কেমন আছেন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা?

 

সম্প্রতি স্ন্যাপ এবং গাইডেন্স গিল্ড সংস্থাদ্বয়ের পক্ষ থেকে প্রতীচী ট্রাস্টের সহায়তায় প্রকাশিত হয়েছে একটি গুরূত্বপূর্ণ সমীক্ষা রিপোর্ট। ‘লিভিং রিয়েলিটি অব মুসলিমস ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’সমীক্ষাটি করা হয়েছে বহুদিন ধরে এবং এর পরিসরও ছিল বিস্তৃত। ৯৭০১৭ টি পরিবারের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯৯১৩টি গ্রামীন পরিবার ও ১৭১০৪টি শহুরে পরিবার। সমীক্ষার আওতায় এসেছেন ৪,৬৩,৯০৪ জন মানুষ। সরকারী বা বেসরকারী স্তরে সাম্প্রতিক অতীতে মুসলিম জনগোষ্ঠী নিয়ে এ ধরনের বিস্তৃত কোনও সমীক্ষা হয়নি। ফলে এই সমীক্ষাটি রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর হাল হকিকত বুঝতে অত্যন্ত কার্যকরী। জনবিন্যাস, স্বাক্ষরতা ও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, লিঙ্গগত সাম্য অসাম্য, নাগরিকত্বর প্রশ্নে বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধা, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও সাংস্কৃতিক মানের মত অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ কয়েকটি দিকের ওপর এই সমীক্ষা আলো ফেলেছে। আমরা ক্রমান্বয়ে এক একটি দিক নিয়ে এখানে আলোচনা করতে চাইবো।

মুসলিম জনবিন্যাস ও তা নিয়ে রাজনীতি প্রসঙ্গে

প্রথমেই আসা যাক জনবিন্যাসের দিকটিতে। কারণ এই জনবিন্যাসগত নানা দিককে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প উগরে দিতে চায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। সমীক্ষা রিপোর্ট এখানে নির্ভর করেছে ভারতের জনগণনা রিপোর্ট (২০১১) এর ওপরে। প্রথমত উল্লেখযোগ্য এই সমীক্ষার যে প্রাথমিক প্রতিবেদনটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সেখানে ২০০১ সালের জনগণনা রিপোর্টের তথ্যই ব্যবহৃত হয়েছিল। দুটি রিপোর্টের তুলনার সূত্রে ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জনবিন্যাসের কী পার্থক্য হয়েছে তা বোঝা যায়। কোন জেলায় কত শতাংশ মানুষ মুসলিম মানুষ বাস করেন এবং ২০০১ থেকে ২০১১ সালের জনগণনার মধ্যে জনবিন্যাসের কী পার্থক্য হয়েছে তা দেখা যাবে সারণি–১ এ।

সারণি—

জেলা

মুসলিম জনসংখ্যার শতাংশমাত্রা (২০০১)

মুসলিম জনসংখ্যার শতাংশমাত্রা (২০১১)

মুর্শিদাবাদ

৬৩.৬৭

৬৬.

মালদা

৪৯.৭২

৫১.

উত্তর দিনাজপুর

৪৭.৩৬

৪৯.

বীরভূম

৩৫.০৮

৩৭.

দক্ষিণ ২৪ পরগণা

৩৩.২৪

৩৫.

নদীয়া

২৫.৪১

২৬.

হাওড়া

২৪.৪৪

২৬.

কোচবিহার

২৪.২৪

২৫.

উত্তর ২৪ পরগণা

২৪.২২

২৫.

দক্ষিণ দিনাজপুর

২৪.০২

২৪.

কোলকাতা

২০.২৭

২০.

বর্ধমান

১৯.৭৮

২০.

হুগলি

১৫.১৪

১৫.

মেদিনীপুর

১১.৩৩

পূর্ব ১৪.৬ পশ্চিম ১০.

জলপাইগুড়ি

১০.৮৫

১১.

বাঁকুড়া

.৫১

.

পুরুলিয়া

.১২

.

