নতুন আলো

 

২য় পর্ব

মনুমেন্টের নীচে অসংখ্য মানুষের ভিড়। অধিকাংশই সাধারণ, নিম্নশ্রেণীর লোক। তাদের কণ্ঠের উত্তাপে শীতের কুয়াশাঘেরা সকাল সরগরম। ভিড়টা মাঝে মাঝে ঠেলে ঠেলে একধার থেকে আরেকধারে ছলে যাচ্ছে।

কী ব্যাপার ? কী ব্যাপার ?

বুড়ো দেখল, সেই ভিড়ের ওপর কয়েকজন পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ করছে। সেই দৃশ্য দেখে লালু আর বুড়ো কাঁদতে শুরু করল। সবার বড় বাবু অভয় দিল, ‘ভয় পাস না! আমার হাত শক্ত করে ধর।’ তিন ভাই হাত ধরাধরি করে দাঁড়াল।

মহেশচন্দ্র পেছন থেকে চেঁচিয়ে বললেন, ‘খবর্দার! হাত-ধরাধরি করে থাক, নইলে হারিয়ে যাবে।’

হঠাৎ সেই বিশাল জনসমুদ্র বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। দিশেহারা হয়ে সবাই এদিক, সেদিক ছুটছে। বুড়োরা তিন ভাই দেখল যে, তিন ঘোড়সওয়ার পুলিশ নির্মমভাবে সেই জনতার ওপর দিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে আসছে। তাদের একজন লালমুখো সাহেব। বাকি দুজন ইয়া গালপাট্টা আর দাড়িওয়ালা শিখ। শুধু ঘোড়া ছোটাচ্ছে তাই নয়। হাতের রুল দিয়ে নিরীহ দর্শকদের পেটাতে পেটাতে তারা এগোচ্ছে। ঘোড়াগুলোর নাক-মুখ দিয়ে হু হু করে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। লালু বলল, ‘দাদা, ঘোড়া গুলোর পেটে আগুন লেগেছে।’

বাবু বলল, ‘দূর বোকা! দেখ তোর, আমার মুখ দিয়েও ধোঁয়া বেরোচ্ছে।’ সত্যিই তাই। বুড়ো আর বাবুর মুখ দিয়ে ভক ভক করে ধোঁয়া বেরোতে লাগল। দেখা গেল মাঠের সবার মুখ দিয়েই ভক ভক করে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। লালু ভ্যাঁক করে কেঁদে উঠে বলল, ‘দাদা, তাহলে কি আমাদের সবার পেটেই আগুন লেগেছে?’

ভিড়ের ধাক্কায় এবং ঘোড়সওয়ারদের তারণায় সবাই এদিক সেদিক ছিটকে গেছে। বুড়ো-লালুরা হাত ধরাধরি করে যে দিকটায় এসে পড়েছে, সেখানে জনাপাঁচেক লোক উবু হয়ে বসে বিড়ি ফুঁকছে। তাদের মুখ দিয়ে শুধু যে ধোঁয়া বেরোচ্ছে তাই নয়, অন্য নানা অশ্রুতপূর্ব শব্দও সেখান থেকে ভেসে আসছে।

বুড়ো বলল, ‘কী বলছে রে দাদা?’

বাবু নাক সিঁটকে, মুখ বেঁকাল, ‘খিস্তি দিচ্ছে রে! একেবারে কাঁচা খিস্তি ছোটাচ্ছে!’

বুড়ো, বাবু আর লালু স্থির হয়ে যৌনবিজ্ঞানের পরমতথ্যপূর্ণ সেই রহস্যময় বাক্যগুলো শুনতে লাগল। এক অজানা জগতের ছবি তাদের শিশু মানসপটে অঙ্কিত হতে লাগল।

পূর্বদিকে সূর্য উঠলেও মাঠের মধ্যে তখনও ঘন কুয়াশা। আলোর কোনো তেজ নেই। সূর্য কিরণ ঘন কুয়াশা ভেদ করতে পারছে না। সেই দুর্ভেদ্য কুয়াশা অতিক্রম করে অবশ্য বাচ্চাদের কানে পিতা মহেশচন্দ্রের কঠিন কণ্ঠস্বর ভেসে এল, ‘তোমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নোংরা কথাবার্তা শুনছ! লজ্জা করে না! এসো! চলে এসো!’

