রক্তক্ষরণের দিনগুলি

 

 

Pain and suffering are always inevitable for a large intelligence and a deep heart. The really great men must, I think, have great sadness on earth…

Crime and Punishment

আমি বেসিক্যালি একটা উরহীন। ভড়ং। জোলো।

সে বলল যে, টা ভাবা স্বাভাবিক যে, তোমার মতো কুকুরগুলো আমাদের সম্পর্কে একটা ফালতু ধারনা ভাবলাম যে, সে হয়তো এমনটাও করতে পারে মেয়রের জন্য। তার মনে হয়, রাস্তাঘাট পরিষ্কার থাকা দরকার।

আইডিয়া, যেখানে অস্তিত্ব নেই, অস্বস্তি চরম। ছাঁকামাল, গণ্ডীহীন, নিশ্চিতভাবে গান্ডু-মার্কা প্রোডাক্ট।

লো আমরা একটু হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি। এই প্রতীকি সমবেদনা, খাঁ খাঁ রাস্তাঘাট, কোনো মাদিচোদ ধান ঝরাবে না জানি

ভাবে নিজেকে ভাবছ কেন? তোমার উচিত একটা বিয়ার নিয়ে আসা, যাতে আমরা দুপুরটা উপভোগ করার রসদটা পাই। আমরা একটা খেলা নিয়ে কিছু বলতে পারি

তুমি বাঁড়া আফিমের কারবারি করো। তাতে কিছুটা সুখ অর্জন করতে পারবে

যাকে আমি প্রতিদিন চেঁছে নিয়েছি হেঁসো দিয়ে, এটাই আমি। মানে আমার বেঁচে থাকার একটা ফন্দি, জাস্ট বোকা বানিয়ে দেওয়া, যেটা রপ্ত করেছি । একবার ভাবলাম এই দুপুরে ওর পোঁদ মারার আদর্শ সময়যেভাবে ওরা আমাকে চেষ্টা করেছিল। আমি তখন পুঁচকে শয়তান।

মার জীবনযাপনে আমিই শেষকথা। কোনও চুদুর-বুদুর চলবে না। পারলে গেলো, না হলে হাঁটো

যদিও সে স্বপ্ন দেখত, একটা উজবুক শহর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছে, তার শোকসভাটা রাখা হয়েছে মেয়রের বাড়ির কিছুটা দূরে।

মেয়রের শুয়োরদের বোঝানো হচ্ছে যে, আজ শোকসভা, তাই যেন শান্তি বজায় রাখা হয়। দুজন পেয়াদা গোছের কর্মকর্তা তাদের শান্ত মুখ প্রদর্শন করতে ব্যস্ত। এদিক সেদিক পড়ে থাকা জংধরা লোহা, জলের পাইপ, মদের বোতলভাঙা। সেগুলো মনে হল, আগত অতিথিদের বিরক্তিভাব প্রকাশ পাচ্ছিলো। শুয়োরের খোঁয়ারে দেখি কেউ বিরোধী মনোভাব গড়ে তুলছে। ব্যাটা মেয়র শুধু মেয়েদের বুকের দিকে হাঁ করে থাকে।

হে! তুমি কি জানো বেশ্যাপট্টিগুলো এর থেকে আরামদায়ক! পাপের প্রতিষেধক নেওয়ার পক্ষে, আত্মস্থ করার পক্ষে, মোক্ষম পবিত্র কবরস্হান

তুমি কি যাবে?

অনেক,অনেক কিছুই পেয়েছি,আধুনিক মানুষের জীবন যে এক অর্থহীন শূন্যতায় জট পাকিয়ে গেছে, সূর্যের রৌদ্রে আক্রান্ত এই পৃথিবী যে কোটি কোটি শুয়োরের আর্তনাদে উৎসব শুরু করেছে।

আমার মনে আছে, যেহেতু, এটা একটা আইডিয়া অভ্যাস। বীরত্ব মনে হতে পারে, কিন্তু না, আমার কোনোভাবেই ভান ছাড়া কিছু মনে হয় না। সেদিনটা ছিল আমার স্মৃতি নিয়ে বাঞ্চোত বিরোধীদের দ্রুত জাগলিং করা একটা সকাল।

ইভা আমার কাছে এসেই দূর্দান্ত একটা নাটক করেছিল। এটা একটা অভ্যাস বিস্ফোরণ।

ই শোনো! আজ আমার একটা আবদার রাখবে?

