রুশ বিপ্লবের কথা

 

ক্রেমলিনে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের পড়ার ঘরে সোফার ঊপর দেওয়ালে ছিল কার্ল মার্কসের একটি প্রতিকৃতি। সে প্রতিকৃতি তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন পেত্রোগাদের শ্রমিকরা। তাঁকে আরও একটা প্রতিকৃতি উপহার দিয়েছিলেন পেত্রোগাদের শ্রমিকসাথীরা। একটি বাস রিলিফ। স্টিপান নিকোলায়েভিচ খালতুরিন (১৮৫৭-১৮৮২)-এর। সে প্রতিকৃতিও বিরাজ করছিল লেনিনের পড়ার ঘরে স্বয়ং কার্ল মার্কসের ঠিক পাশে। এক অনন্য অবস্থান অন্বয়, শ্রমিক-কৃষকের মহত্তম বিশ্বনেতার পড়ার ঘরে, শ্রমিকদেরই আয়োজনে। শ্রমজীবী মানুষের মহামতি মন্ত্রদাতার পাশে পঁচিশ বছরে শহিদ হওয়া এক শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠকের।

নভেম্বর বিপ্লবের প্রেক্ষিত, ঘটনা নিয়ে ক্রমকথায় যাওয়ার আগে এই একটি মাত্র পর্বে আমাদের আর একটি মাত্র বলে নেওয়ার কথা নিকোলায়েভিচ খালতুরিনের সেই প্রতিকৃতিতে কুর্নিশ গচ্ছিত রেখে। সে কথা হল এই, একের পর এক বিপর্যয়ের হাজিরা, নিপীড়ন-নির্যাতন-সন্ত্রাসের নিশ্ছিদ্র আঁধারেও আত্মবিশ্বাস ও আশাকে বিসর্জন দেওয়া চলে না। নৈরাশ্যের কবলে পড়াই সহজ কথা। নৈরাশ্যের বান-বন্যা শুধু চুবিয়ে মারতে চাইবে, এর কোনো অন্যথা নেই। এমনকি বান্ধবপক্ষের, সপক্ষের অগণন মানুষের মধ্য থেকে নৈরাশ্যের ইতিউতি কথা উড়তে থাকবে প্রায় নিয়মিতই। এমন সময়েই পরিস্থিতির বস্তুবাদী বিশ্লেষণের সঙ্গে অম্লাম ও প্রজ্জলন্ত রাখতেই হবে আশা ও আস্থা, হতাশাকে তিলমাত্র জায়গা ছেড়ে দেওয়া চলতে পারে না। নভেম্বর বিপ্লবের অগ্রণী রণনেতার সমগ্র জীবন, আচরণ, কথন ও লিখন এবং সেই সঙ্গে এই মহাক্ষণ নির্মানে অগনিত মানুষ ও সাথীর জীবন থেকে নেওয়া এ এক পাথেয় পাঠ।

বৃত্তিতে ছুতোর মিস্ত্রি ছিলেন সাংক্ত পিথেরবুর্গের (সেন্ট পিটার্সবার্গ) নিকোলায়েভিচ খালতুরিন। মাত্র বাইশ বছর বয়সে গড়ে তুলেছিলেন শ্রমিক সংগঠন। সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা ও দুঃসাহসের অন্ত ছিল না খালতুরিনের। জারশাহির ধারাবাহিক সন্ত্রাসে শ্রমিক সংগঠন ভেঙে যাওয়ার পরে সন্ত্রাসবাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন খালতুরিন। জারকে হত্যা করার লক্ষ্যে শীত প্রাসাদে ঢোকারও পথ করে নেন ছুতোর মিস্ত্রির বৃত্তিকে আশ্রয় করেই। জারের আবাসের মাটির তলায় প্রবেশেরও পথ গড়ে ফেলেন। ভোজনকক্ষের তলায় বসিয়ে দেন বেশ কয়েকদিন ধরে সংগ্রহ করা ডিনামাইট। বিস্ফোরণও ঘটাতে পারেন। আমন্ত্রিত অথিতি প্রিন্স আলেক্সান্দ্র অব বার্তেনবার্গের আসতে দেরি হচ্ছিল। তাঁরই জন্য অপেক্ষা করছিল জার দ্বিতীয় আলেক্সান্দ্র। ফলে ভোজনকক্ষে ছিল না সে। থাকলে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজ আহারই তার শেষ খাওয়া হত। বিস্ফোরণে নিহত হয় ৮ জন এবং আহত কমপক্ষে ৪৫। এতবড় নাশকতার পরও জার পুলিশের নাগাল এড়াতে সমর্থ হন খালতুরিন। পালিয়ে যান প্রথমে মস্কো, তারপর ওডেসা। উদ্যম ও দুঃসাহস থেমে থাকে না তাঁর। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ১৮ মার্চ খুন করেন ওডেসা পুলিশের বড়কর্তা স্ত্রেলনিকভকে। সহযোগী বিপ্লবী ঝোলভাকভকে পালাতে দিতে চেয়েছিলেন খালতুরিন। হয়নি। ধরা পড়েন দুজনেই। দ্রুত নয়, তৃতীয় আলেক্সান্দ্রের নির্দেশে অতি দ্রুত বিচার, বিচারে যা হয়—২২ মার্চ ফাঁসি। এমন অনেক আত্মত্যাগ, জীবন-মৃত্যু তুচ্ছ করা সক্রিয়তা ও দুঃসাহস, যা শাসকের ক্ষমতাধর কলিজায় গোপন ভয়ের হিম বুনে দেয়, পার হয়েই তবে জনতার সমবেত জাগরণ ও আন্দোলনকে মার্কসবাদের সৃজনশীল বিজ্ঞানভিত্তিক পথে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের এক একটি ধাপে পৌঁছে দেওয়া।

