সাম্প্রতিক বাংলা আখ্যান: নয়া উদার অর্থনীতির নানা প্রতিক্রিয়া

 

১৯৯১ থেকে ভারতবর্ষ এক নতুন ধরনের অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হল। পরবর্তী ২৫ বছর ধরে আমরা একটানা এই আর্থিক নীতিমালাকেই অনুসৃত হতে দেখছি। শুধু ভারতে নয়, গোটা বিশ্বজুড়েই এই একঢালা আর্থিক কাঠামো অবস্থান করছে। নব্য উদার অর্থনীতি বলে একে আমরা চিনেছি। যার মূল তিনটি দিক হল লিবারালাইজেশন, প্রাইভেটাইজেশন ও গ্লোবালাইজেশন।

নতুন যে পরিবর্তনটা আর্থিক কাঠামোর সূত্রে এলো তা সামাজিক সম্পর্ক থেকে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, রাজনীতির ভাষা থেকে পরিচিতি সন্ধান—সবকিছুকেই নির্ণায়কভাবে বদলে দিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই যে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার জোয়ার বিশ্বজুড়ে এসেছিল, তার শরিক ছিল আমাদের দেশ এবং বিশেষ করে এই রাজ্য। কিন্তু নয়া উদার আর্থিক নীতিমালা শিবির নিরপেক্ষভাবে রাজনীতির জগৎটাকেও অনেক পালটে দিল। ভারতের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি নব্য উদার অর্থনীতির সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রায় তাদের বোঝাপড়া সম্পন্ন করে নিল। কংগ্রেস এবং বিজেপির মতো সর্বভারতীয় ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া দলগুলি তো বটেই, রাজ্যস্তরে ক্ষমতাশালী বিভিন্ন আঞ্চলিক দলও নব্য উদার আর্থিক নীতিমালা মেনেই বিভিন্ন রাজ্যে তাদের শাসন চালাতে লাগল। এমনকী সংসদীয় বামপন্থীরাও এতে সামিল হলেন। কখনো বাধ্যবাধকতার নামে, কখনো কর্মসংস্থান সৃষ্টির নামে নব্য উদার আর্থিক নীতিমালার শাসন পদ্ধতির মধ্যেই তারা অনেকাংশে অঙ্গীভূত হয়ে গেলেন। মুখে বললেন একে ব্যবহার করে নেবার কথা, কিন্তু বাস্তবে তারাই বিশ্বজনীন ব্যবস্থার দ্বারা ব্যবহৃত হয়ে গেলেন কিনা সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

এই বিশ্বজনীন ব্যবস্থাটি তার একটা স্পষ্ট চেহারা পাচ্ছিল সত্তর দশকের শেষ থেকেই। নয়া উদার অর্থনীতির আলোকসম্পাতী ইতিহাসকার ডেভিড হার্ভে তার বইতে (এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব নিওলিবারালইজম) ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের ঝোড়ো সময়টিকে এ প্রসঙ্গে বিশেষ গুরূত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন। এই সময়পর্বে বিশ্বজুড়ে পরপর কয়েকটি গুরূত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে।

১৯৭৮ সালে চিনে মাওয়ের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন দেং শিয়াও পিং এবং কম্যুনিস্ট শাসিত এই দেশে আর্থিক উদারীকরণের কিছু প্রক্রিয়া গ্রহণ করেন। প্রশান্ত মহাসাগরের অপর পারে এই সময় মার্কিন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এর প্রধান পল ভোলকার আর্থিক নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। আটলান্টিকের অপর পারে গ্রেট ব্রিটেনে ১৯৭৯ সালে প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারগুলিকে এক আইন জারী করে মারাত্মকভাবে খর্ব করেন। পরের বছরেই, ১৯৮০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন রোনাল্ড রেগন এবং দীর্ঘ কয়েক দশকের মার্কিন অর্থনীতির নীতিমালাকে একেবারে উলটোদিকে ঘুরিয়ে দেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৭০ এর দশকের সময়কাল পর্যন্ত মার্কিন রাজনীতি সামাজিক অসাম্য দূর করার বেশ কিছু প্রকল্প নিয়েছিল। দুই মহাযুদ্ধের মধ্যবর্তী দশকগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চালু হয়েছিল এক প্রগতিশীল আয় ও সম্পত্তিকর। ১৯৩০ থেকে পরবর্তী তিরিশ বছরে বার্ষিক দশ লক্ষ ডলার আয় করেন এমন মানুষ ছিলেন গড়ে ৮২ শতাংশ। এটা ১৯৪০ থেকে ১৯৬০ এই সময়কালের বছরগুলিতে গড়ে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এই সময়কালে বৃহৎ সম্পত্তির ক্ষেত্রে কর ছিল ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ।

