সুড়ঙ্গ নগরী

 

. পারা, না-পারা

পারলি না?

না।

ত্যি, তোর দ্বারা না কিস্যু হবে না!

সলে

সলে আবার কী?

সলে আমি বুঝতে পারিনি, ব্যাপারটা এতটা ইমপর্ট্যান্ট হয়ে দাঁড়াবে!

বুঝতে পারিসনি, তাহলে আর কী! মাথায় ঘোল ঢেলে বসে থাক্! আরে এই পাইয়ে দেওয়ার যুগে এটাই তো মোস্ট ইমপর্ট্যান্ট পেপার ইন এনিওয়ানস কলেজ লাইফ! যে-কোনো ফ্রেশারও জানে, আর তুই কিনা!

স্যরি!

ধুস্, তোর সঙ্গে দেখছি বন্ধুত্ব করাটাই মহা ভুল হয়ে গেছে এরপর কোনদিন তোর জন্য আমিই বাম্বু খেয়ে যাব, শালা!

স্যরি!

ই বারবার এই স্যরি, স্যরি বলিস না তো! এখন স্যরি বলে কী হবে! যাক্, ওই মাহরুফ, মৌসুমী, তূণীর, অদিতি, মেঘারাই হাসতে হাসতে আবার ফিফটি ফাইভ পারসেন্ট নিয়ে ইউনিভার্সিটির গেট দিয়ে বেরিয়ে যাক, আর তুই অভিমন্যু সেন, শালা পার্ট ওয়ান ড্রপ, দু-বছর ক্লাস করার পর যখন একসঙ্গে আট-আটটা পেপার দিতে হবে, তুই তখন কী করলি? না, তখনই বাধিয়ে বসলি কিচাইন! তোরা শালা চাটগেঁয়ে ভূতগুলো এ রকমই হোস, তাই না?

চাটগাঁ তুলে যা-তা বলবি না, তমোঘ্ন

কে? কেন বলব না?

টা বিপ্লবীদের দেশ। মনে রাখবি আমরা সূর্য সেনের বংশধর

রে আমার সূর্যধন রে! গায়ে ফোস্কা পড়ে যাচ্ছে একেবারে! চিরকুমার বিপ্লবীর আবার বংশধর!

ওঁদের ফ্যামিলি, আমাদের ফ্যামিলি—উই আর রিলেটেড।

সো হোয়াট? প্রণাম করব তোকে? ধূপধুনো নিয়ে পুজো করব?

পুজো করবি কেন? বাট অপমান করিস না। অর আই’ল হ্যাভ টু লুজ মাই ওনলি ফ্রেন্ড হিয়ার

সেটাই হয়ে যাক তবেনইলে বার বার এই কিচাইন করবি তুই আর ট্যাক্স ভরব আমি—এরকমভাবে তো চলতে পারে না! কী বিচিত্র এই দেশ, সত্যি সেলুকাস! যে বন্ধুকে পাশে বসালাম, রিসেসে খাওয়ালাম, পারসেন্টেজ ম্যানেজ করে দিলাম, সেই এখন ব্রেক আপের কথা বলছে!

কটা ছোট্ট প্রবলেমকে তুইই বা খামোকা কিচাইন বলতে যাচ্ছিস কেন?

ছোট্ট প্রবলেম? আর ইয়ু জোকিং? স্বয়ং হেড ডিপ-এর সঙ্গে পাঙ্গা! ইজন্ট দ্যাট কিচাইন? আরে, গুরু সিইউ-র আন্ডারে তোমার সেই সোনালি সব দিনের কথা জাস্ট ভুলে যাও! ফরগেট! ইটস নট সিইউ, ইটস কেবিইউ হিয়ার! কবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটি! ইটস আ হোম ইউনিভার্সিটিঅ্যান্ড এভরি হোম ইউনিভার্সিটি, পয়েন্ট টু বি নোটেড মিলর্ড, ইজ আ প্লেস টু বি ভেরি ভেরি কেয়ারফুল অ্যান্ড কশাস! এখানে প্রত্যেকটা ফুটস্টেপ, সমঝে ফেলতে হয়। প্রত্যেকটা কথা বলতে হয় মেপে। এমনকী ওই ডিএসও-র ডেঞ্জারাস ছেলেমেয়েগুলো—যারা তোকে ওদের প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য ঝুলোঝুলি করছিল—তারা অবধি টিকেসি-কে সমঝে চলে! আর এই টিকেসি মানে পাইকপাড়া থেকে আসা প্রোফেসর তপেনকুমার চ্যাটার্জি লোকটা কিন্তু ডেঞ্জারাস! একে তারকাটা, তার ওপর মাত্রাতিরিক্তরকমের প্রতিহিংসাপরায়ণ! সুতরাং বিওয়্যার!