বাবা এসে একেবারে পেছনে দাঁড়িয়েছেন! তাঁর গম্ভীর মুখ এক গম্ভীর বেদনায় কাতর। বুড়ো, বাবু আর লালু বাবাকে ঘিরে দাঁড়াল। মহেশচন্দ্র শুধু বললেন, ‘চলো!’ বলে হন হন করে হাঁটতে লাগলেন।

ময়দানের মধ্যে দিয়েই পথ। প্রায় মিনিট দশেক হেঁটে সবাই আরেকটা মাঠে গিয়ে পৌঁছল। সেখানেও প্রচণ্ড ভিড়। আসল আকর্ষণ – অর্থাৎ, নকল-যুদ্ধ সেখানেই দেখানো হবে।

একটা মস্ত জায়গা দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। চারদিকে মানুষ থিক্ থিক্ করছে। এরই মধ্যে একটু অপেক্ষাকৃত ফাঁকা জায়গা দেখে মহেশচন্দ্র দাঁড়ালেন। বাচ্চারা তাঁর সামনে দাঁড়াল। এদিকে পেছন থেকে ভিড়ের ঠেলা আসছে। ধাক্কাধাক্কিতে লাইন ঠিক রাখা মুশকিল। দড়ির ওধারে যে দেশি কনস্টেবলরা ছিল তারা সমবেত জনতার চোদ্দো পুরুষ উদ্ধার করতে লাগল।

এদিকে মাঠের মধ্যেও মহা ব্যস্ততা। দলে দলে খচ্চরবাহিত কামান-গাড়ি ঝমঝম শব্দে সারি দিয়ে দাঁড়াচ্ছে। জঙ্গি ঘোড়সওয়ার আর গোরারা ব্যস্ত হয়ে ছুটোছুটি করছে।

 হঠাৎ আওয়াজ উঠল, ‘তুরুক-সওয়ার ! তুরুক-সওয়ার ! তুরুক-সওয়ার আসছে!’

‘তুরুক সওয়ার!’ – এই অপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব শব্দে বাবু, বুড়ো আর লালু তিনজনেই সচকিত হয়ে উঠল। তারা তিনজনেই বুড়ো আঙুলের ওপর ভর দিয়ে উঠে ভিড়ের মধ্যে দৃষ্টিক্ষেপণ করল।

দেখা গেল, একদল ঘোড়সওয়ার ধূম উদ্‌গীরণ করতে করতে ছুটে আসছে।

‘এরাই বুঝি তুরুক-সওয়ার?’

দেখতে দেখতে সেই তুরুক-সওয়াররা দিগন্তে ফুড়ুক করে মিলিয়ে গেল।

এদের পেছন পেছন সারিবদ্ধ হয়ে মার্চ করতে করতে এল একদল সৈন্য। কালো কুচকুচে প্যান্ট, লাল টকটকে কোট, মাথায় অদ্ভুত টুপি। সঙিন-লাগানো বন্দুক উঁচু করে তারা এগিয়ে আসছে। নবোদিত সূর্যের আলো সেই সঙিনের ওপর পড়ে যেন চারদিকে বিদ্যুৎ খেলছে।

বাবু ধরা ধরা গলায় বলল, ‘এরাই হল আদত ব্রিটিশ সোলজার বুঝলি ? এরাই আমাদের তাঁবে রেখেছে। বেয়োনেটগুলো দেখেছিস? ঝকঝক করছে! সামনে গেলেই ফুঁড়ে দেবে!’