১৯৩০ সালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চালু হয়ে গিয়েছিল ন্যূনতম মজুরী আইন। ২০১৬র মূল্যমান অনুযায়ী ১৯৬০র দশকে এটা ছিল ঘন্টায় ১০ ডলার। আর এই সমস্ত কিছুর পাশাপাশিই ছিল প্রায় শূন্য বেকারীত্ব।

১৯৭০ এর পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলাতে শুরু করে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাস্তানাবুদ হওয়া, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানি জাপানের অর্থনৈতিক মঞ্চে শক্তিশালী চেহারায় উঠে আসা, তেল সঙ্কট সেখানকার সামাজিক পরিস্থিতিকে বদলে দেয়। একে সামনে রেখে এক বিকল্প পুঁজিবাদের স্বপ্ন দেখিয়ে রেগান ক্ষমতায় আসেন। ১৯৮৬র কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে রেগান জমানার নব্য উদার অর্থনীতি তার সর্বোচ্চ জায়গা দখল করতে শুরু করে। সবচেয়ে বেশি আয়ের ক্ষেত্রে করে উর্ধ্বসীমা ২৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। আর এর মধ্যে দিয়েই আর্থিক অসাম্যের বিস্ফোরণ ঘটে।

রেগান ন্যূনতম মজুরীকে স্থিতিশীল করে দেন। মূল্যবৃদ্ধির ফলে তা প্রকৃত পক্ষে কমে আসে। ২০১৬র মূল্যমানে হিসেব করলে যা ১৯৬৯ এ ছিল ঘন্টায় ১১ ডলার তা এই সময়ে নেমে আসে ঘন্টায় ৭ ডলারে।

মার্কিন অর্থনীতির এই নয়া মডেলটিই নয়া উদারবাদের বিশ্বজনীন মডেল হিসেবে দেশে দেশে ছড়িয়ে দেবার কাজ শুরু হয়। এই আর্থিক নীতিমালার দার্শনিক প্রস্থানটি বলে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ করার মধ্যে দিয়েই মানবজাতির উন্নয়ন সবচেয়ে ভালোভাবে করা সম্ভব। এই ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ করতে গেলে প্রয়োজন কড়া ধরনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি আইন, মুক্ত বাজার এবং মুক্ত বাণিজ্য। রাষ্ট্রের দায় এই ধরনের ব্যবস্থা যাতে বিকশিত হতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রকে পুঁজির চলাচল ও যোগান নিশ্চিত করতে হবে, মিলিটারি, পুলিশ সহ যাবতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আইনী কাঠামো দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পুঁজির স্বার্থরক্ষা করতে হবে এবং বাজারের স্বার্থকে সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করতে হবে। যে সমস্ত ক্ষেত্রে বাজারী লেনদেন প্রসারিত নয়, যেমন জমি, জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পরিবেশ দূষণ প্রতিকার—সেখানে বাজারী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে সচেষ্ট হতে হবে।

ভারতের ক্ষেত্রে আশির দশক থেকে মূলত রাজীব গান্ধির জমানায় পুরনো আর্থিক নীতিমালায় কিছু কিছু পরিবর্তন আসতে থাকে। তবে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার আসে নরসীমা রাও এর জমানায় তার অর্থমন্ত্রী ও বিশ্বব্যাঙ্কের প্রাক্তন কর্ণধার মনমোহন সিংয়ের হাত ধরে। সেটা ১৯৯১। ততদিনে সোভিয়েত সমাজবাদের মডেলটির পতন ঘটেছে। শুরু হয়ে গেছে সোশালিজম এবং স্টেট ক্যাপিটালিজম এর বদলে প্রাইভেট (মনোপলি) ক্যাপিটালিজমের অধ্যায়। দেশের প্রধান প্রধান আর্থিক ক্ষেত্রগুলি পর্যায়ক্রমে প্রায় সবই চলে গেল একচেটিয়া দেশি-বিদেশি পুঁজির হাতে। তাদের চাহিদা অনুসারে শ্রম আইন, চাকরী সংক্রান্ত শর্তাবলীতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে লাগল। উৎপাদন ও পরিষেবা থেকে সরকারী ক্ষেত্র ক্রমশ পিছু হটতে লাগল। শ্রমের বাজারে দেশি বিদেশি একচেটিয়া পুঁজির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল।

