ত্রৈলঙ্গ রায়ের আজ-কালের আখ্যান

 

ঠাম্মা, তালে সাত ঘটিকে তো? ফাইলেন?

ঠাম্মা সম্বোধন শুনে প্রম্লোচ্চা-কুমারীর গা যেন আরেকবার দাহ হয়ে গেল। খুব ইচ্ছে করল অপোগণ্ডটাকে খিমচে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিতে, তারপর আচ্ছাসে মশলাচর্চিত করে সেরেফ হজম করে দিতে! তিনি যাত্রাসম্রাজ্ঞী, শেষ নাইট অব্দি সহনায়িকার পার্ট করে গিয়েছেন, অভিনয় জীবনে তিনি কোনোদিন ঠাকুমা তো দূর পিসিমার পার্ট পর্যন্ত করেননি। আজ আচম্বিতে কথা নেই বার্তা নেই এই অস্থিচর্মসার খুকুন্দেগুলো এসে ঠাকুমা ডেকে চলে যাচ্ছে! তাও যদি দূরদূরান্ত-সম্পর্কের পৌত্রও হত বাছাধনরা।

প্রম্লোচ্চা কঠিন আক্রোশে খাপ থেকে দ্রংষ্ট্রাকরাল বের করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু কী ভেবে ক্ষান্ত দিলেন। তিরিশের এক চিতপুর রোডের তাঁর আবাসটি থেকে বড্ড তফাতে এসে পড়েছেন, নট্টমন্দির অপেরার দু-মহলা আপিসের উপরতলার আনন্দধামটি ছেড়ে এই সর্বনেশে মৃত্যুপুরীতে হাজির হয়েছেনভাবলে ক্লেশ হয়। অথচ কিছুদিন আগে পর্যন্ত কী আয়েশটাই না ছিল! জেল্লাদাসীর মতো সর্বক্ষণের সহচরী ছিল, শিঙা সিং-এর মতো অঙ্গরক্ষক! গতাসু হওয়ার দিনটি অব্দি কুটোটি নাড়াতে হয়নিজেল্লাদাসী অঙ্গমোটন, তৈলমর্দন, পদসেবন, প্রসাধন, কেশচর্চা ইত্যাদি থেকে শুরু করে পরিপাটি করে আহারটি পর্যন্ত করিয়ে দিত, দৈনন্দিন জীবনের এই সব অকিঞ্চিত্কর বিষয় নিয়ে প্রম্লোচ্চাকুমারীকে ভাবিত হতে হয়নি কখনো। খালি দন্তমঞ্জনের কাজটি নিজের দায়িত্বেই রেখেছিলেন, ও ব্যাপারে তাঁর নিজের উপর ছাড়া আর কারুর উপর ভরসা ছিল না এবং বলতে নেই এখনও চারুহাসিনী হয়ে আছেন ওই যতনের জন্যই। কিন্তু এই অলৌকিক-জগতে পদার্পণ করা ইস্তক জেল্লাদাসীর অভাব পদে পদে টের পাচ্ছেন প্রম্লোচ্চাকুমারী। কেবলই ভাবছেন, একবার যদি জেল্লাকে এখানে এনে ফেলা যেত, তাহলেই কেল্লাফতে হয়ে যেত! সেটা অবিশ্যি কঠিন কম্ম নয়, চাইলেই ওর মুণ্ডুটা কচটিয়ে নিমেষে এখানে এনে ফেলতেন পারেন, বা তারও দরকার হত না হয়তোঅসংযত কেশ আর উন্মুক্ত ঊর্ধাঙ্গে একবার সম্মুখে দাঁড়ালেই দফানিকেশ হয়ে যেত বেটির! কিন্তু ও সব করতে আর প্রবৃত্তি হয় না প্রম্লোচ্চার। জেল্লার বয়স সবে দু-কুড়ি দশ, সবে সে তার তিন নম্বর সাঙাটি করে সংসার পেতেছে, বরের সঙ্গে বেজায় ভাব। আর সেরকম কোনো ব্যামোও নেই শরীরে, আর ফাঁড়া যে নেই সে তো প্রম্লোচ্চা বেঁচে থাকতেই গণনা করে দেখেছেন।

প্রম্লোচ্চা ক্রোধবহ্নিতে জলের ঝাপটা দিলেন। কড়ি ফেললেও ফাই-ফরমাশ খাটার লোক পাওয়া যায় না এখানেসবাই যে যার মর্জির রাজা অনেক কষ্টে এই ছোকরাগুলোকে রাজি করিয়েছেন, ধমক খেয়ে এখুনি বেঁকে বসলেই চিত্তির। বরং বাবা-বাছা করে, খানিক ঠাকুমা-র ভেক ধরে যদি একটু আধটু সহানুভূতি আদায় করা যায়, তাহলেই সহজে কাজ হাসিল হয়।

