কয়েকটি স্বপ্ন বিষয়ে আমি যা জানি

 

সে যখন বুঝতে পারলোতার বাঁদিকে বুকের কাছে কিছু একটা হচ্ছে, ততক্ষণে পানের দোকানে বিশুদা আমাকে সেন্টুমার্কা কনডোম ধরিয়ে দিয়েছে। সঙ্গে দুটো জম্পেশ মিষ্টিপান। আর হাতে দুটো লবঙ্গ দিয়ে বিশুদা হাসলো, যেন তারই হয়ে যাবে এক্ষুণি। লুঙ্গী তার মাদ্রাজী, আর বউটা কামহীন ধাপসা। আমি নগ্ন হয়েছি, আরও নগ্ন হয়ে যাবো । সে বললো, জ তোমাকে অন্য কিছু দেখাবো সোনা। চলো বারান্দায় বসি। তারপরবলো! মি তো বলবোনা! , আচ্ছা, শোনো! তোমার মনে আছে, গতজন্মে তুমি কোথায় ছিলে এই মুহূর্তে? কেনো তোমার তলপেটে ধ্যাভাবো না! দেখো, বেশ লাগবে। আমার মনে হচ্ছে বিহারী ব্যাটা লোভ দিয়েছে বাড়া ভাতে। আচ্ছা, তোমার কি আজ পিরিয়ডের আন্দোলনধু! তুমি না! কিছু আটকায় না। কেন বলবে তো! বুঝতে পারছিনা কী! কী হয়েছে কাল থেকে, কেন যে হোয়াইট ডিসচার্জ হচ্ছে..এই ব্যপারকী! কী ভাবছো বাবু? না, কিছুনা আমার স্মৃতিপট উজার করে দিয়েছি রুমির উঠোনে। মনে পড়ে প্রাচীন গ্রন্থাগার। আর সেখানে রিসেপশনিস্ট সে। প্রায় অট্টালিকাতার একটি কক্ষ ছিলো। উর্বশীর মামা, যে কিনা একদিকে এই গ্রন্থাগারের মালিক, অন্যদিকে তার রক্ষক ছিলো, সে যখন ভ্রমণে যেতো, তখন উর্বশী তার কক্ষটি খুলে রাখতো। কারণ তাকে দেখা করতে আসতো রুমির ছোট ছেলে রেজাল। সে এমন পুরুষ যার জন্য উর্বশী সারা জীবন যৌবন ধরে রাখতে পারে। রেজালের জন্য তার নতুন বউ, রাতে আশা করে থাকতো, যে সে আসবে হাওয়ার ছদ্মবেশে। কিন্তু রেজাল ছিলো ম্যাজিশিয়ান ,খামখেয়ালি। লোকে বলতো, তার চলার শব্দ ছিলো না। জলের ওপর হাঁটতে পারতো এতো নিপুণভাবে, যা অন্যদের কাছে ঈর্ষণীয় ছিলো। ফকির ঈশাক তার শ্রেষ্ঠ ছাত্র হিসাবে প্রচলিত ছিলো। পরবর্তীকালে এই ঈশাক রেজালের বউকে গুম করেছিলো। রেজাল শুনেছিলো, তার বউ শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য তাকে ভুলে গিয়েছিলো। রেজাল তার জলপটে ভবিষ্যতগুলো দেখতে পেতো। কিন্তু তা কাউকে বলতো না। সে যে অনেককাল আগে মারা গেছে, উর্বশী তা কোনওদিন বুঝতেও পারেনি। এই গল্পটা যখন আমি শুনেছিলাম, আমার স্মৃতিগুলো জড়াজড়ি করে হাততালি দিচ্ছিলো। আমি বুঝতেও পারিনি, আমার স্মৃতিগুলো আসলে মৃত। সে বললতুমি তো কিছুদিন রাঢবঙ্গে ঘুরে আসতে পারো! তোমার গ্রামে, যেখানে তুমি কিছুকাল কাটিয়েছো। তোমার বীজটা সেখানেই। তুমি বলেছিলেবিকেলের দিকে তুমি রহস্যগল্প পড়তে যাবেতোমার কিশোরবেলা আমারও দেখা হয়নি। আমার মনে হয়, তোমাকে বোঝার জন্যে আমারও তোমার সঙ্গে যাওয়া দরকার। সেই লতিকা মেয়েটি, যে তোমাকে চুমু খেতো, আর তার কামভাব প্রকাশ পেতো! তারপর তার কী হয়েছিল? সে আত্মহত্যা করেছিলো। কেন জানি না। হয়তো, তার পুরুষটি আত্মঘাতী হয়েছিলো! লো যাবেনা। আমি যে এই বাড়িটার অস্তিত্ব হয়ে বেঁচে আছি তা বোঝাতে চেষ্টা করলাম। সে বললতোমার বিষাক্ত বইগুলো বেচে দেওয়া হয়েছে। পুরনো বই হিসাবে তার দাম পাওয়া যায়নি। সেখানে কিছু ম্যাগাজিন ছিলো কবিতার। তোমার একটি কবিতাও ছিলো। আমি ওটা রেখে দিয়েছি। আর একটি বই রেখে দিয়েছি, মাল্যবান যেটা তুমি কবিতা