এই বদলগুলোর ফলে সমাজ মানস ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে লাগল ব্যাপক ধাক্কা। পরিবর্তন এল রাজনীতির ভাষা থেকে ভাষার রাজনীতিতেও। ষাট সত্তরের গনগনে বিপ্লবের যে স্বপ্ন আশির দশকেও এখানে ওখানে ধিকিধিকি জ্বলেছিল, একুশ শতক আসার মধ্যেই তা অনেকাংশে অতীতের বা প্রান্তিক রাজনীতির ব্যাপার হয়ে পড়ল। বেকারত্ম, জীবিকার অনিশ্চিতি ও নিম্নমান এবং দারিদ্র অসাম্য নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ অবশ্যই থাকল, কিন্তু তাকে শাসকদের পক্ষ থেকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হল নানা সোশ্যাল রিফর্ম প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে। উৎপাদন ও পরিষেবা জগতের রিফর্মগুলি ক্রমশই একচেটিয়া পুঁজির পক্ষে গেল আর তার সামান্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে, অস্থিরতা প্রশমনের উপায় হিসেবে থাকল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির তরফে ক্যাশ ট্রান্সফার ও অন্যান্য ডোলভিত্তিক প্রকল্প। অন্যদিকে বামপন্থীদের গ্রান্ড ন্যারেটিভ ও শ্রেণি সংগ্রামের রাজনীতির দিশেহারা অবস্থার জায়গা নিতে শুরু করল একটি নির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডা ভিত্তিক ননপার্টি এনজিও ধর্মী প্রতিবাদী আন্দোলন। প্রত্যক্ষ শ্রেণি রাজনীতির পরিবর্তে এল প্রেশার গ্রুপের ধারণা। অন্যদিকে রাজনীতির জগতে জোরালোভাবে উঠে এল ধর্মগত, ভাষাগত ও জাতপাতগত বহুবিধ স্বাতন্ত্রময় পরিচিতির অধিকার আন্দোলন। সরকার ও প্রশাসনের কাজ হয়ে দাঁড়াল বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপের মধ্যে স্থিতাবস্থা রক্ষা করা।

এই পালটানো সময়টাকে কীভাবে দেখতে চাইলো বাংলা আখ্যানের? দেখার কত রকমের ধারা তৈরি হলো এই সময়ে? এখানে তার কিছু জরিপই আমরা করতে চেয়েছি। আমাদের মনে হয়েছে এই নিওলিবারাল অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে, তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ধ্বজা তোলার কথা সবচেয়ে শিল্পসুষমার সঙ্গে বলতে চেয়েছেন নবারূণ। তবে তিনিও সময়ের বাস্তবতা মেনে ক্লাস ওয়ারয়ের হারবার্ট, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে ক্রমশ সরে এসেছেন কাঙাল মালসাট বা মসোলিয়াম-এর ফ্যাতাড়ুদের সাবভার্সান এর দিকে। অন্যদিকে নব্য উদার অর্থনীতি যে উন্নয়ন এর মধ্যে দিয়ে তার হেজিমনি বিস্তার করতে চায়, দেবেশ রায় এর মতো অনেকে সেই উন্নয়ন এর শ্রেণিচরিত্র, আঞ্চলিক বিন্যাস নিয়েই প্রশ্ন তুলতে চান। তিস্তাপারের বৃত্তান্ত সহ লেখাগুলির মধ্যে দিয়ে বাঘারুরা প্রশ্ন তোলে এই উন্নয়ন কাদের উন্নয়ন, কীসের বিনিময়ে উন্নয়ন? নিম্নবর্গীয়দের আইডেনটিটি নিয়ে গভীর গবেষণা সঞ্জাত আখ্যান লিখতে অভ্যস্ত দেবেশ রায় স্বাধীনতার ঠিক আগে আম্বেদকার এর নেতৃত্বাধীন দলিত আন্দোলনের বঙ্গীয় অধ্যায়টিকে খুঁজে বের করেন। মহাকাব্যিক পরিসরে লেখেন বরিশালের যোগেন মণ্ডল ও তার নিম্নবর্গীয়দের নিয়ে আন্দোলনের উজ্জ্বল কাহিনী। আবার এই নতুন সময় যে সমস্ত নতুন পরিচিতি আন্দোলনগুলোর জন্ম দিয়েছে তাকে নিয়েও আরেক গবেষণাধর্মী উপন্যাস লেখেন স্বপ্নময় চক্রবর্তী। হলদে গোলাপ এলজিবিটি আন্দোলন ও তার প্রতর্কগুলি নিয়ে সম্ভবত বাংলা ভাষায় লেখা সবচেয়ে বিস্তৃত আখ্যান।

