখ্যক কর্ম্ম সুহৃদের মধ্যে প্রবাসী সম্পাদক অন্যতম। আজ আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। কিন্তু আরো বহু সাধারণ সম্পর্কের মতো এই সম্পর্কেও চিড় ধরে। প্রবাসী পত্রিকাকে আমরা রবীন্দ্রকেন্দ্রিক পত্রিকা বলতে পারি, একসময় রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্মের প্রধান ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছিল প্রবাসী। কিন্তু বৈচিত্র্য পিয়াসী রবীন্দ্রনাথ নতুন পত্রিকা বিচিত্রাসবুজপত্র প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই দুটি পত্রিকার সঙ্গেও জড়িত হয়ে পড়েন। কিছুটা নতুনত্বের প্রতি অসীম আগ্রহ ও কৌতূহল আর কিছুটা পারিবারিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি এই দুটি পত্রিকাকে নিজের নতুন রচনার সিংহভাগ দান করতে থাকেন। এতে ব্যথিত, ক্ষুব্ধ, দুঃখিত রামানন্দের সঙ্গে তাঁর মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি হয়। বিশেষতঃ নটীর পূজা প্রবাসীকে না দিয়ে বসুমতীতে ছাপাতে দেওয়ায় সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। রামানন্দ রবীন্দ্রনাথকে লেখেন, আপনি অতঃপর আমাকে বাংলা ও ইংরাজি কোনো লেখা দিবেন না। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বিচিত্রা পত্রিকার বিশেষ ঘনিষ্ঠতা রামানন্দকে আরো কঠোর হতে বাধ্য করে। তিনি রবীন্দ্রনাথকে লেখেন, প্রবাসীর ভাদ্র সংখ্যা হইতে আমি আপনার লেখা হইতে বঞ্চিত থাকিতে প্রতিজ্ঞা করিলাম….মর্ডান রিভিউ-র জন্যও অনুগ্রহ করিয়া অতঃপর আমাকে কোনো লেখা দিবেন না। সম্পাদক-লেখকের এই মানসিক টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পত্রিকাটিই। যদিও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগেই এই মনমালিন্যের অবসান ঘটে।

রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি রামানন্দের হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল আরো বহু প্রখ্যাত মানুষের সঙ্গেও। তাঁদের মধ্যে যেমন আছেন শিশুসাহিত্যিক ও সম্পাদক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী, আছেন বিখ্যাত শনিবারের চিঠির সম্পাদক সজনীকান্ত দাশ, আছেন রাজশেখর বসু, আছেন জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, মেঘনাদ সাহার মতো প্রথিতযশা বিজ্ঞানীরাও। প্রবাসী পত্রিকাকে তিনি একদিকে বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার বা মূল্যবান গবেষণার প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে যেমন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তেমনি বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনার প্রকাশও ঘটেছিল এই প্রবাসী পত্রিকার মধ্যে দিয়ে। বিশেষতঃ আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। প্রবাসী পত্রিকায় জগদীশচন্দ্রের বিভিন্ন আবিষ্কারের খবর ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে আর তার সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে রামানন্দের স্বাজাত্যবোধ আর স্বজাতি প্রীতির এক অনুপম দৃষ্টান্ত। ১৩১৩ ভাদ্র সংখ্যায় রামানন্দ লিখছেন, কেহ যদি জিজ্ঞাসা করেন, এ বৎসর আমাদের দেশে সর্বপ্রধান স্বদেশী ঘটনা কি ঘটিয়াছে, তাহা হইলে আমরা কি উত্তর দিব? …সর্বপ্রধান স্বদেশী ঘটনা বিজ্ঞানাচার্য জগদীশ্চন্দ্র বসুর উদ্ভিদের সাড়া (Plant Response) নামক গ্রন্থপ্রকাশ। আমাদের পরাধীনতা নানাবিধ, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, শৈল্পিক ইত্যাদি; কিন্তু তন্মধ্যে আমাদের মানসিক পরাধীনতায় সর্বাপেক্ষা শোচনীয়। আমাদের সর্বপ্রকার মানসিক শক্তি ইংরেজের চেয়ে কম, এই ধারণা যত বদ্ধমূল হইবে, আমরা ততই রসাতলে যাইব। জ্ঞানে মানসিক শক্তিতে আমরা যত স্বাধীন হইব, সেই পরিমাণে আমাদের সর্বপ্রকার অন্যবিধ পরাধীনতা কমিয়া আসিবে। …আচার্য বসুর গ্রন্থকে কোনো কোনো ইংরেজ সমালোচক বিজ্ঞান জগতে বিপ্লব বা যুগান্তর সংঘটক বলিয়াছেন। জগদীশচন্দ্র বসুর একাধিক উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল প্রবাসী পত্রিকায়। তাঁর মতো আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বা মেঘনাদ সাহারও অনেক বিখ্যাত প্রবন্ধের প্রকাশ করে প্রবাসী পত্রিকা।