বলতে। কবিতাই তো? দেখা গেছে তোমার বাথরুমে ন্যাপকিন পড়েছিলো। সে কে ফেলেছেকে জানো! না, আমি কি কখনও ঋতুমতী ছিলামসে বললতুমি তো রক্তবমি করতে! ক্ত! রক্ত না, রক্তের কবিতা? তুমি বলোনি কিছু। আমার মনে আছে, মায়াবী জানলা দিয়ে তোমার ন্যাপকিনে মুছে রক্তগুলো ফেলে দিতাম। আর রুমি তা দেখে হাসতো তোমার ইনস্যুরেন্স কোম্পানি চিঠি দিয়েছে। এটা শেষ সুযোগ তোমার ইনস্যুরেন্সগুলো রিভাইভাল করার জন্যআমি কোনও উত্তর দিলাম না। চ্ছা, আমি কি বেঁচে আছি! না তোমার স্বপ্নে আমি এসেছি! সে কোনও উত্তর দিলোনা। তার পেট ফোলা মনে হচ্ছে। সে প্রেগনেন্ট। আমি জিজ্ঞাসা করলামতুমি কি এখনো রিসেপশনিস্ট আছোনা প্রেগনেন্টকালীন ছুটিতে আছো? সে বললো, তার স্বপ্নটা মারা গেছে গতকাল। তাই সে এসেছে। কিন্তু আমি সেসব পাত্তা না দিয়ে তার পাছার কাছে তিলের স্বপ্নে ভেসে গেলাম। একবার চিমটি কেটেছিলাম তার ওই অন্ধকারে। তা দেখে সে বলেছিলো, শয়তানতোমার মনে আছে, তুমি একবার আমার জন্মদিনে কী দিয়েছিলে? কীকেন মনে নেই তোমারনা, আমার মনে নেই, তার কারণ আমার সব অনুভুতিগুলো মৃতমি কোনওদিন ভদ্র হতে চাইনি। সেও চাইতো, আমি যেন আরও বেশী শয়তানী করি তার গতরে। সে যখন ছুটি পেতো, তখন জিজ্ঞাসা করতো আজকে হবে কিনা। তার শরীরে কী কী বৃদ্ধি বা হ্রাস পেয়েছে, তা পোষাক খোলার সময় বলতো। একটা অদ্ভুত আন্দোলন হতো দৃশ্যটা। মদ না হলে, তার শরীর যেন ভাস্কর্য মনে হতো। সে বললো, তার আসার কারণ কিন্তু স্বপ্নে ভেসে থাকা। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করতাম না। তা নিয়ে তার সাথে তর্ক হয়েছে বহুবার। তার চোখে আমি স্বপ্নের একক দেখলাম ইলেকট্রিশিয়ান তার মেরামতি করে। তার কাছে একটা স্বপ্নের কথা জানাচ্ছিলো। সে বলছিলো, তার স্ত্রী যে স্বপ্নটা দেখেছিলো, তা তার পর্ন বইগুলো নিয়ে। সে দেখেছিলো তার বইগুলো ঈশ্বর পড়ার জন্য চুরি করেছে, এবং তা অস্বীকার করেছে, যে তার এমন স্বভাব নয়। তুমি কি জগদীশ পড়বে? আমার মনে হচ্ছে যোগাযোগটি আরেকবার পড়বো। সেটা রুমি নিয়ে গেছে। কে! আমিতো তাকে দিইনিসে চুরি করেছে বোধহয়কিন্তু সে কি ভাগ্যে বিশ্বাসী ছিলোনাবোধহয়। কেননা তার স্বপ্নগুলো সে দেখছিলো তামর প্রদেশে, যেখানে সে সম্মান পেয়েছে কিছুটা। বণিক সান্নিধ্যের কারণে আমিই সেই মানুষ, যে কিনা পৃথিবীর স্বপ্নগুলো লুকিয়ে রেখেছি। এই অহংকার আমাকে দিয়েছে জন্মরহস্যের কৃত্রিম ঘন ভাবনা,যার ওপর ভর করে আমি টিঁকে আছি। এই গোপন তথ্য ফাঁস করার ইচ্ছা আমার কোনওদিন হবে না। কারণ আমি ঈশাকের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সে ভেবেছিলো এই। তার কিছু করার আছে। মায়াবী জানলা দিয়ে সে পালিয়ে যেতে চায়নি। সে আমার সারল্যকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। তা জেনেও আমি তার আনুগত্য স্মারক হিসাবে দেখবো। দেখি রুমির রক্ষিতা মৃতদেহের পাশে কাঁদছে, আর রুমালে তার নাক মুছে নিচ্ছে। তার চশমাটা সে খুলে রাখে বুকে। এখনও তার পেট দেখলে মনে হয় আমারই সন্তান। সে ভান করে পরের বছর, অর্থাৎ তার জন্মের ঠিক আগের দিন মৃত্যু হয়।

 
 
top