রক্তক্ষরণের দিনগুলি

 

রস আস্বাদনে দিও গোপন আশ্রয়

সে কখনও নিজেকে দেখার সাহস পায়নি, কারণ তার স্বপ্নটা ছিলো একটা মেধার। দাসত্ব গ্রহণ করেছিলো সে ।তার পকেট এখন গরম, পারলে কিনে ফেলে আমার স্মৃতিগুলো। সে বলল, তার স্ত্রী একটা লম্বা ছুটি নিয়েছে। যেটা সে স্বপ্নে দেখতো, যে সে একটা ক্ষমতায় আটকে আছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছে।

বিয়ের পর পর খুব চলতো কায়দা করে রগড় করা, লম্বা একটা চুমু বাঁধা থাকতো। এখন আমার অন্য মেয়েদের দেখে ভালো লাগে, বিশেষ করে সুন্দরী মহিলা নাহলে জমে না। টাকা-ফাকা দিয়ে কিছু ম্যানেজ করি

তার এই চাকুলে হট-স্ট্রোক আমাকে আরও বিরক্ত করছে। সে কী প্রমাণ করতে চাইছে? না কি তার পেট খারাপ! আমি চাইছি আমাদের কথাবার্তা শেষ করতে।

মি কখনও গল্প লিখতে চাইনি। না, চাইনি তো! চাইনি তো চাইনি! তাতে কী?
কিন্তু সে আমাকে লেখার জন্য পেড়াপেড়ি করতো। লিখতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছি ভাষা, নিজেকে খোঁজার চেষ্টা করেছি, তাও পারিনি। কেন পারিনি!

সলে, তোর মতো জাত-ফাত নিয়ে আমার কিছু বলার নেই

না, আমি রাজনীতি নিয়ে বিশেষ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। মনে মনে বললাম।

না, আমি তোকে কিছু হতে বলতে পারি না, নির্দেশ দিতে পারি না। 

মি চাইনি কাম্যুর মতো কিছু একটা লিখতে।না জানোয়ার হয়ে কিছু করতে। যদিও লেখা ছাড়া আমি কোনও কাজ মন দিয়ে করতে পারি না; আমি লিখবো কি লিখবো না, তা নির্ভর করছে, আমি যদি এর থেকে কোনও ভালো কাজ পাই। কেন লিখতে চাইনি, বা যদি লিখলাম, তা কেন গল্প হয়ে গেলো; অথবা যা আমি নই, তা কেন ফলাও করে বলতে যাবো! আমার কি গাঁড়ে দম নেই, না দেশের এক নম্বর কাগজে নিজেকে বেচে দেবো!

ব্যাটা খাঁকিয়ে ছিলো, যেন চপারে সব কচুকাটা করবে, ফিনকি দিয়ে কিছু একটা ঝরে পড়বে, আর বলবেকি হে! কি দেখছো! তোমার লেখা গুলো চাটার থেকে এগুলো খুব ভালো। তোমার মতো গাঁওয়ার আমি দেখিনি। বিয়ারের কথা মনে পড়ে যায়। আহ্! বিয়ার!

সে আবার গর্তে ঢোকার প্ল্যান করছে।

সে এসব শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। সে এমন ভাব করলো, যেন মুখের উপর বমি করবে , ভেবেছিলো তার একটা অবদান আছে। থাকার কথা, আবার একটা বিয়ার, আবার একটা মেয়েকে ইশারা, আর কীইবা সে করতে পারে!

নিজেকে বাঙালি বলে সে গর্ব করতে গিয়ে, গাল দেয় আমাকে,আমি শোনার ভান করলাম, গুরুত্ব দেওয়ার। কিন্তু, আমার মাথায় তখন ঘুরছে ক্যাশ ক্রেডিট লোন নিয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের শর্ত। শালা! ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে, শেষে জাস্ট মুখের উপর চুদে দিলো!

সে তখনও আমাকে চেষ্টা করে যাচ্ছেতোমরা শালা বেশ্যার দালাল। কী একটা রক্ত, যা তোমাকে চামার বানিয়ে রাখলো! আর কতোদিন রাস্তাঘাটে আহাম্মক হয়ে ঘুরবে! সম্ভবত: সিকি আধুলিও নেই যে, তোমরা উল্লাস করতে পারো

লুপ হোলস্ একটা জাতির সব শেষ করে দেবে। তারপর আবার একটা ফালতু ধারণা। ভাবলাম, এসবের কি কোনও মানে আছে?

