তানিয়া চক্রবর্তীর কবিতা

 

কর

লক্ষ লক্ষ দরজা

নিরাপত্তা দিতে গিয়ে

আমায় বন্দি করে দিল

দরজার ঘনিষ্ঠ হলাম

দরজা বাতাসের চড় শেখাল

নির্বাণ লাভ ও পিপাসা

একত্রে উড়ে যাচ্ছে শরীরের দিকে

শরীরহীন হয়ে মহাজাগতিক হলাম

লক্ষ লক্ষ দরজার গায়ে বিজ্ঞাপন দেখলাম

 

কর না দিলে বাঁকের কিছু

বন্ধ মুখ পেরনো যায় না

এটা সমস্ত পথের নিয়ম

 

আগুন পোহাবে তুমি

আগুন পোহাবে তুমি

পৃথিবী নগর গুঁড়িয়ে দেবে

আঁচল ঢাকবে তুমি

শহর পোড়াবে শরীর

দিস্তা বোঝাই মাটিতে পড়ে আছে

মাটিতে লুটিয়ে তাদের আদরণীয় করা হয়

আমরা চিনি না কিছুই

সবাই সবাইকে মেরে চলে গেছে

আগুন পোহাবে বলে

 

পুতুল

প্রগলভ হয়ে দেখি

পাথরে পাথরে উদ্যান

একগুচ্ছ চুল একসাথে কেটে পোড়াই

ধোঁয়া লেহন করে শৌচাগারে ধুয়ে দিই

চামার আমাকে বলো, ধূসর বলো না তবু

ধূসর হওয়ার আগে

গা থেকে নামিয়ে দেব জাল

জাল খুলে সমস্ত কঙ্কাল দেখাব

করোটির কপালে ভবিষ্যৎ নিংড়ে

তাদের রাতের পৃথিবী চেনাব

জোনাকি লাগা চুল, পুতুলবাড়ির অশরীরী

কান্না দেখি তাদের

উদোম পেটের ওপর দুভাগ বিপথগামী শরীর

জানলা মাখা উস্কোখুস্কো চুল

আলো টিমটিম এ প্রগলভ জীবনে

ধূসর শায়া ও ব্লাউজ উদ্যান

চাপা দিয়ে রাখা ক্লোরোসিস শরীর

তোমার ভুক্ত ও অভুক্ত মনের দিব্যি

শরীর নেভানোর আগে কঙ্কাল দেখিও

পথ ছাড়ার আগে সমস্ত সত্য বলে যেও

প্রাণ দুদিকেই ধ্বংসকামী

 

আততায়ী

আততায়ী বোধহয়

নিজস্ব রীতিকে খুন করে দিনরাত

শামুকের শক্ত খোলস, ধীর গতি

জলবায়ু মনে করায়

মনে হয় পিচ ফল খাওয়া

দুটো অসহ্য রঙিন মানুষ

ঘরে দীর্ঘ মৃত্যু কামনা

প্রতিদিন তারা রেললাইনের স্বপ্ন দেখে

আবার ফাইল দেখে হলুদ ও বিবর্ণ

প্রতিদিন তারা আয়ুর দিকে যায়

অকাল আততায়ী তারা

পিঠটান লাগে আর শীত আসে

ঘনিষ্ঠ করে রাত

সমস্ত সহ্য খুন করে বেঁচে থাকে

বৈকালিক চেয়ে বুক বন্ধ করে জিভ ভেজায়

আমরা পৃথিবীর অসহ্য সন্তান

অকাল বোধনের আততায়ী বোধহয়

 

এভাবেই পার্থিব হয়ে যাই

আগ্নেয়গিরি খসে গেছে

আরো কত কী!

দূর থেকে ভগবান বলছেন

ইকির মিকির খেলা শেষ হোল তোর?

আমি বলে উঠি,

ও ঈশ্বর আমি তো আমিষ সিপাহি!

ইকির মিকিরে বড় মাংসল হই

তুমি দেখো শুধু কাপড়

আর ভাত খিদের এ শহর

ভেতর থেকে ডানা নিয়ে উড়ে যায়

সর্ষেক্ষেতের কাছে অশালীন কাওতাড়ুয়া

আমি তাকে মন্দ বলতে শেখাইনি

কিন্তু বার বার মনে হয়

সে আমার ভগবান হয়ে আমাকেই ভ্যাংচায়

এভাবেই পার্থিব খেলা শেষ

আঙুলে আঙুলে লাগে দাগ

ডলে ডলে মুছি, পার্থিব হয়ে যাই

 
 
top