হ্যাঁরে দাদুরা আমার, সাতটা, একপলও এদিক ওদিক নয় বুঝলি! ভালো করে ঢ্যাঁড়া পিটবি, পরিষ্কার উচ্চারণেসবাই যেন খবরটা পায়। আর হ্যাঁ, বায়ুকোণটার আঁদাড়-পাঁদাড়ে যেতে ভুলিসনে যেন, ওদিকেই দুনিয়ার যত জোয়ানমদ্দদের জটলা। আর তোদের সবার জন্য আমার মেয়ে দেখা আছে বাছারা, একবার আমার কাজটা মিটে গেলেই তোদের সবকটার বে’ দিয়ে ছেড়ে দেব। ছোকরাদের উদ্দেশে বললেন ঠাকুমা। গলাটা উঁচুতারে বাঁধা এবং স্বভাবতই কিঞ্চিৎ খোনা।

ঠাম্মা, খানকতক আছে তো মালঘরে? দেখতেই তো পাচ্ছেন এজ্ঞে, আমরা অনেকগুলো। কম পড়লে গেহযুদ্ধু লেগে যাবে কিন্তু। ওদেরই একজন ফাজিল ছোকরা মাথা চুলকোতে চুলকোতে বলল।

নাহ দাদুভাইরা, দুশ্চিন্তে কোরো না। অনেক আছে। তোদের জন্মের আগে আমাদের যাত্রাদলের একটা গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছিল জিটি রোডে, গোটা একটা সখির দল লোপাট হয়ে গিয়েছিল। ওরা সব আছে ঘাপটি মেরে, আমি ডাক দিলেই ছুট্টে আসবে!

। তালে ঠিক আছে। কিন্তু ভালো মানাবে তো ঠাম্মা?

আলবাত মানাবে ভাইটিরা। ওদের তখনও চোদ্দ পেরোয়নি, এখনও পেরোয়নি।

চো-দ্দ! এই রে! পেয়াদায় ধরবেনি তো, ঠাম্মা? শুনিছি ইসসরচন্দো না কার জানি পরামর্শে যমরাজ নতুন আইন করেছে। একজন চিন্তিত গলায় বলল।

ঈশ্বরচন্দর! ঈশ্বরচন্দর অমন অপচেষ্টা ছেলেবেলা থেকে করচে—এখনও পারেনি। ওসব নিয়ে তোদের চিন্তে করতে হবে না ভাইটিরাতোরা নিশ্চিন্তে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে আয়, দণ্ডবিধির ব্যাপার আমি ঠিক সামলে নেব।

প্রম্লোচ্চার কথায় ছোকরারা আশ্বস্ত হল বলে মনে হল। ঢ্যাং ঢ্যাং করে ঢোল পেটাতে পেটাতে ওরা বেরিয়ে পড়ল। ওরা চলে যেতে প্রম্লোচ্চাকুমারী অন্য চিন্তায় পড়লেন। শতচেষ্টা করেও তিনি যে তাঁর পাঞ্চভৌতিক শরীরটিকে সময়ের খপ্পর থেকে বাঁচাতে পারেননি, তা অক্কা পাওয়ার ঢের আগেই বুঝেছিলেন প্রম্লোচ্চাকুমারী। হেকিমি, ইউনানি, অ্যালোপাথি, আয়ুর্বেদকী করেননি! বিখ্যাত প্লাস্টিক সার্জেন ডাক্তার ফাঁকাউল্লার কাছে অস্তরও করিয়েছিলেন, তবু কালের লেজের ঝাপটা থেকে যে বাঁচতে পারেননি, এটা বিলক্ষণ উপলব্ধি করেছিলেন তিনি। কিন্তু উপলব্ধি করলেও, ঠাম্মা ডাক মেনে নেওয়া যে তাঁর পক্ষে ভারি কষ্ট! ঠাকুমা তিনি হয়েছেন সত্যতাঁর বোনের বড়োমেয়ের ফুটফুটে মেয়েটি তাকে ঠাকমি ডাকে, সে ডাক অতি মধুর শোনায়—কিন্তু সে ডাক তো আত্মীয়তার সূত্রে, নিয়মমাফিক। ওই ডাক আর ক-টা বেহেড ফোক্কড়ের এই ডাক কী এক হলো? যৌবনের জৌলুশ তাঁর গতরে আর নেই ঠিকই, তা বলে বার্ধক্যের বৈরাগ্যও তো নেই। এই কুডাক অতর্কিত-অপ্রত্যাশিত! যমপাশে বাঁধা পড়ার আগের নাইটে তিনি যে পালাটি গাইলেন, তাতেও তো তিনি নায়িকার সখীর পার্ট করেছেন। গুহ্যগত বাতরোগে ব্যতিবস্ত হয়ে পড়েছিলেন, লম্ফঝম্ফ তো দূর স্বাভাবিক হাঁটাচলা করাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা সত্ত্বেও মঞ্চ দাপিয়ে বেড়িয়েছেনকারোর হিম্মত হয়নি তাঁর বয়েস নিয়ে টিপ্পনী করার, বরং দর্শকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে, এঁড়ে ছোকরারা হুইসল মেরেছে! আজ এমন কী হল যে, একেবারে ঠাকুমা খেতাব পেয়ে গেলেন!