এক, আমি মার কথা ভাবতে চেষ্টা করলাম। দুই, ইভার অসুখের কথা।

এভাবে অনেকগুলো এঁঠোলিকে বিদায় জানানোর জন্য বিয়ার নিলাম। একটা টসটসে কাপল আমাদের সম্পর্কে একটা কৌতুক ছুঁড়লো। আমরা দুজনেই একসঙ্গে লুফে নিলাম। কিছুটা পর্ন স্টারদের মতো আমরা গর্বিত অনুভব করলাম সামান্য কিছু টাকার জন্য আমাকে একবার প্যান্ট খুলতে হয়েছিলো।এটা ভাবতে ভালো লাগে, ওরা আমার শরীর জুড়ে একটা রগরগে কিছু করবে ভেবেছিলো, কিন্তু শালা, দোকানের মাগীটা আমার ওপর দয়া দেখালো। ওদের শান্তি হয়েছিলো আমাকে উলঙ্গ দেখে।

যেহেতু সে আমার বন্ধু থাকার ভান করে, তাই আমিও নিজেকে আরও নামালাম। আরও একধাপ, মনে হলো, কয়েকটা বিয়ার নিলে হয়। যেমন মৃত মানুষকে বেঁধে, টানতে টানতে ঘোরানো হয়। আরও একধাপ নামলাম, যেভাবে পোঁদ উল্টে পরে থাকা লাশ, কিছুটা নেশাগ্রস্ত। কিছুটা অসাড়তার জাম্প করা দেখতে, পোকা ধরে যাওয়া একটা শরীরে বেদম পেটানো। এটা দেখতেই ওদের জন্ম। অধিকার। রাস্তার কুত্তার মতো। মেয়রের মতো। ল্যাদানো শিক্ষকের মতো। অলস মুখে মুতে দেওয়ার মতো। সে ভাবতে থাকে এই জাতটার এতো অহংকার! সব ব্যাটা ফড়ে, লোভী, জোঁক শালা! রুটলেস!

এদিক থেকে তুমি কর্মহীন জীবন যাপন করতে পারো, নিজেকে প্রমাণ করতে পারো, ভাষণ দিতে পারো, যা শুনে তারা হাততালি দেবে। বাড়ি ফিরে, সেইসব আচরণ ফলো করবে, তুমি যা শিখিয়ে টিখিয়ে দিয়েছো। তারা তোমার সেবায় মনোনিবেশ করবে। যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়, সে ভাববে তার মুক্তি সেখানেই। পরজন্ম প্রত্যাশী তারা বুঝতে পারলোনা, যে তুমি এদের প্রতারণা করছো। সে তোমার কথা চিন্তা করবে, মেজাজটা পানসে হয়ে যাবে, কাউকে সে বিশ্বাস করবে না।শুধু তোমাকে ছাড়া তার নাভিকুণ্ড অসফল । তোমাকে স্বপ্নে দেখবে, সঙ্গম করতে চাইবে।তোমার শরীর, দেহরক্ষী, পাপবোধ, ঘৃণা, ভাষণ তা হতে দেবেনা। তুমি শুধু চাইবে আরও আরও শরীর, আত্মীয়। এভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে সম্মান পাবে।

কেন বারবার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করি আমি! সেইসব লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছি, যা আমাকে কিছু হতে বলে, দেখো ওরা হয়েছে, তুমিও হও। তুমিও যাও, আর ওদের পোঁদে ঠেকিয়ে লাইনে দাঁড়াও। দেখবে, তোমারও কিছু করতে ইচ্ছা হবে। আন্দোলনে সামিল হও। কিছু একটা করো, যা তোমাকে কভার করবে, যা তোমাকে শান্তি দেবে। বাড়ি ফিরে তোমার পার্টনারকে ধর্ষণ করবে। সে বাড়ির বাইরে থাকলে, সেল্ফ ব্রাশ আপ। ঘুরেঘুরে নাচনকোঁদন, বিপন্নতার চিত্রহার, সব ভেঙে পড়ুক। গর্তে ঢুকে যাক স্মৃতির দূর্গ।দমবন্ধ করা একটা উমুগুড়ি। সে বেরিয়ে আসতে চাইবে, কিন্তু পারবেনা। এখানেই ধীরে ধীরে স্লো পয়জনার তাকে শেষ করে দেবে। প্রতিষ্ঠানগুলো তার মৃত্যুকে স্যালুট করবে, পুরস্কৃত করবে, আর বলবে, “ভাবে তোমার গুষ্টি শেষ করে দাও