রাশিয়া থেকে রবীন্দ্রনাথ পাড়ি দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তেমনই ছিল তাঁর পর্যটন সূচি। ১৯৩০ খ্রিস্টব্দের ৩ অক্টোবর রাশিয়া ছেড়ে ৯ অক্টোবর ন্যু ইয়র্কের জাহাজঘাটা। ভারতে তখন আইন অমান্য আন্দলনের পর্যায়। ২৫ অগস্ট পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্টকে লক্ষ্য করে বিপ্লবীদের বোমা, ২৯ অগস্ট পুলিশ ইনস্পেক্টর জেনারেল লোম্যান, ঢাকার পুলিশ সুপার বিপ্লবীদের লক্ষ্যে গুলিবিদ্ধ ও নিহত। প্রতিক্রিয়ায় শাসকের বে-লাগাম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। খবর পাঠাচ্ছিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। খবরের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে লিখেছেন:

সম্প্রতি রাশিয়া থেকে এসেছি—দেশের গৌরবের পথ যে কত দুর্গম তা অনেকটা স্পষ্ট করে দেখলুম। যে অসহ্য দুখঃ পেয়েছে সেখানকার সাধকেরা পুলিশের মার তার পুষ্পবৃষ্টি। দেশের ছেলেদের বলো, এখনও অনেক বাকী আছে—তার কিছুই বাদ যাবে না। অতএব তারা যেন এখনই বলতে শুরু না করে যে, বড়ো লাগছে…।

রবীন্দ্রনাথ হয়তো ভাবছিলেন আন্দোলনের এই পর্যায় তো কবে পার হয়ে এসেছে রাশিয়া। তবে তো নভেম্বরের উত্তরণ। ১৯১৭র নভেম্বরের খবর রবীন্দ্রনাথ রাখছিলেন। ১৯১৮র জুলাই মাসেই The Modern Reviewর পাতায় তিনি লিখে ফেলেছেন:

It is not unlikely that as a nation she (Russia) will fail; but if she fails with the flag of true ideals in her hands, then her failure will fade, like the morning star, only to usher in the sunrise of the new age.

রাশিয়ার সাধকদের দুঃখ-সাধনার কথা কবে জেনেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ১৯৩০র সেই সেপ্টেম্বরে নাকি আরও আগে—শ্লিসেলবার্গ দুর্গে একের পর বিপ্লবীর ফাঁসি। নিজের শ্বাসরোধ করে ফ্লিসেঙ্কোর, নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে গ্রাচেভস্কির, নিজের গায়ে কাঁচি চালিয়ে সোফিয়া জিনসবার্গের আত্মহনন। জারের দিকে ছোঁড়া বোমায় নিজেরই শরীর টুকড়ো হয়েছিল গ্রিনেভিৎস্কির। পিয়োতর পল দুর্গে শেকল বাঁধা অবস্থায় অনাহারে মৃত্যু হয়েছিল অসামান্য বিপ্লবী নেচায়েভের। অনিবার্যতই জেনেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, কীভাবে বিপ্লবীদের গোরস্থান হয়ে উঠেছিল সাইবেরিয়ার নির্বাসন। মরেছেন বহুজন, আত্মহত্যা করেছেন, উন্মাদ হয়েছেন কতজন! সাইবেরিয়ায় একুশ বছর নির্বাসন দণ্ড ভোগ করতে হয়েছে রাশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যভাবুক, অর্থনীতিজ্ঞ, কথাকার চের্নিশ্যেভস্কিকে।