দ্যা, তমোঘ্ন, তুই আমার ভালো বন্ধু হতে পারিস, কিন্তু এই মুহূর্তে আননেসেসারিলি আমাকে একটু বেশিই ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিস

রিব্বাবা! এ যে দেখি যার জন্য চুরি করি, সেই বলে চোর! অভি, ভয় আমি তোকে পাওয়ানোর চেষ্টা করছি নাশুধু এরপর ঠিক যা যা হতে চলেছে, তাতে যেন তুই ভয় না পেয়ে যাস, সেজন্য আগে থেকে সাবধান করে দিচ্ছি

কে, এরপর কী হতে চলেছে?

বি টি রোড কাঁপিয়ে এ সময়ই সিঁথির দিকে হুশ করে চলে গেল একটা বেপরোয়া ওভারলোডেড ট্রাকভুসভুস করে ছাড়া তার কালো ধোঁয়ায় সব কিছু ঢেকে গেল—রাস্তা, রাস্তার ওপারের চায়ের দোকান, তার পাশের জেরক্স সেন্টার থেকে এপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কারুকাজ করা পেল্লাই গেট। কাশি পায়নি, তবু খুক খুক করে একটু কেশে নিল সে। অঘ্রাণের পড়ে আসা বিকেলবেলায় বন্ধুর দিকে তাকিয়ে সে দেখল তমোঘ্ন নির্বিকার। বিড়ির ধোঁয়াটাকে মুখ দিয়ে ইনহেল করে নাক দিয়ে এক্সহেল করতে করতে সদ্য তেইশেই বিরলকেশ হয়ে যাওয়া তমোঘ্ন মিত্র একবার তার দিকে চোখ তুলে তাকাল, তারপর ভারী চশমার আড়ালে ওর সতর্ক দৃষ্টিটাকে সরু, পেন্সিলখুকির কোমরের মতো সরু করে নিয়ে সাবধানি গলায় বলল, সেটা সময় হলে দেখতেই পাবি

এইবার সত্যিই তার একটু ভয়-ভয় করতে লাগল। হাজার হোক তমোঘ্নরা ইনসাইডার আর সে বাইরে থেকে এসেছে। এরা কলকাতায় বর্ন অ্যান্ড ব্রট আপ আর সে তো মফসসলি বৃত্তান্ত। দ্যাখ্ ,ঘটনাটা, অভিমন্যু আত্মপক্ষ সমর্থনের ভঙ্গিতে বলতে যায়, ‘ য়জ ভেরি প্লেইন অ্যান্ড সিম্পল

চ্ছা?

ঠিক তাই

তাহলে বলে ফেল!

হেমিংওয়ের ওপর ওই ইউজিসি স্পনসর্ড সেমিনারটায় টিকেসি চেয়েছিলেন যে, মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটির প্রোফেসর আয়েঙ্গারের বক্তৃতার সময় আমি উঠে দাঁড়িয়ে কিছু বলি

হ্যাঁ, বললি তো সে কথা। হোয়াটস নিউ?

যেটা বলিনি সেটা হল, পাইকপাড়ায় নোটস দেখাতে স্যারের বাড়ি যেদিন গিয়েছিলাম, আমায় মাদুরে বসিয়ে নিজে বিছানার ওপর আধশোয়া হয়ে উনি কয়েকটা কথা বলেছিলেন

কে

য়েঙ্গার যখন ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি-এর সঙ্গে শ্রীমদভগবদগীতা-র দার্শনিক অ্যানালজি টানবেন, তখনই উঠে দাঁড়াব আমি

চ্ছা!