একটু পরেই ছোটো লাট ও বড়ো লাট ফিটন চড়ে এলেন। তাঁদের আগমনে কামানের সারি থেকে দুম দাম শব্দে তোপধ্বনি শুরু হল। এরপর গোরা পলটনরা চড়াচ্চড় বন্দুক ছুড়লে। তাদের আওয়াজ শেষ হতেই দিশি সৈনিকরা ফটাফট, চটাচট, দুমদাম নানা শব্দে তাদের অস্ত্র প্রদর্শন করতে লাগল।

মাঠের মধ্যের এই যুদ্ধে দর্শকদের মধ্যেও হুল্লোড় শুরু হল। সামনে, পেছনে প্রবল ঠেলাঠেলি। সেই ধাক্কায় একটা রোগা লোক ছিটকে গিয়ে দড়ির ওপরে পড়ল। যে পাহারাওয়ালা দড়ির ওধারে শান্তিরক্ষা করছিল, সে লাফিয়ে এগিয়ে এসে হাতের রুল দিয়ে ধাম্‌ ধাম্‌ করে শীর্ণ লোকটার বিরলকেশ মস্তকে আট দশ ঘা বসিয়ে দিল।

নিমেষে ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ি থেমে গেল। পাঁচ বছরের শিশু থেকে আশি বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই চুপ করে, নির্বাক হয়ে সেই অমানুষিক অত্যাচার দেখতে লাগল।

প্রহৃত লোকটা দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে মহেশচন্দ্রের কণ্ঠস্বর ভেসে এল, ‘এই তোমার মাথা ফেটে গেছে যে হে, রক্ত পড়ছে।’

সত্যিই তাই। লোকটার ডান কানের পাশ দিয়ে একটা সরু রক্তের ধারা জামার ওপর নেমে এসেছে। জামাটা রক্তে লাল হয়ে উঠেছে।

এমন সময় চার–পাঁচ সার মানুষের স্তর ভেদ করে মহেশচন্দ্র দড়ির ওপাড়ে গিয়ে লোকটার পাশে দাঁড়ালেন। তাঁর দু-চোখ রাগে জ্বলছে। আবক্ষ কালো দাড়ি। গায়ে ধূসর আলোয়ান। পরনে খাটো ধুতি। বিশাল বক্ষ, বিশালাকার পুরুষ তিনি। চুয়াল্লিশ ইঞ্চি ছাতি।। সাড়ে উনিশ ইঞ্চি বাহুর বেড়।

আহত লোকটার হাত ধরে বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে তিনি চিৎকার করে উঠলেন, ‘কে মেরেছে? কোন পাহারাওয়ালা তোমাকে মেরেছে?’

যে পাহারাওয়ালা মেরেছিল, সে খইনি ডলতে ডলতে ধীরে, সুস্থে এসে দাঁড়াল, ‘কেয়া হুয়া, শোর কিঁউ মচাতে হো?’

‘তুমি একে মেরেছ? মেরে মাথাটা ফাটিয়ে দিয়েছ? তুমি মানুষ না জানোয়ার?’

‘তু শালা কৌন হ্যায় রে লৌন্ডা?’

সেই উদ্ধত প্রশ্নে মহেশচন্দ্র কিঞ্চিৎ হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। পরে সম্বিত ফিরে পেয়ে নিজের ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে বললেন, ‘রিস্তে মে কহতে হায় কি ম্যায় তেরা বাপ হুঁ ! চিন্ তা নেহি? তেরা বাপ হুঁ ম্যায়!’

সেই সাংঘাতিক উত্তরে পেছনের লোকরা হা হা করে হেসে উঠল। বুড়ো, বাবু আর লালু কিন্তু হাসতে পারল না। তাদের অসীম বলশালী, দুর্দান্ত ক্রোধী পিতাকে তারা ভালমতই চেনে। মহাবিপদের আশঙ্কায় তাদের শিশুহৃদয় শঙ্কিত হয়ে উঠল।

খইনি ডলনরত পাহারাওয়ালার বগল থেকে টপ করে কাঠের রুলটা কেড়ে নিয়ে মহেশচন্দ্র তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন, ‘খোল্‌ শালা পাগড়ি! তুই যেমন ওই লোকটার খালি মাথায় মেরেছিস, আমিও তোর মাথায় তেমনি মারব। দ্যাখ্‌ শালা, খালি মাথায় মারলে কেমন লাগে! তোকে আমি ততক্ষণই মারব, যতক্ষণ না এই লোকটার মত রক্ত বেরোয়!’

