সুড়ঙ্গনগরী

 

পর্ব ৩.

 

জীবনরেখা

 

‘রেখার ছবি তোমার কেমন লাগে?’

‘তেমন একটা দেখা হয়ে ওঠেনি।’

‘সে কী! সিলসিলা দ্যাখোনি?’

‘না।’

‘উমরাও জান?’

‘না।’

‘উৎসব?’

‘না।’

‘খুন ভরি মাংগ্?’

‘নাহ্।’

‘খিলাড়িয়ো কা খিলাড়ি?’

‘নো ওয়ে!’

‘তবে তুমি কী দেখেছ, অভিদা! ধুর্, তোমার সঙ্গে বন্ধুত্বটা একদম জমবে না দেখছি।’

সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ছেড়ে ওরা মাঠের ধারে এসে গিয়েছিলকবীন্দ্র মূ্র্তির কাছটায়যেখানে য়্যুনিভার্সিটি টিম নেট প্র্যাকটিস করছে, সে দিকটায় নয়। তার উলটোদিকে বিশাল মাঠটা পুবে প্রসারিত। সেদিকটাতেই অডিটোরিয়াম। এখানটা ফাঁকা ফাঁকাকপোত-কপোতী হয়ে যদিও কিছু ছাত্রছাত্রী এদিক-ওদিক বসে।

অভিমন্যু লব আর শ্বেতাকে দেখতে পায়। লব দারুণ তবলা বাজায় আর শ্বেতা অসাধারণ কবীন্দ্রসংগীত গায়। ওদের সেই বিএ ফার্স্ট ইয়ার থেকে প্রেম। একে অন্যতে নিমগ্ন, যেন বাইরের পৃথিবীর কোনো অস্তিত্বই নেই ওদের কাছে। বেশ রূপকথার মতো লাগে ওদের সম্পর্কটাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দু-বছরে এ-রকম অনেক সম্পর্কই পল্লবিত হয়ে উঠেছে। লব-শ্বেতা, তিয়াসা-অর্ণব, সেঁজুতি-অভিযান। কিন্তু না, তার কোনও ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট গড়ে ওঠেনি। উঠতে পারত না এমন নয়, আজ এখন এই ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯-এর মরে আসা বিকেলবেলায় ধূসর-সাদা সালওয়ারের সঙ্গে বেমানান হলুদ কামিজ পরা যে ছটফটে, বকবকুনি বেঁটে মেয়েটার সঙ্গে চিনাবাদাম খেতে খেতে সে হেঁটে বেড়াচ্ছেযার সঙ্গে তার একটা ওয়র্কিং রিলেশনশিপ একটু একটু করে গড়ে উঠতে চলেছে গত আধ ঘণ্টা ধরে, সে কে? এ কি টিকেসি-র কাছের কেউ? বাঁচিয়ে দিতে পারবে তাকে?

মেয়েটার ঠান্ডা-টান্ডা বোধ বোধহয় নেই কামিজের ওপর পরে আছে জাস্ট একটা নীল, হাতকাটা সোয়েটার। হাতে বোনা বোঝাই যাচ্ছে। নো ওড়না (বাব্বা, এখানকার ভিসি তো আবার তাঁর আগের কলেজে অশালীন ওড়না কাণ্ডের জন্য ভারতবিখ্যাত!), এবং তাতেও ভ্রূক্ষেপবিহীন। অভির কিন্তু এতক্ষণে শীত শীত লাগতে শুরু করেছে। বাদামি জ্যাকেটের চেনটা গলা অবধি টেনে দিয়ে সে হাতদুটোকে পকেটে ঢোকাল। ঠান্ডা বাড়ছে।

পশ্চিমে আকাশ লাল। অন্ধকার হয়ে আসছে। মাঠের পাশে প্রচুর গাছ বলে পাখিদের কিচিরমিচিরে জমজমাট চারপাশ। চিড়িয়ামোড়ের দিক থেকে লাউড স্পিকারে ভেসে আসছে কোনও এক নতুন গায়কের গান। বাঙালি? খুন ভরি মাংগ-এর নির্দেশকের ছেলের লিপে এই গানটাই—‘কহো না পেয়ার হ্যায়’আপাতত ভারত কাঁপাচ্ছে ছবিটা কবে যে রিলিজ করবে! অভিমন্যু খেয়াল করে তিস্তাও গানটার কলি গুন গুন করে গাইছে