প্রম্লোচ্চা গুম মেরে বসে রইলেন। শরীরের পতন হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ছিল যে, এখনও তিনি নায়িকার ভূমিকাতে মঞ্চে হিল্লোল তুলতে পারেন, ক্ষেপলা-ঝিন্টিকাকে দেখিয়ে দিতে পারেন লাস্য কী বস্তু। এবং সেটা হলেও হতে পারত, বাবু সিতিকণ্ঠর মেরুদণ্ড খানিক ঋজু থাকলে হয়তো আমৃত্যু নায়িকার পার্টই বাগিয়ে যেতেন তিনি, ক্ষেপলা-ঝিন্টিকারা চাতকের মতো চেয়ে রয়ে যেত। কিন্তু কপাল যে ভারি মন্দ! বাবু সিতিকণ্ঠ উরুস্তম্ভরোগে কাবু হয়ে অক্ষম হয়ে পড়লেন আর দলের হাল ধরল ওঁর কনিষ্ঠপুত্র লালকণ্ঠ। আর তখন থেকেই প্রম্লোচ্চাকুমারীর সিংহাসনের পায়াগুলো যেন একটা দুটো করে হাপিস হতে লাগল। সতেরো বছর বয়েস থেকে নায়িকার পার্ট করছিলেন নট্টমন্দিরে, সখীর পার্ট করতে করতে নায়িকা হয়েছিলেন নায়িকা থেকে যাত্রাসম্রাজ্ঞী। যাত্রাদলের মালিকানা এদিকওদিক হতেই প্রম্লোচ্চার ঝুলি ভরে গেল জ্যাঠাইমা-খুড়িমার পার্টে। লালকণ্ঠ তখন ঝিন্টিকাকে জুটিয়েছে দলে। ঝিন্টিকা ঘোষ বিগত দিনের বাংলা ছবির পার্শ্বনায়িকা। টালিগঞ্জ থেকে এখন আর হাতছানি আসে না, হা-ভেতে হয়ে ঝরে যাবার জোগাড় হয়েছে, যাত্রা ছাড়া আর গতি ছিল না ঝিন্টিকার কাছে। প্রস্তাবটা অবিশ্যি দিয়েছিল নট্টমন্দিরই। আসলে ফিলিমের লোকজন ঢুকিয়ে দিতে পারলে বায়নার বাড়-বাড়ন্ত হয়, এটা ততদিনে বিলক্ষণ বুঝেছিল লালকণ্ঠ। ইতিমধ্যেই দিগম্বর অপেরা ছায়াচিত্রের নট-নটীদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে, অমৃতরস অপেরা তো দূরদর্শনের সংবাদ-পাঠিকাদেরও ছাড়েনি এবং তার জোরে এখন দারুণ কাটতি ওদের। এদিকে নট্টমন্দির এখনও সেই ফণীবাবুর আমলের বাতিল-বেতো বুড়োবুড়িদের নিয়ে পড়ে আছে! খানিকটা মরিয়া হয়েই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল লালকণ্ঠ, ঝিন্টিকাদেবীর চেহারাপত্তরে যা পরিশিষ্ট আছে তারওপর দু-চার পোঁচ মেক-আপ চর্চিত করে দিলে দিব্যি কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবেএই ভেবেই ঝিন্টিকাকে দলে নিয়েছিল সে। তারপর কর্ণার্জুন পালায় দ্রৌপদীর পার্টটা সে সোজা দিয়ে দিয়েছিল ঝিন্টিকাকে। প্রম্লোচ্চাকে দিয়েছিল কুন্তীর পার্ট। ভুবনডাঙার ব পালাতেও ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল, প্রম্লোচ্চাকে দিল কুচক্রী পিসীমার পার্ট, নায়িকা যথারীতি ঝিন্টিকা। রাগে-অভিমানে প্রম্লোচ্চা তখনই দল ছেড়ে দেবেন বলে ঠিক করেছিলেন, বাকি জীবনটা কাশীতে কাটিয়ে দেবেন ঠিক করেছিলেন। লালকণ্ঠ বিশেষ বিচলিত