ব্রাহ্ম মহেশচন্দ্র সচরাচর গালিবাক্য ব্যবহার করেন না, কিন্তু উত্তেজনার মুহূর্তে আত্মবিস্মৃত হয়ে সেই বিহারি পাহারাওয়ালাকে ঘন ঘন শ্যালক-সম্বোধন করতে লাগলেন তিনি।

ভিড় ততক্ষণে পাতলা হয়ে এসেছে। আসন্ন বিপদের আশঙ্কায় মহেশচন্দ্রকে একলা ফেলে অনেকেই অন্তর্ধান করেছে। মাঠের মধ্যে দুমদাম্, ফুটফাট্ চলছেই। তবে সব ছাপিয়ে শোনা যাচ্ছে মহেশচন্দ্রের গলা।

‘খোল্‌ পাগড়ি শালা! খোল্‌! নিজের হাতে খোল্‌! মাথায় রুলের বাড়ি খেলে কেমন লাগে তা তোকে আজ বুঝিয়ে দেব!’

এর মধ্যে আহত লোকটা মাটিতে বসে পরেছিল।

এবার সে শুয়ে পরল। রব উঠল, ‘অজ্ঞান হয়ে গেছে! অজ্ঞান হয়ে গেছে! হাওয়া ছেড়ে দাও!’

মহেশচন্দ্র সে কথা কানে যেতে রুলটা মাটিতে ফেলে লোকটার পাশে গিয়ে বসলেন। নিজের আলোয়ান খুলে হাওয়া দিতে লাগলেন। পাহারাওয়ালা সেই অবকাশে রুলটা টপ করে তুলে নিয়ে  হন হন করে হেঁটে চলে গেল।

হাওয়া দেওয়ার জন্যেই হোক বা অন্য কারণেই হোক লোকটার জ্ঞান ফিরে এসেছে। চোখ মেলে সে ফ্যাল ফ্যাল করে চাইল। তারপর উঠে বসল।

মহেশচন্দ্র বললেন, ‘একলা বাড়ি যেতে পারবে?’

কৃতজ্ঞ চোখে লোকটা বলল, ‘বাবু তুমি বড়ো ভালো লোক। হ্যা, আমি একলাই যেতে পারব।’

মহেশ একটু হেসে  বললেন, ‘আর এমন তামাশা দেখতে এস না, বুঝলে ?’ তারপর ছেলেদের দিকে চাইলেন। তার দৃষ্টি উদাস । ভরাট কণ্ঠ বেদনাবিদ্ধ।

‘বাবু , বুড়ো , লালু! এসব জায়গায় এলে মনে হয় পরাধীন হবার কী জ্বালা ! নিজের দেশের মাটিতেই আমাদের কোন সম্মান নেই ! আর সবচেয়ে দুঃখ কী দেখে হয় জান ?’

‘কী বাবা ?’

‘বিদেশি ফিরিঙ্গিদের নুন খেয়ে দেশেরই কিছু লোক দেশের মানুষের মাথায় লাঠি মারছে। দেখে ঘেন্না হয় ! লজ্জা হয় ! এ তামাশা তোমাদের আর দেখার ইচ্ছে আছে?

সকলের নানাবিধ উত্তেজনা এবং আতঙ্কে বাচ্চাদের কৃত্রিম যুদ্ধ দেখার ইচ্ছে আগেই ছুটে গেছে। তারা সমস্বরে বলল, ‘না, বাবা।’

‘চলো, তাহলে চলো ফিরে যাই।’

চৌরঙ্গির রাস্তা দিয়ে আলোয়ান গায়ে মহেশচন্দ্র বাড়ির পথে হাঁটা দিলেন। বাবু, বুড়ো আর লালু পেছন পেছন অনুসরণ করতে লাগল ।

অন্যমনস্ক মহেশচন্দ্র হন হন করে হেঁটে চলেছেন। পেছনের দিকে ভ্রূক্ষেপ নেই। বাচ্চারা ক্রমশই পিছিয়ে পড়তে লাগল। অবশ্য তারা রাস্তা চেনে। হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই।

বুড়ো পকেট থেকে কমলালেবু বের করে তার সদ্‌গতি করতে লাগল। বাবু আর লালুও চুপ করে রইল। কিছুক্ষণ বাদে বুড়ো বলল -

‘দাদা?’