এটা একটা বড় খেলা, যা তোমার আতিপাতি নোংরামো, একটা আইডিয়াতে বন্দী, জাস্ট কচকচি। ন্যারেটিভে ঢাকা একটা শহর যার যোনিদেশ লুকিয়ে ফেলেছেন যাদুকর। আর অন্ধকার হলে যেমন পুরুষের মনটা ছোঁকছোঁক করে, আমারও মনটা ল্যাদানো ন্যারেটিভ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চায়। নিজেকেই বোঝাই মূলত: একজন ফেরেব্বাজ আর কীইবা করতে চাইবে !

সে যে প্রথম থেকেই তেলবাজ, তা জানতাম। একটা কুটকুটে আলকুশ। যার পেছনে লাগবে, লেগেই থাকবে।

ভাবলাম বলি, তুমি কি আমাকে তাতানো মাল পেয়েছো?

সে আমার কানের কাছে মুখ রেখে চুমু খেলো, তোর গালটা মাখনের মতো। তোর জন্য একটা বই আছে, পাবি। কী বই সেটা এখন রহস্য থাক

আমিও সুযোগটা ছাড়লাম না। ইন্টিমেট জার্নালস-এর কিছু অংশ তাকে পড়ে শোনালাম। তার মুখ দেখে মনে হলো আর কোনওদিন বইয়ের ব্যাপারে সে বলবে না। এটা পোঁদে পেট্রোল দেওয়ার মতো একটা ঘটনা।

মনে আছে সফলতা-নিষ্ফলতা, বই আকারে বেরিয়েছিলো ২০০৪-এ। তখন একজন সফল গোয়েন্দা হতে চেয়েছি। কেন, তা বলতে পারবো না। ঠিক তার দু বছর আগে পরিচয় হয় হ্যারিয়েট মনরোর পোয়েট্রির সাথে। আমি তখন একজন সফল প্রেমিক বলা যেতে পারে। কেননা একমাত্র একটি মেয়ে, সে কাফকার নাম উচ্চারণ শুনে প্রায় তিন মিনিট ধরে চুম্বন করেছিলো। কলেজ ক্যাম্পাস তখন একজন টারজনকে লক্ষ্য করছে। তার গতিবিধি। হেলে ধরা গান্ডু কীভাবে খড়িশ নিয়ে নাচে।
ইভা, যার শরীর ছিলো ইস্পাতের মতো, যাকে বলা যেতে পারে সফলতা নেই, শুধু নিষ্ফলতা দিয়ে, স্বপ্ন দিয়ে ঢাকা,যাদু বাস্তবতার আপাত অযুক্তি দ্বারা আক্রান্ত,কবিতার সফলতা দিয়ে তা গুঁজে দেওয়া।

আমি এসবের থেকে দূরে থাকতে চেয়েছি। না, আমার মনে হয়নি, এমন কিছু গদ্য নিয়ে হয়েছে। কমলবাবু যা দেখাতে চেয়েছিলেন, তা আমাকে স্পর্শ করেনি। এমন কি, সন্দীপন যা, তা সফলতা নি:ষ্ফলতা ছাড়া আর কিছু নয়।

তো হয়েছে কী? আমাদের হয়েছে গোয়েন্দা হবার বাসনা। আমরা একদিন, (ইভা জানতে চাইলো, আমার স্মৃতি নিয়ে কিছু কথা) বলছিলাম,আমাদের সভ্যতা নিয়ে, আমরা ঠিক কী ভয়ানক ভ্যানতাড়া করি। আমি যে স্বপ্নটা দেখেছিলাম,স্বপ্নটা ছিলো, একটা বিবাহিত মহিলাকে নিয়ে, তার শরীর, তার চাহিদা, তির্যকভাবে তাকানো, সে একদিন আমাকে ইশারা করলো।

(ক্রমশ…)

 
 
top