দারোয়ান-টারোয়ানদের কোয়ার্টারে উনুন জ্বালিয়েছে কেউ। ফলে শীতের ঠান্ডা হাওয়ায় মিশছে ধোঁয়ার গন্ধ। পরিণতির কথা না ভেবে আমরা যদি শুধু মুহূর্তটাকে আঁকড়ে ধরি, তাহলে কেমন হয়? অভি ভাবতে থাকে। ঠিক তখনই তার মনে পড়ে তার নিমতা স্কুলের বাংলা স্যার জয়দীপ বসুর একটা কথা, আচ্ছা, অভি কখনও ভেবে দেখেছ, এই দিনটা যেটা আমি তুমি কাটাচ্ছি, এটা যখন চলে যায়, তখন কোথায় যায়?’

‘কোথায় যায়?’

‘হু, কোথায় যায়?’

‘জানি না তো, স্যার!’

‘কখনো ভেবে দ্যাখোনি?’

‘না, কখনো ভেবে দেখিনি, স্যার।’

‘কিন্তু কোথাও তো একটা যায়ই।’

‘কোথায়?’

‘কোথাও না কোথাও। আমি নিশ্চিত।’

‘কিন্তু কোথায়?’

‘বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন, আমিও খুঁজছি আমার মতো করে।’

‘পাননি এখনও?’

‘না।’

‘তাহলে…’

অ্যাই, অভিদা! কী ভাবছ গো?’ তার পিঠে তিস্তার আঙুলের টোকা।

‘কই, না, কিছু না।’

‘তমোঘ্নদা বলেছিল য়্যু আর আ পোয়েট। তাই ভাবলাম এই টোয়াইলাইটে নেচারের কাছাকাছি এসে তোমায় আবার পোয়েট্রিতে ভর করল নাকি।’

‘না, না। নাথিং লাইক দ্যাট।’

‘হুঁ। আমরা কোথায় ছিলাম যেন? সিনেমা? রেখার সিনেমা দ্যাখো না তুমি। তো ঠিক হ্যায়। নো প্রবস। আসলে ছোটোবেলা থেকেই আমি রেখার ডাইহার্ড ফ্যান। ওরকম করে দাঁড়ানো, তাকানো, হাঁটা, কথা বলা। আরে, বন্ধুরা আমায় কি বলে জানো? আমি নাকি ডিট্টো রেখা! ভাবো একবার! যাগ্গে, ছাড়ো রেখার কথা। তুমি তাহলে কী দ্যাখো? কাজল-শাহরুখ?’

‘না।’

‘তবে?’

‘এদের কাউকেই না।’

‘হু…’

‘হিন্দি মুভিজ আমি খুব কম দেখেছি, তিস্তা।’

‘আচ্ছা…’

‘আসলে আমি বড়ো হয়েছি আমার মায়ের কড়া শাসনেহিন্দি ছবি, গানএ সবের ছোঁয়াচ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হত আমাকে আর দাদাকে। বাংলা ছবি বলতে শুধু সত্যজিৎ। ওই যেটুকু টিভিতে দেখায়। মাঝেমধ্যে তপন সিংহ, তরুণ মজুমদারমাধ্যমিকের পর যখন গ্রাম থেকে শহরে চলে এলাম, তখন মায়ের নজরদারি উঠে গেল। কিন্তু আমি পড়ে গেলাম ওয়র্ল্ড মুভিজের প্রেমে। আমার এক ডাক্তার জেঠুর ভিসিআর-এর দুর্দান্ত কালেকশনওঁর বাড়ি গিয়ে দিনের পর দিন ধরে দেখে গেছি চ্যাপলিন, ডিসিকা, কোপোলা, কাপ্রা। আরও পরে কুরোসাওয়া, বাগর্ম্যান, ফেলিনি, আন্তনিওনিহরাইজনটা ওয়াইডেন্ড হল। কিন্তু আমি আর ফিরে যেতে পারলাম না হিন্দি ছবিতে।’