‘বল?’

‘লোকটাকে কীভাবে মারছিল, না?’

‘হুঁ!’

‘তুই সে দিন আনন্দমঠের কথা বলছিলি না দাদা? – ভবানন্দ, জীবানন্দ, সত্যানন্দ?’

‘হুঁ ! সব সন্ন্যাসী–সোলজার! নেড়েদের পিটিয়েছিল।’

‘করা যায় না ওরকম কিছু?’

বাবু বিজ্ঞের মত হাসল, ‘চেষ্টা ত চলছে।’

‘তুই ঠিক জানিস?’

‘অবশ্যই। মোদো কি এমনি এমনি বড় করিমের কাছে যাচ্ছে। শরীরটাকে তো তৈরি করতে হবে। তোর মত ল্যাং ল্যাং-এ প্যাকাটি মার্কা চেহারা নিয়ে সাহেব তাড়াতে পারবি?’

‘বঙ্কিমের আর কিছু পড়েছিস দাদা?’

‘হ্যাঁ, বিষবৃক্ষ, দেবী চৌধুরানী, কৃষ্ণকান্তের উইল।’

বয়স আন্দাজে বাবু এখনই বেশ পরিপক্ক হয়ে উঠেছে।

বিষবৃক্ষের নামে প্রেমাঙ্কুর চুপ করে গেল। তার আরেক বন্ধু প্রভাতও বইটার কথা বলছিল। প্রভাত পাশেই থাকে। ওদের বাড়িতে একটা বিশাল লাইব্রেরি আছে। সেখানকার বই পড়ে পড়ে প্রভাতও অকালপক্বতা অর্জন করেছে। মাঝে মাঝে প্রেমাঙ্কুরকেও সে বই ধার দেয়। বিষবৃক্ষে নাকি বঙ্কিম এক বিধবাকে বিষ খাইয়ে মেরেছেন। প্রভাতের মতে কাজটা ঠিক হয়নি। নিরপরাধ মেয়েটিকে বাঁচিয়ে রাখাটাই উচিৎ ছিল। যাই হোক না পড়ে কিছু বলা যাবে না। তবে লুকিয়ে পড়তে হবে। এসব বঙ্কিমি রোমান্স তাদের হাতে দেখলে ব্রাহ্ম পিতা মহেশ তেলেবেগুনে জ্বলে উঠবেন।

তিন ভাই পদব্রজে যখন কর্নওয়ালিস স্ট্রিটে তাদের বাড়িতে ফিরে এল, তখন সকাল ন-টা। বেশ চড় চড় করে রোদ উঠেছে।

বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে হঠাৎ একটা কথা মনে আসতে বুড়ো তার দাদা বাবুর হাত চেপে ধরল । ফিস ফিস করে বলল, ‘দাদা, সকালে গড়ের মাঠের লোকগুলোকে মনে আছে?’

‘কোন লোকগুলো?’

‘আরে, যারা ঘাসের ওপর উবু হয়ে বসে খিস্তি মারছিল।’

‘হুঁ ! নোংরা নোংরা সব কথা!’

ওরা একটা কথা বারবার বলছিল, ‘বানচোৎ ! বানচোৎ ! বানচোৎ মানে কী রে, দাদা?’

উত্তরে বাবু রহস্যময় হাসল, ‘এ সব নিয়ে তোর সাথে একদিন বসতে হবে, বুঝলি। মোদোর সাথে মিশে মিশে আমার খিস্তির স্টকও দিন দিন বাড়ছে। ভাবিস না। সব তোকে একদিন শিখিয়ে দেব।’

(ক্রমশ…)

Comments

  1. basabroy says:

    একদিন ক্ল্যাসিক হবে।

 
 
top