হয়নি এতে, এই রকমটাই সে চাইছিল। শেষে অসুস্থ সিতিকণ্ঠ তার এই প্রিয়পাত্রীটির জন্য মধ্যস্থতা করলেন, তৈরি হল হাফ-নায়িকা মানে নায়িকার সখীর পার্ট। প্রত্যেক পালায় ঝিন্টিকা-ক্ষেপলার সখী হিসেবে রইলেন প্রম্লোচ্চা। সিতিকণ্ঠের বদান্যতায় এই পার্টই তিনি করে গেলেন শেষ নাইট অব্দি। আর আজ অষ্টাদশী নায়িকার সখী থেকে একেবারে ঠাকুমায় অবনতি হল! চিতায় পুড়ে ডা. ফাঁকাউল্লার সব তাপ্পি হাওয়া হয়ে গেল নাকিওঁর কেরামতিতে মুখের খাল-বিল যে সব বুজে গিয়েছিলসেসবের প্রত্যাবর্তন হল! সারাজীবন ধরে ত্বকের অন্ধি-সন্ধিতে যে ক্বাথ, লেপ, রঞ্জক, চূর্ণ প্রয়োগ করে এলেনসব বৃথা গেল! মরণে সব ধুয়ে মুছে গেল! শেষে একমেটে প্রতিমা হয়ে গেলেন! ভেবে প্রম্লোচ্চাকুমারী শোকবিহ্বল হয়ে পড়লেন। এই যদি চোপার হাল হয় তাহলে আর স্বয়ংবর সভা করে কী ফল হবে! ঠাকুমার স্বয়ংবর সভায় আবার জমায়েত হয় নাকি। বকের অণ্ডপ্রত্যাশা করে শেষে কী কেলেঙ্কারিটাই না হবে! বহুকাল আগে উত্তরপাড়ায় বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে কাইনেটিক বিদ্যেধর নামক এক পাপপুরুষের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন প্রম্লোচ্চাকুমারী, এ লাঞ্ছনা বোধহয় তার চেয়েও বেশি হবে। ভেবেই প্রম্লোচ্চা গুটিয়ে গেলেন। স্বয়ংবর সভার আলকাপটা না-করলেই ভালো হত মনে হচ্ছে। কী দরকার ছিল এই বয়েসে এসে নিজের সম্মানটা খোলামকুচি করে দেওয়ার, নিজেকে হাস্যাস্পদ করার। প্রম্লোচ্চাকুমারী নিঝুম হয়ে এসবই ভাবতে লাগলেন। আসলে প্রেতপুরীতে পদার্পণ করা ইস্তক অ্যায়সা হতাশায় ভুগছিলেন, খালি মনে হচ্ছিল কোথায় সেই যাত্রাজগতের ঝলমলে রঙচঙে জীবন আর অকালপঞ্চত্বপ্রাপ্তির পর এই হতকুচ্ছিত ভাগাড়ের জীবন! এই ভাবনায় ভিতরে ভিতরে গুমরে উঠছিলেন প্রম্লোচ্চা। আর ঠিক তখনই মোলাকাত দিগম্বর অপেরার নীলাম্বরীর সঙ্গে। নীলাম্বরী প্রতিদ্বন্দ্বী যাত্রা কোম্পানির নটী হলেও ভালোই বন্ধুত্ব ছিল প্রম্লোচ্চার সঙ্গে। দুজনে একই মহল্লায় মানুষ। প্রম্লোচ্চাকুমারীর মতো ওর বাপ-মায়েরও কম বয়েসে গঙ্গাপ্রাপ্তি হয়, রোজগারের তাগিদে এই পেশায় নামতে হয় ওকে। নীলাম্বরীকে নির্মাণ করার সময় সৃষ্টিকর্তা বোধহয় কিঞ্চিৎ কার্পণ্য করেছিলেন, বিধাতার দয়া-দাক্ষিণ্য কিঞ্চিৎ কম ছিল নীলাম্বরীর উপর। সে কারণে প্রম্লোচ্চার কুমারীর মতো নামডাক ওর হয়নি, রঙ্গালয়ের সাধারণ নটী হিসেবেই ওর জীবন কেটেছে। সে জীবনও প্রলম্বিত নয়, চল্লিশ-পঞ্চাশেই রাজরোগে ভুগে ভবলীলা সাঙ্গ হয় নীলাম্বরীর।