‘হুমতুমি তাহলে হলে গিয়ে আঁতেল টাইপ। দ্য মোস্ট অ্যাবোমিনেবল অব অল টাইপস নিজেদেরকে সর্বজ্ঞ ভাবে। বাট অফ নো প্র্যাক্টিকাল ইউজ। ওই ডিএসও-র দাদাগুলোর মতো। সবসময় একগাল দাড়িমুখে কী যেন ভাবছে, আর ব্রেখট ব্রেখট করছে।’

‘ব্রেখট নয়, মূল জার্মানে কথাটা ব্রেখস্টআর উনি সিনেমার নন, নাটকের মানুষ। প্লেরাইট।’

‘ওই হলব্রেখট, ব্রেখস্ট কিংবা ব্রেস্টআমার কাছে সব এক। তুমি আমায় আবার এ সবে কনভার্ট করার চেষ্টা কোরো না কিন্তুটিকেসিস্যার সেদিন কী একটা কনচার্তো শোনানোর জন্য পাগল হয়ে উঠলেন।’

‘স্যার, ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শোনেন নাকি?’

‘শোনেন মানে, রীতিমতো সমঝদার। কী চমৎকার গান গান উনি! ওঁর সিনেমায় মিউজিক উনি নিজেই তো দিচ্ছেন।’

‘ও। সিনেমাটা তাহলে হচ্ছে?’

‘আলবাৎ। স্যার প্রোডিউসারের সঙ্গে ওঁর কনট্রাক্টও দেখিয়েছেন আমাদের। প্রেমিয়ারে আমি রেড ওয়াইন খাব বলে অলরেডি স্যারের কাছে বায়না করে রেখেছি। খেয়েছ কখনো ওয়াইন?’

‘না।’

‘হুইস্কি?’

‘না।’

‘বিয়ার? ভদকা?’

‘না।’

‘ওহ্ অভিদা! য়্যু আর ইনকরিজিবল! মদ খাও না। এতক্ষণে একটা সিগারেটও ধরালে না। তার মানে স্মোক করার অভ্যেসও নিশ্চয় নেইতাহলে মেয়ে পটাবে কী করে?’

‘কেন, হঠাৎ মেয়ে পটাতে যাবে কেন?’

‘ওরে আমার রামকেষ্ট রে। একুশ বছরেই বিধবা? লাইফটা এনজয় করবে কখন?’

‘একেকজনের কাছে এনজয় করাটা একেক ধরণের।’

‘ও, আচ্ছা! তা তোমার কাছে কী ধরণের শুনি?’

‘আমি নিজেই জানি না। আসলে ভাবিনি কখনও। তবে আমার বই পড়তে ভালো লাগে। কথা বলতেও। এই যে তোর সঙ্গে হাঁটছি, কথা বলছিবেশ ভালো লাগছে।’

‘থ্যাংকস! এতক্ষণে এমন কিছু একটা বললে যেটা ভালো লাগল। তোমার সঙ্গেও কথা বলতে ভালো লাগছে আমার। নট মাই টাইপ, স্টিল ওকে।’

‘একটা কথা বুঝতে পারলাম না তোর।’

‘কোন্ কথাটা?’

‘ওই যে মদ না খেলে স্মোক না করলে কি মেয়েদের পটানো যায় না?’

‘ওহো! ওটাকেও সিরিয়াসলি নিলে নাকি! তুমি একটু সেন্টুগোছের আছ তাই না? আসলে একটু ডেয়ারডেভিল না হলে ছেলেদের ঠিক মানায় না। কিছু ছেলে আছে যারা প্রেমে পড়ে, আবার কিছু ছেলে আছে যারা প্রেমে পড়ায়। আমরা মেয়েরা টাইপ টু-কেই ঝাড়ি মারি। এই যেমন তোমাদের মাহরুফদা। কী স্মার্ট! সিগারেটটা এমনভাবে ধরায় যেন অজয় দেবগণ!’