র উঠে দাঁড়িয়ে আমায় তাঁর, মানে টিকেসি-র গুণকীর্তন করতে হবে

সে কী! বক্তৃতা থামিয়ে?

হ্যাঁ, বক্তৃতা থামিয়েই। ভাব্ একবার, হাউ ইনডিসেন্ট!

হুনাউ আই সি

মাকে বলতে হত, স্যা, এ আর নতুন কথা কী! আমাদের টিকেসিস্যারও এই অ্যানালজির কথা আমাদের বলেছেনউপরন্তু, উনি আমাদের হেমিংওয়ের ওপর লর্ড বুদধা-র ইনফ্লুয়েন্স সম্পর্কেও জানিয়েছেন। আপনি নতুন কিছু বলার থাকলে বলুন, নইলে য়্যু মাস্ট নট ওয়েস্ট আওয়ার প্রেশাস টাই!

রিব্বাস! এ তো পুরোদস্তুর আয়েঙ্গারকে লেঙ্গি মারার কনস্পিরেসি!

র আমাকে তার বোড়ে বানানো! ক্যান য়্যু ইম্যাজিন! এমনি এমনি আমি সেদিন চুপ মেরে যাইনি। তার পেছনে সলিড রিজনস ছিল

হু, কিন্তু তবু আমি বলব, য়্যু শ্যুড হ্যাভ ওবেইড ইয়র হেড ডিপ

কী বলছিস!

হ্যাঁআরে, পরীক্ষা শেষে নম্বরটা তো তোকে ওই আয়েঙ্গার দেবেন না, দেবেন এই হোম য়্যুনির্ভার্সিটির অধ্যাপকেরা। আর সেখানে একজন ডিপার্টমেন্টাল হেড-এর হাত কতটা লম্বা, সে সম্পর্কে তোর মিনিমাম কোনো ধারনা নেই

য়তো সত্যিই ধারনা নেই কিন্তু দ্যাখ্, হোমিংওয়ে স্কলার বলতে যা বোঝায়, টিকেসি তার ধারেকাছেও না

হ্যাঁ, তুই সব জেনে বসে আছিস আর কী! জানিস, উনি ইন্ডিয়ান কনটেক্সটে ল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি –র চিত্রনাট্য অবধি লিখে ফেলেছেন!

তাই নাকি? ভেরি ফানি!

ফানি বললেই জ্ঞানী হওয়া যায় না, অভি! যে মাঠে খেলতে নেমেছ, তার ঘাস চিনতে হয়। এ তোমার বারাসাত নয়, এ হল বরানগর। নকশাল পিরিয়ডে এখানে এক ছোবলেই কয়েকশো ছেলেকে ছবি বানিয়ে দিয়েছিল কংশাল বাহিনী। এখনো তার হ্যাং-ওভার থেকে বেরোতে পারেনি এখানকার ধুলো, বাতাস। সুতরাং, বি অ্যালার্ট। তুই কি জানিস, তপেনবাবু অমরীশ পুরীকে কাস্ট পর্যন্ত করে ফেলেছেন!

মরীশ পুরী?

হ্যাঁ।

সান্তিয়াগো?

হ্যাঁ।

সো হোয়াট?

সো হোয়াট মানে? তুই বুঝতে পারছিস

না, বুঝতে পারছি না। একটা লোক চিত্রনাট্য লেখে, গানে সুর দেয়, এবার ছবি করবে—তাতেই সে স্কলার হয়ে গেল! আর যদি স্কলারও হতেন, এ রকম ইনডিসেন্ট প্রোপোজাল আমাকে প্রত্যাখ্যান করতেই হত

ওঁর বাড়িতে মাদুরে বসে সেদিনই যদি সেটা করে দিতিস, তাহলেও রক্ষে ছিল। কিন্তু তুই তখন হ্যাঁ স্যার বলে ন্যাশনাল সেমিনারের সময় হঠাৎ না স্যার বলে চুপ মেরে গেলি! কেলোটা ওখানেই করেছিস

ই অ্যাডমিট, সেটা ভুল হয়েছে

বার ভুল সংশোধন করে নে

কী করে?