‘দেশের ছেলেদের বলো, এখনও অনেক বাকি আছে—তার কিছুই বাদ যাবে না। ‘অনেক পার হয়েই বুকের পাঁজরে বিপ্লবের আগুন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কতজন! সে কথাও তিনি জেনেছিলেন নিশ্চয়। লেনিন কিংবা স্তালিনের নির্বাসন জীবনের কথা। অথচ এঁদের জীবনের জন্য নৈরাশ্য, চূড়ান্ত হতাশা কিংবা অবসাদের অতল ধ্বংস তার সবকটা পথই হাট করে খুলে রেখেছিল। যে বছর ভ্লাদিমির ইলিচের বাবা অকস্মাৎ প্রয়াত হলেন মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে, তার পরের বছরেই ১ মার্চ প্রেপ্তার দাদা আলেক্সান্দ্র। সাত দিনের মধ্যেই শ্লিসেলবার্গের ফাঁসিকাঠে সমকালীন রাশিয়ার রসায়ন ও প্রাণিবিজ্ঞানের সেরা ছাত্র আলেক্সান্দ্র য়ুলিয়ানভ। কিছু দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার দিদি আনা। ভ্লাদিমির তবু দেশের জন্য, দুনিয়ার জন্য পথ খুঁজছেন।

পাশে পেয়েছেন অমন মাকে। ছেলেমেয়েদের জন্য পুলিশ কাছাড়িতে একাকী তাঁকে যেতে হয়েছে একাধিকবার। এমনই এক হাজিরায়, ভ্লাদিমিরের জন্যই হাজিরা, এক পুলিশ অফিসার তাঁকে ব্যঙ্গ হেনেছেন, ‘আপনি তো আপনার সন্তানদের গর্ব করতে পারেন—একজন ফাঁসিতে গেছে, আর একজন ফাঁসির দড়ির জন্য তৈয়ার হয়ে আছে। ভ্লাদিমিরের মা উত্তর দিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, আমি আমার সন্তানদের জন্য গর্বিত। মধ্য বয়সেই স্বামীহারা এই মা তাঁর বিপ্লবী সন্তানদের অসম্ভব কষ্ট যেন বুক পেতে বইতে চেয়েছেন যতদিন, যতখানি সম্ভব।

গোর্কি জালোমভদের মা আন্না কিরিলোভনাকে নিয়ে ভুবনজোড়া আদর পাওয়া উপন্যাস লিখেছিলেন। য়ুলিয়ানভদের মা মারিয়া আলেক্সান্দ্রাভনাকে নিয়ে কোনো উপন্যাস লেখা হয়েছে কিনা জানা নেই। জানা থাকলে পাঠক সহায়তা করবেন। দক্ষ এবং দরদি হাতে তাঁকে নিয়ে উপন্যাস লেখা হলে, সে লেখাও মহাগদ্য হয়ে উঠত।

নির্বাসনের দিনে একের পর এক নির্বাসিত সাথীর রোগশয্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেখেছেন অর্থাভাবে, অনাহারে মরে যাচ্ছেন কতজন, হতাশা আর অবসাদে উন্মাদরোগ কিংবা মৃত্যুরোগের বীজ জমেছে কতজনের বুকে! নিজেকে তবু শরীরে, মনে সতেজ, সক্রিয় রেখেছেন। শরীরকে সক্রিয় রেখেছেন নিয়মিত ব্যায়ামে। মনকে সতেজ, দীপ্ত রেখেছেন অধ্যয়নে, লিখনে, তাত্ত্বিক অনুশীলনে। সাইবেরীয় নির্বাসনের দিনকালেই লিখেছেন পুস্তিকা রুশ Draft and Explanation of a Programmee for the Social-Democratic Party (১৮৯৭) এবং তাঁর চিরায়ত গ্রন্থ The Development of Capitalism in Russia (খসড়া প্রস্তুত অগস্ট ১৮৯৮, চুড়ান্ত রূপের প্রকাশ মার্চ ১৮৯৯, সাংকত পেতর্বুর্গ)। সাংগঠনিক এবং তাত্ত্বিক সক্রিয়তার মধ্যেই তিনি হয়ে উঠেছেন তাঁর পার্টি, তাঁর দেশ এবং দুনিয়ার মুক্তি আন্দোলনের জন্য আশাবাদের আইকন।