মাহরুফের কথায় অভি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। এটা অনস্বীকার্য যে, মাহরুফের মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। সে যে শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব মেয়েদের হারটথ্রব তা-ই নয়, ইন্টার-ইউনিভারসিটি যেকোনো অনুষ্ঠানেও মাহরুফ-ই সেন্টার অব অ্যাট্রাকশন। তাদের ব্যাচের প্রায় সব মেয়েই তো ফার্স্ট ইয়ারে মাহরুফকে প্রোপোজ করেছিল। কারো কারো স্টেডি বয়ফ্রেন্ড থাকা সত্ত্বেও! তার নিজেরও মাহরুফকে বন্ধু হিসেবে দিব্যি লাগে। সদাহাস্যময়, পরোপকারী, উদ্যমী। শুধু তমোঘ্ন। তমোঘ্ন মাহরুফকে একদম দেখতে পারে না। বলে, ‘শালা! নিজেকে শাহরুখ খান ভাবে! আমাদের হিন্দু মেয়েগুলোরো বলিহারি! পেলি তো পেলি, আর কোনো ছেলে পেলি না! ওর হাঁড়ি যদি আমি হাটে না ভেঙেছি!’

‘মাহরুফদাকে ভালো লাগে তোর?’

‘উ:! দারুণ! কিন্তু কী ব্যাড লাক বলো, কালই শুনলাম মাহরুফদা এনগেজড!’

‘এনগেজড?’

‘ইয়েস, বিএ সেকেন্ড ইয়ারের একটা মেয়ের সঙ্গে। রোজা।’

‘তোর কপাল পুড়ল তাহলে?’

‘ধ্যার, ধ্যার! ছাড়ো তো। তিস্তা মজুমদারের কপালটা অত সহজে পোড়ার নয়। পোড়ানোর।’

‘আচ্ছা, বললি না তো, আমি টাইপ ওয়ান না টু?’

‘থ্রি।’

‘মানে?’

‘রামকেষ্ট টাইপ। আবার বিবেকানন্দও হতে পারকামিনীকাঞ্চনে আগ্রহ নেই, সিরিয়াস। ভুরু কুঁচকে সবসময় কী একটা ভাবছ।’

‘এ রকমটাই লাগে নাকি আমাকে?’

‘হ্যাঁ। বিশ্বাস করো। তোমাকে দেখেই মনে হয় জগৎসংসারের সব ভার নিজের মাথায় চাপিয়ে বসে আছ! আরে, ইয়ার এনজয়! দ্য টাইম ইজ রানিং আউট। যে মুহূর্তটা চলে যাচ্ছে, সেটা চলেই যাচ্ছে, ফর এভার। সিজ দ্য ডে!’

‘হুঁ, কারপে ডিয়েম। মারভেল। আমাকেও ভাবাচ্ছে এই ভাবনাটা। আমার এক স্যারচিনবি বোধহয়ফেমাস পোয়েট জয়দীপ বসু একবার আমায় প্রশ্ন করেছিলেন, “অভি, এই যে দিনটা চলে গেল, কোথায় গেল?”’

‘জয়দীপ বসু? তুমি জয়দীপ বসুর ছাত্র?’

‘হ্যাঁ, কেন?’

‘না, কিছু না। শুধু ভাবছি, কী স্যারের কী ছাত্র!’

‘বুঝলাম না।’

‘সবকিছু বোঝার দরকার নেই, অভিদাআমি এটাই তোমাকে বোঝাতে চাইছি। ড্রিংক দ্য কাপ অব লাইফ অ্যান্ড দেন ফরগেট। তমোঘ্নদা চলে গেল, আর তারপর লাইব্রেরিতে প্রথম আলাপেই তুমি আমায় এলিয়ট বুঝিয়ে ছাড়বে।’

‘তোর তো এলিয়ট নিয়েই প্রবলেম। তমোঘ্ন তো আমায় সেরকমই বলল।’

‘হোক প্রবলেম। সো হোয়াট? একটা মেয়ে ফাঁকা লাইব্রেরিতে তোমার চোখে চোখ রেখে কত কী বলতে চাইছে, আর তুমি ট্র্যাডিশনের সঙ্গে ইনডিভিজ্যুয়াল ট্যালেন্ট কানেক্ট করেই চলেছ, করেই চলেছ! সো রিডিকিউলাস!’