দার্জিলিং

.৩১

.

 

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে রাজ্যজুড়েই মুসলিম জনসংখ্যার শতাংশমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যতিক্রমহীনভাবে সমস্ত জেলাতেই মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিমদের অনুপাত বেড়েছে। গোটা রাজ্যেও মুসলিম জনসংখ্যা ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ শতাংশ হয়েছে

মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাত বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অনেকেই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ প্রচার বেশ চড়া সুরেই চালানো হচ্ছে। একদিকে বিজেপির মত শাসক দল, অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ বা ‘হিন্দু সমিতি’ নরমে গরমে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে চাইছে। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দেশজুড়েই বেশি। এই তথ্যকে সামনে রেখে ভারতের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মুসলমানরা সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভি এইচ পি)। তাদের অভিযোগ, অন্যান্য সম্প্রদায় যখন দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সেখানে মুসলমানরা তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রচার চালাচ্ছে। বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গকে। কারণ মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে বাংলা রয়েছে এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে হিন্দু জনসংখ্যার থেকে ছাপিয়ে গিয়েছে মুসলিম জনসংখ্যা। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ধর্মভিত্তিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে হিন্দু জনসংখ্যা যদি ০.৭ শতাংশ কমে, বাংলায় কমেছে ১.৯৪ শতাংশ। ঠিক তেমনই মুসলিম জনসংখ্যা ভারতে ০.৮ শতাংশ বেড়েছে কিন্তু বাংলায় বেড়েছে ১.৭৭ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে মোট জনসংখ্যা ৯ কোটি ১২ লক্ষ। ধর্ম ভিত্তিতে হিন্দু রয়েছে ৬ কোটি ৪ লক্ষ। মোট জনসংখ্যার ৭০.৫৩ শতাংশ হিন্দু রয়েছে। মুসলিম জনসংখ্যা ২ কোটি ৪ লক্ষ। ২৭.০১ শতাংশ রয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়। জনসংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে তিন জেলায় এগিয়ে রয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়। মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা ৪৭ লক্ষ, হিন্দু ২৩ লক্ষ। মালদায় ২০ লক্ষ মুসলিম, হিন্দু ১৯ লক্ষ। উত্তর দিনাজপুরে ১৫ লক্ষ মুসলিম, ১৪ লক্ষ হিন্দু। প্রচার চালানো হচ্ছে ২০০১ জনগণনা অনুযায়ী শেষ দশ বছরে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মভিত্তিতে জনসংখ্যা বেড়েছে অসামঞ্জস্যভাবে, আর এই বৃদ্ধির পেছনে আছে অনুপ্রবেশের ভূমিকা

নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন, তাঁদের মধ্যে যাঁরা দুর্গাপূজা করেন তাঁরা শরণার্থী, আর যাঁরা করেন না তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। অর্থাৎ, অনুপ্রবেশকারী মানে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ। পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ধর্মের ভিত্তিতে জনসংখ্যায় কোনও মৌলিক তারতম্য দেখা যায়নি, বিপুল পরিমাণে অনুপ্রবেশকারী রাজ্যে প্রবেশ করলে যা ঘটত।

কেউ বলতেই পারেন, রাজ্যের জেলাওয়াড়ি হিসেবের মধ্যেই, বিশেষত সীমান্তবর্তী জেলাগুলির ক্ষেত্রে, লুকিয়ে আছে অনুপ্রবেশের তত্ত্বের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য। পরিসংখ্যান কী বলছে তা বুঝতে সারণী- এর দিকে চোখ রাখা যাক।

সারণী—

পশ্চিমবঙ্গের গড় ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সঙ্গে জেলাভিত্তিক হারের তফাত (শতাংশ বিন্দুতে), হিন্দু-মুসলমানদের ক্ষেত্রে (২০০১-২০১১)