সেই নীলয়াম্বরী এই স্বয়ংবর সভা বুদ্ধিটা দিয়েছিল।

তোর কোণকোণাচে এখনও যা অবশিষ্ট আছে, তা-ই যথেষ্ট। একবার করেই দ্যাখ না। পছন্দের মানুষকে খুঁজে পাবার এর চে ভালো উপায় আর নেই। বলেছিল নীলাম্বরী। দুজনে বসেছিলেন কাশীপুরের একটি পরিত্যক্ত বাগান-বাড়ির একটি ছাঁচতলাতে। এই বাগানবাড়ির একটি খুপরিতেই শেষজীবনটি কেটেছে নীলাম্বরীর। দিগম্বর অপেরার মালিক বাঁশরিমোহন লোক মন্দ ছিলেন না, নীলাম্বরীর চিকিত্সা করিয়েছিলেন, আশ্রয় দিয়েছিলেন।

পছন্দের মানুষ দরকার নেইকোওর পরোয়া আমি করিনে। বেবাক জীবন কাটালাম একা একাএকজনের সঙ্গে প্রেম-ভালোবাসা যা হলোতাও টিকল নামানুষটার আর হদিশই পেলুম না। এখন আর ও সব করে কী হবে।

সেই বামুন বাড়ির মদ্দাটা তোসে কাহিনি তো শুনেচি তোর কাছে। সে যাগ গে যাক, কিন্তু এবার সময় কাটাবি কী করে। সারাজীবন যাত্রা-থেটার নিয়ে জীবন বয়ে গেল, নাম হল, লোকে যাত্তাসম্রাজ্ঞী বলে ধন্যিধন্যি করল, বিস্তর মেডেল পেলি, কাগজে লেখালেখি হল! কিন্তু এবার কী। উড়ে বেড়ানোর বয়েস তো আর নেই, যে দিকবিদিক উড়ে বেড়াবি। তার চে বলচি শোন,একটা সভা কর। কলকেফুলের রসটা চোঁ করে টেনে নিয়ে বলল নীলাম্বরী। ওর কোঁচড় সর্বদা কলকেফুলে ভর্তি। সেই যে বাজেপঙ্খিপুরে পালা গাইতে গিয়ে এই কলকেফুলের নেশাটা ধরেছিল, মরে হেজে যাওয়ার পরেও ছাড়তে পারেনি।

বলছিস তো সভা কর সভা কর, কিন্তু পরে যদি মনের মিল না হয়! এই ডাগর বয়েসে আর মানিয়ে নিতে পারব নাকি। ঢুলু ঢুলু চোখে বললেন প্রম্লোচ্চা। সন্ধেবেলায় কিঞ্চিৎ মাধ্বিকপান করার অভ্যেস ছিল একসময়, অভ্যেসটা ঘুচেছে কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়ে গিয়েছে।

তখন ছেড়ে দিবি! তোকে কী আর বেঁধে রাখবেএ কী আর সাতপাকের ফাঁস নাকি! সেরকম বুঝলে আবার নতুন সভা করবি।

বিয়ে নয় বলছিস?

মর, বিয়ে হতে যাবে কেন খামোখা! এ হল গিয়ে ভালোবেসে একবাসায় থাকা। এখন এ হামেশাই হচ্চে লো। ঘোষমশাইয়ের দলের সেই খুকি মেয়েটা ছিল নাকুমারী কলম্বিকে না কী যেন নামওই যে বিষ খেয়ে মরেছিলও তো একটা গিন্নী টাইপের ডাকিনী হয়ে এয়েছিল এখানেতারপর স্বয়ংবর সভা করে একটা গাঁট্টগোট্টা মামদো জোটালএখন মরিচপুরের বাঁশবনে সুখে ঘর করচে

তা তুই তো অ্যাদ্দিন আছিস এখেনেতুই একা একা কাটাচ্ছিস কেন? তুইও তো করতে পারিস একটা সভা।

প্রম্লোচ্চার প্রশ্ন শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল নীলাম্বরী। বলেছিল, মন্থরার কি আর স্বয়ংবর হয় নাকি লো, মন্থরার হয় না! সারাজীবন তো দাসীবাঁদীর পার্ট করলুমতোর মতো দৌলত আমার ছিল নাকি! আমি স্বয়ংবরসভা করলে একটা ছুঁচোও কি জুটত!

নীলাম্বরীর কথায় শেষমেশ রাজি হয়েছিলেন প্রম্লোচ্চা। চোতমাসের শুক্লাচতুদর্শী শুভদিন, পঞ্জিকামতে মদনচতুর্দশীওইদিনই স্বয়ংবরসভার দিন স্থির করা হয়েছিল। মহাভারত পালায় দ্রৌপদীর পার্ট ছিল তাঁর বাঁধা, অর্জুনবেশী স্ফোটনকুমার ঘুরন্ত মৎস্যের চক্ষু শরবিদ্ধ করে বহুবার জয় করেছে তাঁকে। অগ্নিপরীক্ষা পালায় সীতার স্বয়ংবরে বসেছেন যখন, দাশরথি স্ফোটনকুমার হরধনু ভঙ্গ করে তাঁকে অধিকার করেছে। নলদময়ন্তী পালায় দময়ন্তীর স্বয়ংবরে আবার সেই নলবেশী স্ফোটনকুমার। এইরকম অসংখ্য রজনীতে যাত্রাসম্রাজ্ঞী প্রম্লোচ্চাকুমারী তাঁর পাণিপ্রার্থীর গলায় বরমাল্য দিয়েছেনস্বয়ংবরসভার আদব-কায়দা ভালোই আয়ত্ত প্রম্লোচ্চার। এবং সেটিই তাঁকে ভাবনায় ফেলেছে। ধনুর্বিদ্যার পরাকাষ্ঠা দিয়ে আজকাল আর কিছু যাচাই হয় না, ও সব সেকেলে ব্যাপার কি এখন আর চলে!