লছি, তার আগে বল্ দেখি এত সব ব্র্যাবোর্নিয়ান-সাউথ পয়েন্টারদের মধ্যে টিকেসি তোকেই কেন এ কাজটার জন্য বেছে নিলেন?

নো, আইডিয়া। আমি তো রেগুলার ওনার ক্লাসও করিনি। হঠাৎ করে একদিন ডিপার্টমেন্টাল লাইব্রেরিতে আমায় ডেকে বললেন আমি যেন সামনের রোববার ওঁর বাড়ি আসি হেমিংওয়ের ন্যারেটিভ টেকনিক নিয়ে একটা নোট বানিয়ে

লেখাটা দেখেছিল?

না, না। একবার চোখ বুলিয়ে বলেছিলেন, দেখে রাখবেন

টা জাস্ট একটা এক্সকিউজ, সে তো এখন বুঝতেই পারছিস

ক্সকিউজ?

হ্যাঁ, তোকে সিলেক্ট করার আসল কারণ দুটো। এক, তুই মফসসলি মাল। কলকাতার জল পেটে পড়েনি। গুরুবাক্য তোর কাছে শিরোধার্য। দুই, বারাসাতের প্রোডাক্ট হয়েও ওরকম ঘ্যামচ্যাক একটা সেমিনারে আমাদের মধ্যে তুইই একমাত্র ধাক্কাহীন ইংরেজিতে আয়েঙ্গারকে লেঙ্গিটা মারতে পারতিস

ধু, এটা কোনো কারণ হল? তিয়াসা, অর্ণব, দিয়াওরাও তো

হ্যাঁ, ওরাও পারে। কিন্তু তোর মতো ইন্টেলেকচুয়ালি পারে না। এআর-এর ক্লাসে মেটামরফসিস নিয়ে স্যার আর তোর র‍্যাপিড ফায়ার কতজনের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল, জানিস?

তাই নাকি! আমি তো খালি এআর-এর প্রশ্নের জবাব দিয়ে যাচ্ছিলাম। কাফকা কে, কোথাকার লোক, কোন্ ভাষায় লিখতেন, ম্যাক্স ব্রড কে এই সব

জিতাভ রায় খুবই খুশি হয়েছিলেন। উনি শেক্সপিয়র প্রোফেসর। বড়ো মাপের মানুষ, কেম্ব্রিজ-হার্ভার্ড করে বেড়ান। কিন্তু কেএসএস-এর মেম্বাররা তো আর তা নয়

কেএসএস?

বীন্দ্রভারতী সিক্রেট সোসাইটি

সেটা আবার কী?

জানতে পারবি। আস্তে আস্তে। আপাতত শুধু এটুকু জেনে রাখ্, অনেককে চটিয়েছিস তুই, আর তারা তোকে এমনি এমনি ছেড়ে দেবে না

কী যা-তা বলছিস তুই!

মোঘ্ন মিত্তির যা-তা বলে না। মিলিয়ে নিস তুই। অভি, য়্যু আর অন দ্য লাইন অব ফায়ার!

লাইন অব ফায়ার? তার মানে

মানে শহিদ হওয়ার আগে একটাই সুযোগ হাতে রয়েছে তোর

সুযোগ?

তিস্তা

তিস্তা? সে আবার কে?

তিস্তা মজুমদার। এমএ ফার্স্ট ইয়ার

ফার্স্ট ইয়ার? কই চোখে পড়েনি তো!

না পড়ারই কথা। ভার্সিটিতে তোকে তো দূরবিন দিয়ে খুঁজে পেতে হয়। কোথায় থাকিস, কী যে করিস!