জেলা                               হিন্দু              মুসলমান

দার্জিলিং                          -০.৪               ১.৩

জলপাইগুড়ি                      ০.০               ০.৬

কোচবিহার                        ০.৭                -২

উত্তর দিনাজপুর                  ৬.৬                ৮

দক্ষিণ দিনাজপুর                 ০                 -৭.৫

মালদা                              ৭.৩               ৩.২

বীরভূম                              ১.৪               ০.৯

বর্ধমান                             -০.৪              -৪.৫

নদীয়া                              -১                  -৩.৭

উত্তর ২৪ পরগণা                -১.৪               -২.৪

হুগলি                               -২.৩               -৭.৮

বাঁকুড়া                              -১.৮               -০.৬

পুরুলিয়া                            ১.৩                ৪

মেদিনীপুর                          ৩.৫               ৩.৫

হাওড়া                               -০.৫              -০.১

কোলকাতা                          -১৪               -২১.৮

দক্ষিণ ২৪ পরগণা                 ২.৫                ৪.৬

 

প্রথমে সীমান্তবর্তী জেলাগুলির দিকে তাকানো যাক। দেখা যাচ্ছে যে সেই জেলাগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কোনও নির্দিষ্ট একটি প্রবণতা নেই। এক দিকে যেমন উত্তর দিনাজপুরে মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়ের গড়ের তুলনায় ৮ শতাংশ-বিন্দু বেশি, সেখানে আবার নদিয়ায় তা প্রায় ৪ শতাংশ-বিন্দু কম, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭.৫ শতাংশ-বিন্দু কম। দ্বিতীয়ত, যে জেলায় মুসলমানদের বৃদ্ধির হার রাজ্য গড়ের তুলনায় বেশি, সেখানে হিন্দুদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেমন, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ইত্যাদি। আবার, যেখানে মুসলমানদের বৃদ্ধির হার এই সম্প্রদায়ের রাজ্য গড়ের তুলনায় কম, সেই জেলাগুলিতে হিন্দুদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৃতীয়ত, পুরুলিয়ার মতো জেলাও রয়েছে যা সীমান্তবর্তী জেলা না হওয়া সত্ত্বেও এই জেলাতে মুসলমান ও হিন্দু উভয়েরই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিজ নিজ রাজ্য গড়ের তুলনায় বেশি।

এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কিছু সিদ্ধান্তে খুব সহজেই পৌঁছনো সম্ভব। প্রথমত, সীমান্তবর্তী জেলাগুলি অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গেছে, এই বক্তব্যের কোনও সারবত্তা নেই, কারণ এই জেলাগুলিতে কোনও একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধিকে কোনও নির্দিষ্ট ছকে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, ধার্মিক পরিচয়ের তুলনায় অন্য কয়েকটি সূচক অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন, যে জেলাগুলিতে হিন্দু ও মুসলমান উভয়েরই বৃদ্ধির হার রাজ্যে গড়ের তুলনায় অনেকটা বেশি, সেই জেলাগুলির স্বাক্ষরতার হার অন্য জেলাগুলির তুলনায় অনেক কম। স্বাক্ষরতার নিরিখে উত্তর দিনাজপুরের স্থান সবার নীচে, তার ঠিক উপরেই রয়েছে মালদা, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ। আবার তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে থাকা জেলা যেমন কলকাতা, হাওড়া, বর্ধমান, হুগলি বা উত্তর ২৪ পরগনা উভয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার নিজ নিজ রাজ্য গড়ের থেকে কম। স্বাক্ষরতার নিরিখেও এই জেলাগুলির স্থান অনেক উপরে।

বিশেষত উল্লখযোগ্য যে কলকাতায় মুসলমানদের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার শূন্য (২০০১-২০১১র মধ্যে)। এবং কলকাতার জন্মহার ভারতের ৬৪০টি জেলার মধ্যে বর্তমানে সর্বনিম্ন (.২ সন্তান প্রতি দম্পতি)। জনসংখ্যাবিদদের মতে, সাধারণত অর্থনৈতিক অনুন্নয়ন, সামাজিক পশ্চাদপদতা এবং জন্মহারের মধ্যে সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক।

জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ধর্মের সঙ্গে নয়, দেখা দরকার শিক্ষা, বিশেষত নারীদের শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থানের নিরিখ থেকেই। বিশ্বজোড়া পরিসংখ্যানগত জরিপের এক প্রথম সারির সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক সমীক্ষা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের ওপর যে গবেষণা করেছে তার দিকে এই প্রসঙ্গে নজর ফেরানো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হবে। তাদের সমীক্ষায় বলা হয়—

যেসব (মুসলিমপ্রধান) দেশে মেয়েদের শিক্ষার হার খুবই কম সেসব দেশে (মুসলিম) মহিলাদের গড়ে ৫টি সন্তান রয়েছে। আর যেসব দেশে নারী শিক্ষার হার বেশি সেসব দেশে (মুসলিম) মহিলাদের গড়ে ২ দশমিক ৩টি সন্তান রয়েছে।উদাহরণ হিসেবে ইরানের কথা উল্লেখ করা যায়। এ দেশটিতে নারী শিক্ষা ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা হয়। ফলে এখানে মহিলাদের বর্তমানে শিশু জন্মদানের হার ১.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এ হার ইউরোপীয় অনেক দেশেরই সমপর্যায়ের। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ইরানে মহিলাদের জন্মদান হার সবচেয়ে কম। অন্যদিকে সবচেয়ে গরীব আফ্রিকান দেশ নাইজারে মহিলাদের সন্তান জন্মদান হার গড়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ ইরানী মেয়েরা গড়ে ১৫ বছর শিক্ষাজীবনে ব্যস্ত থাকে। অন্যদিকে নাইজারে এই হার হচ্ছে মাত্র ৪ বছর’অন্যদিকে দুই ইসলামিক রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া আর পাকিস্তানে জনসংখ্যায় মুসলমানের অনুপাত কাছাকাছিযথাক্রমে ৮৭ ও ৯৬ শতাংশ। কিন্তু শিক্ষার হারের তফাতের কারণেই দেশ দুটির বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেকতাই আলাদা - যথাক্রমে ১.২৮ ও ২.১১ শতাংশ। আফগানিস্তানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যেখানে বছরে ৩.০২ শতাংশ,সেখানে মালয়েশিয়ায় তা ১.৫১ শতাংশ।

ভারতেও দেখা যাবে হিন্দুদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের মধ্যে জন্মহার বেশি। ২০১১ সালের জনগণনাতে দেখা যাচ্ছে,গত দশ বছরে তফশিলি জাতি এবং জনজাতিভুক্তদের জনসংখ্যা বেড়েছে যথাক্রমে ২০.৮ শতাংশ আর ২৩.৭ শতাংশ। যেহেতু এই দুটি গোষ্ঠীর বড় অংশই ঢুকে পড়েছে হিন্দু জনসংখ্যার হিসেবে, অতএব স্পষ্টতই, এদের বাদ দিলে বাকি বর্ণহিন্দুদের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সামগ্রিক হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের চেয়ে আরো কম হবে বিপরীতে সামাজিক-অর্থনৈতিক দিক থেকে যারা কার্যত সমগোত্রীয়,সেই মুসলমান (যারা মূলত নিম্নবর্গ থেকে রূপান্তরিত) ও নিম্নবর্গের হিন্দুদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় একই স্তরে রয়েছে এবং প্রায় একই হারে কমছে।

তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমাতে হলে অনুপ্রবেশের মত বিভেদপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরে বাজার গরম না করে বরং মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করা বেশি জরুরি। পরবর্তী আলোচনায় আমরা সেই দিকেই এগোতে চাইবো। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরী শিক্ষার মানোন্নয়ন। আর সেই রাস্তা ধরে আর্থ সামাজিক সাংস্কৃতিক মানের বিকাশ। এজন্যই এখন আমরা দেখতে চাইবো মুসলিমদের আর্থ সামাজিক কাজকর্মের বর্তমান হাল হকিকত

 
 
top