আবার এই নতুন আর্থিক ব্যবস্থা মূলত যে শহুরে নাগরিক উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত অংশর যুবক যুবতীদের থেকে তার চালিকাশক্তি ও সমর্থনভিত্তি খুঁজে নিতে চায়, তাদের সাংস্কৃতিক মননকে নতুনভাবে গড়ে পিঠে নেয়, তার অনুষঙ্গেও বাংলা উপন্যাসের একটি ধারাকে আমরা বিকশিত হতে দেখি এই সময়ে। কলেজ পড়ুয়া বা সদ্য পাশ করা কসমোপলিটন ছেলেমেয়েদের চালচলন, ভাবনা চিন্তার রকম সকমকে সাম্প্রতিক সময়ের বাংলা উপন্যাসের এ ধারাটি অন্তরঙ্গভাবে ধরতে চেয়েছে। বাণী বসুর একুশে পা এদের নিয়ে লিখে একসময়ে আলোড়ন তুলেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারায় লেখালেখি করে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে সফল হয়েছেন স্মরণজিৎ চক্রবর্তী।

এছাড়াও আছে আরো নানা ধারা, নানা বৈশিষ্ট্য। শুধু এপার বাংলাতেই নয়, ওপার বাংলাতেও শেষ সিকি শতকে সৃজ্যমান আখ্যান সাহিত্য পরিমাণে বিশাল এবং বৈচিত্র্যে ভরপুর। সম্প্রদায়গত প্রশ্ন সেখানকার অনেক উপন্যাসে তুলনায় অনেক বেশি গুরূত্ব নিয়ে হাজির হয়েছে। তসলিমার লজ্জা-র মতো পপুলার রাইটিং ছাড়াও হুমায়ুন আহমেদের পাক সার জমিন সাদ বাদ -এর মতো রচনার কথা আমরা এই সময়ে ভাবতে পারি। আবার অন্য যে কোনও সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় থ্রিলার লেখার প্রবণতা বেড়েছে। একজন শরদিন্দু বা একজন সত্যজিত রায়ের জায়গায় বহু আখ্যানকারই এই সময়ে থ্রিলার লিখছেন বা থ্রিলারের ট্রিটমেন্ট সিরিয়াস নভেলে নিয়ে আসছেন। সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো জনপ্রিয় আখ্যানকারের রচনার কথা আমরা এই প্রসঙ্গে মনে করতে পারি। আবার এই সময়েই আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মত অনেকেই মগ্ন চৈতন্যের ধীর গভীর আখ্যানের মহাকাব্যিক আয়োজনের সাহস দেখান এবং কালজয়ী হয়ে ওঠেন। সব মিলিয়ে এই সৃজ্যমান সিকি শতাব্দীর উপন্যাস দু বাংলা মিলিয়ে আখ্যানের বিপুল বৈচিত্র‍্য ও আয়োজনে পূর্ণ, যা কোনও একজন ভাষ্যকারের সমীক্ষার পক্ষে বেশ দূরধিগম্য এক ক্ষেত্র। তবু কাজটা শুরু করতে হয় সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে। পরবর্তী কয়েকটি লেখাতে সেই চেষ্টা থাকবে।।

(ক্রমশ…)

 

 
 
top