আমি একটা আইডিয়া নিয়ে ভাবছিলাম, সে বলল, জ তোমাকে খাব। দেবে? জাস্ট খিদে। কোনো কারণ জানতে চেয়ো নাতোমার শরীরের ওপর আমার লোভ, বুকের বাঁ দিকটা, বুকের লোমগুলোএটা রোগ বলতে পারো। মেয়ে হয়ে বলতে পারাটা আমার কাছে অতিরিক্ত নয়। তুমি কি পারবে ছেড়ে দিতে নিজেকে? আমার ওপর ছেড়ে দিতে হবে

কষাই আমার চোখগুলো দেখবে না। আমার গর্দানের দিকে তার নজর। সে নিজেকে ভাবে বিধাতা। তার কুকুরগুলো শুধু আমাকে শালা বলবে, ক্যালাচোদা ছাড়া তার বলার কিছুই নেই।

রক্ত না দেখলে তার স্মৃতিগুলো তাড়া করে, কাঁদতে থাকে, ঘুম আসে না, ওষুধ নিতে হয়, নেশা করতে ইচ্ছা করে, সঙ্গমের পর তার কিছু ভালো লাগে না, মন তনছিট করে, কেবলই মনে হয় এই সঙ্গম, এই অহেতুক গানবাজনা, দরকার ছিল কি! ভয়ানক একটা চুমু, যা পেট পর্যন্ত সুড়সুড়ি দেয়, দরকার ছিল কি!

আমরা ভাবছিলাম যে, আমাদের সম্পর্কটা একটা যুদ্ধের ময়দান হয়ে গেছে। কারণ আমরা কিছু এথিকস নিয়ে কথা বলছিলাম। আমাদের শিক্ষক যা শিখিয়েছেন, সেগুলোই মেনে নিয়মিত দুজন দুজনের খিদে মিটিয়েছি।

ইভা চেয়েছিল সন্তানহীন বেঁচে থাকা। মানেবিচ্ছিরিরকমভাবে শরীরে মেদ বেড়ে যাওয়া তার পছন্দ নয়। তার খিদেটিদে গুলো ফার্স্ট প্রায়োরিটি। আর, আমি শালা বেশ্যাদের বুকে মুখ লুকাতে চাইছি।

তুমি কি মনে কর?

মি তো এই যুদ্ধের জন্য আত্মত্যাগ চাইনি!

না, আমার কোনোদিনই যুদ্ধের ব্যাপারে উৎসাহ ছিলোনা। পচে যেতে চাইনি

তাহলে গাধা হিসেবে, তুমি নিজেকে ভাবতে পারো কামহীন একটা আইডিয়া

না বলিনি। দেখা যাবে, সম্ভবত আমার শরীর থেকে কিছু বদমেজাজি পাঁঠা জন্ম নেবে, যারা শুধুমাত্র জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে গাল দেবে যুদ্ধকে, কলাকৌশলে আঝোরা বাঁশ দেবে, আর স্বস্তি পাবে বলে নেশা করবে। ডানার জন্য আঁকুড়ি-পাঁকুড়ি করবে শেষ উল্লাসটা করবে পেটফোলা কলোনি। কর্তৃপক্ষ তার নির্দেশ না মানলে, তোমার খুলিটুকু থাকবে না। আমি যে ভয়াবহ বন্দোবস্ত বিষয়ে জানি না, তা নয়। বরং ভালো জানি, আর তাই সেসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। ভেবেছি তাদের দাসত্ব করা ভালো

তুমি কি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছ?