হ্যাঁ লো লিলে, বাছাই কী দেখে করবি লো! ধনুর্ধর-গদাধরদের পাবি কোথায়! চিন্তিত মুখে আউড়েছিলেন প্রম্লোচ্চা।

তখন লোকে ধনুক-গদা-চক্কর নিয়ে কেরামতি দেখিয়েচে, এখন সেসব অচল। আর তোর তো পাহারা দেবার পালোয়ান চাইনে, দেরাজ তো তোর হাঁ-খোলা, তোর কী বাটপাড়ের ভয়! তোর দরকার খালি প্রেম আর প্রেমনীলাম্বরী বলেছিল। শিক্ষা-দীক্ষা বিশেষ ছিল না নীলাম্বরীর, কিন্তু ব্যবহারিক জ্ঞানগম্যি ছিল ভালোই।

ঠিক হয়েছিল সাক্ষাত্কার নেওয়া হবে প্রার্থীদের, মোটমাট দশটি প্রশ্ন, সবই রচনাধর্মী। নীলাম্বরীই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নমালা গেঁথেছিল। নীলাম্বরীর নিজের জীবনে প্রেম আসেনি সে রকম, কিন্তু প্রেমলীলা সে বিস্তর দেখেছিল। সেসব অভিজ্ঞতা মন্থন করেই তার এই প্রশ্নমালা। প্রার্থীর মনোজগতে ষড়রিপু আর প্রেমানুভূতির প্রাবল্য যাচাই করাই এই প্রশ্নগুলির মূল উদ্দেশ্য। প্রথম স্থানাধিকারী প্রেতাত্মার সঙ্গে ঘর বাঁধবেন প্রম্লোচ্চা, দ্বিতীয়টিকে ওয়েটিং তালিকায় রাখা হবে। কিছুদিন পরে যদি দেখা যায় প্রথমজনের সঙ্গে প্রম্লোচ্চার বনিবনা হচ্ছে না, তিনি দ্বিতীয়জনকে হাতছানি দেবেন।

যার রিপু কাবু হয়েচে, মনে প্রেম আছে সেই ফাস্টকেলাস ফাস্ট হবে কী বলিস, লিলে। দুজনে আলোচনা করছিলেন।

পুরুষের রিপু কাবু হলে চলে না, লোচিঅল্প ফোঁস তো থাকতে হবে। শুধু সোনা দিয়ে যেমন গয়না হয় না, শুধু প্রেম দিয়েও সংসার হয় না, রিপুর খাদ লাগে লোচি, খাদ লাগে। বলেছিল নীলাম্বরী।

গেঁড়েগিরিধারীর পুকুরপাড়টা সন্ধের পর শুনশান হয়ে যায়, ঠিক হল ওখানেই সভা বসবে। পুকুরপাড়ে যে ঝাঁকড়া তেঁতুল গাছটা আছে, ওরই মগডালে পা ঝুলিয়ে প্রম্লোচ্চা বসবেন, পাশে নীলাম্বরী। নীলাম্বরীই সভা পরিচালনা করবে, যম-দপ্তর থেকে কোনোরকম আগাম ছাড়পত্তর নেবার যদি দরকার হয়, সেটা সে দেখবে। প্রার্থীরা যাতে কোনো কারণে প্যান্ডেমনিয়াম না বাধিয়ে দিতে পারে তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করতে হবে, নীলাম্বরী সেটার দায়িত্ব নেবে। প্রম্লোচ্চার ইচ্ছে রোশনচৌকি বসাবেন, সঙ্গে প্রার্থীদের আপ্যায়নে আঁশটে আয়োজনও থাকবে। বেলেকাঁকড়া-বড়োশামুক আক্রাওসব শিকার করাও ঝামেলা। বরং গেঁড়েগিরিধারী পুকুরে জল কম এখন, একটু কসরত করলেই কুচোমাছের দেদার আয়োজন করা যাবে। আশেপাশে ছাগবৎস্যের খোঁয়াড়ও আছেদো-আঁশলা একটা পদ রাখা যাবে। প্রম্লোচ্চার ইচ্ছে একটু ছাঁচিতেলে আইটেমগুলো সাঁতলে নেওয়ার, কিন্তু আগুন নিয়ে কারবার সোজা নয়। হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে সুপক্ব খাদ্য আমদানি করা যায়সেক্ষেত্রে কেপমারির আশ্রয় নিতে হবে। নীলাম্বরী ওসব ব্যাপার সামলে নেবে।