নির্বাসনের দিনকালেই ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের গ্রীষ্মে আত্মহত্যা করেছেন নিকোলাই ইয়েভগ্রাফোচিভ ফেদোসেইয়েভ (১৮৭১-১৮৯৮)। নির্বাসনে মার্কসবাদের তাত্ত্বিক প্রশ্নে কতবার লেনিনের সঙ্গে তাঁর মত বিনিময় ঘটেছে চিঠিতে চিঠিতে। তাঁর সুস্মিত, সুরসিক তারুণ্যের কী প্রাণবন্ত ছবি এঁকেছিলেন মাক্সিম গোর্কি তাঁর আত্মজীবননির্ভর গদ্যে। সাতাশ বছরের সেই তরুণ অর্থাভাবে, অনাহারে, কুৎসার ক্লেদে, অবসাদে অকাল বার্ধক্যের জ্বরায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল নিরাময়হীন অথর্বতা—কোনও কাজই করতে পারছেন না তিনি, কোনও কাজই করতে পারবেন না আর কোনোদিন। সুতরাং, নিজের জন্য নির্বাচন করে নিয়েছেন আত্মহনন। শুধু যাবার আগে নিজের দ্বিতীয় বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন একবার। যে বিবেকের নাম লেনিন। আশাবাদের অম্লান ধ্রুবনক্ষত্র ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। নিজের সকল লেখাপত্র ক্রুৎঝিঝানোভস্কির কাছে সঁপে দেওয়ার সঙ্গে ফেদোসেইয়েভ জানিয়ে গেছেন লেনিনকে বোলো, ‘স্বপ্নভঙ্গ থেকে নয়, জীবনের প্রতি সম্পূর্ণ এবং সর্বোচ্চ আস্থা রেখেই চলে গেলাম।’ পরের বছর ১৮৯৯র সেপ্টেম্বরেই নির্বাসনে মারা গেছেন আর এক অসামান্য মার্কসবাদী বিপ্লবী ভানিয়েভ। যক্ষায় মরে যাচ্ছিলেন তিনি। না, জেলখানা আর নির্বাসনের অনাহার খুন করেছিল তাঁকে। ফেদোসেইয়েভ মরেছিলেন গাঁ ভারখোলেনস্কে আর ভানিয়েভ মরলেন ইয়েরমাকো ভোসকইয়ে গ্রামে।

এসব মৃত্যুকে পাঁজরের খুব কাছ থেকে দেখেছেন জীবিত সাথীরা, যখন হয়তো মৃত্যু আর নিষ্ক্রিয়তার ঘ্রাণই ঘিরে ধরতে চাইছে। নির্বাসনের অসহ্য শারীরিক ক্লেশ, মৃত্যু ও অবসাদের ঘ্রাণ পার হয়ে আবার লড়াইয়ের সারিতে ফিরে যেতে যে মনের, চেতনার এবং শরীরেরও ইস্পাত দৃঢ়তা প্রয়োজন হয় তা সংগ্রহ আর সঞ্চয় করেছেন বেঁচে থাকা বিপ্লবীরা, সঞ্চার করে দিতে চেয়েছেন একে অপরের ব্যক্ত্যিত্বে।

করেছেন লেনিন।

জেলখানার দিনগুলি নিয়ে ক্রুৎঝিঝানোভস্কি লিখেছেন, জেলখানার লেনিনের চিঠি পাওয়া এবং পড়া যেন তাজা উষ্ণ পানীয় পেয়ে যাওয়া। মনের টনিকের মতো। এই পান তৎক্ষণাৎ একজনকে চাঙ্গা করে তুলতো। এই মানুষটার ছিল মনের জোরের এমন বিপুল সঞ্চয়, যার খুব প্রয়োজন তার চেতনাকে উজ্জীবিত করার এমন ক্ষমতা, যে যেকোন পরিস্থিতিতে বিশেষ করে জেলখানার দিনগুলিতে শুধু এই ক্ষমতাই, তাঁকে করে তুলেছিল এক অপরিহার্য কমরেড।’

তাঁদের জীবন ও কর্ম থেকে নেওয়া পাঠসমেত মহান লেনিনসহ নভেম্বর নির্মাতা মানুষ ও মার্কসবাদী বিপ্লবীরা আমাদের প্রতিদিনের অপরিহার্য সাথী।

(ক্রমশ…) 

 
 
top