‘কেন, আমার কী করা উচিত ছিল?’

‘অন্তত আমার সুন্দর ফর্সা আঙুলগুলো কোনো অজুহাতে একবার ছুঁয়ে তো দেখতে  পারতে?’

‘তাই? কিন্তু কেন?’

‘ওফ্, তোমার এই কেন, কেন, কেন নিয়ে আর পারি না, বাপু! আচ্ছা, আমাকে প্রথম দেখার পর কেমন লাগল? মানে এখন তো অন্ধকার হয়ে গেছে, দেখতে পাচ্ছ না, তাই তখন কেমন লাগল জিগ্যেস করছি।’

‘ভালো।’

‘শুধু ভালো?’

‘না, বেশ ভালো। লাইট, ব্রাইট, স্পার্কলিং!’

‘ব্যস, এইটুকু? অ্যাম আই নট সেক্সি?’

‘সেক্সি?’

‘ইয়েস, কেন, কথাটা প্রথম শুনলে?’

‘ন্-না, আসলেএভাবে তো ভাবিনি। শোন্ অবজেকটিভ কো-রিলেটিভটা বোঝানো বাকি আছে। কাল কি তোর…’

‘আগে, আমার অবজেক্টসগুলোর দিকে একবার তাকাও, অভিদা! তারপর রিলেট-টিলেট কোরো।’

‘এবার কিন্তু চড় খাবি! ইয়ার্কিটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।’

‘একটুও না। তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে এই অন্ধকারে যেটা বাড়ানোর, সেটা এতক্ষণে ঠিক বাড়িয়ে দিত। তুমি নির্ঘাত রামকেষ্টর ভাইপো-টাইপো কেউ হও।’

‘নো, উই আর নট রিলেটেড।’

‘কো-রিলেটেডও তো হতে পারো। বলা যায় না। এরা আবার মিশনটিশন করে চারিদিকে এত জাল বিছিয়ে রেখেছে!’

‘জালের কথা কাল হবে। চল্ ফিরতে হবে। তোর ক্লাসের সময় হয়ে এল।’

‘আমার ক্লাস নিয়ে তোমায় চাপ নিতে হবে না, বস্। স্যারের সঙ্গে কী কিচাইন বাধিয়েছ, বলে ফ্যালো।’

‘কেন, তমোঘ্ন কিছু বলেনি তোকে?’

‘বলেছে। তবু আমি তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই।’

‘ও যেটুকু বলেছে সেটাই। স্যার আমায় কিছু একটা করতে বলেছিলেন, আমি সেটা করিনি।’

‘করোনি?’

‘না।’

‘হুম। এখন আমার কাজ হল স্যারকে সালটানো, তাই তো?’

‘হুম।’

‘হয়ে যাবে। চাপ নিয়ো না।’

‘হয়ে যাবে?’

‘বললাম তো। তবে তার আগে আমি কিছু একটা বলব, সেটা করবে তো?’

‘হ্যাঁ, অফ কোর্স। কী করতে হবে বল্ না?’

‘এখানে না। চলো ডিপার্টমেন্টে গিয়ে বলি?’

‘সাড়ে ছ-টা বাজে। তোদের ক্লাস তো অনেকক্ষণ শুরু হয়ে গেছে?’

‘ও হো! বললাম তো, আমার ক্লাস নিয়ে তোমায় কোনো চাপ নিতে হবে না। আমি যদি নেকস্ট টু ইয়ার্স-এ আর একটা ক্লাসও না করি, তাহলেও আমার ফার্স্ট ক্লাস আটকায় এমন বাপের ব্যাটা এখানে পয়দা হয়নি। চলো, আজ আমার অন্য অ্যাসাইনমেন্ট।’

‘অ্যাসাইনমেন্ট? আগে বলিসনি তো?’

‘সবই কি একবারে বলা যায়, অভিদা? আস্তে আস্তে আড় ভাঙে। আস্তে আস্তে একজন আরেকজনকে বুঝে নেয়। আজ আমি ক্লাস করার মুডে নেই। আজ আমি ক্লাস নেব।’

 
 
top