তার আগে আছে প্রচার, যাত্রাসম্রাজ্ঞীর স্বয়ংবর বলে কথা, উপযুক্ত প্রচার ছাড়া সব বিফলে যাবে। প্রেতদর্শন বলে একটি ঝুলন্ত পত্রিকা আছে, মজিলপুরের আমবাগানে ঝোঝুল্যমান থাকে। ওর সম্পাদককে বলে খবরটা লিখিয়ে দেওয়া গিয়েছে। সভার দিনে ওরা একজন নিজস্ব সংবাদদাতাও পাঠিয়ে দেবে। ঢ্যাঁড়া পিটলে এখানে কাজ দেয় বেশি, দু-চারটে উচক্কা গজ্জগরুড় জোগাড় করা গিয়েছে। নীলাম্বরী তাদের শিখিয়ে পড়িয়ে দিয়েছে খবরটা:

স্বয়ংবর সভা, স্বয়ংবর সভা, স্বয়ংবর সভা! যাত্রাসম্রাজ্ঞী প্রম্লোচ্চাকুমারীর স্বয়ংবর সভা! বয়সের কোনো নিম্নসীমা নেই, ঊর্ধসীমাও নেই। আজই আসুনগেঁড়েগিরিধারীর পুকুরপাড়ের তেঁতুলগাছ, সন্ধে সাত ঘটিকা!

ওই ছোকরাদেরই একজনের মুখে ঠাম্মা ডাক শুনে এখন মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন প্রম্লোচ্চাকুমারী। নীলাম্বরীর কথায় নেচে এ সব করতে গিয়ে শেষে কি অপমানের চূড়ান্ত হবেখালি এ কথাই ভাবছেন।

ঠাম্মা ডেকেচে তো কী হয়েচে লো, ওরা কি তোর চেহারা দেখে ঠাম্মা ডেকেচে নাকি! চালে ফলে কুষ্মাণ্ড, হরির মায়ের গলগণ্ডতোর হয়েছে সেই অবস্থা। প্রম্লোচ্চার থমথমে মুখ দেখে নীলাম্বরী বলল।

তবে না তো কী? আমায় লুকোসন, লিলে, সত্যি করে বল আমায়, এখনও সময় আছে, এসব আলকাপ বন্ধ করে দেব। প্রম্লোচ্চা শাসানি দিলেন।

তুই বড্ড বেশি ভাবিস লো, লোচি। দিগম্বর অপেরায় ঘসেটি বেগমের পার্ট করত এক বেটিমনে আছে, ওই ছোকরা তারই নাতি। ছোটোবেলায় বখে গিয়েছিল ছোকরা, কাইনেটিক বিদ্যেধরের দলের সঙ্গে মারপিট করতে গিয়ে অকালেই ঝরে গিয়েছিল। ছোলঙ্গ আমাকে ঠাকুমা ডাকে, তাই

যাক, যেটা শঙ্কা করছিলেন সেটা নয়, চেকনাই আছে এখনও, জ্বরা এখনও জর্জরিত করতে পারেনি! নীলাম্বরীর কথা শুনে প্রম্লোচ্চার আনন্দে উল্লম্ফন করতে ইচ্ছে করল। ইচ্ছে করল কাশীপুর থেকে বারুইপুর একচক্কর কেটে সোজা অক্টারলোনি মনুমেন্টের মাথায় গিয়ে নিজেকে উন্মুক্ত করে দিতে। যে ছোলঙ্গকে একটু আগেই দু-হাতে কচলে ফেলতে ইচ্ছে করছিল, এখন তাকেই হামি খেতে ইচ্ছে করল। নীলাম্বরীকে জড়িয়ে ধরে তিনি তাতা থৈথৈ করতে লাগলেন।

এরপর স্বয়ংবর সভাকে ঘিরে হরেক পরিকল্পনা শুরু হল দুজনের। মছলন্দপুরে যে শাড়িটা পরে শেষ নাইটটা করেছিলেন, সেইটিই তাঁকে শেষ যাত্রায় পরানো হয়েছিল। ঠিক করলেন সেই ম্যাজেন্টা রঙের গর্জাস শাড়িখানা পরবেন তিনি। দশবাই চণ্ডীফুলের মালা গাঁথবে নীলাম্বরী, ও দিয়েই অলঙ্কার তৈরি হবে। মটুক, মটরহার, টায়রা, ঢেঁড়িঝুমকো, মানতাসা, ঘুনসি সব হবে রকমারি ফুল দিয়ে। কর্পূরতৈল দিয়ে গা মালিশ করে দেবে নীলাম্বরী। চিতানলে মধ্যপ্রদেশের মেদের অনেকটা ঝলসে গিয়েছে, শরীরও আগের চেয়ে অনেক ফুরফুরে, নাব্যতাও বেড়েছে। বাতটাতও আগে যা ছিল সব নিরাময় হয়েছে, অষ্টাদশী নায়িকার চালচলন পুনর্নির্মাণ করতে সমস্যা হবে না।