মি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম না। আজ তোমাকে আদর করতে চাই। তুমি রাজি আছ? না হলে আমি আসছি

আমি ভাষা নিয়ে, নির্মাণ নিয়ে, নিরহঙ্কার নিয়ে, নিজের ভেতর বসে থাকলাম। থাকলাম, তো থাকলাম । না, আমার কোনও ইচ্ছা ছিল না থলথলে পেটে, নরম স্তনে, দুধগঙ্গা ছড়িয়ে দিতে।

ইভা কি মাদারিকেও একই কথা বলেছিল, সে অতৃপ্ত! সে কি আদর থেকে বঞ্চিত! আমি জানি না, আমি কেবলই রক্তশূন্যতার স্বপ্নে ভেসে গিয়েছি। সে ভাবে, তার হাতের পুতুল টুতুল কিছু একটা, গলায় এমন একটা চেন দিয়ে বাঁধা, যা ভয়ানক। একটা ভাব প্রকাশ পেত, না নেশা করতে পারার জন্য। তা যখনই মনে হয়েছে, গোয়েন্দা হবার বাসনা নিয়েবার বার ভেবেছি। কেন অস্থির! কেন আজ তোমাকে আশ্রয় হিসাবে পেতে চাই! কেন তুমি আমার স্মৃতিগুলো কোট করতে চাও! সারারাত দাঁড়িয়ে ভিজেছি, তুমি আসোনি। কেন আসোনি! যদিও তোমার আসার অনেক সম্ভাবনা ছিলো, তবু আসোনি। ভেবেছিলে যারা পোঁদ মেরে জীবনযাপন করে, ঢের বেশি সচেতন কী বিষয়ে। জেনেছিলাম, কী পুরুষ, কী নারী, ব্যাটা সব একই চামড়া।

আমার স্মৃতিগুলো যে জলে ডুবে থাকবে, এর বেশি কী! মানে বীর্য, বিষে যেভাবে একটা জাতি প্রায় মেরুদণ্ডহীনভাবে হাঁটছেআসলে অনিয়ন্ত্রিত এক কাঠামোকে আঁকড়ে পড়ে থাকা একটি ভঙ্গুর, ভুরভুরে যোনিপথ, যা বৃদ্ধরা প্রায়ই সেসব দেখে কফ ফেলে। কিছু রক্ত, শালা, আমাদের ছুটিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের অণ্ডকোষ ধরে টান মারে। টনটন করে। সমস্ত ধারণা নিয়ে স্ট্রেচারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সর্বক্ষণ চলে ছক কষা, মেরে ফেলা, বাঁচার জন্য অন্ধকারে শ্যুট করা। যেভাবেই হোক, তারা সেই সব কুষ্ঠরোগীদের চিহ্ণিত করে ফেলে। তারা ভাবে, তারা যথেষ্ট জানে। তাদের ভাবনাগুলো, তারা যা বলবে, সেটাই শেষকথা। শেষমেশ, চিন্তাধারাগুলো মুছে ফেলতে চায়, ভেঙে ফেলতে চায়। অথচ আমরা বিদ্যালয়গুলো গোলাপ ফুলে ভরিয়ে তুলতে চাইছি। আমরা চাইছি আমাদের ক্ষতগুলো ঢেকে ফেলতে। নিজেদের সেয়ানে ভাবি। আমরা গড়ে তুলতে চাইছি ঠিকঠাক গড়ে তোলা। তবু ঘা থেকে, টিউমার থেকে, বেরিয়ে পড়ে চেতনার পুঁজ, রক্ত। বমি করলেও আমরা আবার চেটে নিই পুনরায়।

সে কিছু না ভেবে পোশাক তুলে নিল। কোমরের ভাঁজে যেন কয়েকশো বছরের যন্ত্রণা বেঁধে রেখেছে। দিন দিন তার স্তনগুলো আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠছে। এর বেশি কিছু ভাবতে পারছি না। সে যখন আরও কম বয়েস, তার শরীর ছুঁয়েছিল তার খুড়তুতো দাদা।

তুমি চাও না যে একটা প্রস্তাব, একটা আইডিয়া, একটা ভালো অভ্যাস, একটা সফল প্রোজেক্ট, আমাদের সম্পর্কে লোকে ভালো বলুক

মার মনে হয়, তুমি তোমার শরীরকে প্রতারণা করছোযা তোমাকে শান্তি দিতে পারত। তোমার বন্ধুরা তোমাকে বিশ্বাস করতে চাইত। লেখাগুলো দিয়ে তোমার যা হতে পারে, তা একটা ফন্দিফিকির বাজের রক্ত ক্ষরণের সততা। এটা একটা অভ্যাস হতে পারে না।

(ক্রমশ…)

 
 
top