প্রবাসী বা অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদক রূপে যেসব প্রবন্ধ রামানন্দ রচনা করেছিলেন তার মধ্যে আমরা তাঁর বিচিত্রচারী চিন্তাচেতনার স্বরূপ বুঝতে পারবো। সেগুলির মধ্যে একদিকে প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্যানুরাগী এক লেখকসত্তা, তেমনি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি সদাজাগ্রত এক দেশপ্রেমিক সত্তাও। বর্তমান যুগের পরিপ্রেক্ষিতে রামানন্দের সাংবাদিকতা নিঃসন্দেহে এক উদাহরণস্বরূপ। বর্তমানের পেইড নিউজের যুগে যেখানে ঠাণ্ডা ঘরে বসে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে খুব সহজেই খবর তৈরি করা হয়, সেখানে পরাধীন ভারতবর্ষের একজন সম্পাদক কিভাবে বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে নিজের স্পষ্ট জোরালো যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যকে দ্বিধাহীন ভাবে প্রকাশ করেছেন, তা বিস্ময়কর। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধের কিছু শিরোনাম এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করলেই বোঝা যাবে তাঁর চিন্তাধারার স্বরূপ, যেমন হিন্দুর সংখ্যাহ্রাস (প্রবাসী, মাঘ ১৩১১), ইংরেজ রাজত্বে ভারতের স্বাস্থ্য (প্রবাসী, শ্রাবণ ১৩১৩), উচ্চ রাজকার্যে ভারতবাসী ও ইউরোপীয় (প্রবাসী, পৌষ ১৩২২), বঙ্গের প্রতি গবর্মেন্টের অবিচার (প্রবাসী, শ্রাবণ ১৩৩৪), স্বরাজের আবশ্যকতা ও আমাদের যোগ্যতা (প্রবাসী, বৈশাখ ১৩৩৫), নারী শিক্ষার অন্তরায় (বঙ্গলক্ষ্মী, বৈশাখ ১৩৪০) ইত্যাদি অসংখ্য প্রবন্ধের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। শুধুমাত্র যে নিজে বিভিন্ন বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করেছেন তাই নয়, অন্যান্য লেখকদেরও তাঁদের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছেন। সকলের কাছে শিশুসাহিত্যিক বলে পরিচিত উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী চা-শ্রমিকদের ওপর ইংরেজ সরকারের অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করে যে ব্যাঙ্গাত্মক রচনা লিখেছিলেন তা প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন রামানন্দ। ১৩১০ সালের প্রবাসীর কার্তিক সংখ্যায় এই বিষয়ে উপেন্দ্রকিশোরের পলিটিক্যাল স্যাটায়ার প্রকাশিত হয়। নিজের নাম গোপন করে অপ্রকাশ গুপ্ত ছদ্মনামে এই লেখাটি লিখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কার্যাবলীর দৃঢ় ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন রামানন্দ। বিশেষতঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গে রামানন্দ ও আশুতোষ দ্বৈরথ তৎকালীন বঙ্গীয় সমাজকে কিছুদিনের জন্য ব্যস্ত রেখেছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা রবীন্দ্রনাথকে ডি.লিট. প্রদানের ঘটনাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। প্রবাসীতে তিনি লিখেছেন, যখন ইংলন্ডে তাঁহার রচনার ইংরাজী বাহির হইয়া গেল, তিনি নোবেল প্রাইজ্‌ পাইলেন, তখন ‘রূপান্তরিত’ রবীন্দ্রনাথ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সাহিত্যাচার্য্য বলিয়া স্বীকৃত হইলেন। তখন আশুবাবুই ভাইস-চ্যান্‌সেলার। আমরা তখন এই সব কথা লিখিয়াছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হইতে বেঙ্গলী কাগজের সম্পাদকীয় স্তম্ভে লেখান হইয়াছিল যে, যতদিন রবিবাবুর লেখা ইংরাজীতে বাহির হয় নাই, (মর্ডান রিভিউ- কিন্তু হইয়াছিল), ততদিন তাঁহার গৌরব ইংরেজকে বুঝান যাইবে না বলিয়াই, ততপূর্বেব তাঁহাকে ডি.লিট্‌. উপাধি দেওয়া হয় নাই! ইহার উপর মন্তব্য প্রকাশ করা অনাবশ্যক। বাংলায় পঞ্চাশের মন্বন্তর নিয়ে তাঁর বিভিন্ন সম্পাদকীয় রচনাতেও এক সংবেদনশীল মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। খাদ্য সমস্যা, বাংলা দেশের অন্নবস্ত্র সমস্যা, সরকারী মূল্য নিয়ন্ত্রণ, মানুষ আমরা নহি ত মেষ, মানবতার আহ্বান প্রভৃতি একাধিক নিবন্ধে তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়।

রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সাহিত্যিক ও সম্পাদকের এক বিরল সংমিশ্রণ। সেই কারণে তিনি যেমন সমকালীন একাধিক প্রথিতযশা সাহিত্যিক্ ও নিবন্ধকারকে তাঁর বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতে উৎসাহিত করতে পেরেছিলেন তেমনি সমকালীন একাধিক বিষয়ে নিজের সুচিন্তিত মতামত নিবন্ধ আকারে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন। যা সমকালীন অন্যান্য সম্পাদকদের নিঃসন্দেহে ঈর্ষার বিষয় হয়ে উঠেছিল। এবং এই কারণেই তিনি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন। 

 
 
top