যাত্রাসম্রাজ্ঞী প্রম্লোচ্চাকুমারী প্রস্তুত হতে লাগলেন। প্রম্লোচ্চাকুমারীর বেবাক জীবনটাই কেটেছে রঙ্গমঞ্চে, দর্শকদের মনোরঞ্জন করে। মঞ্চে প্রবেশ-প্রস্থান-অভিনয় তাঁর কাছে গোসলখানায় বিচরণ করার মতোই স্বাভাবিক, স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপার। কিন্তু স্বয়ংবরসভার মঞ্চটি একটু অন্য ধারার, এখানে দর্শক,বিচারক, প্রধান কুশীলব সবই প্রম্লোচ্চাকুমারী নিজে। নীলাম্বরী আছে, প্রার্থীরাও থাকবে কিন্তু তবু এই স্বয়ংবর তাঁর একক প্রদর্শনী। কথাটি ভেবে খানিক ঘাবড়ে গিয়েছেন প্রম্লোচ্চা। ভবিষ্যৎ গণনা করে যে দেখবেন তারও উপায় নেই, এন্তেকাল হওয়ার পর সে এলেম লোপ পেয়েছে। কালীঘাটে মায়ের চরণে মাথা ঠুকে আসবেন, সে রাস্তাও বন্ধ।অপদেবতাদের তা অকর্তব্য। ও সব না ভেবে বরং প্রশ্নমালাটি কিঞ্চিৎ পরিমার্জন করা দরকার, প্রম্লোচ্চাকুমারী ভাবলেন। প্রার্থীর প্রথমরিপুর প্রাবল্য যাচাই করার দু-একটি উপায় তাঁর মাথায় এসেছে, সেগুলো নিয়েই এখন নীলাম্বরীর সঙ্গে গুজগুজ করবেন ঠিক করলেন।

 

কলকাতার উত্তর-পশ্চিমে আস্ত একখানা পুষ্করিণী আবিষ্কার করে হতভম্ব হয়ে গেলেন দীঘল গাঁয়ের ত্রৈলঙ্গ রায়। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন তিনি মহানগরীর দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দা, খাল-বিল-ডোবার খাঁকতি নেই সেখানে। কিন্তু উত্তরের গলিঘুঁজির ফাঁকে এইরকম একখানা জমজমাট জলাশয় আকাশের দিকে হাঁ মুখে তাকিয়ে বেঁচেবর্তে থাকবে, তা তাঁর ধারণার বাইরে ছিল। অবিশ্যি দৈর্ঘ্যপ্রস্থে সেটি আহামরি কিছু নয়, দীঘল গাঁয়ের যে কোনো কুলীনপুকুরের ধারেকাছেও এ আসে না। কিন্তু পুকুরের চতুর্পাশের পরিবেশটি বেশ অনুকূল।পুকুরপাড়ে তেঁতুল, শেয়াল-কাঁটা, গাব, কদ্‌বেল, কুটুস শিঁয়াকুল আর জংলিলতার নিবিড় সমাবেশ, মিশকালো জলে শালুক শাপলা পানা ঢোঁড়ার সহাবস্থান, গর্ভে দু-একখানা বডি পোঁতা থাকলেও আশ্চর্যের কিছু নয়। ঘাট বলে কিছু নেই বললেই চলে, ব্যবহারের অভাবে সব বিলীন হয়েছে। জনবসতি আশেপাশে যা আছে, তাও বেশ দূরেযা পরিবেশ তাতে গা থাকলে নিশ্চিত অ্যাতোক্ষণে ছমছম করত ত্রৈলঙ্গের। নির্ঝঞ্ঝাটে সভা-সমিতি করার উপযুক্ত জায়গা বটে।

কিন্তু কোথায় সেই সভা! সেই যে কোন যাত্রাশিল্পীর স্বয়ংবরসভা হওয়ার কথা, কিন্তু সেরকম কোনো আয়োজন তো চোখে পড়ছে না। সাতটাই তো বলেছিল ছোকরাগুলো, সন্ধে সাতটা গেঁড়েগিরিধারীর পুকুরপাড়ের তেঁতুল গাছ।

ওহে শুনছ, আজ এখানে একটা সভা হবার কথা ছিল নাঊর্ধপাদ হয়ে এক পুশকরাজাতীয় অশরীরী ঝুলছিল গাব গাছটা থেকে, ত্রৈলঙ্গ সামনে পেয়ে ওকেই জিগ্যেস করলেন।

(ক্রমশ…)

 
 
top