দ্যা, আই ডোন্ট লাইক দ্য প্লেস! এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। কী যেন একটা চলছে সবসময় ! ধরতে পারি না! হেমিংওয়ে সেমিনারের জন্য বিসিএল থেকে বই এনে তা থেকে ছবি তুলে পুরো এগজিবিশনটা সাজিয়ে দিলাম। বাট নোহোয়্যার ওয়জ আই মেনশনড! ইভন সিবি। চিত্তপ্রকাশ ব্যানার্জি অব্দি একবার পিঠ চাপড়ে বললেন না, ভি, দারুণ হয়েছে! ক্যারি অ!

হু! আই আন্ডারস্ট্যান্ড। তোর দুঃখ পাওয়া স্বাভাবিক

ছাড় ওসব কথা! কোন একটা মেয়ের কথা বলছিলিস

তিস্তাতিস্তা মজুমদার

মএ ফার্স্ট ইয়ার?

হুঁ

ডে?

না ইভনিং

চ্ছা। তো কী করছে সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যাবেলা?

কে, পড়াশুনো। তোর এই গা-জ্বালানো হামবড়া ভাবটা এবার বন্ধ কর তো! এই সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সের জন্যই আমাদের চারপাশের কমপ্লেক্স রিয়ালিটিগুলো সবসময় তোর নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছেশোন, তিস্তা কেএসএস-এর নয়া রিক্রুট। ছোটোখাটো। ফেয়ার কমপ্লেকশন্ড। কার্লি হেয়ার। বাবলি বিউটি

তো?

ওয়ার টিকেসি হ্যাজ আ ক্রাশ অন হার!

হোয়াট রাবিশ! আমি লোকটার ওপর ক্ষার খেয়ে আছি বলেই তুই যা নয় তাইবাবার বয়সি একটা লোকের নামে এ সব বলিস না, প্লিজ। পাপ-পুণ্যে যদিও আমি বিশ্বাস করি না, তবু বলছি দিস ইজ ব্ল্যাসফেমি!

খনও তো আমি মুখই খুলিনি। শোন্, অভি, এই য়্যুনিভার্সিটিতে আমি পাঁচ বছর আছিতোর থেকে পাক্কা তিন বছর বেশি। এমন অনেক কিছু আমি জানি, যা আমার জানা উচিত নাহাতে গোনা আর যে ক-জন এসবের তিলমাত্রও জানে, কোনোদিন স্বীকার করবে না। আমার কথা শুনলে এ যাত্রায় তুই বেঁচে যাবিনইলে আই ডোন্ট নো হোয়াট উইল হ্যাপেন টু য়্যু। তুই ভালো ছাত্র। মাথাটা পরিষ্কার। কেন জানি না, আই ওয়ান্ট য়্যু টু সাকসিড। কিন্তু তার আগে তুই আমাকে বল্, ফিফটি ফাইভ পার্সেন্টটা তোর কাছে ম্যাটার করে কি না?

বশ্যই করে। হাজারবার করে। ওটা পেলে তবেই তো স্লেট-নেটে বসতে পারব। বিডিও-এসডিও হওয়ার ইচ্ছে আমার নেই। কোনোদিন ছিলও না। বিসিএস দিতে গিয়ে অংক পরীক্ষার মাঝামাঝি উঠে এসেছি

কেন মাস্টারি?

না, না, ঘুষ দিয়ে গ্রামের স্কুলে মাস্টারি যোগাড় করার সঙ্গতি আমাদের ফ্যামিলির নেই

হুদ্যাখ্, ঘুষের ব্যাপারটা সত্যি। বাট ওটা হয়তো আর বেশিদিন থাকছে না

থাকছে না?

হ্যাঁ, বাপির কাছে খবর আছে অনিলজেঠুরা সার্ভিস কমিশন চালু করতে চলেছেন

নিলজেঠু?

নিলাভ বিশ্বাস। বাবা অনিলদা বলে ডাকে। তাই আমি জেঠু বলি। পার্টির হর্তাকর্তাবিধাতা বলে যদি কোনো একজন থাকে, তবে সেটা উনিই

কেন প্রবুদ্ধ ভট্টাচার্য, বারীন বসু, সুহাস চক্রবর্তী এঁরা?

ধু! উনি কোথায় আর এরা কোথায়! কেন তুই প্রবুদ্ধ ফর শো কথাটা শুনিসনি?

না।

তা আর শুনবি কেন? থাক ওই বইয়ে মুখ গুঁজেই বসে থাক। যাকগে, কাজের কথায় আসি। দ্যাখএসএসসি চালু হতে হতে আরও এক-দু-বছর লেগে যাবে

সএসসি? সেটা আবার কী?

স্কুল সার্ভিস কমিশন। অনিলজেঠুর ব্রহ্মাস্ত্র টু কিপ হিজ পার্টি ইন পাওয়ার ফর অ্যানাদার টেন ইয়ার্স। ঘুষের রাজ শেষ। এবার স্বচ্ছতা। ট্রান্সপারেন্সি।প্রথমে রিটন, দেন ভাইভাভোসি, তারপরেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট। নো পার্টি কালার। একবার লাগিয়ে দিতে পারলে পোস্টিংটা অবশ্য তোর আর আমার জন্য সুবিধামতো ঠিকঠাক

হাউ কাম?

সেটা আমার ওপর ছেড়ে দে। আলিমুদ্দিনে আমারবাট য়্যু ডিজার্ভ বেটার

বেটার?

হ্যাঁ, বেটার। এই ধর, নিদেনপক্ষে লেকচারারশিপ

মানে অধ্যাপনা?

কেন লেকচারারশিপের আবার নতুন কোনো বাংলা হয়েছে নাকি? নাকি এটুকুতে তোর পোষাবে না?

মানে?

মানেফানে বুঝতে যেয়ো না, চাঁদু। কাজ হয়ে যাবে। এই তমোঘ্ন মিত্তির যখন আছে, তখন অভাবের বাজারেও না হওয়ার কিছুই নেই। কিন্তু খরচা আছে

রচা?

য়সা নয় সময়

মোঘ্ন, আমি কিন্তু

কোনো কিন্তু নয়। আজ বিকেল চারটে। সেন্ট্রাল লাইব্রেরি

চারটেয় কী?

চারটেয় তিস্তা আসবে। আমার কাছে নোটস নিতে। টেগোর স্টাডিজের কিছু পচাধসা মাল আছে, দিয়ে দেব। বাট শি নিডস মোর

মো?

হ্যাঁ, ও এলিয়টটা বুঝতে চাইছে। আর এলিয়টটাই আমার ঠিক আসে না। অবজেকটিভ কোরিলেটিভ-টিলেটিভ কী-সব ছাইপাঁশ আছে না? আই’ল ইনট্রোডিউস য়্যু টু হার। ছ’টায় ফিল্ম সোসাইটিতে একটা ইতালিয়ান ছবি আছে। আনকাট ভারশন পুরো পানু! আমার সোসাইটি আর ডেবোনেয়ারগুলো তোশকের তলা থেকে কোন্ শালা শুয়োরের বাচ্চা হাপিশ করে দিয়েছে! বুঝতেই পারছিস রাতের ইন্সপিরেশন এখন এসব ফেস্টিভাল ফিল্ম থেকেই নিতে হবে! সিক্সটি এইটের প্যারিসের স্টুডেন্ট মুভমেন্ট নিয়ে ছবিটা। এই প্রথম ইতালির বাইরে শো। ছবিটায় আবার ভাই-বোনে একসাথে ন্যাংটো হয়ে শোয়আচ্ছা, বাঁহাতের কাজটা তুই কীভাবে সারিস বল্ তো?

হু

বার হুঁ! হুঁ! করছিস কী? কী বললাম কানে গেল না?

না, মানে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না হাউ কাম দিস তিস্তা বি মাই সেভিয়ার!

সেভিয়ার তো বলিনি

তাইই তো বললি

লেছি সুযোগচান্স। রাদার আ হাফ চান্স, অনেকটা ঠিক লাইফলাইনের মতো

লাইফ লাইন?

হ্যাঁ। লাইন। লাইফের লাইন। বাংলায় যাকে বলে জীবনরেখা। 

(ক্রমশ…)

 
 
top